ভূমিকম্প গবেষণার জন্য তৈরি একটি প্রযুক্তি এখন কাজে লাগানো হচ্ছে মাঠের কোথায় মাটি চাপে শক্ত হয়ে গেছে, তা খুঁজে বের করতে। আর্থ রোভার প্রোগ্রাম (Earth Rover Program)-এর গবেষকেরা পরীক্ষা করছেন, প্রচলিত ভূকম্পবিদ্যার সরঞ্জাম দিয়ে মাটি না খুঁড়েই পুরো মাঠের নিচের একটি ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যায় কি না। এতদিন একটি গর্ত খুঁড়ে এক জায়গার মাপ নেওয়াই ছিল ভরসা।
সমস্যাটি হলো মাটির সংকোচন, যা অনেক খামারে চোখে পড়ে না অথচ খরচ বাড়ায়। মাটির ধরন, চাষের পদ্ধতি ও আবহাওয়াভেদে এর মাত্রা অনেক বদলায়। যুক্তরাজ্যের হার্পার অ্যাডামস বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি গবেষক ও আর্থ রোভার প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ড. জো কলিন্স (Joe Collins) বলেন, কৃষি খাত এতদিন মাটির পুষ্টি ও পিএইচের মতো রাসায়নিক দিক, আর ইদানীং জীবজ দিক নিয়ে ভেবেছে। মাটির ভৌত গঠন সামলানো হয় মূলত প্রচলিত চাষ আর শস্যপর্যায় দিয়ে।
পদ্ধতিটি কাজ করে এভাবে: মাটিতে কয়েকটি সেন্সর বসানো হয়, আর শব্দের উৎস হিসেবে যথেষ্ট পায়ের একটি দাপ বা হাতুড়ির একটি আঘাত। এক সেন্সর থেকে আরেক সেন্সরে শব্দ পৌঁছাতে কত সময় লাগে, তা হিসাব করে মাটির স্তরের গভীরতা ও ঘনত্বের (বাল্ক ডেনসিটি) মতো ভৌত বৈশিষ্ট্য বের করা হয়। সেখান থেকেই তৈরি হয় মাটির ত্রিমাত্রিক মানচিত্র।
ড. কলিন্সের ভাষায়, এক জায়গার মাপের বদলে পুরো মাঠের মানচিত্র পেলে কৃষক নিশ্চিন্তে অপ্রয়োজনীয় চাষ বাদ দিতে পারবেন এবং শুধু দরকারি জায়গায় কাজ করে খরচ বাঁচাতে পারবেন। একই মাপ থেকে উপরিমাটির গভীরতা ও মাটিতে জমা কার্বনের হিসাবও নির্ভুলভাবে পাওয়া যেতে পারে; ভবিষ্যতে কার্বন সংরক্ষণের সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থায়ন যুক্ত হবে বলে তাঁর ধারণা।
কয়েক ধরনের ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে: মাঠের বাছাই করা জায়গায় ছোট সেন্সর, একটি স্মার্টফোন অ্যাপ, আর ট্রাক্টরে লাগানো একটি ব্যবস্থা, যেখানে ট্রামলাইন ধরে সেন্সর বসানো থাকবে এবং ট্রাক্টর নিজেই নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে শব্দের উৎস হবে। চূড়ান্ত লক্ষ্য, এই তথ্য খামার ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারে জমা রেখে সময়ের সঙ্গে মাটির বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করা।
কৃষিবিদ ও অ্যাগ্রি-টেকই (Agri-TechE) দূত টড জেক্স (Todd Jex) বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে মাটির ঘনত্ব ঠিকমতো মাপা কঠিন; শরতে মাটি যখন সাধারণ পরীক্ষার জন্য বেশি শুকনো, তখনও ভূকম্পীয় পদ্ধতি কাজ দিতে পারে। শক্ত স্তর ভাঙতে ডিজেল আর যন্ত্রের ক্ষয় দুটোই লাগে, কিন্তু উপেক্ষা করলে ক্ষতি বড়: ডালজাতীয় ফসলে ফলন ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে তিনি জানান। মাটির ঘনত্বের সঙ্গে জৈব পদার্থের সম্পর্ক থাকায় এই মানচিত্র দেখাতে পারবে, কোথায় গোবর সার বা স্লাজ দিলে সবচেয়ে বেশি লাভ।
গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। ড. কলিন্স বলেন, প্রযুক্তিটির নানা রূপ দিয়ে পরে মাটির বুনটও মাপা যেতে পারে। আর্থ রোভারের সরঞ্জাম ৪ নভেম্বর পিটারবরায় রিপ কনফারেন্সে দেখানোর কথা রয়েছে।
ছবি: Rasbak (মাটির গঠন নষ্ট হওয়া জমিতে চিনিবিট) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)