নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মাছ ধরার জালে আটকা পড়া একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দিয়েছিল বন বিভাগ। জাগো নিউজ ২৪-এর ১৬ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ জুলাই বুধবার বিকেলে উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের সেনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় জেলেদের জালে সাপটি আটকা পড়ে। অজগরটি প্রায় ৮ ফুট লম্বা ছিল, ওজন ১১ কেজি।
উদ্ধার ও অবমুক্তি
স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লেংগুরা বন বিটের কর্মকর্তা মো. সামিউল ইসলাম সিয়ামের নেতৃত্বে বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান এবং সাপটি উদ্ধার করেন। পরে লেংগুরা সীমান্তসংলগ্ন কাঁঠালবাড়ি বনাঞ্চলে অজগরটি অবমুক্ত করা হয়।
বিট কর্মকর্তা সামিউল ইসলাম সিয়াম তখন বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। লোকালয়ে কোনো বন্যপ্রাণী দেখা গেলে সেটিকে না মেরে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সীমান্তঘেঁষা কলমাকান্দা
কলমাকান্দা ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা জেলার একটি উপজেলা, আয়তন ৩৭৭.৪১ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে বারহাট্টা ও নেত্রকোনা সদর, পূর্বে ধর্মপাশা এবং পশ্চিমে দুর্গাপুর উপজেলা। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে খারনৈ ও লেংগুরা দুটি। গণেশ্বরী, সোমেশ্বরী, মহাদেও, মঙ্গলেশ্বরী ও উবদাখালীসহ কয়েকটি নদী এই অঞ্চল দিয়ে বয়ে গেছে। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৪৮।

অজগর কেমন সাপ
প্রতিবেদনে উদ্ধার হওয়া সাপটির প্রজাতির নাম উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাদেশের স্থানীয় অজগরের একটি প্রজাতি বার্মিজ অজগর (Python bivittatus)। আইইউসিএনের গ্লোবাল ইনভেসিভ স্পিসিস ডেটাবেজ (জিআইএসডি) বাংলাদেশকে এর আদি বিচরণক্ষেত্রের মধ্যে রেখেছে। এটি শিকারকে পেঁচিয়ে মারে এবং আস্ত গিলে খায়। খাদ্যের বড় অংশ পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী, তবে উভচর ও সরীসৃপও খায়।
এই অজগর বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, নদী-উপত্যকা ও পাহাড়ের পাদদেশে থাকে এবং এর স্থায়ী পানির উৎস দরকার হয়। জিআইএসডির তথ্যমতে, এরা দক্ষ সাঁতারু ও গাছে চড়তে পারে, শ্বাস না নিয়ে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত পানির নিচে থাকতে পারে। বন্য পরিবেশে এরা সাধারণত ৫ মিটার (১৬ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হয়। আইইউসিএনের লাল তালিকায় প্রজাতিটি 'সংকটাপন্ন' (ভালনারেবল) হিসেবে চিহ্নিত; আবাসস্থল হারানো এবং চামড়ার ব্যবসার জন্য অতিরিক্ত আহরণ এর প্রধান হুমকি।

আইন কী বলে
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ৬ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি বন্যপ্রাণী শিকার করতে পারেন না। আইনের ৩৯ ধারায় এই বিধান লঙ্ঘনের দণ্ড সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড; একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে দণ্ড বাড়ে।
বন্যপ্রাণী ধরা, হত্যা, খাওয়া, কেনাবেচা, পাচার বা দখলে রাখার খবর জানাতে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট (ডব্লিউসিসিইউ) একটি হটলাইন চালায়; বন অধিদপ্তর জানিয়েছে, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হয়।
ছবি: মারিলুনা / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)। প্রধান ছবিতে একটি বার্মিজ অজগর (প্রতীকী ছবি), কলমাকান্দায় উদ্ধার হওয়া সাপটি নয়।
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, উইকিপিডিয়া (কলমাকান্দা উপজেলা ও বার্মিজ অজগর), আইইউসিএন গ্লোবাল ইনভেসিভ স্পিসিস ডেটাবেজ, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ (লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ), বন অধিদপ্তর





মন্তব্য
(০)