মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় রান্নার জ্বালানি আনতে গিয়ে সাপের কামড়ে আছমা আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূ মারা গেছেন। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৩০ মে, শুক্রবার সকালে, উপজেলার শেখরী নগর গ্রামে। জাগো নিউজ ২৪ সেদিন বিকেলে খবরটি প্রকাশ করে।
মাচা থেকে জ্বালানি আনার সময় পায়ে কামড়
স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আছমা আক্তার রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে ঘরের পাশের মাচায় ওঠেন জ্বালানি আনতে। তখন একটি সাপ তাঁর পায়ে কামড় দেয়। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে রান্না চালিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর অসুস্থ বোধ করলে পরিবারের লোকজনকে সাপের কামড়ের কথা জানান।
অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের লোকজন তাঁকে প্রথমে স্থানীয় এক সাপে কাটা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থা আরও খারাপ হলে তাঁকে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কোন প্রজাতির সাপ কামড় দিয়েছিল, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ জানান, শুক্রবার সকালে মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ওই বাড়িতে যান এবং পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি জানান, আছমা আক্তারের স্বামী রাশেদুল কাঁচামালের ব্যবসা করেন। সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাটুরিয়া উপজেলা
সাটুরিয়া ঢাকা বিভাগের মানিকগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা। এর আয়তন ১৪০.১২ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ১ লাখ ৯৩ হাজার ২০৬, যাদের ৭.৯৭ শতাংশ শহর এলাকায় থাকেন। উপজেলাটি নয়টি ইউনিয়নে বিভক্ত। এখানকার বালিয়াটি জমিদারবাড়ি দেশের পরিচিত প্রত্নস্থাপনাগুলোর একটি।

বাংলাদেশে সাপের কামড়ের চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ২০২১-২২ সালের জাতীয় জরিপের ফল প্রকাশ করা হয় ২০২৩ সালের ১৮ জুন। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের খবর অনুযায়ী, জরিপে দেখা যায় দেশে বছরে প্রায় চার লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন এবং সাড়ে সাত হাজারের বেশি মানুষ মারা যান। ৯৫ শতাংশ ঘটনা ঘটে গ্রামাঞ্চলে। তখন দেশে কোনো অ্যান্টিভেনম উৎপাদিত হতো না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যপত্র অনুযায়ী, বিশ্বে বছরে আনুমানিক ৫৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন এবং ৮১ হাজার ৪১০ থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮০ জন মারা যান। সংস্থাটি বলছে, মানসম্পন্ন অ্যান্টিভেনমই সাপের বিষের বেশির ভাগ প্রভাব ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা। ডব্লিউএইচও আরও উল্লেখ করেছে, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণে অনেকে হাসপাতালের বদলে প্রথাগত চিকিৎসার পথ বেছে নেন, ফলে সময় নষ্ট হয়।

সাপে কামড়ালে করণীয়: ডব্লিউএইচওর পরামর্শ
ডব্লিউএইচও বলছে, সাপে কামড়ানোর পর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আক্রান্ত ব্যক্তিকে একেবারে নড়াচড়া করতে না দেওয়া এবং দেরি না করে অস্থায়ী স্ট্রেচারে করে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া। সম্ভব হলে তাঁকে একপাশে কাত করে শোয়ানো উচিত, যাতে শ্বাস-প্রশ্বাস সুরক্ষিত থাকে। কামড়ের পর যত দ্রুত সম্ভব উপযুক্ত অ্যান্টিভেনম দিলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়, কারণ বিষের অনেক প্রভাব পরে আর ফেরানো যায় না।
সংস্থাটির মতে, শক্ত করে সরু বাঁধন দেওয়া, ক্ষত কাটা, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেটের মতো রাসায়নিক লাগানো বা গরম কাচের পাত্র দিয়ে বিষ টানার চেষ্টা বিপজ্জনক ও অকার্যকর; এসব করা উচিত নয়। কামড় এড়াতে ডব্লিউএইচওর পরামর্শ:
- বাড়ির আশপাশে আবর্জনা ও পুরোনো জিনিসপত্রের স্তূপ সরিয়ে ফেলা এবং ঘাস ছোট করে রাখা, কারণ এসব জায়গায় সাপ লুকিয়ে থাকে।
- রাতে বাইরে চলাফেরার সময় আলো ব্যবহার করা।
- ঘরে সাপ ঢোকার পথ বন্ধ করা; তা সম্ভব না হলে উঁচু বিছানায় ভালোভাবে গুঁজে দেওয়া মশারির ভেতরে ঘুমানো।
- সাপ থাকতে পারে এমন জায়গায় খালি পায়ে না হাঁটা; ডব্লিউএইচওর তথ্যে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কামড় লাগে হাঁটুর নিচে, পায়ে।
ছবি: Muhammad Amdad Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)