সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

নিষ্কাশনের পথ বন্ধ রেখে মাছ চাষ, পানির নিচে ২০০ একর জমি

পাঁচ বছর আগেও শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার জয়ালু বিলের ধানে স্বপ্ন বুনতেন অন্তত পাঁচ শতাধিক কৃষক। তবে বর্তমানে কৃষকদের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকার দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির মাছের ঘের। বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়া সেই ছোট খালটি বন্ধ করে নির্মাণ করা হয়েছে মাছের ঘের।

পাঁচ বছর আগেও শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার জয়ালু বিলের ধানে স্বপ্ন বুনতেন অন্তত পাঁচ শতাধিক কৃষক। তবে বর্তমানে কৃষকদের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকার দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির মাছের ঘের। বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়া সেই ছোট খালটি বন্ধ করে নির্মাণ করা হয়েছে মাছের ঘের। এতে খরায় পানি সংকট আর বর্ষায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে নষ্ট হচ্ছে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের দিকশূল মৌজা, পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের জয়ালু এবং বড় নওগাঁ মৌজার মধ্যবর্তী জায়গায় অন্তত ২০০ একর ফসলি জমিতে বোরো ও আমন মৌসুমে উৎপাদন হয়ে থাকে প্রায় আট হাজার মণ ধান। এই বিলটির পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়া একটি ছোট খাল গিয়ে যোগ হয়েছে জয়ন্তী নদীর সঙ্গে। বিলে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য এই খালটিই ছিল একমাত্র পথ। তবে পাঁচ বছর ধরে এই খালটি বন্ধ করে দুটি অংশে মাছের ঘের নির্মাণ করে মাছ চাষ করে আসছেন মাহাবুব মিজি ও নাজির খান নামের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি।

আরও পড়ুন: 'ঋণ নিয়ে আবাদ করেছি, এখন পথে বসার অবস্থা'

ভুক্তভোগী কৃষক খলিল বেপারী বলেন, আমাগো জমির পানি বাইর হওয়ার রাস্তায় ঘের কাইট্টা (কেটে) বান (বাঁধ) দিয়া রাখছে। এইজন্য আমরা কোনো ফসলাদি করতে পারতাছি না। পানি জইম্মা (জমে) সব ফসল তলাইয়া নষ্ট হইয়া যায়। পাঁচ বছর ধইরা বউ-বাচ্চা লইয়া না খাইয়া থাকি।

কৃষক মজিবুর রহমান বেপারী বলেন, পাঁচ বছর ধরে এই বিলের কয়েকটি জায়গায় বাঁধ নির্মাণের ফলে ফসল হচ্ছে না। এতে এই অঞ্চলের কৃষকরা খুবই সমস্যার মধ্যে রয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের একটাই দাবি বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য তারা যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেন।

মোহাম্মদ হানিফা মোল্লা নামের স্থানীয় এক কৃষক বলেন, জন্মের পর থিকা এইখান দিয়া খাল দেখছি। কয়েক বছর ধইরা এই খালের জায়গায় বান্ধ (বাঁধ) দিয়া মাছের প্রজেক্ট করছে মাহাবুব মিজি আর নাজির সাব। তখন বাধা দিলেও আমাগো কথা শুনে নাই তারা। রাইতে রাইতে মাটি কাটছে। এখন এই বান্ধের (বাঁধ) কারণে আউশ আমন ধান আর হয় না।

আরও পড়ুন: স্লুইস গেটের দরজায় ত্রুটি, কৃষকদের ক্ষোভ

সেন্টু হোসেন নামের ভুক্তভোগী এক কৃষক বলেন, আমাগো জমিতে এখন এক মাজা (কোমর) বৃষ্টির পানি। এই পানি নামার কোনো রাস্তা নাই। আমাগো সব ধান নষ্ট হইতাছে। সরকারের কাছে আমাগোর একটাই দাবি যেন এই পানি নামানোর ব্যবস্থা কইরা দেয়।

এ বিষয়ে ঘের মালিক মাহাবুব মিজির কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে নাজির খান নামের আরেক ঘের মালিক জাগো নিউজকে বলেন, ঘের নির্মাণের জায়গাটি রতন হাওলাদারের ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি। এটা কোনো সরকারি সম্পত্তি নয়। তবে এই জায়গাটি ঢালু হওয়ায় বিলের পানি নিষ্কাশন হতো এটা সত্য। পরবর্তীতে আমরা লিজ নিয়ে সেখানে ঘের কেটে মাছ চাষ করছি। তবে উপজেলা প্রশাসনের অনুরোধে কৃষকদের কথা মাথায় রেখে পরবর্তীতে আমরা পানি নিষ্কাশনের জন্য ঘেরের বাঁধের নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে দেই। গত মৌসুমে পাইপটি ভেঙে যাওয়ায় এই সমস্যার দেখা দিয়েছে। আমরা কিছুদিন পর পাইপটি ঠিক করে দিবো।

আরও পড়ুন: 'ধারদেনায় চাষ করেছি, বৃষ্টিতে স্বপ্ন মাটিতে মিশে গেছে'

এ বিষয়ে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাছিবা খান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে অ্যাসিল্যান্ড ও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন ও পাইপ বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে। আর যারা ঘের তৈরি করেছেন তারা দ্রুত ঘেরের পানি কমিয়ে ঘেরের পাশ দিয়ে আগের মতো নালা কেটে দিবেন বলে কথা হয়েছে।

বিধান মজুমদার অনি/জেএস/এএসএম

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)