সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ঈদের ছুটির শেষ দিনে যাত্রাবাড়ী আড়তে ক্রেতা কম, ফলের দোকানে কিছুটা বেচাকেনা

ঈদুল আজহার ছুটির শেষ দিন ২০২৬ সালের ৩১ মে ঢাকার যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার ও মাছের আড়তে বেচাকেনা জমেনি; সবজির দাম কিছুটা কম থাকলেও সরবরাহ কম থাকায় মাছের দাম ছিল চড়া, আর ফলের দোকানে আম-লিচুর কিছুটা চাহিদা ছিল।

ঈদের ছুটির শেষ দিনে যাত্রাবাড়ী আড়তে ক্রেতা কম, ফলের দোকানে কিছুটা বেচাকেনা
মৎস্য

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির শেষ দিন, ২০২৬ সালের ৩১ মে রোববার, ঢাকার যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার ও মাছের আড়তে বেচাকেনা তখনো জমে ওঠেনি। ছুটিতে গ্রামে যাওয়া অনেক মানুষ তখনো রাজধানীতে ফেরেননি। স্বাভাবিক সময়ে কর্মচাঞ্চল্য আর কোলাহলে ভরা এই বাজারের চেহারা সেদিন ছিল ভিন্ন। তবে ফলের দোকানগুলোতে কিছুটা ক্রেতার দেখা মেলে। সেদিন আড়ত ঘুরে এই চিত্র তুলে ধরে জাগো নিউজ।

২০২৬ সালে বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয় ২৮ মে। সরকার ঈদ উপলক্ষে ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছিল, অফিস খোলার কথা ছিল ১ জুন। যাত্রাবাড়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি থানা এলাকা; ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শুরুর মুখে এর অবস্থান।

আড়তে ক্রেতা কম, পণ্যের জোগানও কম


দোকান খুলে বসে থাকা মাছ ব্যবসায়ী স্বপন দাস জাগো নিউজকে বলেন, গ্রাম থেকে তখনো অনেকেই ফেরেননি। ক্রেতা কম থাকায় মাছের আমদানিও কম। যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন জানান, সাধারণত ঈদের পরে বাজারে তীব্র চাপ পড়ে, কিন্তু এবার তখনো বাজার জমেনি; মালামাল কম, কেনাবেচাও কম। সব দোকান তখনো খোলেনি।

আড়তের পরিবহন মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্যবাহী ট্রাক আসা তখনো স্বাভাবিক হয়নি, ফলে বাজারে কাঁচামালের জোগান কম ছিল। বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছিলেন, পরের দু-তিন দিনের মধ্যেই যাত্রাবাড়ী আড়ত ও আশপাশের বাজার পুরো গতিতে ফিরবে।

ফলের দোকানে আম আর লিচু


সেদিন বাজারে আম আর লিচুই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছিল। আমের মধ্যে তখনো হিমসাগর ছাড়া অন্য কোনো জাত বাজারে আসেনি; হিমসাগরের পরেই বেশি বিক্রি হচ্ছিল লিচু। এ ছাড়া ড্রাগন ফল, মাল্টা, আপেল ও কমলাও বিক্রি হচ্ছিল। বিক্রেতারা জানান, লিচুর দাম ছিল ঈদের আগের মতোই, যদিও আগের শুক্রবার দাম তুলনামূলক বেশি ছিল।

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, হিমসাগর আঁশবিহীন, মাঝারি আকারের একটি আমের জাত। এটি মে মাসে পাকে এবং সাধারণত মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যায়; বাংলাদেশে মূলত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এর চাষ হয়।

হিমসাগর আম, মে মাসে পাকা এই জাতই সেদিন যাত্রাবাড়ীর বাজারে একমাত্র আম ছিল। ছবি: Billjones94 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
হিমসাগর আম, মে মাসে পাকা এই জাতই সেদিন যাত্রাবাড়ীর বাজারে একমাত্র আম ছিল। ছবি: Billjones94 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
গাজীপুরে গাছে থোকায় থোকায় লিচু। ছবি: Mazhar Zarif / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
গাজীপুরে গাছে থোকায় থোকায় লিচু। ছবি: Mazhar Zarif / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সবজির দাম কিছুটা কম, মাছ চড়া


বিক্রেতারা জানান, সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকলেও সরবরাহ কম থাকায় মাছের দাম বেড়ে গিয়েছিল; পরের সপ্তাহে দাম স্থিতিশীল হবে বলে তাঁরা আশা করছিলেন। কাশেম নামের এক বিক্রেতা বলেন, কোরবানির পর সবার ঘরেই মাংস থাকায় মাংসের চাহিদা নেই বললেই চলে, সবজির বেচাকেনাও কম।

মাছ কিনতে আসা ফাহিম মুন্সি জানান, ঈদের পর বাসাবাড়িতে মেহমানদারি ও নানা অনুষ্ঠান বাড়ায় মাছের চাহিদা বেড়েছে, আর সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিক্রেতারা দাম একটু বেশি চাইছেন। তাঁর ভাষায়, স্বাভাবিক সময়ে চিংড়ির দাম কম থাকলেও সেদিন একটু বেশি মনে হচ্ছিল।

কদমতলীর পাগাড়মাথা বাজারের ব্যবসায়ী হিমেল সেদিন যাত্রাবাড়ী থেকে পটোল, শসা, কাঁচামরিচ, পেঁপে, বরবটি, কাঁচকলা, কচুর লতি, ঢ্যাঁড়স ও বেগুনসহ নানা সবজি আর লিচুর খাঁচি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলছিলেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বেশির ভাগ সবজির দাম একটু কমেছে, তবে কাকরোলের দাম বেশি। আগের দিন লিচুর দাম বেশি ছিল; সেদিন আমদানি একটু বেশি হওয়ায় দামও কম।

সেদিনের মাছের দাম


জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩১ মে যাত্রাবাড়ী আড়তে প্রতি কেজি মাছের দাম ছিল এমন:

  • দেশি ছোট চিংড়ি ৮০০ টাকা
  • ছোট টেংরা ৫২০ টাকা
  • বড় গলদা চিংড়ি ১,৬০০ টাকা; ছোট গলদা ১,১০০ থেকে ১,৪০০ টাকা
  • বাগদা চিংড়ি ৭০০ থেকে ১,০০০ টাকা
  • রুই সাড়ে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা; কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা
  • পাঙাশ ২০০ টাকা, গ্রাসকার্প ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা

দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের দাম ছিল আকারভেদে আলাদা। এক কেজির বেশি ওজনের বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল কেজিপ্রতি ২,৩০০ টাকায়, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ ১,৮০০ টাকায়, ৬০০ গ্রামের ইলিশ ১,৪০০ টাকায় এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায়। ছোট আকারের ইলিশ ৮০০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হতে দেখা যায়।

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)