কলা কাটার পর যে গাছ ফেলে দেওয়া হয়, তার ভেতরের সাদা নরম অংশ বা মাইজ আর কলার মোচা ঘিরে গ্রামে গড়ে উঠেছে এক বিকল্প ব্যবসা। গৃহস্থ ও চাষিদের ফেলে দেওয়া এসব উপকরণ সংগ্রহ করে ঢাকাসহ বড় আড়তে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন বহু প্রান্তিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ী, জানিয়েছে দিনাজপুর টিভির কৃষি ডেস্ক।
প্রায় ৩০ বছর আগে স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তির হাত ধরে এই ব্যবসার শুরু; তখন থেকেই ফেলে রাখা গাছের মাইজ ঢাকায় পাঠানো হয়। এখন তাঁর দেখানো পথে স্থানীয় ১০ থেকে ১৫ জন সংগ্রাহক বাগান থেকে গাছ ও মোচা কেটে আনেন। চাষিরা বাগান বিক্রি না করলেও কলা কাটার পর গাছ ফেলে দিলে ব্যবসায়ীরা তা সংগ্রহ করে আড়তে পাঠান।
ব্যবসায়ীরা জানান, একটি গাছ ছিলে ভেতরের মাইজ বের করতে লাগে পাঁচ-ছয় মিনিট। এক ফুট মাপের নরম অংশটি নির্দিষ্ট মাপে কেটে বাজারজাত করা হয়, একটি গাছ থেকে গড়ে তিন থেকে পাঁচটি মাইজ মেলে।
গৃহস্থের কাছ থেকে প্রতিটি কলার মোচা কেনা হয় ১০ টাকায়। পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাত মিলিয়ে আড়তে পৌঁছাতে খরচ পড়ে ১৫-১৬ টাকা, আর পাইকারি বাজারে বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। গৃহস্থরা নিজেরা মোচা আনলে ১০টির জন্য ১০০ টাকা দেন ব্যবসায়ীরা। সংগ্রহ করা পণ্য যায় কাওরান বাজার, যাত্রাবাড়ী ও গাজীপুরের আড়তে; সেখান থেকে খুচরা বিক্রেতা আর হকাররা ভ্যানে বা মাথায় করে অলিগলিতে বিক্রি করেন। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, প্রক্রিয়াজাত মোচা ও মাইজ মধ্যপ্রাচ্য আর ইউরোপেও রপ্তানির প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে।
ঘরের রান্নার পাশাপাশি রেস্তোরাঁয় চিংড়ি দিয়ে মোচা ভাজির জন্য এর ভালো চাহিদা। এখন এই কাজে সরাসরি ১৭-১৮ জন শ্রমিকের জীবিকা জড়িয়ে আছে।
তবে সামাজিক মাধ্যমে ব্যবসার আয়ের কথা ছড়িয়ে পড়ায় অনেক গৃহস্থ এখন আর সহজে গাছ বা মোচা দিতে চান না; কেউ কেউ গাছ বাগানেই পচিয়ে জমিতে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করেন। অন্য ব্যবসার মতো এখানেও বাজারের ওঠানামা আর আর্থিক ঝুঁকি আছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। কলাচাষির কাছে যা ছিল ফেলনা, তা থেকে বাড়তি আয়ের এই পথ দেখায়, ফসলের উপজাতও বাজারে দাম পেতে পারে।
প্রতিবেদনটি দিনাজপুর টিভির কৃষি ডেস্কের।
ছবি: কলার মোচা, Muhammad Mahdi Karim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)