সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

বিদেশ থেকে ফিরে পাবদা চাষে সাফল্য বেনজিরের

বছর ছয়েক আগে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পরপরই মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান বেনজির হোসেন। সেখানে মাস শেষে হাজার বিশেক টাকা পকেটে থাকত। কিন্তু বিদেশবিভূঁইয়ে মন টিকছিল না। ফিরে এলেন দেশে। তারপর

বছর ছয়েক আগে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পরপরই মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান বেনজির হোসেন। সেখানে মাস শেষে হাজার বিশেক টাকা পকেটে থাকত। কিন্তু বিদেশবিভূঁইয়ে মন টিকছিল না। ফিরে এলেন দেশে। তারপর বেকার জীবন। বেশ চড়াই-উতরাই পার করে অবশেষে দেশীয় পাবদা চাষ শুরু। আর তাতেই মিলেছে সফলতা।

২৩ অক্টোবর এক দিনেই ১৭ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছেন বেনজির। তাঁর পুকুরে এখনো কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার মাছ রয়েছে।

বেনজির (২৭) এখন থাকছেন খুলনার ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামে। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক বছর আগে বেনজিরের বাবা খুলনার ডুমুরিয়া থেকে পাড়ি জমান নারায়ণগঞ্জে। সেখানে ব্যবসার পাশাপাশি ওষুধের দোকান ছিল। বেনজিরদের তিন ভাইয়ের সবারই বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা নারায়ণগঞ্জে। অন্য দুই ভাইয়ের পথ ধরে বেনজিরও প্রবাসে পা রাখেন। প্রবাসে সাড়ে চার বছর পার করে ২০২০ সালের শুরুর দিকে দেশে ফেরেন বেনজির। এর কিছুদিন পর নারায়ণগঞ্জে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন লাগে। দোকানপাট সব পুড়ে যায়। হতাশা যখন বেড়েই যাচ্ছিল, তখন তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন শিকড়ে ফেরার। ফিরে আসেন গ্রামের বাড়ি হাসানপুরে।বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

বেনজির বলছিলেন, ‘অন্য দুই ভাইও দেশে ফিরে এসেছে। সবাই মিলে আমরা এখন হাসানপুরেই থাকি। অন্য দুই ভাইও মাছ চাষের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।’ বেনজিরের পুকুরের আয়তন প্রায় ৭০০ শতক। সরকারি ওই জলাশয় বছরে প্রায় চার লাখ টাকায় তিনি পাঁচ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন। সঙ্গে আলাউদ্দীন নামের তাঁর একজন স্বজন অংশীদার হিসেবে আছেন। ওই স্বজনের আগে পাবদা চাষের অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁদের মৎস্য খামারে চারজন স্থায়ী কর্মী আছেন। অস্থায়ীভাবে প্রতিদিন আরও দু-তিনজন কাজ করেন।

২৩ অক্টোবর এ মৌসুমে প্রথমবারের মতো মাছ ধরেছেন বেনজির। সকাল থেকে পুকুরের আশপাশ এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। মাছ ধরা দেখতে গ্রামের মানুষের পাশাপাশি হাজির হন উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা। ভারতে পাবদা মাছ রপ্তানিকারকেরা সেদিন তাঁর কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকার মাছ কিনেছেন।বিজ্ঞাপন

শুরুর কথা জানাতে গিয়ে বেনজির বলছিলেন, ‘আমি আগে জীবনে কখনো কোনো ধরনের মাছ চাষ করিনি। তবে হাসানপুর এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ হয়ে থাকে। আর এখানকার বেশির ভাগ মানুষ চিংড়ি ও কার্পজাতীয় মাছের চাষ করেন। আমার ইচ্ছা ছিল ব্যতিক্রমী কিছু করার। উপজেলা মৎস্য দপ্তরে যোগাযোগ করার পর তাঁরা পাবদা চাষের পরামর্শ এবং সেই মোতাবেক চার দিনের প্রশিক্ষণও দেন। মৎস্য দপ্তরের পরামর্শে পাবদার সঙ্গে নানা প্রজাতির কার্পও চাষ হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ৬ মাসে ২২ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। ১ দিনেই ১৭ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছি। আরও ৫০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হবে বলে আশা করছি।’

ডুমুরিয়ার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ‘করোনাকালে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মৎস্য দপ্তর বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেয়। বিদেশফেরত বেনজির মাছ চাষের আগ্রহের কথা জানালে তাঁকে

পাবদা চাষের পরামর্শ দিই। সঙ্গে তাঁর একজন স্বজন, যাঁর আগে পাবদা চাষের অভিজ্ঞতা ছিল, তাঁর সঙ্গে যুক্ত করে দিই। ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তিসেবা সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় ফেজ) প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণসহ বেনজিরকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাঁরা ব্যাপক সফল।’

প্রথম আলোসূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)