সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ইলিশের উল্টো যাত্রা

একসময় গল্পটা ছিল উল্টো। পদ্মা-মেঘনার ইলিশ সীমান্ত পেরিয়ে যেত পশ্চিমবঙ্গের বাজারে। কলকাতার বাঙালির কাছে বাংলাদেশের ইলিশ ছিল বিশেষ আকর্ষণের নাম। দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশের ইলিশ ভারতে যাওয়ার খবর নিয়ে সংবাদমাধ্যমে উৎসবের আবহ তৈরি হতো। আর এখন সেই গল্পে যেন হঠাৎ উল্টো পাতা খুলেছে। ভারত থেকে ইলিশ আসছে বাংল

একসময় গল্পটা ছিল উল্টো। পদ্মা-মেঘনার ইলিশ সীমান্ত পেরিয়ে যেত পশ্চিমবঙ্গের বাজারে। কলকাতার বাঙালির কাছে বাংলাদেশের ইলিশ ছিল বিশেষ আকর্ষণের নাম। দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশের ইলিশ ভারতে যাওয়ার খবর নিয়ে সংবাদমাধ্যমে উৎসবের আবহ তৈরি হতো। আর এখন সেই গল্পে যেন হঠাৎ উল্টো পাতা খুলেছে। ভারত থেকে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে।

খবরটি নিছক মাছের বাজারের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত দুই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ এসেছে বলে ভারতীয় ও বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে ব্যবসায়ীদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এর বড় অংশ এসেছে গুজরাটের ভারুচ বন্দর দিয়ে। সামনে আরও ১৫০ থেকে ২০০ মেট্রিক টন ইলিশ আসতে পারে বলেও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

যে মাছ বাংলাদেশ তার জাতীয় মাছ হিসেবে শুধু পরিচয় দেয় না, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও বাঙালির খাদ্যরুচির এক গভীর প্রতীক হিসেবে ধারণ করে—সেই ইলিশের ক্ষেত্রে এমন বাণিজ্যিক উল্টোযাত্রা আমাদের থমকে দাঁড়ানোর মতো একটি সংকেত। প্রশ্নটি তাই কেবল 'ভারতের ইলিশ কেন বাংলাদেশে?'—এতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বড় প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন এমন জায়গায় গেল কেন যে ঘাটতি পূরণে আমাদের অন্য দেশের দিকে তাকাতে হচ্ছে?

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে উদ্বেগের কারণটি স্পষ্ট হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন ছিল ৫ দশমিক ৭১ লাখ মেট্রিক টন। পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ২৯ লাখ টনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন আরও কমে হয়েছে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৭১ হাজার টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন কমেছিল ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

এই পতনকে সাময়িক ওঠানামা বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ ইলিশের উৎপাদন শুধু নদীতে কত মাছ আছে, তার হিসাব নয়; এর সঙ্গে যুক্ত নদীর প্রবাহ, পানির লবণাক্ততা, প্রজননক্ষেত্র, অভয়াশ্রম, জাটকার বেঁচে থাকা, জেলেদের মাছ ধরার ধরন, নিষেধাজ্ঞার সময় নির্ধারণ এবং সর্বোপরি নদী ও সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তন।

ইলিশ অন্য মাছের মতো স্থির কোনো জলাশয়ের বাসিন্দা নয়। সমুদ্র থেকে নদীতে উঠে আসে, প্রজনন করে, আবার সমুদ্রে ফিরে যায়। পদ্মা-মেঘনা অববাহিকা তার গুরুত্বপূর্ণ বিচরণ ও প্রজননপথ। গবেষণায় দেখা গেছে, ইলিশের জীবনচক্রের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর ও গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীব্যবস্থার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এই মাছকে একটি দেশের সীমানার ভেতরে বন্দী করে ব্যবস্থাপনা করা বাস্তবে সম্ভব নয়।

এখানেই আসে জাটকার প্রশ্ন। ছোট ইলিশকে বড় হওয়ার সুযোগ না দিলে বড় ইলিশের ঘাটতি তৈরি হওয়া অবশ্যম্ভাবী। একটি জাটকা আজ নদীতে সাঁতার কাটছে; তাকে বাঁচিয়ে রাখা মানে কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর একটি বড় ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখা। অথচ ক্ষুধা, ঋণ, বাজারের চাহিদা এবং দালালচক্রের চাপে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞার সময়ও জাটকা ধরেন। ফলে যে মাছটি আগামী দিনের উৎপাদন বাড়াতে পারত, সেটিই আজকের বাজারে হারিয়ে যায়।

ইলিশের এই উল্টোযাত্রা থামাতে হলে নদীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও বদলাতে হবে। জাটকাকে মাছ নয়, ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখতে হবে। নিষেধাজ্ঞাকে কাগজের আদেশ নয়, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা হিসেবে নিতে হবে। জেলেকে অপরাধী নয়, সংরক্ষণের অংশীদার করতে হবে। আর সীমান্তের নদীকে দুই দেশের আলাদা সম্পদ না ভেবে একটি অভিন্ন জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র হিসেবে দেখতে হবে।

বাংলাদেশ জাটকা রক্ষায় দীর্ঘ সময়ের নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ২৫ সেন্টিমিটারের কম আকারের জাটকা ধরা, পরিবহন, কেনাবেচা ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ ছিল। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট অভয়াশ্রমে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালে মেঘনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশেও ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয় জাটকা সংরক্ষণের জন্য।

নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নিষেধাজ্ঞার সময়টি কি ইলিশের জীবনচক্রের সঙ্গে সর্বোচ্চ সামঞ্জস্যপূর্ণ?

এখানেই আমাদের নীতিনির্ধারণে আরও বিজ্ঞাননির্ভর হওয়ার প্রয়োজন। গবেষণায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইলিশের প্রজনন ও বিচরণ অঞ্চল এবং সময় পরিবর্তিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, পলি জমা, নদীর গভীরতা ও প্রবাহের পরিবর্তনের কারণে ইলিশের প্রজননক্ষেত্রও স্থানান্তরিত হচ্ছে। ফলে বহু বছর আগে নির্ধারিত একটি নিষেধাজ্ঞার সময়সূচি হুবহু অনুসরণ করলেই যে আজকের ইলিশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ফল পাওয়া যাবে, তা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ভারত-বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞার অসামঞ্জস্য। বাংলাদেশ যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় মাছ ধরা বন্ধ রাখে, তখন পাশের দেশের নদী ও জলসীমায় একই সময়ে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হলে মাছ রক্ষার প্রচেষ্টা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বহু বছর আগের একটি আন্তসীমান্ত গবেষণাতেও বাংলাদেশ ও ভারতের একই সময়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল।

ভারতের পূর্ব উপকূলে সমুদ্রে মাছ ধরার বার্ষিক নিষেধাজ্ঞার সময়ও বাংলাদেশের সময়সূচির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। পশ্চিমবঙ্গে সাধারণত ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত সামুদ্রিক মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে, আর বাংলাদেশে সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় আলাদা। এই সময়ের অমিল ইলিশের মতো আন্তসীমান্ত চলাচলকারী মাছের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার ফাঁক তৈরি করতে পারে।

অর্থাৎ বাংলাদেশের জেলে যখন জাল গুটিয়ে নৌকা তীরে তুলে রাখছেন, ঠিক তখন সীমান্তের ওপারে একই মাছ ধরার সুযোগ থাকলে সংরক্ষণের সুফল একতরফা হয়ে যায়। প্রকৃতি অবশ্য পাসপোর্ট দেখে না। ইলিশও জানে না কোন নদীর নাম পদ্মা, আর কোন অংশের নাম গঙ্গা। তার কাছে নদী একটিই প্রবাহমান জলজ বাস্তুতন্ত্র।

তাই ইলিশ বাঁচাতে হলে বাংলাদেশকে ভারতকে প্রতিপক্ষ নয়, অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। প্রয়োজন একটি যৌথ ইলিশ ব্যবস্থাপনা কাঠামো। দুই দেশের মৎস্যবিজ্ঞানী, নদী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, প্রশাসন এবং জেলেদের প্রতিনিধিদের নিয়ে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পরামর্শব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। কোথায় ইলিশের প্রজননক্ষেত্র বদলাচ্ছে, কখন জাটকার ঘনত্ব বাড়ছে, কোন সময়ে মা ইলিশ নদীতে উঠছে—এসব তথ্য যৌথভাবে সংগ্রহ ও বিনিময় করতে হবে।

শুধু নিষেধাজ্ঞা দিলেই হবে না, নিষেধাজ্ঞার সময়ও প্রতিবছর বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করতে হবে। যে সময় ইলিশের জীবনচক্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেই সময়েই সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে নিষেধাজ্ঞার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের নিষেধাজ্ঞার সময় যতটা সম্ভব সমন্বিত করতে হবে।

জেলেদের কথা ভুলে গেলে চলবে না। যে মানুষটি নদীতে নেমে মাছ ধরে সংসার চালান, তার কাছে নিষেধাজ্ঞা মানে শুধু একটি সরকারি আদেশ নয়; মানে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া। তাই ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম থাকলে চলবে না। সহায়তা এমন হতে হবে, যাতে জেলে নিষেধাজ্ঞার সময় ধারদেনায় ডুবে না যান এবং নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই অবৈধভাবে নদীতে নামতে বাধ্য না হন। নগদ সহায়তা, খাদ্য সহায়তা, বিকল্প কর্মসংস্থান, সহজ শর্তে ঋণ এবং মাছ ধরার বাইরে আয় করার প্রশিক্ষণ—সবকিছুকে একই ব্যবস্থাপনার অংশ করতে হবে।

এর সঙ্গে কঠোর হতে হবে জাটকা নিধনের বিরুদ্ধে। ছোট জালের ব্যবহার, নিষিদ্ধ জাল, আড়তদার ও অবৈধ ব্যবসায়ী—পুরো সরবরাহশৃঙ্খলকে নজরদারিতে আনতে হবে। শুধু নদীতে জাল ফেলা জেলেকে ধরে মামলা করলে সমস্যার মূল জায়গা ধরা পড়বে না। যে ব্যবসায়ী জানেন নিষিদ্ধ মাছ কোথা থেকে আসছে, যে আড়তদার তা কিনছেন, যে পরিবহনকারী বহন করছেন—জবাবদিহির আওতায় সবাইকে আনতে হবে।

প্রযুক্তিও এখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অভয়াশ্রমে নৌযানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, জেলেদের নৌযান নিবন্ধন, মাছ অবতরণের ডিজিটাল তথ্য, নিষেধাজ্ঞার সময়ে বাজারে মাছের উৎস যাচাই এবং নদী-সমুদ্রের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে অভিযান হবে তথ্যনির্ভর, নির্বিচার নয়।

ইলিশের আবাসস্থল রক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নদীতে পানির প্রবাহ কমে গেলে, অতিরিক্ত পলি জমলে, দূষণ বাড়লে কিংবা প্রজনন ও বিচরণপথ বাধাগ্রস্ত হলে শুধু জেলে নিয়ন্ত্রণ করে ইলিশ ফিরিয়ে আনা যাবে না। গবেষণায় পানির প্রবাহ, পলি, অভিবাসনপথের প্রতিবন্ধকতা এবং পরিবেশগত পরিবর্তনকে ইলিশের উৎপাদন কমার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে ভারতের কাছ থেকে ইলিশ আসছে—এই ঘটনাকে শুধু অপমান বা ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে দেখলেও ভুল হবে। এটি আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বাজারে যখন কোনো দেশের উৎপাদন কমে যায়, তখন ক্রেতা অন্য উৎস খুঁজে নেয়। আজ বাংলাদেশ ভারত থেকে ইলিশ কিনছে; ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশ আরও বেশি দক্ষতার সঙ্গে এই বাজার দখল করতে পারে। খাদ্যনিরাপত্তা ও মৎস্যসম্পদের ব্যবস্থাপনায় আত্মতুষ্টির কোনো জায়গা নেই।

বাংলাদেশের ইলিশ একসময় কেবল একটি মাছ ছিল না; এটি ছিল আমাদের নদী, বর্ষা, নৌকা, জেলে, কুয়াশা, ভোরের বাজার এবং বাঙালির রসনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক জীবন্ত সংস্কৃতি। সেই ইলিশের উৎপাদন কমে গিয়ে যদি বিদেশি ইলিশের ওপর নির্ভরতা বাড়ে, তাহলে ক্ষতিটা শুধু অর্থনীতির নয়—একটি সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়েরও।

আজ তাই সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন 'কার ইলিশ ভালো' নয়। প্রশ্ন হলো—আমরা কি আমাদের ইলিশকে তার নিজের নদীতে, নিজের সময়ে, নিজের জীবনচক্র অনুযায়ী বাঁচতে দিচ্ছি?

ইলিশের এই উল্টোযাত্রা থামাতে হলে নদীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও বদলাতে হবে। জাটকাকে মাছ নয়, ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখতে হবে। নিষেধাজ্ঞাকে কাগজের আদেশ নয়, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা হিসেবে নিতে হবে। জেলেকে অপরাধী নয়, সংরক্ষণের অংশীদার করতে হবে। সীমান্তের নদীকে দুই দেশের আলাদা সম্পদ না ভেবে একটি অভিন্ন জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র হিসেবে দেখতে হবে।

কারণ আজ যে ইলিশ ভারতের গুজরাট থেকে বাংলাদেশের বাজারে আসছে, সেটি হয়তো সাময়িক ঘাটতি মেটাবে। কিন্তু বাংলাদেশের নদীতে ইলিশের স্বাভাবিক প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনতে না পারলে একদিন হয়তো আমাদের সন্তানরা গল্প শুনবে—একসময় এই দেশের নদীতে এমন একটি মাছ পাওয়া যেত, যার নাম ছিল ইলিশ।

সেই গল্পের দেশ আমরা হতে চাই না। ইলিশের উল্টোযাত্রা থামানোর লড়াই তাই আসলে একটি মাছ বাঁচানোর লড়াই নয়; এটি আমাদের নদী, জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা এবং নদীমাতৃক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাঁচানোর লড়াই।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।

drharun.press@gmail.com

এইচআর/এমএফএ/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)