২০২৬ সালের ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার, ঢাকা সেনানিবাসের নির্ঝর আবাসিক এলাকায় একটি চারা রোপণ করে ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬’ উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন সেনানিবাস ও জলসিঁড়িতে এবারের অভিযানে ১১ লাখ ৩৬ হাজার গাছ রোপণ করা হবে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনুষ্ঠানের তথ্য জানায়।
সেনাপ্রধান যা বলেছেন
সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনী শুধু গাছ লাগায় না, গাছগুলো সংরক্ষণ ও যত্নও করে; এর ফলে সেনানিবাসগুলো গাছে পরিপূর্ণ থাকে। দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি জানান, নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে গাছগুলোকে পরিণত করে তোলার দায়িত্বও সেনাবাহিনী পালন করে। এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আইএসপিআরের বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, সেনাপ্রধান পরিবেশ রক্ষা, প্রতিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আরও সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
কোথায়, কোন গাছ, কত দিন
এবারের অভিযানের প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সব সেনানিবাস, ডিফেন্স অফিসার্স হাউজিং স্কিম (ডিওএইচএস) এলাকা এবং জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প এলাকার উপযুক্ত স্থানে ফলদ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির গাছের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধক গাছের চারা রোপণের কথা জানানো হয়। এসব জায়গায় একযোগে কর্মসূচি পালন শুরু হয়, আর অভিযান চলার কথা ছিল ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত।
আইএসপিআর জানায়, দেশের বনজ সম্পদ বাড়ানো ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে সবাইকে স্বপ্রণোদিত হয়ে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে সেনাসদর ও ঢাকা অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক ও অসামরিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জলসিঁড়ি ও ডিওএইচএস কী
অভিযানের একটি বড় এলাকা জলসিঁড়ি আবাসন। এটি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায়, ঢাকার উপকণ্ঠে গড়ে ওঠা একটি আবাসিক এলাকা, যা ঢাকা শহরের সম্প্রসারণ হিসেবে নির্মাণাধীন। সেনা কর্মকর্তাদের জন্য পরিকল্পিত এ প্রকল্প গড়ে তুলছে জলসিঁড়ি আবাসন কর্পোরেশন, যা আর্মি অফিসার্স হাউজিং স্কিমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ডিওএইচএস হলো প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য গড়া আবাসিক এলাকা।

জাতীয় অভিযানের সঙ্গে একই প্রতিপাদ্য
সেনাবাহিনীর এই অভিযানের এক সপ্তাহ আগে, ২০২৬ সালের ৯ জুলাই, ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উদ্বোধন করেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সেই আয়োজনের প্রতিপাদ্যও ছিল ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। এনটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনার কথা বলা হয়।
সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান প্রতি বছরের কর্মসূচি। বাসসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়েও সেনাপ্রধান নির্ঝর আবাসিক এলাকায় চারা রোপণ করে সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৫ উদ্বোধন করেছিলেন। সেবার সেনানিবাস, প্রশিক্ষণ এলাকা ও আবাসন প্রকল্পে ফলদ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ লাগানোর কর্মসূচি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা জানানো হয়েছিল।

ছবি: Nazmulhuqrussell / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দৈনিক ইনকিলাব, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, এনটিভি, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)