সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

পুকুরের পানির মান বোঝার উপায়: অক্সিজেন, শ্যাওলা ও স্বচ্ছতার লক্ষণ

পুকুরে মাছ মরার বড় কারণ রাতের শেষভাগে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যাওয়া। এফএওর মাছচাষ নির্দেশিকা অনুযায়ী হাত বা সেকি ডিস্ক দিয়ে পানির স্বচ্ছতা মেপে আর কয়েকটি লক্ষণ চিনে রেখে চাষি আগেভাগেই এই বিপদ বুঝতে পারেন।

পুকুরের পানির মান বোঝার উপায়: অক্সিজেন, শ্যাওলা ও স্বচ্ছতার লক্ষণ
মৎস্য

সকালে পুকুর পাড়ে গিয়ে যদি দেখা যায় মাছ পানির ওপরে ভেসে মুখ হাঁ করে আছে, তবে বিপদ ঘটেছে আগের রাতেই। জাগো নিউজ ২৪-এ ২০২৬ সালের ১ জুলাই প্রকাশিত এক লেখায় মাছচাষিদের এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। কারণটা প্রায়ই একই: পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যাওয়া, শ্যাওলা বা প্ল্যাঙ্কটনের আধিক্য কিংবা তলায় পচা জৈব পদার্থ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) মাছচাষিদের জন্য পুকুর ব্যবস্থাপনার যে প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, তাতেও পানির এই আচরণ চেনার সহজ উপায় দেওয়া আছে।

রাতে আর ভোরে কেন অক্সিজেন কমে


এফএওর নির্দেশিকা বলছে, পুকুরের পানিতে অক্সিজেন আসে দুই পথে: বাতাস থেকে আর সালোকসংশ্লেষণ থেকে। বাতাসের অক্সিজেন পানিতে মেশে খুব ধীরে, তাই প্রধান উৎস হলো শ্যাওলা ও প্ল্যাঙ্কটনের সালোকসংশ্লেষণ। দিনে আলো থাকলে এরা অক্সিজেন তৈরি করে, কিন্তু রাতে তা পুরোপুরি থেমে যায়। তখন মাছ, প্ল্যাঙ্কটন ও পচনশীল জৈব পদার্থ শুধু অক্সিজেন খরচ করে। প্ল্যাঙ্কটন যত বেশি, রাতে অক্সিজেন তত দ্রুত কমে। তাই সূর্য ওঠার ঠিক পরেই অক্সিজেন থাকে সবচেয়ে কম।

মেঘলা দিনে সালোকসংশ্লেষণ কমে যায়। টানা কয়েক দিন মেঘ বা বৃষ্টি থাকলে, খুব গরমে পানির তাপমাত্রা বাড়লে, পুকুরে মাছ বেশি থাকলে কিংবা অতিরিক্ত খাবার তলায় পচলে অক্সিজেন হঠাৎ কমে যেতে পারে। এফএওর হিসাবে কমন কার্পের জন্য প্রতি লিটারে অন্তত ৩ মিলিগ্রাম অক্সিজেন দরকার, ভালো থাকে ৫ মিলিগ্রামে; তেলাপিয়ার জন্য ন্যূনতম ২ মিলিগ্রাম, ভালো থাকে ৪ মিলিগ্রামে।

গাইবান্ধার একটি গ্রামের পুকুর। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
গাইবান্ধার একটি গ্রামের পুকুর। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

অক্সিজেন সংকটের লক্ষণ


অক্সিজেন মাপার যন্ত্র বা কিট না থাকলেও কিছু লক্ষণ দেখে সংকট বোঝা যায়। এফএওর নির্দেশিকায় যেগুলোর কথা আছে:

  • ব্যাঙাচি পুকুরের কিনারে জড়ো হয়;
  • শামুক পানির ওপরে জেগে থাকা গাছ বেয়ে উঠে আসে;
  • পানি থেকে পচা ডিমের মতো গন্ধ ওঠে;
  • মাছ ঠিকমতো খাবার খায় না বা খাওয়া বন্ধ করে দেয়;
  • মাছ পানির একেবারে ওপরের স্তর থেকে শ্বাস নিতে ভেসে ওঠে।

হাত আর সেকি ডিস্কে পানির স্বচ্ছতা মাপা


সবুজ পানির ঘোলাত্ব আসে প্ল্যাঙ্কটন থেকে। এফএওর পরামর্শ, পুকুরের অগভীর অংশে আস্তে নেমে একটি হাত সোজা পানিতে ডোবাতে থাকুন, যতক্ষণ না হাতের তালু আর দেখা যায়। পানির রেখা কনুইয়ের অনেক নিচে থাকলে প্ল্যাঙ্কটন খুব বেশি, কনুই বরাবর থাকলে বেশি, আর কনুইয়ের অনেক ওপরে থাকলে কম।

আরও ভালো মাপের জন্য সেকি ডিস্ক বানানো যায়: প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার ব্যাসের একটি গোল চাকতি, চার ভাগে কালো-সাদা রং করা, ১০ সেন্টিমিটার পরপর দাগ দেওয়া দড়িতে বাঁধা। চাকতিটি যে গভীরতায় চোখের আড়ালে যায়, সেটাই স্বচ্ছতা। মাপতে হয় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে, শান্ত ও রোদেলা দিনে। এফএওর হিসাবে স্বচ্ছতা ৪০ সেন্টিমিটারের কম হলে প্ল্যাঙ্কটন বেশি এবং রাতে মাছ বিপদে পড়তে পারে; ৪০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটারে উৎপাদন সবচেয়ে ভালো; ৬০ সেন্টিমিটারের বেশি হলে প্রাকৃতিক খাবার কম। স্বচ্ছতা ২৫ সেন্টিমিটারের কম হলে, বিশেষ করে টানা দুই-তিন দিন ঘন মেঘ বা সকালে ঘন কুয়াশা থাকলে, অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় এক শিক্ষার্থী পানির স্বচ্ছতা মাপতে সেকি ডিস্ক নামাচ্ছে। ছবি: Virginia State Parks / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় এক শিক্ষার্থী পানির স্বচ্ছতা মাপতে সেকি ডিস্ক নামাচ্ছে। ছবি: Virginia State Parks / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

সেন্সর ও বায়ুসঞ্চালনে নজরদারি


যন্ত্র থাকলে এফএও অক্সিজেন মাপতে বলে সূর্য ওঠার ঠিক পরে, যখন তা সবচেয়ে কম, এবং তার কয়েক ঘণ্টা পরে আরেকবার। পানির পিএইচ সূর্যোদয়ের সময় ৬.৫ থেকে ৮.৫-এর মধ্যে থাকলে তা সাধারণত মাছচাষের জন্য উপযুক্ত। এখন ছোট সেন্সর দিয়ে এসব মাপ স্বয়ংক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। ২০২৪ সালে মেথডসএক্স সাময়িকীতে প্রকাশিত ভারতের এক গবেষণায় আরডুইনো বোর্ডে লাগানো সেন্সর দিয়ে পানির তাপমাত্রা, পিএইচ ও দ্রবীভূত অক্সিজেন সারাক্ষণ মাপা হয়; তথ্য ক্লাউডে জমা হয় এবং চাষি মোবাইল অ্যাপে তা দেখতে ও সতর্কবার্তা পেতে পারেন। গবেষকেরা যন্ত্রের মাপ চাষিদের হাতে নেওয়া মাপের সঙ্গে মিলিয়েও দেখেছেন।

অক্সিজেন বাড়ানোর সাধারণ উপায় হিসেবে এফএও বলেছে, পুকুরে ঢোকা পানি যত উঁচু থেকে, যত ছড়িয়ে ও ছিটিয়ে পড়ে, বাতাসের অক্সিজেন তত বেশি মেশে; বড় খামারে যান্ত্রিক এয়ারেটরও ব্যবহার করা হয়। মাছ মরার পর কারণ খোঁজার চেয়ে নিয়মিত পানির আচরণ লক্ষ করাই ক্ষতি এড়ানোর সহজ পথ।

আর্মেনিয়ার একটি মাছের পুকুরে চালু এয়ারেটর। ছবি: Narek75 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
আর্মেনিয়ার একটি মাছের পুকুরে চালু এয়ারেটর। ছবি: Narek75 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: iMahesh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও): মিঠাপানির মাছচাষ ব্যবস্থাপনা, পুকুর ও পানি (প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা), মেথডসএক্স (শেটে ও অন্যান্য, ২০২৪)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)