"গাছের ডাক্তার" নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমন্বিত ডিজিটাল কৃষি হেল্পডেস্ক তৈরি করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী আদনান শাহ আবির। কৃষক, ছাদবাগানি ও গাছপ্রেমীরা আক্রান্ত পাতা বা ফলের একটি স্পষ্ট ছবি তুললেই অ্যাপের "স্মার্ট ভিশন এআই রোগ স্ক্যানার" দাগ ও ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে রোগের নাম, কারণ ও প্রেসক্রিপশন জানিয়ে দেয়, জানিয়েছে বাংলাভিশন।
আদনানের ভাষ্য, কৃষিবিষয়ক কয়েকটি অ্যাপ থাকলেও বেশির ভাগ এক বা দুটি সেবার ওপর কেন্দ্রিক; তাঁরা কৃষকের দরকারি নানা সেবা এক জায়গায় আনার চেষ্টা করেছেন। অ্যাপটিতে ১২টির বেশি ডিজিটাল ফিচার রয়েছে।
যাঁরা পড়তে বা লিখতে পারেন না, তাঁদের জন্য আছে "লাইভ ভয়েস সহকারী": আঞ্চলিক ভাষায় মুখে সমস্যার কথা বললেই তাৎক্ষণিক পরামর্শ মেলে। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘরে বসেই ফসলের সবুজতা, আর্দ্রতা ও জমির দুর্বল অংশের আগাম সতর্কবার্তাও পাওয়া যায়।
অ্যাপটি রোগ দমনে জৈব ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিকে প্রাধান্য দেয়। রাসায়নিক ওষুধের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক নামের পাশে মূল সক্রিয় উপাদানও লেখা থাকে, যাতে দোকানিরা কৃষককে বিভ্রান্ত করতে না পারেন; ১০ লিটারের ড্রামে কত চা-চামচ বা বোতলের কত ক্যাপ ওষুধ মেশাতে হবে, প্রেসক্রিপশনে সেই হিসাবও থাকে।
বাংলাদেশে চাষ হওয়া ৫৯টির বেশি ফসলের শত শত রোগবালাইয়ের তথ্য নিয়ে স্থানীয় ডেটাবেজ তৈরি করা হয়েছে, যাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, ব্রি, বারি ও বিনার তথ্য যুক্ত। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ৬৪ জেলার দৈনিক সরকারি বাজারদরও আছে। জটিল সমস্যায় বিনা মূল্যে পেশাদার কৃষিবিদের পরামর্শ নিতে "ডিজিটাল টোকেন" ও কমিউনিটি ফোরামের ব্যবস্থাও রয়েছে।
আদনান বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা পেলে "গাছের ডাক্তার" দেশের কৃষিতে সত্যিকারের ডিজিটাল অল-ইন-ওয়ান সমাধান হয়ে উঠতে পারে, যা খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষকের আর্থিক উন্নতিতে ভূমিকা রাখবে।
প্রতিবেদন: জাহাঙ্গীর জুলফিকার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাভিশন
ছবি: Ragib Hasan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: বাংলাভিশন





মন্তব্য
(০)