সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ঢাকার বাজারে বড় ইলিশের ক্রেতা কম, কেজিতে দাম বেড়েছে ২০০-৩০০ টাকা

২০২৫ সালের ২২ আগস্ট ঢাকার মিরপুরের বাজারে এক কেজির ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায়; দাম বেশি বলে ক্রেতারা ছোট ইলিশ কিনেছেন, বড় ইলিশ পড়ে ছিল।

ঢাকার বাজারে বড় ইলিশের ক্রেতা কম, কেজিতে দাম বেড়েছে ২০০-৩০০ টাকা
মৎস্য

ভরা মৌসুমেও ঢাকার বাজারে বড় ইলিশের ক্রেতা কম ছিল। ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট, শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুরের কয়েকটি বাজার ঘুরে জাগো নিউজ দেখেছে, এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা কেজিতে। দাম বেশি বলে ক্রেতারা ঝুঁকছিলেন আধা কেজি বা তার চেয়ে ছোট ইলিশের দিকে, আর বড় ইলিশ দোকানে পড়ে ছিল।

মিরপুরের বাজারে ইলিশ কিনতে আসা আব্দুর রহমান বলেন, 'এক কেজি ওজনের ইলিশের দামে ৩ কেজি গরুর মাংস পাওয়া যায়, মানুষ বড় ইলিশ কেন কিনবে, ছোট ইলিশের স্বাদ তো খারাপ না।' তিনি ২ হাজার ৬০০ টাকায় ২ কেজি ছোট ইলিশ কিনেছিলেন, যার প্রতিটির ওজন ছিল আধা কেজির মতো।

মিরপুরের বাজারে ছোট ইলিশের চাহিদা


মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে তিনটি দোকানে ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল। একটি দোকানে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের পাশাপাশি ছোট ইলিশও ছিল; সেখানে আধা কেজি বা তার কম ওজনের ইলিশ ভালো বিক্রি হলেও বড় ইলিশ পড়ে ছিল। বাকি দুই দোকানে ছিল শুধু ছোট ইলিশ, সেখানেও ক্রেতার ভিড় দেখা যায়। মিরপুর-১২ নম্বরের হাজী কুজরত আলী মার্কেট এবং ১১ নম্বর সেকশনের কাঁচাবাজারেও একই চিত্র ছিল।

মুসলিম বাজারের ব্যবসায়ী মাসুদ জানান, দাম বেশি বলে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের বিক্রি কম; ক্রেতারা এসে ছোট ইলিশেরই দরদাম করছেন। একই বাজারের আরেক বিক্রেতা বলেন, এবার সাগরে ইলিশ কম, পাইকারি বাজারে দাম বেশি, তাই ক্রেতারা ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় ছোট ইলিশ কিনতে পারছেন। কুজরত আলী মার্কেটের বিক্রেতা সুকুর মোল্লার কথায়, যাঁরা একটু বিত্তবান ও ভালো জিনিস খেতে চান, তাঁরা বড় ইলিশ কেনেন, আর যত ইলিশই আনা হোক, বিক্রি হয়ে যায়।

মিরপুর-১১ নম্বর কাঁচাবাজারে চাকরিজীবী সিরাজ আহমেদ বলেন, ভরা মৌসুম চললেও দাম অনেক বেশি; এই মৌসুমে হয়তো দাম কমবে না, ইলিশ বড়লোকের মাছ হয়ে গেছে।

বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা ইলিশ। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা ইলিশ। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

এক সপ্তাহে কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি


ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম বেড়েছিল কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। ২২ আগস্ট মিরপুরের বাজারে দাম ছিল এ রকম:

  • এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ: কেজি ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা (আগের সপ্তাহে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা)
  • আধা কেজি ওজনের ইলিশ: কেজি ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা
  • জাটকা বা ছোট ইলিশ (৩টিতে এক কেজি): কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা (আগের সপ্তাহে ৩-৪টিতে এক কেজি, ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা)

কারওয়ান বাজারসহ অন্য বাজারে যোগান কম


কারওয়ান বাজার, রামপুরা, হাতিরপুল ও নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে বড়, মাঝারি ও ছোট সব আকারের ইলিশের দাম কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছিল। এসব বাজারে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায়; হাতিরপুলে এক কেজির ইলিশের দাম ছিল ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা।

রামপুরা বাজারের ব্যবসায়ী ডিএম কামরুল হোসেন বলেন, আগের সপ্তাহের তুলনায় মাছের যোগান কম, তাই দাম কিছুটা বেশি। ইলিশের বড় আড়ত কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, লঘুচাপের কারণে জেলেরা সাগরে যেতে পারছিলেন না, তাই আহরণ কম ও দাম বেশি। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারে সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে।

মেঘনা নদীতে জেলেরা ইলিশ ধরছেন (২০১৬ সালের ছবি)। ছবি: AsikBinRahim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মেঘনা নদীতে জেলেরা ইলিশ ধরছেন (২০১৬ সালের ছবি)। ছবি: AsikBinRahim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

জাতীয় মাছ ইলিশ ও তার দামের পেছনের হিসাব


ইলিশ (বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha) বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এটি সাগরের মাছ, তবে ডিম পাড়তে বড় নদীতে উঠে আসে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়। মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৫ লাখ ৭১ হাজার টন। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৪ সালের অক্টোবরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট বার্ষিক মাছ উৎপাদনের ১২ শতাংশের বেশি আসে ইলিশ থেকে।

জেলের নৌকা থেকে ক্রেতার হাতে পৌঁছাতে ইলিশ চার থেকে ছয় দফা হাতবদল হয় বলে জেলে ও ব্যবসায়ীরা ডেইলি স্টারকে জানিয়েছিলেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দেখতে পায়, ইলিশ পাইকারি দামের চেয়ে ৫১ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছিল: কেজি ১ হাজার ৪৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ২০০ টাকা।

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)

ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, উইকিপিডিয়া (ইলিশ)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)