সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

মাছের উৎপাদন বাড়ছে, প্রবৃদ্ধি নামল পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন ১.৮৫ শতাংশে; বিপন্ন হাওর-নদীর মাছ

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মাছ উৎপাদন ৫১ লাখ ১৯ হাজার টনে পৌঁছালেও প্রবৃদ্ধি নেমেছে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশে; বাণিজ্যিক চাষনির্ভরতা, খরচ বৃদ্ধি ও মুক্ত জলাশয়ের অবক্ষয়কে কারণ বলছে সরকারি পরিসংখ্যান।

মাছের উৎপাদন বাড়ছে, প্রবৃদ্ধি নামল পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন ১.৮৫ শতাংশে; বিপন্ন হাওর-নদীর মাছ
মৎস্য

দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ জোগানো মৎস্য খাতে উৎপাদন বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু প্রবৃদ্ধির গতি কমে পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দৈনিক বাংলা জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট মাছ উৎপাদন ৫১ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছালেও প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

হিসাব অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ৪৬ লাখ ২১ হাজার টন (প্রবৃদ্ধি ২.৬২ শতাংশ); ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার টন (২.৯৮ শতাংশ) এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪৯ লাখ ১৫ হাজার টন (৩.২৮ শতাংশ)। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন ৫০ লাখ ১৮ হাজার টন হলেও প্রবৃদ্ধি নামে ২.১১ শতাংশে, আর সর্বশেষ অর্থবছরে ১.৮৫ শতাংশে। বদ্ধ জলাশয়ের বাণিজ্যিক চাষে মোট উৎপাদন বাড়লেও সামুদ্রিক আহরণ কমা ও মুক্ত জলাশয়ের অবক্ষয় প্রবৃদ্ধি টেনে নামাচ্ছে।

উৎপাদনে বড় ভূমিকা বাণিজ্যিক খামারের। ময়মনসিংহ জেলা একাই দেশের মোট মাছের প্রায় ১২ শতাংশ জোগায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেখানে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৬৪৫ টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। তবে আমদানিনির্ভর মাছের খাদ্যের কাঁচামাল, পোনা, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও শ্রমের বাড়তি খরচে প্রান্তিক চাষিদের মুনাফা কমছে। কোথাও কোথাও সৌরবিদ্যুৎচালিত স্বয়ংক্রিয় এয়ারেটর এবং দ্রুত বর্ধনশীল জি-থ্রি রুইয়ের মতো জাত দিয়ে উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

উল্টো চিত্র মুক্ত জলাশয়ে। রামসার এলাকা সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে আইইউসিএন ও মৎস্যবিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক গবেষণায় মাছের প্রজাতি ২০০৭ সালে ১৪১টি থেকে ২০১৫ সালে ১৩৪টি, ২০২২ সালে ৯৩টি এবং ২০২৪ সালে মাত্র ৭৬টিতে নেমেছে। চিতল, নানীদ, মহাশোল ও বাঘাইড়ের মতো দেশীয় মাছ সেখানে এখন বিলুপ্তপ্রায়।

প্রতিবেদনে কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কিরণমালা জালের অবাধ ব্যবহার, বিষ প্রয়োগ ও বৈদ্যুতিক শকে পোনা নিধন, অপরিকল্পিত বাঁধ ও সড়ক, নৌযান ও কয়লা পরিবহনের দূষণ এবং পলি জমে নদী-বিলের গভীরতা কমে যাওয়া। একই কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরে এক দশকে পাখির বিচরণ প্রায় ৭৭ শতাংশ কমেছে; ২০২৫ সালের জরিপে পাখি মিলেছে সাড়ে ২২ হাজার।

বিশ্বে অবশ্য চাষের মাছই এখন প্রধান। এফএওর ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ অনুযায়ী ২০২৪ সালে মাছ ও জলজ খাদ্যের উৎপাদন রেকর্ড ১৮ কোটি ৮২ লাখ টন, যার ১০ কোটি ৩৩ লাখ টন চাষের; মাথাপিছু বার্ষিক মাছ খাওয়া ২০.৭ কেজি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মূল বিলগুলোকে স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা, নদী-খাল ড্রেজিং, হাওরের জলজ বন পুনরুদ্ধার, দেশীয় পোনার জন্য বিল নার্সারি, গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান জোরদার, দেশে মাছের খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং মধ্যস্বত্বভোগী কমিয়ে চাষি থেকে ভোক্তা পর্যন্ত টেকসই বাজার গড়ে তোলা।

প্রতিবেদন: দৈনিক বাংলা ডেস্ক।

ছবি: Munirul Hasan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: দৈনিক বাংলা

দৈনিক বাংলাসূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)