২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাগো নিউজ২৪-এ প্রকাশিত এক লেখায় রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী সুশ্রী সরকার যুক্তি দেন, কৃষি উৎপাদনে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অগ্রগতি সত্ত্বেও দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা তখনো নিশ্চিত হয়নি। তাঁর ভাষায়, দেশের বহু মানুষ এখনো নিরাপদ, পুষ্টিসম্পন্ন ও সুষম খাদ্যের অভাবে ভুগছেন; শিশুর অপুষ্টি, খর্বাকৃতি, রক্তস্বল্পতা ও গর্ভবতী নারীর পুষ্টিঘাটতি উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে; আর বড় চ্যালেঞ্জ এখন কেবল উৎপাদন বা প্রাপ্যতা নয়, বরং মানুষ যা খাচ্ছে তার গুণগত মান, নিরাপত্তা ও সুষমতা নিশ্চিত করা।
খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকারে আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি পুষ্টি শিক্ষা জোরদার, খামার থেকে বাজার পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি, কৃষকের ন্যায্য দাম, খাদ্যে ভেজালকারীদের কঠোর শাস্তি এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের আগে প্রকাশিত সরকারি জরিপ, জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও দেশের নিরাপদ খাদ্য আইন দেখায়, তাঁর প্রতিটি বক্তব্যের পেছনে কী বাস্তবতা ছিল।
লেখকের যুক্তি
সুশ্রী সরকার শুরু করেন সেই ঝুঁকিগুলো দিয়ে, যেগুলো এখনো বহু পরিবারের খাদ্যপ্রাপ্তিকে অনিশ্চিত করে তোলে: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, খরা ও নদীভাঙন। তিনি লেখেন, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে চেপে ধরেছে, আর বাজারে ভেজাল ও রাসায়নিকের ব্যবহার সাধারণ খাদ্যকেও অনিরাপদ করে তুলছে। তাঁর সতর্কবার্তা, কৃষক উৎপাদনের ন্যায্য দাম না পেলে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি পুষ্টিহীনতাকে দেশের সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর বর্ণনায়, অনেক পরিবার পর্যাপ্ত চাল-ডাল পেলেও প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণ করতে পারে না, আর ভাতনির্ভর খাদ্যাভ্যাস সুষম খাবারের সুযোগ কমিয়ে দেয়। শিশুর খর্বাকৃতি, কম ওজন ও গর্ভবতী মায়ের রক্তস্বল্পতাকে তিনি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় ক্ষতির কারণ বলে উল্লেখ করেন। বাজারে রাসায়নিক মেশানো ফল এবং অতিরিক্ত রং বা সংরক্ষণকারী মেশানো খাবারকে তিনি প্রতিদিনের খাদ্যের ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি, খাদ্যে ভেজাল ও অনিরাপদ সংরক্ষণ, উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সুষ্ঠু সরবরাহ ব্যবস্থার ঘাটতি এবং পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতার অভাব। তাঁর মতে, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, উৎপাদনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত; নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত না হলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা অর্থনীতি, কোনো ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্যের গুণগত মান, পুষ্টিমান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে তিনি সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি বলে অভিহিত করেন।
লেখক যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সেই রাজশাহী কলেজ দেশের প্রাচীনতম কলেজগুলোর একটি। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, দুবলহাটির রাজা হরলাল রায় বাহাদুরের আর্থিক সহায়তায় ১৮৭৩ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়; জমিও তিনিই দান করেন। কলেজটিতে ১৯টি বিষয়ে অনার্স ও ২১টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স পড়ানো হয়।
জাতীয় জরিপে শিশুর পুষ্টি
লেখাটি প্রকাশের আগে শিশুপুষ্টির সর্বশেষ জাতীয় পরিসংখ্যান এসেছিল বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (বিডিএইচএস) ২০২২ থেকে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের (নিপোর্ট) তত্ত্বাবধানে ২০২২ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জরিপটি পরিচালিত হয়; ডিএইচএস প্রোগ্রামের মাধ্যমে কারিগরি সহায়তা দেয় আইসিএফ। ২০২৩ সালের মার্চে প্রকাশিত এর মূল সূচক প্রতিবেদনে দেখা যায়, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২৪ শতাংশ খর্বাকৃতি, ২২ শতাংশ কম ওজনের এবং ১১ শতাংশ কৃশকায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই শব্দগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করেছে। খর্বাকৃতি, অর্থাৎ বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম হওয়া, দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার অপুষ্টির ফল; সাধারণত এর সঙ্গে জড়িত থাকে দুর্বল আর্থসামাজিক অবস্থা, মায়ের দুর্বল স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, ঘন ঘন অসুস্থতা কিংবা জীবনের শুরুতে অনুপযুক্ত খাওয়ানো ও যত্ন। খর্বাকৃতি শিশুকে তার শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্ভাবনায় পৌঁছাতে বাধা দেয়। কৃশকায়তা, অর্থাৎ উচ্চতার তুলনায় ওজন কম হওয়া, সাধারণত সাম্প্রতিক ও তীব্র ওজন হ্রাস নির্দেশ করে, যা ঘটে যথেষ্ট খাবার না পেলে বা ডায়রিয়ার মতো সংক্রামক রোগে ভুগলে; মাঝারি বা তীব্র কৃশকায় শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বেশি, তবে চিকিৎসা সম্ভব। বয়সের তুলনায় কম ওজনের শিশু খর্বাকৃতি, কৃশকায় বা দুটোই হতে পারে।
জরিপে অগ্রগতি ও পিছিয়ে পড়া, দুটোই দেখা গেছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের খর্বাকৃতির হার ২০১১ সালের ৪১ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ২৪ শতাংশে নেমেছে; ২০১৭-১৮ সালে হারটি ছিল ৩১ শতাংশ। ফলে চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির (৪র্থ এইচপিএনএসপি) লক্ষ্য, ২০২৩ সালের মধ্যে হারটি ২৫ শতাংশে নামানো, অর্জিত হয়েছে। কম ওজনের শিশুর হার ২০১১ সালের ৩৬ শতাংশ থেকে ২০১৭-১৮ সালে ২২ শতাংশে নামে, এরপর আর বদলায়নি। কৃশকায়তার হার, প্রতিবেদন যাকে ২০১১ সালে ১৬ শতাংশে 'গুরুতর রকম বেশি' বলেছে, ২০১৭-১৮ সালে ৮ শতাংশে নামলেও ২০২২ সালে কিছুটা বেড়ে ১১ শতাংশ হয়।
দেশের ভেতরে পার্থক্যও ছিল বড়। শহরে খর্বাকৃতির হার ২২ শতাংশ, গ্রামে ২৪ শতাংশ। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সিলেটে, ৩৪ শতাংশ, আর সর্বনিম্ন খুলনায়, ১৯ শতাংশ। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৬ শতাংশ তীব্র খর্বাকৃতি, ২ শতাংশ তীব্র কৃশকায় এবং ৪ শতাংশ তীব্রভাবে কম ওজনের।
ছোট শিশুরা কী খাচ্ছে
পরিবারে চাল থাকলেও সুষম খাবার নেই, লেখকের এই বক্তব্য জরিপের শিশুখাদ্য-সংক্রান্ত ফলাফলে স্পষ্ট। ২০২২ সালে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মাত্র ৫৫ শতাংশ কেবল মায়ের দুধ পেয়েছে, যা ২০১৭-১৮ সালে ছিল ৬৫ শতাংশ; প্রতিবেদন জানায়, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যেও একই রকম পতন দেখা গিয়েছিল।
৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের ৩৯ শতাংশ পর্যাপ্ত বৈচিত্র্যময় খাবার পেয়েছে, অর্থাৎ আগের দিন নির্ধারিত আটটি খাদ্যগোষ্ঠীর অন্তত পাঁচটি থেকে খাবার খেয়েছে। ৬১ শতাংশ শিশু দিনে ন্যূনতম যতবার খাওয়ার কথা ততবার খেয়েছে, যা ২০১৭-১৮ সালের ৮১ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বৈচিত্র্য ও খাওয়ার সংখ্যা দুটো মিলিয়ে 'ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাদ্য' পেয়েছে মাত্র ২৯ শতাংশ শিশু; ২০১৭-১৮ সালে হারটি ছিল ৩৫ শতাংশ, আর ৪র্থ এইচপিএনএসপির লক্ষ্য ছিল ২০২৩ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ।
গ্রামের তুলনায় শহরের শিশুরা বেশি হারে ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাদ্য পেয়েছে, ৩৪ শতাংশের বিপরীতে ২৭ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক হিসাবে হারটি সবচেয়ে বেশি খুলনায়, ৪৫ শতাংশ, আর সবচেয়ে কম সিলেটে, ১৯ শতাংশ, ও চট্টগ্রামে, ২০ শতাংশ। পরিবারের সচ্ছলতা বাড়ার সঙ্গে খাওয়ানোর মান উন্নত হলেও সবচেয়ে সচ্ছল এক-পঞ্চমাংশ পরিবারেও মাত্র ৪০ শতাংশ শিশু ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাদ্য পেয়েছে। এই তথ্য আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি পুষ্টি শিক্ষার প্রয়োজন নিয়ে লেখকের আহ্বানকে সমর্থন করে।

রক্তস্বল্পতা, ক্ষুধা ও সুষম খাদ্যের খরচ
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক হিসাব পাওয়া যায় 'দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৫' (সোফি ২০২৫) প্রতিবেদনে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ও ডব্লিউএইচও যৌথভাবে এই বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করে; সে বছর এর প্রতিপাদ্য ছিল খাদ্যপণ্যের উচ্চ মূল্যস্ফীতি। প্রতিবেদনের পরিশিষ্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে অপুষ্টির প্রকোপ, অর্থাৎ যাঁদের স্বাভাবিক খাবার থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যশক্তি মেলে না তাঁদের অনুপাত, ২০২২-২৪ সময়ে ১০.৪ শতাংশ, যা ২০০৪-০৬ সময়ে ছিল ১৫.১ শতাংশ। অপুষ্ট মানুষের সংখ্যা ২০২২-২৪ সময়ে আনুমানিক ১৭.৯ মিলিয়ন, ২০০৪-০৬ সময়ে ছিল ২১.৮ মিলিয়ন।
একই সারণি দেখায়, লেখক কেন নারীদের কথা আলাদা করে বলেছেন। এফএও ও সহযোগী সংস্থাগুলোর হিসাবে ২০২৩ সালে বাংলাদেশের ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের ৩৭.৬ শতাংশ রক্তস্বল্পতায় ভুগছিলেন, যা ২০১২ সালে ছিল ৩৪.৫ শতাংশ। কম জন্ম-ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুর হার ২০২০ সালে ২৩.০ শতাংশ, ২০১২ সালে ছিল ২৪.৩ শতাংশ। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতার হার ২০২২ সালে ৫.৩ শতাংশ, ২০১২ সালে ছিল ২.৫ শতাংশ; অর্থাৎ দুর্বল খাদ্যাভ্যাস ঘাটতির পাশাপাশি বাড়তি ওজন হিসেবেও দেখা দিতে পারে। সোফি ২০২৫-এর হিসাবে ২০২৪ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের কৃশকায়তার হার ১০.৭ শতাংশ এবং খর্বাকৃতির হার ২৫.১ শতাংশ।
ডব্লিউএইচও রক্তস্বল্পতাকে এমন অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করে, যেখানে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বা তার ভেতরের হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে, ফলে শরীরের অঙ্গ ও কলায় অক্সিজেন বহনের মতো যথেষ্ট হিমোগ্লোবিন থাকে না। এতে ক্লান্তি, শারীরিক কাজের সক্ষমতা কমে যাওয়া ও শ্বাসকষ্ট হয়; তীব্র ক্ষেত্রে শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক ও চলনক্ষমতার বিকাশ ব্যাহত হতে পারে এবং গর্ভবতী নারী ও তাঁর শিশুর জন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর কারণের মধ্যে রয়েছে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি, অপর্যাপ্ত খাদ্য, সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী রোগ ও বংশগত লোহিত রক্তকণিকার রোগ। ডব্লিউএইচওর মতে, প্রধানত খাবারে আয়রন কম থাকার কারণে আয়রনের ঘাটতিই রক্তস্বল্পতার সবচেয়ে সাধারণ পুষ্টিজনিত কারণ; ভিটামিন এ, ফোলেট, ভিটামিন বি১২ ও রাইবোফ্লাভিনের ঘাটতিও রক্তস্বল্পতা ঘটাতে পারে। রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা দেখে রক্তস্বল্পতা নির্ণয় করা হয়, তাই সন্দেহ হলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সোফি ২০২৫ সুষম খাদ্যের খরচও হিসাব করেছে। ক্রয়ক্ষমতা সমতা (পিপিপি) ডলারে মেপে বাংলাদেশে ২০২৪ সালে একজনের এক দিনের স্বাস্থ্যকর খাদ্যের খরচ ছিল ৪.৪৯ ডলার, যা ২০১৭ সালে ছিল ৩.০৯ ডলার এবং ২০২৩ সালে ৪.৩৩ ডলার। ২০২৪ সালে দেশের ৪৪.৪ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ ৭৭.১ মিলিয়ন মানুষ, স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য রাখতেন না। ২০১৭ সালে এই হার ছিল ৬৫.৭ শতাংশ, অর্থাৎ ১০৬.৬ মিলিয়ন মানুষ। হার কমলেও দেশের বড় একটি অংশ তখনো লেখকের কাঙ্ক্ষিত বৈচিত্র্যময় খাবার কিনতে পারছিল না।
এখনো ভাতনির্ভর খাদ্যতালিকা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয় ও ব্যয় জরিপ (হায়েস) ২০২২, যা ২০২৩ সালের মে মাসে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড প্রকাশ করে, দেখায় দেশের মানুষের খাবারের থালা ধীরে বদলাচ্ছে। জনপ্রতি দৈনিক গড় চাল গ্রহণ ২০১৬ সালের ৩৬৭.২ গ্রাম থেকে ২০২২ সালে ৩২৮.৯ গ্রামে নেমেছে। একই সময়ে মাছ ৬২.৬ গ্রাম থেকে বেড়ে ৬৭.৮ গ্রাম, মাংস ২৫.৪ গ্রাম থেকে ৪০ গ্রাম, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য ২৭.৩ গ্রাম থেকে ৩৪.১ গ্রাম এবং ফল ৩৫.৮ গ্রাম থেকে ৯৫.৪ গ্রাম হয়েছে। ডিম গ্রহণ ১৩.৬ গ্রাম থেকে কমে ১২.৭ গ্রাম হয়। ২০২২ সালে জনপ্রতি দৈনিক গড় খাদ্যশক্তি গ্রহণ ছিল ২ হাজার ৩৯৩ কিলোক্যালরি।
পরে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) একটি গবেষণা, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দ্য ডেইলি স্টার প্রকাশ করে, দেখায় দাম বাড়ায় গ্রামে প্রবণতা উল্টে যাচ্ছে। ৬৪ জেলার ৩ হাজার ৮৮৭টি খানার জরিপের ভিত্তিতে গবেষণায় দেখা যায়, গ্রামে জনপ্রতি দৈনিক গড় চাল গ্রহণ ২০২২ সালের প্রায় ৩৪৯ গ্রাম থেকে ২০২৩ সালে প্রায় ৪১২ গ্রামে উঠেছে, কারণ খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রোটিন গ্রহণ কমিয়ে দিয়েছে। গ্রামে দৈনিক গরুর মাংস গ্রহণ ১০.২৫ গ্রাম থেকে ৪.০২ গ্রামে এবং খাসির মাংস ১.২৩ গ্রাম থেকে ০.২৮ গ্রামে নেমেছে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চালের দাম ১ থেকে ৫ শতাংশ বাড়লেও ডিমের দাম বেড়েছে ২৪ থেকে ২৭ শতাংশ, মাছ ২৭ শতাংশ, মুরগি ১৫ শতাংশ এবং তরল দুধ ২৫ শতাংশ। সবচেয়ে সচ্ছল পরিবারগুলো দিনে ৩২ গ্রাম মুরগি বা হাঁস এবং ১৩ গ্রাম ডিম খেয়েছে, সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারে যা ছিল ২১ গ্রাম ও ৯ গ্রাম।
এই পরিসংখ্যান লেখকের বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায়: ভাতে পেট ভরলেও প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজে ঘাটতি থেকে যায়। বাংলাদেশের খাদ্যনির্দেশিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০০ সালে, আর ২০১৩ সালে তা হালনাগাদ করে বারডেম (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ইন ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইন অ্যান্ড মেটাবলিক ডিসঅর্ডারস), এফএও এবং খাদ্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কারিগরি সহায়তায়। নির্দেশিকায় পাঁচ স্তরের একটি খাদ্য পিরামিড আছে। একেবারে নিচে ভাত, রুটি ও অন্যান্য দানাশস্য এবং দ্বিতীয় স্তরে শাকসবজি ও ফল, দুটোই বেশি করে খাওয়ার কথা; এরপর মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল, তারপর দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, এগুলো পরিমিত পরিমাণে; আর চূড়ায় তেল, চর্বি ও চিনি, যা খেতে হবে কম।
নির্দেশিকার বার্তাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিবেলায় নানা রকম খাবার দিয়ে সুষম খাদ্য খাওয়া, পরিমিত তেল ও চর্বি খাওয়া, লবণ কম খাওয়া ও কেবল আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা, চিনি, মিষ্টি ও মিষ্টি পানীয় কম খাওয়া, প্রতিদিন যথেষ্ট পানি পান করা, নিরাপদ ও পরিষ্কার খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা, গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে বাড়তি খাবার খাওয়া এবং প্রথম ছয় মাস শিশুকে কেবল মায়ের দুধ খাওয়ানো ও সময়মতো পর্যাপ্ত পরিপূরক খাবার শুরু করা। কোনো রোগ থাকলে নিজের খাদ্যতালিকা নিয়ে চিকিৎসক বা যোগ্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বন্যা, ফসল ও খাদ্যের দাম
দুর্যোগ নিয়ে লেখকের সতর্কবার্তার সমর্থন মেলে এফএওর গ্লোবাল ইনফরমেশন অ্যান্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের (জিআইইডব্লিউএস) ২০২৫ সালের ১০ জুন তারিখের বাংলাদেশ বিষয়ক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে। এতে ২০২৪ সালে দানাশস্য উৎপাদন গড়ের চেয়ে বেশি, ৬৬.৫ মিলিয়ন টন, হিসাব করা হয়, যার মধ্যে ধান ৬০.২ মিলিয়ন টন। ২০২৪ সালের মে থেকে আগস্টের ভারী বৃষ্টি ও বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড় রেমালে ফসলের ক্ষতি সত্ত্বেও বেশি জমিতে চাষ ও ভালো ফলনের কারণে এই উৎপাদন হয়। প্রধানত সেচনির্ভর বোরো মৌসুম থেকে আসে বার্ষিক ধান উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ, আমন থেকে প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং আউশ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ। ২০২৪ সালে ভুট্টার উৎপাদন সরকারি হিসাবে রেকর্ড ৫.২ মিলিয়ন টন এবং গমের উৎপাদন গড়ের সামান্য বেশি, ১.২ মিলিয়ন টন।
দুর্যোগ কীভাবে ক্ষুধায় রূপ নেয়, একই প্রতিবেদন তা দেখায়। সমন্বিত খাদ্য নিরাপত্তা পর্যায় শ্রেণিবিন্যাসের (আইপিসি) বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে প্রায় ২৩.৬ মিলিয়ন মানুষের তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় (আইপিসি পর্যায় ৩ বা তার বেশি) পড়ার আশঙ্কা ছিল, যা ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবরে ছিল ১৬.৫ মিলিয়ন। এর মধ্যে প্রায় ২১.৯ মিলিয়ন পর্যায় ৩-এ (সংকট) এবং প্রায় ১.৬ মিলিয়ন পর্যায় ৪-এ (জরুরি অবস্থা)। এফএও এই অবনতির প্রধান কারণ হিসেবে ঘূর্ণিঝড় রেমালের বন্যাকে চিহ্নিত করে, যা প্রায় ১৯ মিলিয়ন মানুষের জীবিকায় প্রভাব ফেলে এবং স্থানীয়ভাবে ফসল, গবাদিপশু, খাদ্য মজুত ও কৃষি অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে গড়ের চেয়ে ভালো ফসল হলেও দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ায় খাদ্যপ্রাপ্তি নিয়ে উদ্বেগ থেকে যায়।
লেখকের যুক্তির অন্য দিক ছিল দাম। জিআইইডব্লিউএস জানায়, মূল্যস্ফীতি এবং উৎপাদন, চালকল ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকায় চালের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে; ২০২৫ সালের এপ্রিলে দাম আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি ছিল। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উঁচুতে ছিল এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে তা ছিল ৯.২ শতাংশ। লেখাটি যে মাসে প্রকাশিত হয়, সেই মাসের ৭ ডিসেম্বর বিবিএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী নভেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি অক্টোবরের ৮.১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ হয়; খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.৩৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.০৮ শতাংশ, আর জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.০৪ শতাংশ, প্রথম আলো জানায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এই বৃদ্ধির জন্য ভোজ্যতেল ও কিছু শীতকালীন সবজির দাম বাড়াকে দায়ী করে।

খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে আইন
কঠোর শাস্তির যে দাবি লেখক তোলেন, তার ভিত্তি একটি বিদ্যমান আইন। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ (২০১৩ সালের ৪৩ নম্বর আইন, তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১৩) প্রণয়ন করা হয় সমন্বয়ের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে; এই আইন বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ, ১৯৫৯ রহিত করে। আইনের ২৩ ধারা খাদ্যে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে এমন রাসায়নিক বা উপাদান মেশানো নিষিদ্ধ করে; উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ আছে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ফরমালিন, সোডিয়াম সাইক্লামেট, ডিডিটির মতো কীটনাশক এবং ক্ষতিকর রং বা সুগন্ধি। ২৫ ধারা ভেজাল খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, সরবরাহ বা বিক্রি নিষিদ্ধ করে; ২৯ ধারা মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করে; আর ৩০ ধারা প্রবিধান দিয়ে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার বেশি কীটনাশক, পশু ও মৎস্যচিকিৎসার ওষুধ, হরমোন, অ্যান্টিবায়োটিক ও বৃদ্ধি সহায়কের অবশেষ খাদ্যে রাখা নিষিদ্ধ করে।
আইনের ৫ ধারায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠনের বিধান রাখা হয়; এটি একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, প্রধান কার্যালয় ঢাকায়, আর একজন চেয়ারম্যান ও চারজন পূর্ণকালীন সদস্য নিয়ে গঠিত। ২০২১ সালে ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষটি ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়, খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলজুড়ে সব খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সমন্বয়ের দায়িত্ব নিয়ে। আইনের ৬৪ ধারায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিধান আছে; সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে এই আইনের অপরাধের বিচারের জন্য বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত হিসেবে নির্ধারণ করে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে আটটি বিভাগীয় শহরে মেট্রোপলিটন কার্যালয় এবং দেশজুড়ে জেলা কার্যালয়ের তালিকা ছিল। সে মাসে ওয়েবসাইটের খবর অংশে জানানো হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে কর্তৃপক্ষের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ঢাকার ওয়ারীতে একটি মিষ্টি তৈরির কারখানায়, কোতোয়ালি থানাধীন মিটফোর্ড এলাকায় এবং গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি আয়ুর্বেদীয় ফার্মেসিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। লেখকের মতে, এই নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার।
লেখকের প্রস্তাব
পুষ্টির বিষয়ে সুশ্রী সরকার স্কুল-কলেজ থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত পুষ্টি শিক্ষা জোরদারের তাগিদ দেন এবং বলেন, মা ও শিশুর পুষ্টিতে ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বাজারের বিষয়ে তিনি কৃষিপণ্য সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে বাজারে পৌঁছানোর ব্যবস্থা, সমবায় বাজার এবং ডিজিটাল কৃষি প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, কৃষক ন্যায্য দাম না পেলে উৎপাদন টিকবে না।
নিরাপত্তা ও দামের বিষয়ে তিনি লেখেন, ভেজাল খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। তাঁর মতে, ডিম, দুধ, মাছ, সবজি ও ফলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভর্তুকি সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
লেখার শেষে তিনি আহ্বান জানান, একটি সুস্থ, সচেতন ও সক্ষম বাংলাদেশ গড়তে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকারে আনতে হবে। তাঁর ভাষায়, আজকের বিনিয়োগই আগামী প্রজন্মকে দেবে শক্তিশালী ভিত্তি এবং একটি স্বাস্থ্যসমৃদ্ধ ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৩.০)
সূত্র: জাগো নিউজ২৪, জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (নিপোর্ট) ও আইসিএফ (বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ ২০২২: মূল সূচক প্রতিবেদন), এফএও, ইফাদ, ইউনিসেফ, ডব্লিউএফপি ও ডব্লিউএইচও (দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৫), এফএও জিআইইডব্লিউএস (বাংলাদেশ সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন, ১০ জুন ২০২৫), এফএও (বাংলাদেশের খাদ্যনির্দেশিকা), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (রক্তস্বল্পতা ও অপুষ্টি বিষয়ক তথ্যপত্র), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ঢাকা ট্রিবিউন, নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ (প্রামাণিক ইংরেজি পাঠ, ফাওলেক্স), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বাংলাপিডিয়া




মন্তব্য
(০)