ভরা মৌসুমেও ঢাকার বাজারে বড় ইলিশের ক্রেতা কম ছিল। ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট, শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুরের কয়েকটি বাজার ঘুরে জাগো নিউজ দেখেছে, এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা কেজিতে। দাম বেশি বলে ক্রেতারা ঝুঁকছিলেন আধা কেজি বা তার চেয়ে ছোট ইলিশের দিকে, আর বড় ইলিশ দোকানে পড়ে ছিল।
মিরপুরের বাজারে ইলিশ কিনতে আসা আব্দুর রহমান বলেন, 'এক কেজি ওজনের ইলিশের দামে ৩ কেজি গরুর মাংস পাওয়া যায়, মানুষ বড় ইলিশ কেন কিনবে, ছোট ইলিশের স্বাদ তো খারাপ না।' তিনি ২ হাজার ৬০০ টাকায় ২ কেজি ছোট ইলিশ কিনেছিলেন, যার প্রতিটির ওজন ছিল আধা কেজির মতো।
মিরপুরের বাজারে ছোট ইলিশের চাহিদা
মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে তিনটি দোকানে ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল। একটি দোকানে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের পাশাপাশি ছোট ইলিশও ছিল; সেখানে আধা কেজি বা তার কম ওজনের ইলিশ ভালো বিক্রি হলেও বড় ইলিশ পড়ে ছিল। বাকি দুই দোকানে ছিল শুধু ছোট ইলিশ, সেখানেও ক্রেতার ভিড় দেখা যায়। মিরপুর-১২ নম্বরের হাজী কুজরত আলী মার্কেট এবং ১১ নম্বর সেকশনের কাঁচাবাজারেও একই চিত্র ছিল।
মুসলিম বাজারের ব্যবসায়ী মাসুদ জানান, দাম বেশি বলে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের বিক্রি কম; ক্রেতারা এসে ছোট ইলিশেরই দরদাম করছেন। একই বাজারের আরেক বিক্রেতা বলেন, এবার সাগরে ইলিশ কম, পাইকারি বাজারে দাম বেশি, তাই ক্রেতারা ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় ছোট ইলিশ কিনতে পারছেন। কুজরত আলী মার্কেটের বিক্রেতা সুকুর মোল্লার কথায়, যাঁরা একটু বিত্তবান ও ভালো জিনিস খেতে চান, তাঁরা বড় ইলিশ কেনেন, আর যত ইলিশই আনা হোক, বিক্রি হয়ে যায়।
মিরপুর-১১ নম্বর কাঁচাবাজারে চাকরিজীবী সিরাজ আহমেদ বলেন, ভরা মৌসুম চললেও দাম অনেক বেশি; এই মৌসুমে হয়তো দাম কমবে না, ইলিশ বড়লোকের মাছ হয়ে গেছে।

এক সপ্তাহে কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম বেড়েছিল কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। ২২ আগস্ট মিরপুরের বাজারে দাম ছিল এ রকম:
- এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ: কেজি ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা (আগের সপ্তাহে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা)
- আধা কেজি ওজনের ইলিশ: কেজি ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা
- জাটকা বা ছোট ইলিশ (৩টিতে এক কেজি): কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা (আগের সপ্তাহে ৩-৪টিতে এক কেজি, ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা)
কারওয়ান বাজারসহ অন্য বাজারে যোগান কম
কারওয়ান বাজার, রামপুরা, হাতিরপুল ও নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে বড়, মাঝারি ও ছোট সব আকারের ইলিশের দাম কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছিল। এসব বাজারে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায়; হাতিরপুলে এক কেজির ইলিশের দাম ছিল ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা।
রামপুরা বাজারের ব্যবসায়ী ডিএম কামরুল হোসেন বলেন, আগের সপ্তাহের তুলনায় মাছের যোগান কম, তাই দাম কিছুটা বেশি। ইলিশের বড় আড়ত কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, লঘুচাপের কারণে জেলেরা সাগরে যেতে পারছিলেন না, তাই আহরণ কম ও দাম বেশি। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারে সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে।

জাতীয় মাছ ইলিশ ও তার দামের পেছনের হিসাব
ইলিশ (বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha) বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এটি সাগরের মাছ, তবে ডিম পাড়তে বড় নদীতে উঠে আসে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়। মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৫ লাখ ৭১ হাজার টন। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৪ সালের অক্টোবরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট বার্ষিক মাছ উৎপাদনের ১২ শতাংশের বেশি আসে ইলিশ থেকে।
জেলের নৌকা থেকে ক্রেতার হাতে পৌঁছাতে ইলিশ চার থেকে ছয় দফা হাতবদল হয় বলে জেলে ও ব্যবসায়ীরা ডেইলি স্টারকে জানিয়েছিলেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দেখতে পায়, ইলিশ পাইকারি দামের চেয়ে ৫১ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছিল: কেজি ১ হাজার ৪৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ২০০ টাকা।

ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, উইকিপিডিয়া (ইলিশ)





মন্তব্য
(০)