আবহাওয়ার ঝুঁকি, জাহাজ ভাড়া এবং বদলে যাওয়া আমদানি চাহিদা ২০২৭ সালে বিশ্ব চালের বাজার নির্ধারণ করবে। নয়াদিল্লিতে ভারত আন্তর্জাতিক চাল সম্মেলন (বিআইআরসি) ২০২৬-এর প্রথম জ্ঞান অধিবেশন 'গ্লোবাল রাইস ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই আউটলুক ২০২৭'-এ বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন।
অধিবেশনের উপস্থাপনায় দেখানো হয়, ২০২৬-২৭ সালে চালের চাহিদার পুরো প্রবৃদ্ধি আসবে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে। ভিয়েতনাম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাল আমদানিকারক হয়ে উঠছে, ফিলিপাইন গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা হিসেবে আছে, আর এল নিনোর কারণে উৎপাদনে চাপ পড়লে ইন্দোনেশিয়ার আমদানি চাহিদা বাড়তে পারে।
বক্তারা ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত এল নিনোর গতিবিধির দিকে নজর রাখার ওপর জোর দেন, কারণ এটি এশিয়ায় পরপর কয়েকটি চাল মৌসুমে উৎপাদন কমাতে পারে। আবহাওয়াজনিত উৎপাদন ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি আছে ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম; ভারত ও ফিলিপাইনও রবি ও দ্বিতীয় মৌসুমের ফসলের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশনের (আইআরইএফ) সহসভাপতি দেব গর্গ বলেন, বিদেশের বাজারে ভারতীয় চাল কতটা প্রতিযোগিতামূলক হবে, তার অনেকটাই নির্ভর করে আন্তর্জাতিক জাহাজ ভাড়ার ওপর। তাঁর ধারণা, ভারতের ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম টনপ্রতি প্রায় ৬০ ডলার বাড়তে পারে, তবে এমন বাড়তি দাম দীর্ঘ সময় টিকবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। যুদ্ধ চালের দামে কতটা প্রভাব ফেলবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তা নির্ভর করবে জাহাজ ভাড়া ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।
২০২৭ সালের বাজার নিয়ে সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি কোনটি, এমন এক দর্শক জরিপে দাম বাড়ার পরিস্থিতিই বেশি ভোট পায়। বক্তারা বলেন, তবু দামের গতি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে আগামী কয়েক মাসে উৎপাদন, ভোগ, মজুত ও বাণিজ্যের চাহিদা কীভাবে মেলে তার ওপর।
ছবি: CocoyAguilar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: AgroSpectrum





মন্তব্য
(০)