সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

পথকুকুরের জলাতঙ্ক টিকা প্রকল্পে ১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার পরামর্শক ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় পথকুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ৪২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্পে শুধু পরামর্শক খাতে ১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ধরায় আপত্তি তোলে পরিকল্পনা কমিশন, জানায় জাগো নিউজ; কর্মকর্তারা বলেন, বিশেষজ্ঞ ও মাঠপর্যায়ের সেবার জন্যই এ ব্যয়।

পথকুকুরের জলাতঙ্ক টিকা প্রকল্পে ১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার পরামর্শক ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন
পরিবেশ

ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় পথকুকুরকে গণটিকা দিয়ে জলাতঙ্ক রোগ ঠেকাতে ৪২ কোটি ৬৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকার একটি প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, আর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এর ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে পরিকল্পনা কমিশন। জাগো নিউজ ২৪ ডটকম ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি এ খবর প্রকাশ করে। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটির ব্যয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ৩৭টি খাতে ভাগ করে দেখিয়েছিল। এর মধ্যে শুধু পরামর্শকদের জন্য ধরা হয়েছিল ১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, আর এ অঙ্ক নিয়েই আপত্তি তোলে কমিশন। প্রতিবেদনটি লেখেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মফিজুল সাদিক।

প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটিতে প্রস্তাব


'পথকুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ বিস্তার রোধ' নামের প্রকল্পের প্রস্তাবটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পাঠায় পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগের বন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উইংয়ে। প্রস্তাবে চাওয়া পরামর্শক ব্যয়কে প্রতিবেদনে 'অযৌক্তিক' বলে বর্ণনা করা হয়। প্রস্তাবটি নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়, আর সেখানেই পরামর্শক ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অহেতুক পরামর্শক ব্যয় কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেয় কমিশন। ৩৭ খাতের অনেক ব্যয়ের যৌক্তিকতা খুঁজে পায়নি কমিশন। এর মধ্যে চারজনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ খাতে ধরা হয়েছিল ২৮ লাখ টাকা, আর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে ধরা হয়েছিল ১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটি তিন বছর মেয়াদে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বাস্তবায়নের কথা ছিল।

প্রস্তাবে প্রকল্পের তিনটি উদ্দেশ্য বলা হয়। প্রথমটি, পথকুকুরে গণটিকার মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধ করে প্রাণিস্বাস্থ্যের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা। দ্বিতীয়টি, বন্ধ্যাত্বকরণের মাধ্যমে পথকুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও তাদের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন। তৃতীয়টি, জনগণের মধ্যে প্রাণীর প্রতি মানবিকতাবোধ গড়ে তোলা এবং জলাতঙ্ক রোগ ও তা প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।

প্রতিবেদনে প্রকল্পের যেসব কার্যক্রমের তালিকা দেওয়া হয়, সেগুলো হলো ১০ জনের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ, চারজনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন, প্রাণীর টিকা ও ওষুধ কেনা, প্রতিরোধী (এমডিজি) কার্যক্রম, পথকুকুর নিয়ন্ত্রণ, নিউটার করা কুকুরের খাদ্য কেনা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ এবং চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ। প্রকল্পের আওতায় তিনটি ল্যাপটপ, একটি প্রজেক্টর, ছয়টি এয়ার কুলার ও আসবাবপত্র কেনার কথাও ছিল।

খাতওয়ারি ব্যয়ের হিসাব


প্রতিবেদনে প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে প্রস্তাবিত ব্যয়ের বিবরণ দেওয়া হয়। দুজন কর্মকর্তার, মূলত প্রকল্প পরিচালক ও উপপ্রকল্প পরিচালকের, মূল বেতন ধরা হয়েছিল ৩৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এই দুই কর্মকর্তার জন্য প্রস্তাবে আরও ধরা হয়:

  • বাড়িভাড়া খাতে ১৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা;
  • চিকিৎসা ভাতা খাতে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা;
  • শিক্ষা ভাতা খাতে ৭২ হাজার টাকা;
  • উৎসব ভাতা ৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা;
  • শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা;
  • মোবাইল ভাতা ৩৬ হাজার টাকা;
  • নববর্ষ ভাতা ৬৯ হাজার টাকা;
  • বিশেষ সুবিধা ভাতা ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

এ ছাড়া আবাসিক টেলিফোন নগদায়ন ভাতা হিসেবে ধরা হয় ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা। ২০ জন আউটসোর্সিং জনবলের জন্য ব্যয় ধরা হয় প্রায় দুই কোটি টাকা। ১০ জনের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ খাতে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা, ইন্টারনেট বিল বাবদ ৭২ হাজার টাকা, দরপত্র বিজ্ঞাপনে ৬ লাখ টাকা, ভিডিও ডকুমেন্টারিতে ২০ লাখ টাকা এবং সম্মানী খাতে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়।

সেমিনার ও কর্মশালা খাতে ধরা হয় ১৯ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, অন্যান্য সম্মানী খাতে ১২ লাখ টাকা, অন্যান্য মনিহারি খাতে ৬ লাখ টাকা এবং গাড়ি ভাড়া (কার হায়ারিং) খাতে ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রাণীর টিকা ও ওষুধ খাতে ধরা হয় ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, নিউটার করা কুকুরের খাদ্য খাতে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, সচেতনতামূলক প্রচারণা (অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন) খাতে ৭৪ লাখ টাকা এবং ২ শতাংশ ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালট্যান্সি ফি বাবদ ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

দপ্তর ও সরঞ্জামের জন্য প্রস্তাবে প্রকল্প অফিস সংস্কারে ৫ লাখ টাকা, তিনটি ডেস্কটপ কম্পিউটারে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর স্ক্রিন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামগ্রীতে ৭০ হাজার টাকা, ল্যাপটপ কেনায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ফটোকপি মেশিন কেনায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র কেনায় ১১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, আইপিএস (বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা) কেনায় ১ লাখ টাকা এবং ছয়টি এয়ার কুলার কিনতে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা ধরা হয়।

সবচেয়ে বড় ভৌত খাতগুলো ছিল ভেটেরিনারি সেবার। মোবাইল পেট ক্লিনিক খাতে ধরা হয় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ব্যয় তালিকায় 'সিডিএইচ পেট ক্লিনিক' নামে উল্লিখিত ক্লিনিকের জন্য সার্জারি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, আর স্ট্যাটিক ক্লিনিক আপগ্রেডেশনের আওতায় ওই পেট ক্লিনিক নির্মাণ খাতে প্রতিবেদনের ভাষায় '৯ কোটি ৮৬ হাজার টাকা'।

যেসব বিষয়ে প্রশ্ন তোলে কমিশন


প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের আরও কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্ন তোলে কমিশন। পথকুকুরের নিউটার ও চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ খাতে ১০ জন প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ এবং প্রতি কর্মশালায় ১০০ জন করে তিনটি সেমিনার আয়োজনের সংস্থান রাখা হয়। কিন্তু প্রশিক্ষণ বা সেমিনার-কর্মশালায় প্রশিক্ষণার্থী বা অংশগ্রহণকারী হিসেবে কারা থাকবেন, প্রস্তাবে তা উল্লেখ করা হয়নি।

কুকুর নিউটার করার কাজে নিয়োজিত ভেটেরিনারি সার্জনদের সম্মানী হিসেবে রাখা ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে কমিশন। কারণ, প্রস্তাব অনুযায়ী চারজন ভেটেরিনারি সার্জন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রকল্পে কাজ করবেন, আর পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও তিনজন ভেটেরিনারি সার্জন পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের (সিভিএইচ) পেট ক্লিনিকের জন্য সার্জারি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনতে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা রাখা হলেও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) সরঞ্জামের স্পেসিফিকেশন বা বাজারদর যাচাইয়ের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে কমিশনের পর্যবেক্ষণের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা


পরামর্শক ব্যয় বেশি ধরার কারণ জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন কোষের প্রধান ডা. মো. হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, 'এ কাজটা করতে এক্সপার্ট লাগবে। এক্সপার্ট ছাড়া এ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। যে কারণে প্রকল্পের পরামর্শক ব্যয় ১৫ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।'

দুজন কর্মকর্তার জন্য নানা খাতে ব্যয় ধরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'দুজন কর্মকর্তার মোট বেতন একসঙ্গে হয় না। বেতনের ভেতরে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকে। বাড়িভাড়া, বিশেষ সুবিধা, বিনোদন ভাতা ইত্যাদি। সবগুলো একসঙ্গে করেই এ ব্যয় ধরা হয়েছে।'

১৫ কোটি টাকা পরামর্শক ব্যয় প্রসঙ্গে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগের বন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উইংয়ের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) ড. অঞ্জন কুমার দেব রায় বলেন, 'এটা সেভাবে পরামর্শক বলা যাবে না। অপারেশনের সার্ভিস বলা যায়। পথকুকুরকে টিকা দেওয়া ও নানা সার্ভিস দেওয়ার জন্যই এ ব্যয়।'

৩৭ খাতে অহেতুক ব্যয়ের প্রশ্নে ড. অঞ্জন কুমার দেব রায় বলেন, 'সবগুলো মিটিং করার পরে বিবেচনা করা হয়েছে। বাইরের অযৌক্তিক ব্যয় বাদ দেওয়া হয়েছে।'

জলাতঙ্ক: প্রতিরোধযোগ্য, কিন্তু উপসর্গ দেখা দিলে প্রাণঘাতী


জলাতঙ্ক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রাণী থেকে মানুষে ছড়ায় এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৪ সালের জুনের তথ্যপত্র অনুযায়ী, দেড় শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে, প্রধানত এশিয়া ও আফ্রিকায়, জলাতঙ্ক একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। সংস্থাটির হিসাবে বিশ্বে প্রতিবছর আনুমানিক ৫৯ হাজার মানুষ এ রোগে মারা যায়, যদিও কম রিপোর্ট হওয়ায় নথিভুক্ত সংখ্যা প্রায়ই এই হিসাবের চেয়ে আলাদা হয়। মৃতদের প্রায় ৪০ শতাংশ ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বছরে প্রায় ৫৫ হাজার মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল; এই লেখায় ডব্লিউএইচওর হিসাবটি ব্যবহার করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচও বলছে, মানুষের জলাতঙ্কের ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষেত্রে ভাইরাস ছড়ায় কুকুর থেকে। ভাইরাসটি ছড়ায় লালার মাধ্যমে, সাধারণত কামড় বা আঁচড়ে, কিংবা চোখ, মুখ বা খোলা ক্ষতের সংস্পর্শে। কুকুর ছাড়াও বিড়াল, গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণীসহ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী এতে আক্রান্ত হয়। সংক্রমণের পর উপসর্গ দেখা দিতে সাধারণত দুই থেকে তিন মাস লাগে, তবে এ সময় এক সপ্তাহ থেকে এক বছর পর্যন্ত হতে পারে।

ভাইরাস কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছে উপসর্গ দেখা দিলে জলাতঙ্কে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যু হয়। ডব্লিউএইচও রোগটির দুটি রূপের কথা বলে। উগ্র বা ফিউরিয়াস জলাতঙ্কে অতিরিক্ত চঞ্চলতা, হ্যালুসিনেশন, পানিভীতি ও বাতাসভীতি দেখা দেয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে মৃত্যু হয়। পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা প্যারালাইটিক জলাতঙ্ক, যা মানুষের মোট রোগীর প্রায় ২০ শতাংশ, ধীরে এগোয়; ক্ষতস্থান থেকে শুরু করে পেশি ধীরে ধীরে অবশ হয়ে যায়, আর এ রূপটি প্রায়ই ভুলভাবে শনাক্ত হয়।

দ্রুত পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস (পিইপি) বা কামড়-পরবর্তী সুরক্ষা নিলে মৃত্যু ঠেকানো যায়। ডব্লিউএইচওর পরামর্শ হলো, সম্ভাব্য জলাতঙ্কগ্রস্ত প্রাণী কামড় বা আঁচড় দিলে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। পিইপির মধ্যে রয়েছে এই ক্ষত ধোয়া, মানুষের জলাতঙ্ক টিকার পূর্ণ কোর্স এবং প্রয়োজন হলে র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন। প্রাণীকে ছোঁয়া, খাওয়ানো বা অক্ষত ত্বকে চাটাকে সংক্রমণের ঝুঁকি হিসেবে ধরা হয় না; খোলা ত্বকে আলতো কামড় বা রক্তপাতহীন ছোট আঁচড়ে টিকা লাগে; আর ত্বক ভেদ করা কামড় বা আঁচড়ে টিকার সঙ্গে ইমিউনোগ্লোবুলিনও লাগে। কামড় বা আঁচড় খেলে চিকিৎসকের কাছে বা নিকটস্থ জলাতঙ্ক প্রতিরোধ কেন্দ্রে যেতে হবে।

ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে জলাতঙ্কের ভাইরাস, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ১৯৭৫ সালের ছবি। ছবি: সিডিসি / ড. ফ্রেড মারফি / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে জলাতঙ্কের ভাইরাস, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ১৯৭৫ সালের ছবি। ছবি: সিডিসি / ড. ফ্রেড মারফি / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

বাংলাদেশে জলাতঙ্ক ও জাতীয় কর্মসূচি


প্রতিবেদনে উদ্ধৃত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় আড়াই লাখ মানুষ কুকুর, বিড়াল বা শিয়ালের কামড় বা আঁচড়ের শিকার হয়, যাদের বেশির ভাগই শিশু। গবাদিপশুর ক্ষেত্রে কুকুর বা বিড়ালের কামড়ের সঠিক পরিসংখ্যান নেই, তবে ২০২৩ সালে ১ হাজার ২৩২টি গবাদিপশু জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

জলাতঙ্ক প্রতিরোধের বৈশ্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি পরিচালনা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের মধ্যে দেশকে জলাতঙ্কমুক্ত করার লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে জাতীয় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কর্মসূচিতে কাজ করছে, আর সব জেলায় মোট ৬৭টি জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কেন্দ্র চালু হয়েছে, যেখানে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর আধুনিক চিকিৎসা এবং বিনামূল্যে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার সহায়তায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ সাউথইস্ট এশিয়া সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই ব্যবস্থার বিবরণ আছে: ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে জাতীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে দ্বিতীয় রেফারেল কেন্দ্র এবং ৬৪ জেলার প্রতিটিতে অন্তত একটি করে মোট ৬৬টি জেলা কেন্দ্র।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশব্যাপী কুকুরের টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে চারটি জেলায় প্রথম রাউন্ডে এবং ১৬টি জেলায় দ্বিতীয় রাউন্ডে আনুমানিক পাঁচ লাখ কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়। ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের সরকারি নথি বিশ্লেষণ করা ২০২৪ সালের ওই গবেষণায় দেশের কুকুরের সংখ্যা ধরা হয় ১৬ লাখ ৬৮ হাজার ১৪০, অর্থাৎ প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১২.৮৩টি। গবেষণায় দেখা যায়, কুকুরের গণটিকাদান ২০১১ সালে কক্সবাজার পৌরসভায় শুরু হয়ে ৬৪টি জেলার প্রতিটিতে অন্তত এক রাউন্ড পৌঁছেছে; ৪৫টি জেলায় দ্বিতীয় রাউন্ড এবং আটটি জেলায় তৃতীয় রাউন্ড শেষ হয়েছে। এক বছরে সবচেয়ে বেশি, ৬ লাখ ২৫ হাজার ২০৮টি কুকুরকে টিকা দেওয়া হয় ২০১৯ সালে। ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয়, চট্টগ্রাম ও জেলা কেন্দ্রগুলোতে মানুষের জন্য জলাতঙ্ক টিকার ২৭ লাখ ৩০ হাজার ৮২৯টি ডোজ ব্যবহার হয়। গবেষণাটি বলছে, মানুষের জলাতঙ্কজনিত মৃত্যুর হিসাবে জলাতঙ্কপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ তৃতীয়, আর এসব মৃত্যুর প্রায় ৯৬ শতাংশের উৎস কুকুর।

কর্মসূচি শুরুর পর মৃত্যু কমেছে। ওয়ান হেলথ সাময়িকীতে ২০২০ সালে প্রকাশিত কুকুরের কামড়ের শিকার মানুষদের নিয়ে এক গবেষণায় বলা হয়, কর্মসূচির আগে দেশে প্রতিবছর দুই হাজারের বেশি মানুষ জলাতঙ্কে মারা যেত, আর ২০১৬ সালে জলাতঙ্কে মৃত্যুর খবর আসে ৫২টি। সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে ২০২০ সালে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২০০৬ থেকে ২০১৮ সালে নথিভুক্ত ১ হাজার ৩২৭টি জলাতঙ্কে মৃত্যু বিশ্লেষণ করা হয়; এর মধ্যে ৪২২ জনের নমুনায় দেখা যায়, ৭৮ শতাংশ প্রথমে কবিরাজ বা প্রথাগত চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন, আর মাত্র ১২ শতাংশ পিইপি পেয়েছিলেন। ওয়ান হেলথের জরিপে কুকুরের কামড়ের শিকার মানুষদের ৭১.৩ শতাংশকে কামড়েছিল রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো কুকুর।

কামড়ের ঘটনা তবু কমেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে দৈনিক দেশ রূপান্তর ২০২৪ সালের মে মাসে জানায়, ২০২৩ সালে সারা দেশে ছয় লাখের বেশি মানুষ কুকুরের কামড়ের পর জলাতঙ্কের টিকা নেন, ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখের সামান্য কম, আর এই দুই বছরে জলাতঙ্কে মারা যান ৮৬ জন। মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর আক্রমণে আহত হয়ে ২০২৩ সালে চিকিৎসা নেন ৯৪ হাজার ৩৮০ জন এবং ২০২২ সালে ৮৯ হাজার ৯২৮ জন, যাদের সিংহভাগই কুকুরের কামড়ে আহত।

কুকুরের গণটিকা যেভাবে কাজ করে


প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো এলাকার ৭০ শতাংশ কুকুরকে ব্যাপকভাবে টিকা দিলে সেখানকার কুকুরের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়, আর পরপর তিন বছর তিন রাউন্ড টিকা দিলে কুকুর থেকে মানুষ বা অন্য প্রাণীতে সংক্রমণ শূন্যের কোটায় নেমে আসে। ২০২৪ সালের গবেষণাতেও একই সীমার কথা আছে: বার্ষিক টিকাদানে ৭০ শতাংশের বেশি কুকুরকে টিকার আওতায় আনা গেলে কুকুরের মধ্যে জলাতঙ্ক অনেক কমে যায়, আর কয়েক বছর ধরে এ হার ধরে রাখলে আঞ্চলিকভাবে রোগটি নির্মূল সম্ভব। ডব্লিউএইচও বলছে, বাচ্চাসহ কুকুরকে গণটিকা দেওয়াই মানুষকে জলাতঙ্ক থেকে রক্ষার সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায়, কারণ এতে সংক্রমণ উৎসেই থেমে যায়; আর রাস্তার কুকুর মেরে ফেলা জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নয়।

২০২৪ সালের গবেষণায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদান অভিযান কীভাবে চলে তার বিবরণ আছে। প্রতিটি এলাকার জন্য সাত থেকে নয় দিন বরাদ্দ থাকে: এক দিন প্রচার ও ক্ষুদ্র পরিকল্পনা, এক দিন প্রাণী নিয়ন্ত্রণকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং চার থেকে ছয় দিন টিকাদান। একটি দলে সাধারণত বিভিন্ন খাতের ছয়জন থাকেন: দুজন দক্ষ কুকুর ধরার কর্মী, একজন স্থানীয় কুকুর ধরার কর্মী, স্বাস্থ্য খাতের একজন জরিপকারী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একজন টিকাদানকারী এবং স্থানীয় সরকারের একজন বাহক। কুকুর ধরে ১ মিলিলিটার মাত্রার টিকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, আর প্রতিটি কুকুরকে বিষমুক্ত রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। পরে এক জরিপে চিহ্নিত ও চিহ্নহীন কুকুর গুনে টিকার আওতা এবং কুকুরের সংখ্যা অনুমান করা হয়।

ফিলিপাইনের পুয়ের্তো প্রিন্সেসায় ২০১৫ সালের এপ্রিলে একটি কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দিচ্ছেন একজন পশুচিকিৎসক; কুকুরের টিকাদানের দৃষ্টান্ত হিসেবে ছবিটি দেওয়া হলো। ছবি: ল্যান্স করপোরাল ওয়েসলি টিম, ইউএস মেরিন কোর / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
ফিলিপাইনের পুয়ের্তো প্রিন্সেসায় ২০১৫ সালের এপ্রিলে একটি কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দিচ্ছেন একজন পশুচিকিৎসক; কুকুরের টিকাদানের দৃষ্টান্ত হিসেবে ছবিটি দেওয়া হলো। ছবি: ল্যান্স করপোরাল ওয়েসলি টিম, ইউএস মেরিন কোর / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

ঢাকার পথকুকুর ও আইন


ঢাকায় পথকুকুরের সংখ্যা অনেক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসি ও বিভিন্ন প্রাণিকল্যাণ সংগঠনের তথ্য উদ্ধৃত করে দেশ রূপান্তরের ২০২৪ সালের মে মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে প্রায় ১৭ লাখ কুকুর রয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ৫০ হাজারের বেশি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ৪০ হাজার। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে উচ্চ আদালত নির্বিচার কুকুর নিধনকে অমানবিক উল্লেখ করে তা বন্ধের নির্দেশ দেন; বিকল্প হিসেবে সরকার বন্ধ্যাত্বকরণের মাধ্যমে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেয়, কিন্তু দুই বছর পর তা-ও বন্ধ হয়ে যায়। ২০২০ সালে ডিএসসিসি রাজধানী থেকে পথকুকুর সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়, আর ২০২০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে করা এক রিট আবেদনে সে কার্যক্রম বন্ধ হয়। তার এক দিন আগে, ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা ট্রিবিউন জানিয়েছিল, ডিএসসিসির কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ধানমন্ডি এলাকা থেকে পথকুকুর সরিয়ে নিচ্ছেন, আর করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেছিলেন, পাঁচ দিনে ১০০টি কুকুর স্থানান্তর করা হবে। ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁরা ১ হাজার ৩০০ কুকুরকে টিকা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে তিনজন ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ও ১০ জন পরিদর্শকের জায়গায় আছেন মাত্র তিনজন, আর ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলে কোনো ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা পরিদর্শক নেই।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় কার্যকর আইন ছিল প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯ (২০১৯ সনের ১২ নং আইন, ১০ জুলাই ২০১৯), যা ১৯২০ সালের দ্য ক্রুয়েলটি টু অ্যানিমেলস অ্যাক্ট রহিত করে প্রণীত হয়। এর ৭ ধারায় বলা আছে, এই আইনে উল্লিখিত কোনো কারণ ছাড়া মালিকবিহীন কোনো প্রাণী নিধন বা অপসারণ করা যাবে না, এবং কেউ মালিকবিহীন প্রাণী হত্যা করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ১৬ ধারা অনুযায়ী এ অপরাধের শাস্তি অনধিক ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড। আইনে মালিকবিহীন প্রাণী বলতে বোঝানো হয়েছে মালিকানা বা দাবিদারবিহীন প্রাণী, অথবা যুক্তিসংগত অনুসন্ধানের পরও যার মালিক বা তত্ত্বাবধানকারীকে পাওয়া যায় না।

আইনটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত প্রাণীকে অনিরাময়যোগ্য অসুস্থ প্রাণী হিসেবে গণ্য করে। ১৪ ধারা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ, অর্থাৎ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তাঁর কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অধিদপ্তরের কোনো ভেটেরিনারি সার্জন, সংকটাপন্ন প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন, এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে, বাঁচিয়ে রাখা নিষ্ঠুরতা হলে, অনিরাময়যোগ্য অসুস্থ প্রাণীর ব্যথাহীন মৃত্যু ঘটাতে পারেন। আইনে উল্লিখিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে সিটি করপোরেশনও রয়েছে।

২০১৩ সালের প্যাসিফিক পার্টনারশিপ মিশনের একটি বন্ধ্যাত্বকরণ ও স্বাস্থ্য ক্লিনিকে স্বেচ্ছাসেবী পশুচিকিৎসক একটি কুকুরের অস্ত্রোপচার করছেন; এ ধরনের প্রকল্পে অর্থায়ন হওয়া নিউটার অস্ত্রোপচারের দৃষ্টান্ত। ছবি: ইউএস নেভি / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
২০১৩ সালের প্যাসিফিক পার্টনারশিপ মিশনের একটি বন্ধ্যাত্বকরণ ও স্বাস্থ্য ক্লিনিকে স্বেচ্ছাসেবী পশুচিকিৎসক একটি কুকুরের অস্ত্রোপচার করছেন; এ ধরনের প্রকল্পে অর্থায়ন হওয়া নিউটার অস্ত্রোপচারের দৃষ্টান্ত। ছবি: ইউএস নেভি / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

প্রকল্পের পেছনের প্রতিষ্ঠানগুলো


প্রকল্পের প্রস্তাবক প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সরকারের সেই দপ্তর, যা ভেটেরিনারি সেবা এবং গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণসেবার দায়িত্বে রয়েছে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এর কাজের সূচনা ১৮৯৩ সালে গঠিত সিভিল ভেটেরিনারি ডিপার্টমেন্ট থেকে, আর এর প্রধান কার্যালয় ঢাকার ফার্মগেটে কৃষি খামার সড়কের প্রাণিসম্পদ ভবনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্কমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কুকুরের গণটিকাদান ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সমন্বয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রাথমিকভাবে ঢাকা সিটি করপোরেশনে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব করে, আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসির জুনোটিক ডিজিজ কন্ট্রোল বিভাগ টিকার মাধ্যমে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কাজ করছে।

পরিকল্পনা কমিশন দেশের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা সংস্থা, যা ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পের মূল্যায়ন এর অন্যতম কাজ, আর কমিশন পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও প্রকল্প আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ বা এর নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাঠায়। কমিশনের চারটি খাতভিত্তিক বিভাগের একটি কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগ, আর বিভাগগুলো কয়েকটি উইংয়ে বিভক্ত, যেমন এই প্রস্তাব যাচাই করা বন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উইং।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে মিল রেখে ডব্লিউএইচও এবং তার অংশীদার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর রেবিস কন্ট্রোল ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরবাহিত জলাতঙ্কে মানুষের মৃত্যু শূন্যে নামানোর লক্ষ্য ঠিক করেছে, যা 'জিরো বাই থার্টি' নামে পরিচিত। ২০২৪ সালের গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়, মৃত্যু কমার ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে মানুষের জলাতঙ্ক শূন্যে নামতে পারে। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে, কিন্তু দেশ থেকে রোগটি নির্মূল করতে হলে কুকুরকে জলাতঙ্ক থেকে নিরাপদ করা প্রয়োজন।

ছবি: নাসির খান / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ২.০)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (জলাতঙ্ক তথ্যপত্র, ৫ জুন ২০২৪), দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ সাউথইস্ট এশিয়া (২০২৪), সায়েন্টিফিক রিপোর্টস (২০২০), ওয়ান হেলথ (২০২০), দেশ রূপান্তর (২৪ মে ২০২৪), ঢাকা ট্রিবিউন (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০), প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯ (বাংলাদেশ জাতীয় আইন তথ্যভান্ডার), বাংলাপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)