সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

জাফরান চাষ: আবহাওয়া, মাটি, মোথা রোপণ ও বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক চাষের অভিজ্ঞতা

বিশ্বের সবচেয়ে দামি মসলা জাফরান শুকনো গ্রীষ্ম আর ঠান্ডা শীতের ফসল; বর্ষার বাংলাদেশে খোলা মাঠে এর মোথা পচে যায়। কাশ্মীরের চাষপদ্ধতি, মাটি, মোথা, ফুল তোলা আর দেশে ২০০০ সাল থেকে চলা পরীক্ষার ফল এক জায়গায়।

জাফরান চাষ: আবহাওয়া, মাটি, মোথা রোপণ ও বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক চাষের অভিজ্ঞতা
ফসল

ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আলো, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে বেগুনি জাফরান ফুল ফোটানো হয়েছিল, আর সেই ফুল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল লাল গর্ভমুণ্ড। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আ ফ ম জামাল উদ্দিন ২০২১ সালের আগস্টে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আগের বছর তিনি জাপান থেকে ৫০০টির বেশি জাফরানের মোথা (বাল্ব) এনেছিলেন এবং প্রায় সব গাছেই ফুল ফুটেছে।

তাঁর এই পরীক্ষা দেখিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে দামি মসলার ফুল বাংলাদেশেও ফোটানো যায়; আবার এ-ও দেখিয়েছে, খোলা মাঠে এ দেশে কেন এর চাষ এত কঠিন। এই লেখায় জানা যাবে জাফরান গাছ কী, এর জন্য কেমন আবহাওয়া, মাটি ও মোথা লাগে, কাশ্মীরের চাষিরা কীভাবে রোপণ করেন, মসলা কীভাবে তোলা ও শুকানো হয়, আর ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক চাষে কী পাওয়া গেছে।

জাফরান গাছ: যে ফুল বীজ দিতে পারে না


‘লাল সোনা’ নামে পরিচিত জাফরান আসলে ক্রোকাস স্যাটিভাস (Crocus sativus) গাছের ফুলের শুকনো গর্ভমুণ্ড। গাছটি আইরিস পরিবারের, অর্থাৎ ইরিডেসি (Iridaceae) গোত্রের সদস্য; অনেক সময় যে ক্রোকোইডি (Crocoideae) নামটিকে এর পরিবার বলা হয়, সেটি আসলে এই পরিবারের ভেতরের একটি উপপরিবার। বুলগেরিয়ার প্লোভদিভ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেসেলকা ভ্লাহোভার ২০২২ সালের এক পর্যালোচনা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ‘জাফরান’ শব্দটি এসেছে আরবি ‘জা’ফারান’ থেকে, যার উৎস ফারসি ‘জারপারান’, অর্থাৎ ‘সোনালি পাপড়ির ফুল’।

মাটির নিচের মোথা বা কন্দ থেকে গাছটি প্রায় ১০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার উঁচু হয়। মোথাটি গোলাকার, খাদ্য জমা রাখার অঙ্গ, যাকে চাষিরা প্রায়ই পেঁয়াজের সঙ্গে তুলনা করেন। শরৎ-হেমন্তে ফুল ফোটে। প্রতিটি বেগুনি ফুলে থাকে ছয়টি পাপড়ি, তিনটি পুংকেশর আর একটি গর্ভদণ্ড, যা ভাগ হয়ে তিনটি লম্বা লাল গর্ভমুণ্ডে শেষ হয়। এই লাল সুতাগুলো শুকিয়েই তৈরি হয় মসলা।

জাফরান গাছ বন্ধ্যা ট্রিপ্লয়েড, এর ক্রোমোজোম ২৪টি। এটি কার্যকর বীজ দিতে পারে না এবং বুনো অবস্থায় কোথাও পাওয়া যায় না; তাই পৃথিবীর প্রতিটি জাফরান গাছ মানুষের হাতে মোথা থেকে বাড়ানো একই গাছের ক্লোন। উদ্ভিদবিজ্ঞানের গবেষণা অনুযায়ী এর সম্ভাব্য পূর্বপুরুষ মূল ভূখণ্ড গ্রিসের বুনো প্রজাতি ক্রোকাস কার্টরাইটিয়ানাস; এ কারণেই প্রায়ই গ্রিসকে জাফরানের আদিভূমি বলা হয়। তবে ইরান, মেসোপটেমিয়া ও কাশ্মীরের নামও উৎপত্তিস্থল হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।

রোপণের জন্য মোথা কেনার সময় একটি সতর্কতা জরুরি। ‘অটাম ক্রোকাস’ নামটি কলচিকাম (Colchicum) প্রজাতির গাছের ক্ষেত্রেও ব্যবহার হয়, যা দেখতে প্রায় একই রকম হলেও ভিন্ন পরিবারের এবং বিষাক্ত। আসল ক্রোকাসে থাকে তিনটি পুংকেশর ও তিনটি গর্ভমুণ্ড; কলচিকামে থাকে ছয়টি পুংকেশর ও তিনটি গর্ভদণ্ড।

জাফরানের রং আসে মূলত ক্রোসিন থেকে, তিতকুটে স্বাদ পিক্রোক্রোসিন থেকে আর সুগন্ধ সাফরানাল থেকে। উপমহাদেশে বিরিয়ানি, কাচ্চি, জর্দা ও কালিয়ার মতো দামি খাবারে রং ও স্বাদের জন্য জাফরান দেওয়া হয়; রং, সুগন্ধি ও রূপচর্চাতেও এর ব্যবহার আছে। পর্যালোচনা প্রবন্ধটি বলছে, এর উচ্চ দামের সরাসরি কারণ প্রতিদিন হাতে ফুল তোলা, গর্ভমুণ্ড আলাদা করা ও শুকানোর শ্রম।

ইরানের শুকনো জাফরানের সুতা। ছবি: রাইনার জেনৎস / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
ইরানের শুকনো জাফরানের সুতা। ছবি: রাইনার জেনৎস / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

বিশ্বে কোথায় জাফরানের চাষ হয়


জাফরান উৎপাদনে ইরানের একক আধিপত্য। প্রথম আলো ২০২৫ সালের মার্চে জানায়, বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ জাফরান উৎপাদিত হয় ইরানে, যার বেশির ভাগ দেশটির উত্তর-পূর্বের খোরাসানে; ২০২২ সালের পর্যালোচনা প্রবন্ধেও একই হিস্যার কথা আছে। অন্য উৎপাদকদের মধ্যে আছে আফগানিস্তান (হেরাত), ভারত (কাশ্মীর, বিশেষ করে পাম্পোর), গ্রিস (কোজানি), মরক্কো (তালিউইন), স্পেন (লা মানচা) ও ইতালি (নাভেল্লি)।

পর্যালোচনায় উদ্ধৃত এক হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে বছরে ৪১৮ টনের বেশি জাফরান উৎপাদিত হয়, যার চাষ হয় ইরানে প্রায় ১,০৮,০০০ হেক্টরে, আফগানিস্তানে ৭,৫৫৭ হেক্টরে, ভারতে ৩,৬৭৪ হেক্টরে, গ্রিসে ১,০০০ হেক্টরে, মরক্কোতে ৮৫০ হেক্টরে, স্পেনে ১৫০ হেক্টরে, ইতালিতে ৭০ হেক্টরে এবং ফ্রান্সে ৩৭ হেক্টরে। স্পেনের খ্যাতি পরিমাণে নয়, মানে: পর্যালোচনা বলছে, স্পেনের কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলের জাফরান বিশ্বে সেরা মানের বলে স্বীকৃত।

দক্ষিণ এশিয়ায় জাফরানের সবচেয়ে পরিচিত এলাকা কাশ্মীর। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ২০১১ সাল থেকে ‘কাশ্মীরের জাফরান ঐতিহ্য’কে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ঐতিহ্য ব্যবস্থা (জিআইএএইচএস) হিসেবে তালিকাভুক্ত রেখেছে। এফএও জানায়, খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকের কাশ্মীরি নথিতে জাফরানের উল্লেখ আছে, কাশ্মীরি নারীরাই এই ফসলের জ্ঞানের ধারক, আর পানির সংকট, ফলন কমে যাওয়া ও বাজারের অস্থিরতা এই চাষের বড় চ্যালেঞ্জ।

২০২০ সালের জুলাইয়ে ভারত সরকার কাশ্মীর উপত্যকায় উৎপাদিত জাফরানের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ দেয়। দ্য ট্রিবিউনের খবরে কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, এই জাফরান ১,৬০০ মিটার উচ্চতায় জন্মায়, এর গর্ভমুণ্ড লম্বা ও মোটা, রং প্রাকৃতিকভাবে গাঢ় লাল এবং সুগন্ধ তীব্র। একই খবরে জানানো হয়, ৪১১ কোটি রুপির জাতীয় জাফরান মিশনের আওতায় ৩,৭১৫ হেক্টর জাফরান জমি পুনরুজ্জীবনের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এই লেখার জন্য পড়া প্রতিবেদনগুলোতে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক জাফরান চাষের কোনো উল্লেখ নেই; দেশে যা লাগে তা আমদানি করা হয়। ব্যবসায়ীরা ২০২১ সালে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বাংলাদেশে ব্যবহৃত জাফরানের ৯০ শতাংশের বেশি আসে ইরান থেকে, বাকিটা কাশ্মীর, স্পেন ও মরক্কো থেকে।

ভারতের কাশ্মীরের পাম্পোরে জাফরানের খেত। ছবি: উমরসামি / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ভারতের কাশ্মীরের পাম্পোরে জাফরানের খেত। ছবি: উমরসামি / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

জাফরানের জন্য কেমন আবহাওয়া দরকার, বাংলাদেশে কেন কঠিন


জাফরান শুকনো গ্রীষ্ম আর ঠান্ডা শীতের ফসল। ২০২২ সালের পর্যালোচনা বলছে, গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ ৩৫ বা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে শীতে মাইনাস ১৫ বা মাইনাস ২০ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রায় এর চাষ হয়। বৃষ্টিভেজা শরৎ, মৃদু শীত ও উষ্ণ গ্রীষ্ম এর জন্য সবচেয়ে ভালো; যেখানে বছরে ২৫০ থেকে ৬০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, সেখানে এটি ভালো জন্মায়। ফুল ফোটার ঠিক আগের বৃষ্টি ফলন বাড়ায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বৃষ্টির সময়। বসন্তের বৃষ্টি আর তুলনামূলক শুকনো গ্রীষ্ম ফসলের উপযোগী; কিন্তু ফুল ফোটার সময় বৃষ্টি বা ঠান্ডা আবহাওয়া রোগ বাড়ায় এবং দীর্ঘ স্যাঁতসেঁতে ও গরম অবস্থা গাছের ক্ষতি করে। আর্দ্র জাফরান-অঞ্চল কাশ্মীরে বছরে গড়ে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়; গ্রিসের জাফরান এলাকায় হয় প্রায় ৫০০ আর স্পেনের এলাকায় প্রায় ৪০০ মিলিমিটার।

ভারতের শের-ই-কাশ্মীর কৃষি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (স্কাস্ট-কাশ্মীর) ফুল আসার ক্ষেত্রে তাপমাত্রাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলেছে। তাদের ‘শালিমার স্যাফরন-১’ জাতের চাষপদ্ধতি নির্দেশিকা অনুযায়ী মোথার ভেতরে ফুলের কুঁড়ি তৈরির জন্য সবচেয়ে উপযোগী তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর ফুল বেরিয়ে আসার জন্য ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি; এর কম বা বেশি হলে ফুল কমে যায়।

বাংলাদেশের আবহাওয়া একেবারে ভিন্ন। বাংলাপিডিয়ার তথ্যে দেশে বার্ষিক বৃষ্টিপাত পশ্চিম-মধ্যাঞ্চলে ১৫০ সেন্টিমিটার থেকে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৪০০ সেন্টিমিটারের বেশি। জুন থেকে সেপ্টেম্বরের বর্ষাকালেই বছরের ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টি হয়, আর এই কয় মাসে সারা দেশে আপেক্ষিক আর্দ্রতা থাকে ৮০ শতাংশের ওপরে।

অধ্যাপক জামাল উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, শীতপ্রধান দেশের খোলা মাঠের পদ্ধতি এখানে হুবহু অনুসরণ করা যায় না: ভারী বৃষ্টিতে মোথা সহজে পচে যায়, আর মাটির আর্দ্রতার কারণে গাছ ভালো হলেও প্রত্যাশামতো ফুল ফোটে না। সে কারণেই তাঁর পরীক্ষা হয়েছে ঘরের ভেতরে।

জাফরান চাষের মাটি ও জমি


জাফরানের জন্য দরকার ঝুরঝুরে মাটি, যেখান থেকে পানি দ্রুত সরে যায়। দ্য এগ্রো নিউজের মূল লেখায় বেলে-দোআঁশ মাটিকে সবচেয়ে উপযোগী বলা হয়েছিল; বলা হয়েছিল, এঁটেল মাটিতে বালু ও বেশি পরিমাণ জৈব সার মিশিয়ে উপযোগী না করলে ফসল ভালো হয় না, আর জলাবদ্ধতা এ ফসল একেবারেই সহ্য করতে পারে না। তাই পানি নিষ্কাশনের সুবিধাসহ উঁচু বা মাঝারি উঁচু, পুরো রোদ পাওয়া জমি বেছে নিতে হয়; ছায়ায় এ ফসল ভালো হয় না।

গবেষকেরাও একই কথা বলছেন। ২০২২ সালের পর্যালোচনা অনুযায়ী জাফরান দোআঁশ, বেলে ও চুনযুক্ত মাটিতে ভালো জন্মায়, ভারী এঁটেল মাটিতে নয়; মাটির পিএইচ ৫.৫ থেকে ৮.৫ হলে ভালো হয়। প্রবন্ধে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যে জমিতে গত তিন বছর জাফরানের মতো রোগে আক্রান্ত হয় এমন ফসল, যেমন আলু, গাজর, পেঁয়াজ, রসুন, লুসার্ন, গ্লাডিওলাস ও আইরিস চাষ হয়নি, সেখানে জাফরান লাগাতে হবে এবং একই জমিতে আবার জাফরান ফেরাতে হবে প্রায় দশ বছর পর।

স্কাস্ট-কাশ্মীর জৈব পদার্থসমৃদ্ধ, ঝুরঝুরে, পানি নিষ্কাশনযোগ্য এঁটেল বা চুনযুক্ত মাটির সুপারিশ করে, যার পিএইচ ৭ থেকে ৮। তাদের পরামর্শ, জমি চার থেকে পাঁচবার ৩০ থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার গভীর করে চাষ দিতে হবে, আগাছা ও পাথর সরাতে হবে এবং প্রথম চাষের সময় হেক্টরে ১৫ টন পচা গোবর বা কম্পোস্ট মেশাতে হবে; রাসায়নিক সার দিতে হবে মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে।

পানি নিষ্কাশনের মূল উপায় উঁচু বেড। স্কাস্ট-কাশ্মীরের বেড ১.৫ থেকে ২.০ মিটার চওড়া ও ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার উঁচু, আর দুই বেডের মাঝে ২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার জায়গা নালা হিসেবে কাজ করে। এতে বেডের ওপরের মাটি অতিরিক্ত ভেজা থাকে না এবং মোথা পচা রোগ কম হয়। মূল লেখায় বলা হয়েছিল, পারিবারিক প্রয়োজনে অনেকে বাগানের কিনারে, টবে, ছাদে বা ছোট বেডে অল্প কিছু গাছ লাগান।

মোথা: জাফরান যেভাবে বংশ বাড়ায়


বীজ হয় না বলে জাফরানের বংশবিস্তার হয় কেবল নতুন মোথা বা ‘কন্যা কন্দ’ দিয়ে। পর্যালোচনা প্রবন্ধ বলছে, একটি মূল মোথা এক মৌসুম বাঁচে এবং চার থেকে পাঁচটি ছোট মোথা দেয়, তাই বংশবৃদ্ধি ধীর। পরিপক্ব মোথা প্রায় ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত চওড়া হতে পারে এবং আঁশের একটি আবরণে ঢাকা থাকে, যাকে বলা হয় টিউনিক।

মিউটেশন ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে উদ্ভাবিত স্কাস্ট-কাশ্মীরের জাত শালিমার স্যাফরন-১-এর প্রতিটি মোথা থেকে তিন বা চারটি নতুন মোথা এবং এক থেকে তিনটি ফুল হয়। অধ্যাপক জামাল উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, মোথা পরিপক্ব হলে প্রথম বছরে একটি গাছে একটি ফুল হয়, পরের বছরগুলোতে তা সাত-আটটি পর্যন্ত হয়।

একই জমিতে চিরকাল জাফরান রাখা হয় না। স্কাস্ট-কাশ্মীর চার বছরের চক্রে চাষ করে; এরপর জুন মাসে হাতে মোথা তোলা হয় এবং মাটি দিয়ে ঢেকে বাক্সে ১৯ থেকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন রাখা যায়। মূল লেখাতেও একই কথা ছিল: একই জমিতে তিন-চার বছরের বেশি ফসল রাখা ঠিক নয়, মোথা তুলে নতুন করে লাগাতে হবে।

চাষ শুরুর সবচেয়ে বড় খরচ মোথা। অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের হিসাবে প্রতিটি মোথার দাম কমপক্ষে ৬০ টাকা; তিনি বলেন, একবার মোথা কিনে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারা তৈরি করলে খরচ কমানো যায়।

স্পেনের কাতালোনিয়ার কাস্তেলতাইয়াতে জাফরানের মোথা। ছবি: ভিক্তর এম. ভিসেন্তে সেলভাস / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
স্পেনের কাতালোনিয়ার কাস্তেলতাইয়াতে জাফরানের মোথা। ছবি: ভিক্তর এম. ভিসেন্তে সেলভাস / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

কাশ্মীরে যেভাবে রোপণ ও পরিচর্যা করা হয়


নিচের সময়সূচি কাশ্মীর উপত্যকার জন্য স্কাস্ট-কাশ্মীরের; মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে জুলাই বর্ষার মাস, কাশ্মীরে তা নয়। দ্য এগ্রো নিউজের মূল লেখায় জুলাই-আগস্টে ১২ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার গভীরে মোথা লাগানোর কথা বলা হয়েছিল, যা কাশ্মীরের পদ্ধতির কাছাকাছি।

  • রোপণের সময়: ১৫ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে রোপণ শেষ করতে হবে; দেরিতে লাগালে গাছ ভালোভাবে বসে না এবং প্রথম বছরে ফুল কম হয়।
  • গভীরতা: হাতে ১৫ সেন্টিমিটার গভীরে মোথা বসাতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, এতে প্রথম বছরেই ভালো ফুল আসে এবং নতুন মোথা ভালো হয়।
  • দূরত্ব: সারিতে লাগালে সারি থেকে সারি ২৫ সেন্টিমিটার এবং মোথা থেকে মোথা ৪ সেন্টিমিটার।
  • মোথা শোধন: মোথা ও মাটিবাহিত রোগ ঠেকাতে লাগানোর আগে মোথা অল্প সময় ছত্রাকনাশকের দ্রবণে ডুবিয়ে ছায়ায় শুকিয়ে নিতে হয়; বাংলাদেশে কোন ওষুধ কী মাত্রায় দেবেন, তা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জেনে নিন।
  • আগাছা দমন: জাফরান ধীরে বাড়ে ও নিচু থাকে, তাই বিশেষ করে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হাতে আগাছা পরিষ্কার ও নিড়ানি দিতে হয়।
  • সেচ: আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ফসল পানির প্রতি সংবেদনশীল; শালিমার স্যাফরন-১-এর সূচিতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবার হেক্টরে ১৪০ ঘনমিটার করে পাঁচটি সেচের কথা আছে।

একই নির্দেশিকা অনুযায়ী কাশ্মীরে প্রধান শত্রু ফিউজেরিয়াম ছত্রাকের কারণে মোথা পচা রোগ, স্টেমফাইলিয়ামের কারণে পাতা ঝলসানো রোগ এবং দুই ধরনের ইঁদুরজাতীয় প্রাণী, ব্লাইদের ভোল ও ভারতীয় সজারু। বৃষ্টিবহুল দেশে পানি নিষ্কাশন এত জরুরি হওয়ার কারণ এই মোথা পচা রোগ।

ফুল তোলা, গর্ভমুণ্ড আলাদা করা ও শুকানো


জাফরান ফোটে শরতের মাঝামাঝি, আর পর্যালোচনা প্রবন্ধ বলছে, ফুল ফোটার সময় মাত্র ১৫ দিন স্থায়ী হতে পারে। ভোরে ফুল ফোটে, বেলা বাড়লে নেতিয়ে পড়ে। স্কাস্ট-কাশ্মীরের পরামর্শ, ভোরের পরপরই ফুল তুলতে হবে, কারণ রোদে থাকলে গর্ভমুণ্ডের রং ও স্বাদ নষ্ট হয়; ফুল পুরো ফোটার আগেই তুলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গর্ভমুণ্ড আলাদা করতে হবে।

একটি ফুল থেকে পাওয়া জাফরানের পরিমাণ খুবই সামান্য। অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, একটি ফুলে সাধারণত ৩০ মিলিগ্রাম জাফরান হয়, যা শুকালে মাত্র ৭ মিলিগ্রামের মতো থাকে; তাই এক গ্রামের জন্য অন্তত ১৫০টি আর এক কেজির জন্য প্রায় দেড় লাখ ফুল লাগে। স্কাস্ট-কাশ্মীরের হিসাবে এক কেজি শুকনো জাফরানে লাগে ১,৪০,০০০ থেকে ১,৪৫,০০০ ফুল, আর প্রথম আলো ২০২৫ সালে জানায়, এক কেজি জাফরান তৈরিতে প্রায় ৩৭০ থেকে ৪৭০ ঘণ্টা সময় লাগে।

শুকানোর মধ্য দিয়েই গর্ভমুণ্ড মসলায় পরিণত হয়। স্কাস্ট-কাশ্মীর ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে শুকানোর সুপারিশ করে; এ সময় গর্ভমুণ্ডের ওজন ৮০ শতাংশ কমে যায়, আর আন্তর্জাতিক মান আইএসও ৩৬৩২ অনুযায়ী আর্দ্রতা ১০ থেকে ১২ শতাংশে নামিয়ে আনতে হয়। শুকনো জাফরান সঙ্গে সঙ্গে মুখবন্ধ পাত্রে ভরে আলো থেকে দূরে রাখতে হয়।

যেখানে জাফরান ভালো হয়, সেখানেও হেক্টরপ্রতি ফলন সামান্য। স্কাস্ট-কাশ্মীর জানায়, চার বছরের চক্রে শালিমার স্যাফরন-১-এর গড় ফলন হেক্টরে ৮ থেকে ১০ কেজি গর্ভমুণ্ড, যেখানে চাষিদের নিজস্ব গাছে পাওয়া যায় ৪ থেকে ৫ কেজি। অধ্যাপক জামাল উদ্দিন ইরান ও কাশ্মীরে হেক্টরে প্রায় ২ কেজি ফলনের কথা বলেছেন।

আইএসও ৩৬৩২ মান অনুযায়ী ক্রোসিন, পিক্রোক্রোসিন ও সাফরানালের পরীক্ষাগার-পরিমাপের ভিত্তিতে জাফরানকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়, প্রথম শ্রেণি সবচেয়ে ভালো, তৃতীয় শ্রেণি সবচেয়ে নিচে। পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী সমিতির চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ ২০২১ সালে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বাংলাদেশে আমদানি হওয়া জাফরানের মান উঁচু নয় এবং কেউ কেউ নিম্নমানের জাফরান মিশিয়ে বিক্রি করেন।

ইরানে জাফরান ফুল তোলা হচ্ছে। ছবি: হোসেইন তোহিদি ফার্দ / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
ইরানে জাফরান ফুল তোলা হচ্ছে। ছবি: হোসেইন তোহিদি ফার্দ / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

বাংলাদেশে জাফরানের পরীক্ষামূলক চাষ


বাংলাদেশে জাফরান চাষের চেষ্টা চলছে ২০০০ সাল থেকে। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ২০১৭ সালের অক্টোবরে জানায়, সে বছর বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সাতটি উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রে, গাজীপুর, পাবনা, রংপুর, বান্দরবান, জামালপুর, লামা ও খুলনায়, পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয়। প্রতিটি কেন্দ্র ১৫ থেকে ২০টি মোথা পায় এবং ৭০ থেকে ৮০ দিনে গাছে ২৫ থেকে ৩০টি ফুল আসে; তবে এরপর বিস্তৃত চাষ আর হয়নি।

একই প্রতিবেদনে ২০১৭ সালে রাজশাহীতে ছোট পরিসরে পরীক্ষামূলক চাষের কথা আছে, যা ছিল ওই অঞ্চলে প্রথম; চাষ হয় তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নে এবং মাসকাটাদীঘি গ্রামে। তখন এক কেজি জাফরানের দাম ছিল এক লাখ টাকার বেশি।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন জানান, জাপানের মোথাগুলো প্রথমে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হিমায়িত রেখে রোপণের উপযোগী করা হয়, তারপর ঘরের ভেতরে ট্রেতে লাগানো হয়। তাঁর দাবি, অ্যারোপনিক পদ্ধতিতে, অর্থাৎ মাটি ছাড়া বাতাস বা কুয়াশার মতো জলকণার মধ্যে গাছ বাড়িয়ে এবং ট্রে ওপর-নিচে সাজিয়ে, ১০০ বর্গফুটের গ্রিনহাউস বা তাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে ইরান ও কাশ্মীরের এক হেক্টর জমির সমান, প্রায় ২ কেজি জাফরান উৎপাদন সম্ভব। এটি পরীক্ষার ভিত্তিতে তাঁর দাবি, কোনো বাণিজ্যিক খামারের ফল নয়।

সীমাবদ্ধতার কথাও তিনি স্পষ্ট বলেছেন। খরচ আর মোথা সংগ্রহই প্রধান বাধা: এক কেজি জাফরানের জন্য প্রায় দেড় লাখ ফুল লাগে, আর প্রতি মোথা ৬০ টাকা হলে দেড় লাখ মোথার দাম পড়ে ৯ লাখ টাকা। ঘরে চাষে লাগবে দুটি শীতাতপ যন্ত্র, আলো এবং সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য একজন লোক। তিনি বলেন, ঘরে উৎপাদন খরচ বেশি হলেও ফসল নষ্টের ঝুঁকি কম এবং বছরে একাধিকবার ফলন তোলা যায়; পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্ভব।

দাম, খরচ ও পরামর্শ কোথায় পাবেন


দ্য ডেইলি স্টার ২০২১ সালে জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি গ্রাম জাফরান প্রায় ৪ ডলারে বিক্রি হয়, কেজিতে যা ৩ লাখ টাকার বেশি। ২০২৫ সালের মার্চে ঢাকার কারওয়ান বাজারের এক মসলা বিক্রেতা প্রথম আলোকে বলেন, মানভেদে তিনি প্রতি গ্রাম ২৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করেন।

দেশে চাহিদা কম। এনায়েত উল্লাহ ২০২১ সালে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, দাম বেশি হওয়ায় বাংলাদেশে জাফরানের ক্রেতা খুব কম। এই লেখার জন্য পড়া কোনো সূত্রে বাংলাদেশে জাফরান চাষের পরীক্ষিত খরচ ও আয়ের হিসাব নেই; তাই যেকোনো উদ্যোগ ছোট পরিসরে, পরীক্ষা হিসেবে শুরু করাই নিরাপদ।

  • কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপজেলা কৃষি অফিস: জমি, পানি নিষ্কাশন, উঁচু বেড, ছত্রাকনাশক ও স্থানীয় মাটির উপযোগী সার নিয়ে পরামর্শ।
  • উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা: যে দল ২০২০ ও ২০২১ সালে আমদানি করা মোথা থেকে ঘরের ভেতরে জাফরান ফুটিয়েছে।
  • বিএডিসির উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্র: যেখানে ২০০০ সালে প্রথম জাফরানের পরীক্ষামূলক চাষ হয়।
  • মোথা কেনা: পরিচিত সরবরাহকারীর কাছ থেকে কিনুন এবং নিশ্চিত হোন যে সেগুলো ক্রোকাস স্যাটিভাস, ‘অটাম ক্রোকাস’ নামে বিক্রি হওয়া বিষাক্ত কলচিকাম নয়।

ছবি: জেইনেল জেবেজি / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: দ্য এগ্রো নিউজ (নিজস্ব প্রতিবেদক), দ্য ডেইলি স্টার, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, প্রথম আলো, শের-ই-কাশ্মীর কৃষি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (স্কাস্ট-কাশ্মীর), সায়েন্টিফিক পেপারস সিরিজ ম্যানেজমেন্ট, ইকোনমিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (প্লোভদিভ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যালোচনা, ২০২২), এফএওর বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ঐতিহ্য ব্যবস্থা, দ্য ট্রিবিউন, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
বিশ্ব

ভালো ফসলের বছরেও আফগানিস্তানে শীতে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ

অনুকূল বৃষ্টি ও ভালো ফসলের পরও নভেম্বর-এপ্রিলে আফগানিস্তানের ৩৮ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও ও ডব্লিউএফপি; গত বছর একই সময়ের পূর্বাভাস ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ।

ডব্লিউএফপি১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

জমির সিদ্ধান্তের ভার পেয়ে তুলার ফলন সাত গুণ করলেন মহারাষ্ট্রের সুনীতা

একসময় দিনমজুরি করা, পরিবারের ১২ একর জমি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার না থাকা মহারাষ্ট্রের পাচোদ গ্রামের সুনীতা নেহারে এখন খামার চালান; মাটি ও পানি সংরক্ষণে একরপ্রতি তুলার ফলন প্রায় ১ থেকে বাড়িয়েছেন ৭ দশমিক ১৪ কুইন্টালে।

ডাউন টু আর্থ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)