সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

রংপুরে কমছে শীতের প্রকোপ, বদলে যাচ্ছে চিরচেনা শীতকালের রূপ

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহেও রংপুরে আগের মতো তীব্র শীত নামেনি; রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, শীতকালের 'শিফট' হচ্ছে, আর এর কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন, হিমেল বাতাসের অভাব ও কম বৃষ্টিপাতের কথা জানান।

রংপুরে কমছে শীতের প্রকোপ, বদলে যাচ্ছে চিরচেনা শীতকালের রূপ
পরিবেশ

এক সময় অগ্রহায়ণ মাস এলেই দেশের উত্তরের জেলা রংপুরে নেমে আসত হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা, আর নভেম্বরের শুরু থেকেই তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ছিল এই অঞ্চলের নিত্যদিনের সঙ্গী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসেও সেই চিরচেনা শীতের দেখা মেলেনি। জাগো নিউজ ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর রংপুর থেকে জানায়, বাতাসে শীতের আমেজ থাকলেও অতীতের মতো তীব্র শীত নেই; পত্রিকাটির ভাষায়, শীতের প্রকোপ ও স্থায়িত্ব আশঙ্কাজনক হারে কমছে। শহরের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও আবহাওয়াবিদ, সবাই একই কথা বলেছেন।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক বছরে রংপুর অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়েছে। দিনে রোদের কারণে বেশ গরম অনুভূত হয়; রাতে কিছুটা শীত থাকলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। ফলে আগের মতো টানা শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়তে হচ্ছে না এই জনপদকে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধি, স্থানীয়ভাবে গাছপালা কমে যাওয়া এবং শিল্পায়নের প্রভাব এর জন্য দায়ী। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য শীতের প্রকোপ কমা কিছুটা স্বস্তির হলেও ঋতু পরিবর্তনের এই অস্বাভাবিকতা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে, সেইসঙ্গে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ভাঁজ খোলা হয় না লেপের, কমেছে শীতের কাপড়ের বিক্রি


শহরের মানুষ এই পরিবর্তনের কথা বলেছেন নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে। রংপুরের ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা মফিজুর রহমান পত্রিকাটিকে বলেন, আগে নভেম্বর মাস থেকেই তাঁরা লেপ-কাঁথা বের করতেন, কিন্তু এখন ডিসেম্বর শেষ হতে চলেছে অথচ আগের সেই কনকনে ঠান্ডা নেই। প্রকৃতির এই বদল তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে বলে জানান তিনি।

নগরীর সুরভী উদ্যানের সামনে মৌসুমি শীতের কাপড়ের দোকান বসান আব্দুল মান্নান। তিনি জানান, ২০ বছর ধরে বছরের এই সময়টায় তিনি গরম কাপড় বিক্রি করছেন। আগে যে হারে কাপড় বিক্রি হতো, এখন তার অর্ধেকও হয় না; শীতের প্রকোপ ও স্থায়িত্ব কম থাকলে ব্যবসাও ভালো হয় না। শহরের হাড়িপট্টি রোডের জননী বস্ত্রালয়ে দশ বছর ধরে চাকরি করছেন সোহাগ মিয়া। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ৭ থেকে ৮ বছর আগেও যে পরিমাণ লেপ ও তোশক বিক্রি হতো, এখন তার অর্ধেকও হয় না। শীত এলেও তা আসছে দেরিতে, আর বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না।

একই অভিযোগ এর আগেও শোনা গেছে দেশের অন্য প্রান্তে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম আলো জানায়, ঢাকার কারওয়ান বাজারের এক কম্বল, লেপ ও পাপোশ বিক্রেতা ২০২৫ সালের পুরো জানুয়ারি মাসে মাত্র তিনটি লেপ বিক্রি করতে পেরেছিলেন; সেই মাসটি কেটেছিল একটিও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ছাড়া।

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তোলা কুয়াশাঢাকা এক শীতের সকাল। ছবি: Suraya Rifa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তোলা কুয়াশাঢাকা এক শীতের সকাল। ছবি: Suraya Rifa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

'শীতকালের শিফট হচ্ছে': আবহাওয়াবিদের ব্যাখ্যা


বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের রংপুর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, শীত কমে যাওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ জড়িত। প্রথমত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, এরপর হিমেল বাতাসের অভাব। তিনি দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যের কথাও বলেন, এবং জানান, বছরের এই সময়টায় সূর্যের উপস্থিতি বেশি থাকলে দিনে তাপমাত্রা খুব একটা কমে না, ফলে দিনে শীত অনুভূত হয় না।

সব মিলিয়ে, তাঁর ভাষায়, শীতকালের 'শিফট' হচ্ছে। আগে বৈশিষ্ট্য ছিল, অক্টোবরের শেষ দিক থেকে নভেম্বরের শুরুতেই শীত নামবে, আর ডিসেম্বরে একটা নির্দিষ্ট মাত্রার শীত থাকবে; সেই পরিমাণ শীত এখন নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শীতের স্বাভাবিক সময় ও তীব্রতা এখন অনেকটাই অনুপস্থিত বলে জানান তিনি। এর নেতিবাচক প্রভাব মানুষ থেকে শুরু করে পশুপাখি, সবার ওপরই পড়ছে। স্বাভাবিক জীবনচক্র বিঘ্নিত হওয়ায় নানা রোগব্যাধির আক্রমণ দেখা দিচ্ছে, ফসলের উৎপাদনও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সব মিলিয়ে এটি একটি বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শীতের প্রকোপ ও স্থায়িত্ব কমার কারণ হিসেবে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন, পানির উৎস কমে যাওয়া, বাতাসে ধূলিকণাসহ নানা কণা মিশে যাওয়া, স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং যানবাহন বেড়ে যাওয়ায় বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যাওয়ার কথা বলেন। তাঁর তথ্যমতে, বছরের এই সময়টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার কথা, কিন্তু সকাল ৯টার দিকে ১২ থেকে ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে, আর দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকছে ২১ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত তাপমাত্রা কমে এলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে।

শুষ্ক একটি বছর, জানুয়ারির পূর্বাভাস


বৃষ্টি, বা বৃষ্টির অভাবও এই চিত্রের অংশ। মোস্তাফিজার রহমানের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে রংপুরে গড়ে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা, কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কোনো বৃষ্টিই হয়নি। সারা বছরেও প্রত্যাশিত বৃষ্টি হয়নি। কেবল জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে, অন্য মাসগুলোতে হয়েছে গড়ের চেয়ে কম। বছরে রংপুরে ২,৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৫ সালে হয়েছে ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ মিলিমিটার। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়াও শীতের প্রকোপ ও স্থায়িত্ব কমার একটি কারণ বলে জানান তিনি।

তবে সামনে শীত আসার সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দেননি। তিনি জানান, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ ও জানুয়ারির শুরুতে একটি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, আর জানুয়ারি মাসজুড়ে ২ থেকে ৩টি মাঝারি এবং ১ থেকে ২টি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা কোথাও কোথাও ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে নেমে আসতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে; কিছু এলাকায় কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে, ফলে সূর্যের দেখা মিলতে পারে অনেক দেরিতে।

মৌসুমের শুরুতে দেওয়া জাতীয় পূর্বাভাসের সঙ্গেও এই আভাস মেলে। ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর প্রকাশিত খবরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের বরাতে বলা হয়, দেশের উত্তরাঞ্চলে ১০ নভেম্বর থেকে শীতের প্রাথমিক প্রভাব অনুভূত হতে পারে; এবারের শীতে দেশে মোট ১০টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ২ থেকে ৩টি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে ডিসেম্বরে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি হবে। ১ ডিসেম্বর ২০২৫ দেওয়া এক মাস মেয়াদি পূর্বাভাস ছিল কিছুটা নরম: তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা কম, তবে তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে; মাসের মাঝামাঝি দেশের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে ১ থেকে ২টি মৃদু (৮ থেকে ১০ ডিগ্রি) থেকে মাঝারি (৬ থেকে ৮ ডিগ্রি) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে; আর নদী অববাহিকায় মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।

২৩ ডিসেম্বর উত্তরের জেলাগুলোর তাপমাত্রা


রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মঙ্গলবার, ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় উত্তরের সব কেন্দ্রের তাপমাত্রা ছিল ১২ থেকে ১৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় কুড়িগ্রামের রাজারহাটে, ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সকালের এই পাঠগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল লালমনিরহাটে, ১৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্য কেন্দ্রগুলোর তাপমাত্রা ছিল:

  • রংপুর: ১৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  • ঠাকুরগাঁও: ১২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  • পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া: ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  • দিনাজপুর: ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  • গাইবান্ধা: ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  • নীলফামারীর সৈয়দপুর: ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  • নীলফামারীর ডিমলা: ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস

এর আগে দেশের সবচেয়ে উত্তরের প্রান্তে মৌসুমের একটি শীতল পর্ব কেটেছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর জানায়, ১১ ডিসেম্বর থেকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ওপর দিয়ে টানা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং দিনের পর দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সেখানেই রেকর্ড হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ১১ ডিসেম্বর সেখানে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে; ১৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ছিল ৯.৭ ডিগ্রি, আর ১৬ ডিসেম্বর দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তারও এক সপ্তাহ আগে, ১০ ডিসেম্বর, ইত্তেফাকের ইংরেজি সংস্করণ জানায়, তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ১০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর মানুষ শীত থেকে বাঁচতে রাস্তার পাশে খড় ও শুকনো পাতা জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন।

আবহাওয়া অফিস শৈত্যপ্রবাহ বলে কখন


২৩ ডিসেম্বরের তাপমাত্রা কেন শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে পড়ে না, তা আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিজস্ব সংজ্ঞাতেই স্পষ্ট। নরওয়ের আবহাওয়া ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকাশিত ২০১৬ সালের 'ক্লাইমেট অব বাংলাদেশ' প্রতিবেদনে অধিদপ্তর ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিকে শীতকাল বা উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর ঋতু হিসেবে বর্ণনা করেছে: খুব হালকা উত্তুরে বাতাস, শুষ্ক আবহাওয়া, পরিষ্কার থেকে মাঝে মাঝে মেঘলা আকাশ আর দেশজুড়ে কুয়াশা, গড় তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপের বলয় বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করে, আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে দেশের পশ্চিম ও উত্তরাংশে শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বছরের মোট বৃষ্টির মাত্র প্রায় ২ শতাংশ হয় এই ঋতুতে, আর তা হয় যখন পশ্চিমা লঘুচাপ, অর্থাৎ ভূমধ্যসাগরে সৃষ্ট হয়ে মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও উত্তর ভারত হয়ে পূর্ব দিকে আসা আবহাওয়া ব্যবস্থা, বাংলাদেশের ওপরের পূবালী লঘুচাপ খাঁজের সঙ্গে মেলে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের শ্রেণিবিভাগ, যেমনটি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জানিয়েছিল:

  • মৃদু শৈত্যপ্রবাহ: টানা তিন দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস;
  • মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ: ৬.১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস;
  • তীব্র শৈত্যপ্রবাহ: ৪.১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস;
  • অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ: ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে।

রংপুর এই শীতপ্রবণ অঞ্চলেরই কেন্দ্রে। ২০১৬ সালের প্রতিবেদনে ১৯৮১ থেকে ২০১০ সময়কালে রংপুর কেন্দ্রের মাসিক স্বাভাবিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দেওয়া হয়েছে ডিসেম্বরে ১৩.০ ডিগ্রি এবং জানুয়ারিতে ১০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস; স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ডিসেম্বরে ২৫.১ ও জানুয়ারিতে ২৩.১ ডিগ্রি। একই ত্রিশ বছরের দিন গুনে প্রতিবেদনে দেখা যায়, রংপুরে ২২২ দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে, যা দেশে চতুর্থ সর্বোচ্চ; এর আগে রয়েছে শ্রীমঙ্গল (২৫৫ দিন), রাজশাহী (২৪৬ দিন) ও ঈশ্বরদী (২২৮ দিন)।

কয়েক দশকের পর্যবেক্ষণ যা বলে


শীত দেরিতে আসা ও দুর্বল হওয়ার যে কথা আবহাওয়াবিদ বলেছেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘ রেকর্ডও সেই দিকেই ইঙ্গিত করে। ২০১৬ সালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রায় সব কেন্দ্রেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা রয়েছে, আর উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির কেন্দ্রগুলোর তালিকায় রংপুর আছে প্রতি একশ বছরে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে; অন্যদিকে রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার প্রবণতা ছিল নিম্নমুখী। ২০২৪ সালে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও নরওয়ের আবহাওয়া ইনস্টিটিউট দ্বিতীয় একটি গবেষণা প্রকাশ করে, 'চেঞ্জিং ক্লাইমেট অব বাংলাদেশ' (মেট রিপোর্ট ০৪/২০২৪), যেখানে ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সালের পর্যবেক্ষণে পরিবর্তন খোঁজা হয়েছে। সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম থাকা দিনকে শীতল দিন (কোল্ড আউটব্রেক) ধরা হয়েছে, এবং দেখা গেছে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দেশজুড়ে শীতল দিন কমেছে, তাপপ্রবাহ বেড়েছে।

রংপুর নিয়ে ২০২৪ সালের প্রতিবেদনটি সুনির্দিষ্ট। এতে রংপুরকে দেশের সবচেয়ে শীতল এলাকাগুলোর একটি বলা হয়েছে, যেখানে রেকর্ডের পুরো সময়জুড়ে শীতল দিন শুরু হতো ডিসেম্বরের শুরুতে বা মাঝামাঝি; ১৯৮১ সালে এমনকি নভেম্বরেও একটি শীতল দিন রেকর্ড হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে শীতল দিনের সময়কাল পিছিয়ে গেছে বলে মনে হয়, তা শুরু হচ্ছে ডিসেম্বরের তৃতীয় বা চতুর্থ সপ্তাহে, কখনো জানুয়ারিতে। ১৯৮০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত জানুয়ারিতে রংপুরে শীতল দিনের সংখ্যা বরাবরই বেশি ছিল, কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে ফেব্রুয়ারিতেও ঘন ঘন শীতল দিন থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেব্রুয়ারির শেষভাগ শীতল দিন ছাড়াই কেটেছে। প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, দেশের অভ্যন্তরের বেশিরভাগ কেন্দ্রে শীতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মতো বাড়েনি, ফলে দিন-রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমেছে, আর শীতকালে প্রায় সব কেন্দ্রেই রোদের ঘণ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এর আগের দুটি শীতও ছিল মৃদু। প্রথম আলো ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাতে জানায়, ২০১৬ সালের পর এই প্রথম ২০২৫ সালের জানুয়ারি কোনো তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ছাড়াই কেটেছে; সেই জানুয়ারিতে গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে স্বাভাবিক ১২.৫ ডিগ্রি, আর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৭ ডিগ্রি বেশি; পূর্বাভাসে ১ থেকে ২টি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কথা থাকলেও বাস্তবে হয়েছিল দুটি মৃদু ও একটি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ২০২৪ সালে চারটি, ২০২৩ সালে একটি এবং ২০২২ ও ২০২১ সালে তিনটি করে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হয়েছিল। পত্রিকাটি ব্যাখ্যা করে, দিনের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধান ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম থাকলে শীতের অনুভূতি বাড়ে, আর আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক আবহাওয়াবিদ জানান, দিনে কুয়াশা কম থাকায় শীতের অনুভূতি কম ছিল। রংপুরে মোস্তাফিজার রহমানও একই প্রভাবের কথা বলেছেন: রোদ দিনের তাপমাত্রা ধরে রাখে।

রংপুরে কুয়াশাঢাকা এক শীতের সকালে মাঠের দিকে যাচ্ছে ঘোড়ার গাড়ি। ছবি: Muhammad Amdad Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
রংপুরে কুয়াশাঢাকা এক শীতের সকালে মাঠের দিকে যাচ্ছে ঘোড়ার গাড়ি। ছবি: Muhammad Amdad Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বাংলা পঞ্জিকা ও রেকর্ডে রংপুরের শীত


রংপুরের প্রবীণরা যে ঋতুর কথা মনে করেন, বাংলা পঞ্জিকায় তার নাম আছে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ (অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি) নিয়ে হেমন্ত, যা শরৎ ও শীতের মাঝের এক অন্তর্বর্তী সময়; নভেম্বরের মাঝামাঝি সন্ধ্যা ঠান্ডা হয়ে আসে, আর কৃষকেরা ধান কাটায় ব্যস্ত থাকেন। পৌষ ও মাঘ (ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি) নিয়ে শীতকাল, যদিও বাস্তবে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে শীত থাকে। এ সময় উত্তর-পশ্চিম ভারতের ওপর একটি উচ্চচাপ কেন্দ্র থাকে, আর সেখান থেকে ঠান্ডা বাতাসের একটি স্রোত পূর্ব দিকে বয়ে বাংলাদেশে ঢোকে; এ কারণেই দেশের উত্তরের জেলাগুলো দক্ষিণের চেয়ে বেশি ঠান্ডা। বাংলাপিডিয়া জানায়, ডিসেম্বরের শেষ ও জানুয়ারির শুরুতে দেশের একেবারে উত্তর-পশ্চিমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামে, আর শীতের সকালগুলো প্রায়ই কুয়াশাচ্ছন্ন থাকে।

দেশের সবচেয়ে ঠান্ডা দিনগুলোর রেকর্ডও এই অঞ্চলেরই। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয় ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, যা ১৯৬৮ সালে শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড হওয়া ২.৮ ডিগ্রির আগের রেকর্ড ভাঙে। ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি দিনাজপুরে ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল, যা ছিল সেখানে চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।

রংপুর জেলার আয়তন ২,৪০০.৫৬ বর্গকিলোমিটার; এর উত্তরে নীলফামারী ও লালমনিরহাট, দক্ষিণে গাইবান্ধা, পূর্বে কুড়িগ্রাম ও পশ্চিমে দিনাজপুর জেলা, আর প্রধান নদীর মধ্যে আছে তিস্তা, যমুনেশ্বরী, ঘাঘট ও করতোয়া। ২০১০ সালের ২৫ জানুয়ারি গঠিত রংপুর বিভাগে আটটি জেলা: রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও; ২৩ ডিসেম্বর আবহাওয়া অফিস এই জেলাগুলোরই তাপমাত্রা জানিয়েছিল। আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাপিডিয়া জানায়, জেলার ৬২.৯৯ শতাংশ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি।

এ অঞ্চলের কৃষিতে শীত কেন জরুরি


রংপুরের কৃষকের কাছে শীতকাল মানেই রবি মৌসুম, আলু, গম, সরিষা, শাকসবজি আর বোরো ধানের বীজতলার সময়। আলু এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান শীতকালীন ফসল। বাসসের বরাতে ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৫ সালের অক্টোবরে জানায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ১ লাখ ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমি থেকে ২৫ লাখ ১৯ হাজার ৮ টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে; অঞ্চলটির ডিএইর অতিরিক্ত পরিচালক জানান, আগের রবি মৌসুমে কৃষকেরা ১ লাখ ১৯ হাজার ৭২৯ হেক্টর জমি থেকে রেকর্ড ৩২ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ টন আলু উৎপাদন করেছিলেন, আর আলু বোনা চলবে ডিসেম্বর পর্যন্ত।

অতিরিক্ত উষ্ণ শীত এসব ফসলের ক্ষতি করতে পারে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডিএইর ফসল উৎপাদন বিভাগের পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, গম, আলু ও সরিষার ফুল আসার জন্য কম তাপমাত্রা খুবই জরুরি, আর যথেষ্ট শীত না থাকলে ফুল কম আসতে পারে, ফলে ফলনও কমতে পারে। তাপসহিষ্ণু গমের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, তবে আলু ও সরিষার ক্ষেত্রে এমন জাত এখনো নেই বলে জানান তিনি।

আবার তীব্র শীত এলে তার নিজস্ব ঝুঁকি থাকে, বিশেষ করে বোরো ধানের বীজতলায়, যা শীতের মাসগুলোতেই তৈরি করা হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে জানায়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) শৈত্যপ্রবাহের সময় বোরোর বীজতলা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে, শীত দীর্ঘস্থায়ী হলে দিনরাত ঢেকে রাখতে এবং বীজতলায় ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে পরামর্শ দিয়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ডিএইর মাঠ পরিচর্যা উইংয়ের পরিচালক বলেছিলেন, তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে ২৪ ঘণ্টা থাকলে ফসলের ক্ষতি হতে পারে। শীতে চারা হলুদ হয়ে গেলে কোনো সার দেওয়ার আগে কৃষকদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়।

ছবি: Ashef Emran / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও নরওয়ের আবহাওয়া ইনস্টিটিউট (ক্লাইমেট অব বাংলাদেশ, ২০১৬; চেঞ্জিং ক্লাইমেট অব বাংলাদেশ, ২০২৪), বাংলাপিডিয়া, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, প্রথম আলো, ইত্তেফাক, দেশ রূপান্তর, ঢাকা ট্রিবিউন / বাসস

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)