ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ২০২৬ সালের ২ জুলাই, বৃহস্পতিবার, নগর ভবনে এক বিশেষ সভায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে, আর ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় রাজউক এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তোলা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
দশ অঞ্চলে বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা
সভায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। এ লক্ষ্যে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। নতুন কমিটির দায়িত্ব ছিল করপোরেশনের ১০টি অঞ্চলে বৃক্ষরোপণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত মহাপরিকল্পনা তৈরি করা।
সভাপতির বক্তব্যে প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, "নগরীকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করতে আমরা বদ্ধপরিকর।"
ডিএসসিসি গঠিত হয় ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর, তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করার মধ্য দিয়ে। শুরুতে এর আয়তন ছিল ৪৫ বর্গকিলোমিটার, ২০১৭ সালে তা বেড়ে ১০৯.২ বর্গকিলোমিটার হয়। করপোরেশনটি প্রশাসনিকভাবে ৭৫টি ওয়ার্ডে বিভক্ত। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী এর আওতাধীন এলাকায় ৪৩ লাখের বেশি মানুষের বাস, আর সদর দপ্তর নগর ভবন।
জিরো সয়েল প্রকল্প ও সে বছরের কর্মসূচির সূচনা
সভায় জানানো হয়, পরিবেশ সুরক্ষায় ডিএসসিসির 'জিরো সয়েল' প্রকল্পের আওতায় ততদিনে নগরীর বিভিন্ন সড়ক দ্বীপে (মিডিয়ান) প্রায় ১৮ হাজার গাছ লাগানো হয়েছিল। এর আগে ১৬ জুন ডিএসসিসি এলাকায় একযোগে ৬০০টি চারা রোপণের মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
আগের বছর, ২০২৫ সালের ২৫ জুন, ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন হয়েছিল।

ভূমিকম্প মোকাবিলায় তিন সংস্থার সমন্বয়
সভায় নগরীর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। ভূমিকম্পের মতো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় ডিএসসিসি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মধ্যে একটি কার্যকর ও সুদৃঢ় সমন্বয় গড়ে তোলার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। সভায় ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজউক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকার নগর পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ। জোনিং বিধিমালা, ভবনের নকশা অনুমোদন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও রাজধানীর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন এর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ১৯৫৬ সালে ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট নামে যাত্রা শুরু করা সংস্থাটি ১৯৮৭ সালে রাজউকে রূপ নেয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় জরুরি সেবা সংস্থা, যা অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধার অভিযান ও বেসামরিক প্রতিরক্ষার কাজ করে। ১৯৮১ সালের ৯ এপ্রিল ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগ একীভূত হয়ে সংস্থাটি গঠিত হয়।

পটভূমিতে নভেম্বরের ভূমিকম্প
এর আগে, ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় তীব্র ভূকম্পন অনুভূত হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭, উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী, ঢাকার আগারগাঁও থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পূর্বে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পে এক নবজাতকসহ অন্তত ১০ জন নিহত হন: নরসিংদীতে পাঁচজন, পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় তিনজন, মুগদায় একজন এবং রূপগঞ্জে একটি নবজাতক।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, তাঁর অভিজ্ঞতায় সেদিনের ঝাঁকুনি ছিল বাংলাদেশে অনুভূত সবচেয়ে তীব্র। তাঁর মতে, ভূমিকম্পটির উৎস ইন্দো-বার্মা টেকটোনিক প্লেটের ভেতরে।

ছবি: Shadman Samee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলা ট্রিবিউন, দৈনিক নয়া দিগন্ত, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, প্রথম আলো, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)