খাদ্য ও কৃষি ব্যবসায় র্যানসমওয়্যার হামলা দ্রুত বাড়ছে, আর মাঠের যন্ত্রপাতি ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়ায় কোনো খামারই এখন এত ছোট নয় যে নিশানার বাইরে থাকবে। এ সতর্কবার্তা দিয়েছে খাত-ভিত্তিক সাইবার হুমকির তথ্য ভাগাভাগি করা অলাভজনক সংস্থা ফুড অ্যান্ড অ্যাগ-আইস্যাক (Food and Ag-ISAC)।
সংস্থাটির সর্বশেষ 'স্টেট অব দ্য থ্রেট' প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত খাদ্য ও কৃষি খাতে র্যানসমওয়্যার হামলার ঘটনা ২২৭টি, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ১৪০টির চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি। মোট হামলার ৫ শতাংশ নিয়ে খাতটি র্যানসমওয়্যারের নিশানায় অষ্টম, আর এ বছর রেকর্ড পরিমাণ হামলার বছরগুলোর একটি হতে চলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সংস্থার পরিচালক জোনাথন ব্রেলি (Jonathan Braley) এজিফান্ডনিউজকে বলেন, সম্প্রতি ফ্রান্সের শীর্ষ সুপারমার্কেটগুলোতে হামলা, যার দায় কেউ নেয়নি, পুরো খাদ্যশিল্পের জন্য সতর্কসংকেত। তবে তাঁর মতে খাদ্য ও কৃষি খাতকে আলাদা করে বেছে নেওয়া হচ্ছে না: বেশির ভাগ হামলা স্বয়ংক্রিয়, অরক্ষিত ব্যবস্থা খুঁজে বের করে, আর ফিশিং বার্তায় যে প্রতিষ্ঠান দুর্বল তাতেই ঢুকে পড়ে।
একসময় অনেক খামার ভাবত তারা হামলার যোগ্য নয়, দশ বছর আগে যন্ত্রপাতির বড় অংশ অনলাইনেও ছিল না। ব্রেলির ভাষায়, এখন চালকবিহীন ট্রাক্টর, স্মার্ট সেন্সর, শূকর খামারের ক্লাউডভিত্তিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সবই সংযুক্ত। মাঠে প্রতিটি নতুন যন্ত্র মানে আরেকটি যন্ত্র, যার দুর্বলতা নজরে রাখতে ও সারাতে হবে। খাতের বেশির ভাগ ব্যবসা ছোট এবং পচনশীল পণ্যের সময়মতো সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল, তাই হামলায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তিও ঝুঁকিতে পড়ে।
সংস্থার প্রধান পরামর্শ: ই-মেইল, আর্থিক প্ল্যাটফর্ম, ক্লাউড অ্যাপ, মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দূর থেকে প্রবেশ, সবখানে বহুস্তর যাচাই (মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) চালু করা। মাইক্রোসফটের এক প্রতিবেদনের বরাতে সংস্থাটি বলছে, এতে পরিচয় চুরির ঝুঁকি ৯৯ শতাংশের বেশি কমে। সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখা, প্রতিটি নতুন সেন্সর বা যন্ত্রের ডিফল্ট পাসওয়ার্ড বদলানো আর কর্মীদের ফিশিং চেনার প্রশিক্ষণও জরুরি; ব্রেলির মতে কর্মীরাই সাধারণত সবচেয়ে দুর্বল জায়গা।
সাইবার নিরাপত্তার জন্য আলাদা লোকবল নেই এমন ছোট খামারও কম খরচের ব্যবস্থাপনা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভাড়া করে সফটওয়্যার যাচাই, হালনাগাদ ও নেটওয়ার্ক নজরদারি করাতে পারে, যা ব্রেলির মতে ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় বোঝা নয়।
ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)