সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৫%বাতাস ৪ কিমি/ঘ

বনখেজুর নাকি অন্য প্রজাতির গাছ?

বিলকিস নাহার মিতু

বিলকিস নাহার মিতু

বেশ কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর শালবাগানে একটি বনখেজুর বা ক্ষুদে খেজুর গাছ পাওয়া গেছে। ভিডিওটি দেখার সাথে সাথেই আমার মনে হলো, গাছটি কোথাও দেখেছি আমি। আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলায়। সুন্দরবন কিছুটা কাছে হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ আমার চোখে পড়েছে। তার মধ্যে স্থানীয় ভাষায় 'অ্যাতাল গাছ' নামে একটি গাছ; যার বর্ণনা হুবহু এই বনখেজুর বা ক্ষুদে খেজুরের সাথে মিলে যায়।

আমাদের বাড়ির আঙিনায়ও বর্তমানে গাছটি আছে। ছোটবেলায় শুনতাম, অ্যাতালে বেতাল হয়। এ গাছের নিচে সাপ থাকে। তাই আমরা এর ধারে-কাছেও যেতাম না। ফেসবুকে ভিডিওটি দেখার পর খুলনা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে। দেখতে ছোট আকারের খেজুরের মতো। একই ছড়ায় ৪-৫ রঙের খেজুর দেখা যায়। যখন কাঁচা থাকে; তখন সবুজ রং একটু পরিপক্ব হলে হালকা হলুদাভ রং ধারণ করে। পরিপক্ব হওয়ার পর গাঢ় কমলা রং বা কিছুটা লাল রং ধারণ করে। যখন খেজুর পুরোপুরি পেকে যায়; তখন কুচকুচে কালো রং হয়। দেখতে পাকা জামের মতো লাগে।

দেখা ভিডিওতে শুনেছিলাম খেজুরটি বেশ মিষ্টি। তবে আমার বাড়ির আঙিনার খেজুরটি খেয়ে দেখলাম কিছুটা তেতো মিষ্টি স্বাদের। পেকে গেলে কালো রং ধারণ করলেও ভেতরের অংশ কিছুটা নীলাভ এবং বীজের আকৃতি গমের মতো। গাছের পাতা খেজুর গাছের মতোই। তবে খেজুর গাছের পাতা মোটা ও ভারী হয়। এ গাছের পাতা বেশ পাতলা ও চকচকে হয়। খেজুর গাছের পাতা সোজা অবস্থায় থাকে কিন্তু এ গাছের পাতা বেশ লম্বা ও ঢলে পড়ে। গাছের ডালের কাঁটাও খেজুর গাছের মতোই। কিন্তু খেজুর গাছের কাঁটাগুলো মোটা আকৃতির। এ গাছের কাঁটাগুলো সরু, চিকন ও পাতলা হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন

পার্থক্য শুধু খেজুর গাছ মোটা আকৃতির আর এ গাছ সুপারি গাছের থেকেও চিকন হয়। গাছ ছোট অবস্থায় প্রচুর কাঁটা থাকলেও একটু বড় হলে কাঁটা দেখা যায় না। এর ডাল খেজুরের ডালের থেকে কম শক্ত হয়। ফলে সহজেই ভেঙে ফেলা যায়। এ গাছ একসাথে ৫-৬টি বাঁশঝাড়ের মতো ঝাড় আকারে লক্ষ্য করা যায়। বর্তমানে অর্থাৎ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসেই এ ফল পাকে। এর ছড়া কেটে ফেলার পরে ধীরে ধীরে পরিপক্ব ফলগুলো পেকে কালো রং ধরা শুরু করে।

গাছটির অনেক বর্ণনাই বিরলের শালবনে পাওয়া বনখেজুরের সাথে মিলে গেছে। তাই আমি চাই, আমাদের বাড়ির গাছটিও বন অধিদপ্তরের কেউ এসে পর্যবেক্ষণ করে দেখুক; এটি বনখেজুর গাছ নাকি অন্য প্রজাতির কোনো গাছ। আমাদের অঞ্চলেও গাছটি প্রায় নাই বললেই চলে। মায়ের কাছে শুনলাম, তারা ছোটবেলায় এর ফল খেয়েছেন। আমি কখনো খাইনি। অনেকে এ গাছের মাথা কেটে ভিতরের সাদা অংশ খান। যা মাতি নামে পরিচিত। সেটি খুবই মিষ্টি-নোনতা যুক্ত সুস্বাদু হওয়ার কারণে খেয়ে খেয়ে গাছগুলো কমিয়ে ফেলেছেন।

বন অধিদপ্তরের কাছে আমার আবেদন, গাছটি সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা হোক। কারণ এটি বনখেজুর যদি না হয়, তবে অ্যাতাল গাছ নামে পরিচিতি থাকলেও গাছটি বিলুপ্ত প্রায়। সংরক্ষণ করা হলে গাছটি টিকে থাকার সম্ভাবনা আছে। জেনে রাখা ভালো, বনখেজুর (ফিনিক্স অ্যাকোলিস, লাতিনে অ্যাকোলিস অর্থ 'ডালবিহীন') পাম পরিবারের একটি প্রজাতি। যার আদি নিবাস উত্তর ভারত, ভুটান এবং নেপাল। এটি পাম গাছের পরিবারের একটি সপুষ্পক বা ফুল ফোটানো গাছের প্রজাতি।

লেখক: শিক্ষার্থী, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)