রাজধানীর জোয়ার সাহারার বেসরকারি চাকুরে মুস্তাকিম আহমেদ তিন মাস ধরে বাজারে গিয়েও পোলাওর চাল কিনছেন না: জুনে ১৪০-১৫০ টাকার চিনিগুঁড়া জুলাইয়ে ১৬০-১৭০, সেপ্টেম্বরে ১৮০ টাকা, এক কেজি পোলাও চালের দামে তিন কেজি সিদ্ধ চাল মেলে। খোলাবাজারে প্রকারভেদে পোলাও চাল এখন ১১০ থেকে ১৮০ টাকা, প্যাকেটে ২২০-২৩০, বাসমতী ৪২০-৪৮০ টাকা কেজি; অথচ চলতি বছর সরকারিভাবে পোলাও চালের দাম ধরা হয়েছিল কেজি ৪৯ টাকা (গত বছর ৪৮)। গত এক বছরে খোলা ও প্যাকেটে দাম বেড়েছে কেজিতে ৭০-৮০ টাকা।
কারওয়ান বাজারে খোলা চিনিগুঁড়া ১৮০ ও কাটারিভোগ ১৭০-১৭২ টাকা; আকিজের প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া ২২০, প্রাণের ২৩০ টাকা। বরিশাল ট্রেডার্সের ফজলুর রহমান বলেন, চিনিগুঁড়া এখন ১৯০ টাকা, ছয় মাস আগে ১১০, দুই মাস আগে ১৬০, এক বছর আগে ৯০-১০০; কাটারিভোগ ১৩০, এক বছর আগে ৭০ টাকা। তেজগাঁও সমিতির বাজারে চিনিগুঁড়া ২০০ টাকা। স্বপ্ন, বেস্ট বাই ও মাদলের বিক্রয়কর্মীদের তথ্যে আট মাসে কালিজিরা ২৫ টাকা বেড়ে ২২০, চিনিগুঁড়া ২১৫, বাংলামতি ১৫ টাকা বেড়ে ১১০, অ্যারোমা ও আকিজ বাসমতী ৪৮০ ও দেশি বাসমতী ৪২০ টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে দেশে বছরে ১৮-২০ লাখ টন পোলাও চাল হয়, রপ্তানি গড়ে ১০ হাজার টন (২০১৯-২০-এ ১০ হাজার ৮৭৯ টন)। কারওয়ান বাজারের জনপ্রিয় রাইস এজেন্সির আমির হোসেনের ভাষ্য, আবাদ এমনিতেই কম, তার ওপর বিপুল রপ্তানি আর পিঠা-পুলির চাহিদায় তিন মাসে সিদ্ধ চালের দাম না বাড়লেও আতপ চালে কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম খোরশেদ আলম খান বলেন, একটি গোষ্ঠী পোলাও চাল মজুত করছে, সরকারের উচিত রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা; নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদারের মতে একধাপে ৬১ হাজার টন রপ্তানির অনুমোদনে বাজারে টান পড়েছে, নওগাঁর পাইকারিতে কেজি ২০০ টাকা উঠে সোমবার ১৮৫-১৯০-এ নেমেছে।
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ও নবাবী ভোজের মালিক কামরুল হাসান চৌধুরী বিপু বলেন, দেড়-দুই বছরের জ্বালানি সংকটের পর পোলাও চালের দাম বছরে দ্বিগুণ হওয়ায় হোটেলে পোলাও বিক্রি ৩০-৪০ শতাংশ কমেছে, কারণ দাম বাড়ানো যাচ্ছে না; মিলমালিকেরা মজুত যথেষ্ট বললেও কেউ কেউ ভারত থেকে আমদানির পরিস্থিতি তৈরি করতে দাম বাড়াচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
ইপিবির তথ্যে যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউএই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ ১৩০টির বেশি দেশে সুগন্ধি চাল যায়; চলতি বছরের ১৩ মে থেকে ৩০ আগস্ট ১২৯টি প্রতিষ্ঠান ২ হাজার ৪১৯ টন রপ্তানি করেছে। অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও দাম সামলাতে ৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখার প্রজ্ঞাপনে রপ্তানির অনুমোদিত পরিমাণ অর্ধেক কমানো হয়েছে; এর আগে দুই দফায় ২৭৮ প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার ২৭০ টন রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিদিনের বাংলাদেশের ফারুক আহমাদ আরিফের প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: প্রতিদিনের বাংলাদেশ




মন্তব্য
(০)