বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের পর্ষদ ২০২৬ সালের ১২ জুন কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের ‘জাতীয় সেচ বিনিয়োগ কর্মসূচি’র জন্য ৯ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করে। ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এর লক্ষ্য দেশের নির্বাচিত এলাকায় সেচসেবা উন্নত করা, পানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আরও উৎপাদনশীল ও সহনশীল কৃষিকে সহায়তা দেওয়া।
কারা কত অর্থ দিচ্ছে
অর্থের পুরোটা বিশ্বব্যাংকের নয়। এই কার্যক্রমে আরও যুক্ত হয়েছে:
- এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি): ৫ কোটি ডলার
- ওপেক ফান্ড: ২ কোটি ডলার
- সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন: ৬২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অনুদান
বিশ্বব্যাংক জানায়, সব মিলিয়ে তখন পর্যন্ত নিশ্চিত অর্থায়ন দাঁড়ায় ১৭ কোটি ২০ লাখ ডলারে, আর প্রকল্পটি বেসরকারি খাত থেকে আরও ১ কোটি ১০ লাখ ডলার আনবে বলে আশা করা হয়। এআইআইবি বেইজিংভিত্তিক একটি বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক, যা ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে কাজ শুরু করে। ওপেক ফান্ড ১৯৭৬ সালে ওপেক সদস্য দেশগুলোর প্রতিষ্ঠিত ভিয়েনাভিত্তিক একটি আন্তঃসরকারি উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান।
কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের কান্ট্রি ম্যানেজার হিউ রিডেল বলেন, “সেচসেবা আধুনিক করা এবং কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য পানি পাওয়া আরও নির্ভরযোগ্য করার স্পষ্ট রূপকল্প নিয়েছে কিরগিজ প্রজাতন্ত্র।” তাঁর ভাষায়, সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন একসঙ্গে এনে কর্মসূচিটি সেই রূপকল্পকে একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কাঠামোয় পরিণত করছে।

কেন সেচ সংস্কার জরুরি ছিল
বিশ্বব্যাংকের ভাষ্যে, কিরগিজ প্রজাতন্ত্রে কৃষি তখনো কর্মসংস্থান ও আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস, কিন্তু পুরোনো সেচব্যবস্থা ও পানির অপচয় খাতটিকে পিছিয়ে রাখছিল। বাড়তে থাকা তাপমাত্রা এবং ঘন ঘন খরা, বন্যা ও পলি জমা পানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ জীবিকার ঝুঁকি বাড়াচ্ছিল।
দেশটির বড় অংশ তিয়েন শান ও পামির পর্বতমালায় ঢাকা। বড় পরিসরে চাষের উপযোগী তুলনামূলক সমতল জমি মূলত চুই, তালাস ও ফারগানা উপত্যকায়। সেখানকার খেতে সেচের পানি পৌঁছায় খাল ও ছোট নালা দিয়ে, স্থানীয়ভাবে যেগুলোকে ‘আরিক’ বলা হয়।
এ দেশে সেচে বিশ্বব্যাংকের কাজ নতুন নয়। ব্যাংকের প্রকল্প তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালের মে মাসে অনুমোদিত ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পে খামারগুলোর মধ্যবর্তী সেচ অবকাঠামো এবং সর্বোচ্চ ১২টি সেচ বাঁধের সংস্কার ধরা হয়েছিল। পরে ২০০০ ও ২০০৭ সালে অনুমোদিত দুটি অন-ফার্ম সেচ প্রকল্প পানি ব্যবহারকারী সমিতি গড়ে তোলা এবং খামার পর্যায়ের সেচনালা সংস্কারে সহায়তা করে।

প্রকল্প থেকে কী প্রত্যাশা
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন বিশেষজ্ঞ ওদেতে দুয়ার্তে মুক্সিম্পুয়া বলেন, “প্রকল্পটি সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষকে সুবিধা দেবে, প্রায় ৮২ হাজার হেক্টরে সেচসেবা উন্নত করবে এবং পানি পরিবহনের দক্ষতা ৩৫ থেকে অন্তত ৭০ শতাংশে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, কৃষি ও কৃষিব্যবসায় উন্নত সেচসেবা কৃষি মূল্যশৃঙ্খলে প্রায় ৮৫ হাজার নতুন ও ভালো বেতনের কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পানি পরিবহনের দক্ষতা বলতে বোঝায়, উৎস থেকে ছাড়া পানির কতটা অংশ খাল বেয়ে আসলে জমি পর্যন্ত পৌঁছায়।
প্রকল্পটির তিনটি স্তম্ভ:
- সেচ ও নিষ্কাশন অবকাঠামো আধুনিক করা, পানি নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ উন্নত করা, বাঁধের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং পানি পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণের স্মার্ট ব্যবস্থা বসানো।
- জাতীয় ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করে, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ উন্নত করে এবং জেলা পর্যায়ের সেবাদাতাদের কাজের মান বাড়িয়ে সেচসেবা উন্নত করা।
- কারিগরি ও বাস্তবায়ন সহায়তা, যার মধ্যে আছে পর্যবেক্ষণ, পরিবেশ ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা এবং বৃহত্তর কর্মসূচির পরবর্তী বিনিয়োগের প্রস্তুতি।
কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের পানিসম্পদ, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পানিসম্পদ সেবা ২০৩২ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

বড় কর্মসূচির প্রথম ধাপ
এই প্রকল্প সরকারের বহু ধাপের একটি বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, সেই কর্মসূচিতে পরের এক দশকে ৫৪ কোটি ডলার সংগ্রহের আশা করা হয়েছিল, যাতে ২ লাখ হেক্টরের বেশি জমির সেচ অবকাঠামো ও সেবা আধুনিক হয় এবং কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের প্রায় ১০ লাখ মানুষ উপকৃত হন।
ছবি: Vmenkov / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বিশ্বব্যাংক (১২ জুন ২০২৬-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি), বিশ্বব্যাংক প্রকল্প ও কার্যক্রম তথ্যভান্ডার, উইকিপিডিয়া (কিরগিজস্তানের ভূগোল, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক, ওপেক ফান্ড)





মন্তব্য
(০)