সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

নার্সারি করে লেবু মিয়ার জাতীয় পুরস্কার লাভ

নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা এলাকার মো. লেবু মিয়া। ছিলেন মাছ ব্যবসায়ী। মাছ বিক্রির টাকা দিয়েই চলতো তার সংসার। অভাবের সংসারে বাড়তি আয়ের আশায় অনেক কষ্টে কিছু টাকা জমিয়ে ২০০১ সালে এক বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন এ আর মামুন নামের একটি নার্সারি।

নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা এলাকার মো. লেবু মিয়া। ছিলেন মাছ ব্যবসায়ী। মাছ বিক্রির টাকা দিয়েই চলতো তার সংসার। অভাবের সংসারে বাড়তি আয়ের আশায় অনেক কষ্টে কিছু টাকা জমিয়ে ২০০১ সালে এক বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন এ আর মামুন নামের একটি নার্সারি।

এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি লেবু মিয়াকে। দীর্ঘ একুশ বছরে লেবু মিয়ার ১ বিঘার নার্সারির পরিধি বেড়ে এখন ৫০ বিঘা। নার্সারিতে সৃষ্টি করেছেন ১৫টি পরিবারের ৩১ জন নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান। বৃক্ষরোপণে অসামান্য অবদান রাখায় পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার।

এ আর মামুন নার্সারিতে দেখা যায়, আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, পোয়ারা, মালটা, কমলা, নারকেল, সুপারিসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ১ হাজার প্রজাতির চারা আছে। আছে ভীমরাজ, তুরুদ চন্ডান, কাঁটামুকুটসহ প্রায় ৬০ প্রজাতির ওষুধি গাছ। দুধরাজ, হাড়জোরা স্বর্ণ চাপাসহ প্রায় ২৫ প্রজাতির বিলুপ্ত প্রায় গাছের চারা আছে সেখানে। সব মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ চারা মজুদ আছে লেবু মিয়ার নার্সারিতে।

আরও পড়ুন: লিচু চাষে সফল কৃষি উদ্যোক্তা আফ্রাহিম বাদশা

২০১৪ সাল থেকে টানা ৭ বার জেলা বৃক্ষমেলায় প্রথম স্থান ধরে রেখেছেন। ২০২২ সালে জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষমেলায় ১ম স্থান অধিকার করেন। এর আগে বৃক্ষরোপণে অসামান্য অবদান রাখায় জাতীয় পুরস্কার ২০২১ লাভ করেছিলেন তিনি। তার এ প্রাপ্তিকে কাজে লাগিয়ে আর্থসামাজিক উন্নতির পাশাপাশি বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করতে চান লেবু মিয়া।

লেবু মিয়ার নার্সারির কর্মচারী স্বপন চন্দ্র বলেন, 'আমি ৩ বছর ধরে এখানে কাজ করি। এখানকার উপার্জিত টাকা দিয়েই আমার পড়াশোনা চলে। পাশাপাশি বাবা-মাকে সাহায্য করি।' জরিনা বেগম নামের এক পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী শ্রমিক বলেন, '৭ বছর ধরে কাজ করি। যা পাই ভালোই চলে। কাজের চাপও কম।' মুক্তা আক্তার নামের আরেক শ্রমিক বলেন, 'এখানে কাজ করে ভালোই চলছি। স্বামীর পাশাপাশি আমিও স্বাবলম্বী। আমাদের নার্সারিতে মানুষের চাহিদাও বেশি। তারা আসেন, গাছ কেনেন। সব মিলিয়ে ভালোই যাচ্ছে।'

নার্সারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ আর মামুন জাগো নিউজকে বলেন, 'আমরা শুরুতে ১ বিঘা জমি লিজ নিয়ে শুধু নিম গাছের চারা রোপণ করি। সেই চারাগুলো বন বিভাগ কিনে নেয় রাস্তায় লাগানোর জন্য। সেই থেকে যাত্রা শুরু। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। পরে ফলদ, ওষুধি গাছসহ বিদেশ থেকে বিভিন্ন গাছের বীজ বা চারা এনে প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করছি। বাবা লেবু মিয়া জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছেন। এ পুরস্কার আমাদের আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।'

আরও পড়ুন: কলা চাষে দেড় লাখ টাকা আয়ের সম্ভাবনা আলাউদ্দিনের

নার্সারির প্রতিষ্ঠাতা মো. লেবু মিয়া বলেন, 'এ পর্যন্ত আসার পেছনে কষ্ট অনেক। আগে মাছের ব্যবসা করতাম। একটি ট্রেনিং পেয়েছিলাম ৯০ দশকে। সেখান থেকে কৃষি বিভাগের একটি ভ্রাম্যমাণ দলের কাছে নার্সারি ও চারা উৎপাদন করে টাকা আয়ের বিষয়টি জানতে পেরে ২০০১ সালে শুরু করি। নার্সারি আমাকে এ স্থানে পৌঁছে দেবে কল্পনাও করতে পারিনি। মানুষ আমার কাছে চারা নিতে আসে। দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের নার্সারিতে আমার চারা যাচ্ছে ট্রাকে করে।'

তিনি বলেন, 'গাছ লাগানোয় মানুষকে বেশি বেশি উদ্বুদ্ধ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করতে চাই। সেই সাথে পরিবেশ রক্ষায় নার্সারি গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মানুষের মাঝে বার্তা ছড়াতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পুরস্কার এ কাজে আমাকে সাহায্য করবে।'

জেলা সামগ্রিক বনায়ন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল করীম বলেন, 'বন বিভাগ শুরু থেকেই লেবু মিয়ার নার্সারিতে পরামর্শ দিচ্ছে। লেবু মিয়ার চেষ্টা ও পরিশ্রম জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। এটি সত্যিই আনন্দের ও গর্বের।'

রাজু আহম্মেদ/এসইউ/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)