কেউ কেউ খাবার খাওয়ার সময় বা খাওয়ার পর অতিরিক্ত ঘামেন, বিশেষ করে মুখ আর গলায়। কারও কারও খাবারের গন্ধ পেলেই ঘাম শুরু হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যার নাম 'গাস্টেটরি সোয়েটিং'। প্রথম আলোয় এক লেখায় এর কারণ আর করণীয় ব্যাখ্যা করেছেন চিকিৎসক নাজমুল হক।
ঝাল খাবার খেলে অনেকেরই স্বাভাবিকভাবে ঘাম হয়। কিন্তু ঝাল না খেয়েও খাওয়ার সময় বা খাবারের গন্ধে নিয়মিত অতিরিক্ত ঘাম হলে পেছনে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
শরীরের ঘাম নিয়ন্ত্রণ করে অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম বা স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র। ডায়াবেটিসের কারণে এই স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে সমস্যাটি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস, হরমোনজনিত সমস্যা ও কিডনি রোগেও এমন হতে পারে।
মুখের কাছের প্যারোটিড গ্রন্থিতে অস্ত্রোপচারের পরও খাওয়ার সময় অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। মুখের এক পাশের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ার রোগ বেলস পালসি থেকে সেরে ওঠার পরও কারও কারও এই লক্ষণ দেখা দেয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রথমে কারণটি খুঁজে বের করা জরুরি। ডায়াবেটিস থেকে হলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে প্রিগাবালিন বা অ্যামিট্রিপটাইলিনের মতো ওষুধ ব্যবহার করা হয়, আবার রোগীর অবস্থা বুঝে বটুলিনাম টক্সিনও প্রয়োগ করা হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
খাওয়ার সময় নিয়মিত অস্বাভাবিক ঘাম হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছেন তিনি, কারণ এটি দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসের মতো রোগের স্নায়ুজনিত জটিলতার সংকেতও হতে পারে।
ছবি: ভাত, ডাল ও তরকারির একটি বাঙালি থালা (প্রতীকী), Jiniya Chakraborty / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)