সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে কানাইপুর গ্রামবাসীর

শহরের কোলাহল নয়, ভোরের নীরবতা ভাঙে পাখির কলকাকলিতে। সূর্যের আলো ফোটার আগেই গাছের ডালে ডালে শুরু হয় নানা প্রজাতির পাখির ডাক। সেই সুরেই প্রতিদিন নতুন দিনের শুরু হয় জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কানাইপুর গ্রামবাসীর।

শহরের কোলাহল নয়, ভোরের নীরবতা ভাঙে পাখির কলকাকলিতে। সূর্যের আলো ফোটার আগেই গাছের ডালে ডালে শুরু হয় নানা প্রজাতির পাখির ডাক। সেই সুরেই প্রতিদিন নতুন দিনের শুরু হয় জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কানাইপুর গ্রামবাসীর।

সবুজ গাছপালার ফাঁকে পাখিদের অবিরাম ডাক— কানাইপুর গ্রামের প্রকৃতিকে করে তুলেছে প্রাণবন্ত। আম, জাম, কাঁঠাল, বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন গাছের ডালে দেখা মেলে হাজার হাজার শামুকখোল পাখির।

ছোট্ট গ্রাম কানাইপুকুর এখন স্থানীয়দের কাছে পাখিদের গ্রাম বলেও পরিচিত। আর পাখিদের এই অভয়ারণ্য গড়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে গ্রামের প্রকৃতিপ্রেমী মরহুম আলহাজ্ব আব্দুস ছোবহান মণ্ডলের ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি। বাড়ির পাশে থাকা পুকুরপাড়ে সুবিশাল গাছগুলোকে কেন্দ্র করেই বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে পাখিদের এই মহাজাগতিক এক কলোনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতি মৌসুমে এখানে প্রায় ৫০ হাজার শামুকখোল এসে আশ্রয় নেয়। সঙ্গে ডানা মেলে উড়ে আসে শ্বেতশুভ্র বক, কানিবক, ডানা ঝাপটানো পানকৌড়ি আর আকাশের বুক চিরে নামা শঙ্খচিল। বিশাল এই বাড়িটির প্রাঙ্গণ প্রতিদিন পরিণত হয় হাজারো পাখির সুরের মেলায়। গাছের ডালে এই পাখির বিশাল সাম্রাজ্য এক দিনে গড়ে ওঠেনি। এর পেছনে লুকিয়ে আছে প্রায় দুই দশকের এক গভীর আবেগ আর পরম ভালোবাসার ইতিহাস।

জানা গেছে, ২০০৭-০৮ সালে এক বর্ষায় প্রথমে দু-একটি পথভোলা শামুকখোল পাখি এসে আশ্রয় নিয়েছিল এই বাড়ির উঁচু ডালগুলোতে। পরিবারের মানুষগুলো সেগুলোকে তাড়িয়ে দেননি, বরং পরম মমতায় কোনো ক্ষতি না করে থাকতে দিয়েছিলেন। অবুঝ পাখিগুলো বোধহয় সেই স্নেহের ভাষা বুঝতে পেরেছিল। নিরাপদে সন্তান লালন-পালন করে সে বছর চলে গেলেও, পরের বছর তারা ফিরে আসে দল বেঁধে আরও নতুন সঙ্গী নিয়ে। সেই থেকে প্রতি বছরই তাদের ফিরে আসা, প্রতি বছরই পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে পাখির সংখ্যা ও বাসার ভিড়। দেখতে দেখতে মরহুম আব্দুস ছোবহান মণ্ডলের বাড়ির বিশাল পরিমণ্ডলই হয়ে ওঠে এই পরিযায়ী বিহঙ্গদলের চিরচেনা, পরম নির্ভরযোগ্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

স্থানীয় বাসিন্দা কাশেম মন্ডল বলেন, ভোর হলেই চারপাশে পাখির ডাক শোনা যায়। অনেকের কাছে এটি শুধু পাখির কিচিরমিচির নয়; বরং প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সুর। পাখির ডাক শুনেই কৃষকরা মাঠে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন, কেউ শুরু করেন প্রতিদিনের ঘরোয়া কাজ।

পাঁচবিবি উপজেলার ঢাকারপাড়া থেকে কানাইপুর গ্রামের পাখি কলোনি দেখতে আসা তরিকুল ইসলাম বলেন, আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখানকার পাখি দেখেছি। পাখিদের কিচিরমিচির শুনে মুগ্ধ হয়ে আজকে পাখিগুলো দেখতে এসেছি ভালো লাগছে।

কানাইপুর গ্রামের মরহুম আব্দুস সোবাহানের নাতি তামিম বলেন, প্রায় দেড় যুগ আগে আমাদের বাড়ির পাশে তেঁতুলতলী পুকুরপাড়ে শত বছরের পুরোনো এক বটগাছে প্রথমে এই শামুকখোল পাখিরা এসে আশ্রয় নেয়। এরপর ধীরে ধীরে প্রতিবছর এখানে পাখিদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আমরাও তাদের পরম যত্নে নিরাপদে রাখি। তবে সরকারি ভাবে এই পাখি কলোনিকে নিয়ে যদি কাজ করা যায় তাহলে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সি বলেন, কানাইপুকুরের পাখি কলোনি প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষায় স্থানীয়দের সচেতনতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। পাখি শিকার ও তাদের বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি পাখিদের আবাসস্থল গাছগুলোও রক্ষা করতে হবে। কলোনিটিকে সংরক্ষণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলার বিষয়ে সম্ভাব্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মো. আল-কারিয়া চৌধুরী/কেজে/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)