সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

মসুর ডাল চাষের আধুনিক কৌশল: বারির জাত, বপন, সার ও রোগ দমন

মসুর ডাল চাষে ভালো ফলন পেতে বারির ৯টি জাত, কার্তিকের সঠিক বপনকাল, বীজ ও সারের মাত্রা এবং পাতা ঝলসানো, গোড়া পচা ও মরিচা রোগ দমনের নিয়ম জেনে নিন।

মসুর ডাল চাষের আধুনিক কৌশল: বারির জাত, বপন, সার ও রোগ দমন
ফসল

দেশের বেশির ভাগ এলাকায় রোপা আমন ধান কাটার পরই রবি ফসলের আবাদ শুরু হয়। কিন্তু অনেক সময় ধান কাটার পর জমিতে আর রস থাকে না, আবার কখনো জমিতে 'জো'-ই আসে না। তখন সময়মতো মসুর বোনা যায় না। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) তাদের কৃষি প্রযুক্তি হাতবইয়ে ঠিক এই সমস্যার কথাই তুলে ধরেছে।

একসময় বলা হতো মাছে-ভাতে বাঙালি, এখন বলা যায় ডালে-ভাতে বাঙালি। আর ডালের মধ্যে সবার প্রিয় মসুর ডাল। বারির ভাষায়, মসুর বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ডাল ফসল।

এই লেখায় থাকছে বারির মসুরের জাত, মাটি ও বপনের সময়, বীজ ও সারের মাত্রা, রোগ ও পোকা দমন, ধানের জমিতে মসুর চাষের তিন পদ্ধতি এবং ফসল সংগ্রহ ও বীজ সংরক্ষণ। সব মাত্রা বারির কৃষি প্রযুক্তি হাতবইয়ের নবম সংস্করণে যেভাবে দেওয়া আছে, সেভাবেই দেওয়া হলো।

বাংলাদেশে মসুরের গুরুত্ব


কৃষি ডায়েরি ২০১৯-এর উদ্ধৃতি দিয়ে হাতবই জানায়, দেশে মসুরের মোট আবাদি এলাকা প্রায় ১.৮৯১ লাখ হেক্টর, উৎপাদন প্রায় ২.৩৮২ লাখ মেট্রিক টন এবং গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ১২৬০ কেজি। হাতবইয়ের ভাষায়, ব্যবহার ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে ডাল ফসলের মধ্যে মসুর প্রথম স্থানে।

একই হিসাবে দেশে ডাল জাতীয় ফসলের আবাদি জমি প্রায় ৮.১৯৮ লাখ হেক্টর এবং উৎপাদন প্রায় ১০.৩৮৬ লাখ মেট্রিক টন। বারি উল্লেখ করেছে, বিশ্ব খাদ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিদিন একজন মানুষের ৪৫ গ্রাম ডাল খাওয়া উচিত, অথচ আমরা গড়ে খাই মাত্র ১৭ গ্রাম।

হাতবইয়ে ডালকে দেশে উদ্ভিজ্জ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস বলা হয়েছে; প্রজাতিভেদে ডাল ফসলে আমিষ থাকে ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী মসুরের গোটা বীজে আমিষ ২৫ শতাংশ, শর্করা ৫৫.৮ শতাংশ, চর্বি ১ শতাংশ, আঁশ ৩.৭ শতাংশ, খনিজ বা ছাই ৩.৩ শতাংশ এবং পানি ১১.২ শতাংশ।

হাতবই অনুযায়ী দেশের দক্ষিণ, উত্তর ও পশ্চিমের জেলাগুলোতে, যেমন বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, যশোর, মাগুরা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যাপকভাবে ডাল ফসলের চাষ হয়। এসব এলাকার মাটি দোআঁশ থেকে এঁটেল দোআঁশ, জমি উঁচু ও মাঝারি উঁচু এবং বন্যামুক্ত। তাই কৃষকেরা সময়মতো আমন রোপণ করে তার পরে সহজেই ডাল চাষ করতে পারেন।

মসুরের বৈজ্ঞানিক নাম Lens culinaris, এটি শিম গোত্রের উদ্ভিদ। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় এটি শীতকালীন ফসল; গাছ ২৫ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার উঁচু, কাণ্ড সরু, পাতা পক্ষল এবং ছোট চ্যাপ্টা শুঁটিতে এক বা দুটি লেন্স আকৃতির বীজ থাকে। গাছটি কিছুটা খরা সইতে পারে, কিন্তু জলাবদ্ধতায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বারি জানায়, মসুর চাষে জমির উর্বরতাও বাড়ে।

বারি মসুরের জাত ও তাদের পার্থক্য


বারির ডাল গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা জার্মপ্লাজম সংগ্রহ ও সংকরায়ণের মাধ্যমে মসুরের জাত উদ্ভাবন করছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শুষ্ক অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (ইকার্ডা) থেকে পাওয়া লাইন দেশের মাটি ও আবহাওয়ায় পরীক্ষা করে বাছাই করা হয়। হাতবই অনুযায়ী এ পর্যন্ত মসুরের ৯টি উচ্চ ফলনশীল, রোগ সহনশীল ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন জাত অবমুক্ত হয়েছে।

  • বারি মসুর-১ (উৎফলা): পাবনা এলাকা থেকে সংগৃহীত জার্মপ্লাজম থেকে উদ্ভাবিত; ১৯৯১ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড অনুমোদন দেয়। ডাল রান্না হতে সময় লাগে ১০-১২ মিনিট, আমিষ ২৬-২৮ শতাংশ, জীবনকাল ১০৫-১১০ দিন, হেক্টরপ্রতি ফলন ১৭০০-১৮০০ কেজি।
  • বারি মসুর-২: ১৯৮৪ সালে ইকার্ডা থেকে আনা লাইন; বহুস্থানিক পরীক্ষার পর ১৯৯৩ সালে সারা দেশে আবাদের জন্য অবমুক্ত। রান্না হতে সময় লাগে ১৪-১৬ মিনিট, আমিষ ২৭-২৯ শতাংশ, জীবনকাল ১০৫-১১০ দিন, হেক্টরপ্রতি ফলন ১৫০০-১৭০০ কেজি।
  • বারি মসুর-৩: একটি স্থানীয় জাত ও একটি অগ্রবর্তী লাইনের মধ্যে ১৯৮৫ সালে সংকরায়ণ করে উদ্ভাবিত; ১৯৯৬ সালে অনুমোদিত। বীজ ধূসর, তাতে ছোট ছোট কালচে দাগ; জীবনকাল ১০০-১০৫ দিন, হেক্টরপ্রতি ফলন ১৫০০-১৭০০ কেজি।
  • বারি মসুর-৪: ১৯৮৫ সালে বারি মসুর-১ এবং ইকার্ডার একটি জাতের সংকরায়ণে উদ্ভাবিত; ১৯৯৬ সালে অবমুক্ত। বীজ বড়, চ্যাপ্টা ও লালচে বাদামি; মরিচা ও স্টেমফাইলিয়াম ব্লাইট রোগ সহনশীল; হেক্টরপ্রতি ফলন ১৬০০-১৭০০ কেজি।
  • বারি মসুর-৫: ইকার্ডা, সিরিয়া থেকে পাওয়া সংকরায়িত লাইনের জনগোষ্ঠী থেকে বাছাই করা; ২০০৬ সালে অনুমোদিত। জীবনকাল ১১০-১১৫ দিন, হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ২১০০-২২০০ কেজি; মরিচা ও স্টেমফাইলিয়াম ব্লাইট রোগ সহনশীল।
  • বারি মসুর-৬: ২০০০ সালে ইকার্ডা থেকে আনা জনগোষ্ঠী থেকে উচ্চ ফলন, রোগ সহনশীলতা এবং বেশি আয়রন ও জিংকের জন্য বাছাই করা; ২০০৬ সালে অনুমোদিত। বীজ অনেক বড়, চ্যাপ্টা ও গাঢ় বাদামি; ১১০-১১৫ দিনে হেক্টরপ্রতি ফলন ২২০০-২৩০০ কেজি; মরিচা ও স্টেমফাইলিয়াম ব্লাইট রোগ সহনশীল।
  • বারি মসুর-৭: ইকার্ডা থেকে সংগৃহীত লাইন থেকে উদ্ভাবিত। দেশের সব এলাকায় চাষের উপযোগী, বিশেষ করে পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, রাজশাহী, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও মাদারীপুরে বেশি ফলন দেয়। জীবনকাল ১১০-১১৫ দিন, হেক্টরপ্রতি ফলন ১৮০০-২৩০০ কেজি।
  • বারি মসুর-৮: ইকার্ডায় উদ্ভাবিত জিংক ও আয়রনসমৃদ্ধ একটি লাইন থেকে বাছাই; ২০১৫ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড অনুমোদন দেয়। স্টেমফাইলিয়াম ব্লাইট সহনশীল, আমিষ ২৪.০-২৪.৯ শতাংশ, জীবনকাল ১১০-১১৫ দিন, হেক্টরপ্রতি ফলন ২১০০-২২০০ কেজি। নাবিতে, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বোনা যায়।
  • বারি মসুর-৯: ২০০৭ সালে ইকার্ডা থেকে আসা জিংক ও আয়রনসমৃদ্ধ জার্মপ্লাজম থেকে বাছাই; ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যশোর, জামালপুর, ফরিদপুর ও পাবনায় পরীক্ষার পর ২০১৮ সালে অনুমোদিত। জীবনকাল মাত্র ৮৫-৯০ দিন, তাই আমন ও বোরো ধানের মাঝের পতিত সময়ে সহজেই চাষ করা যায়; পাতা ঝলসানো রোগ সহনশীল।

২০১৫ সালের ১২ আগস্ট বারি মসুর-৮-এর ঘোষণায় ইকার্ডা জানিয়েছিল, জাতটির গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ২০০০-২২০০ কেজি, যেখানে স্থানীয় জাতে ফলন প্রায় ১০৫০-১১০০ কেজি। ইকার্ডার হিসাবে এতে আয়রন ৭২-৭৫ পিপিএম ও জিংক ৫৮-৬০ পিপিএম, আর স্থানীয় জাতে আয়রন ৫৫-৬২ পিপিএম ও জিংক ৩২-৪১ পিপিএম। বারির হাতবইয়ে জাতটিতে আয়রন ৮০ পিপিএম ও জিংক ৬০ পিপিএম বলে উল্লেখ আছে।

ফুল ফোটা মসুর গাছ, মরক্কোর মেকনেসের কাছে তোলা। ছবি: ChriKo / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ফুল ফোটা মসুর গাছ, মরক্কোর মেকনেসের কাছে তোলা। ছবি: ChriKo / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

মাটি, জমি তৈরি ও বপনের সময়


বারির পরামর্শ অনুযায়ী সুনিষ্কাশিত দোআঁশ, বেলে দোআঁশ বা এঁটেল দোআঁশ মাটি মসুর চাষের জন্য উত্তম। হাতবইয়ে বলা হয়েছে, জমিতে পানি জমে না থাকলে বারি মসুর-৭ কাদা মাটিতেও রিলে ফসল হিসেবে চাষ করা যায়।

একক ফসল হিসেবে আবাদ করলে জমি সুনিষ্কাশিত ও উপযুক্ত রসযুক্ত হলে ৩-৪টি গভীর চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। আর আমন ধান কাটার আগে রিলে ফসল হিসেবে মসুর বুনলে চাষেরই প্রয়োজন হয় না।

মসুর চাষে সময়ই সবচেয়ে বড় বিষয়। হাতবই অনুযায়ী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ, অর্থাৎ কার্তিকের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে কার্তিকের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বীজ বপনের উত্তম সময়। বারির উদ্ধৃত গবেষণায় দেখা গেছে, বপন প্রতি ১০ দিন পিছিয়ে গেলে ফলন প্রায় ২০ শতাংশ হারে কমতে থাকে। তবে বারি মসুর-৮ নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বোনা যায়; তাতে ফলন কিছুটা কমলেও রোগে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা কম বলে বারি জানিয়েছে।

ধাপে ধাপে বপন: বীজ শোধন, পদ্ধতি ও বীজের হার


হাতবইয়ে বলা হয়েছে, ডাল জাতীয় ফসলের বীজ বপনের আগে শোধন করলে মাটি ও বীজবাহিত অনেক জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ধাপগুলো এমন:

  • কার্বোক্সিন ও থিরাম মিশ্রিত ছত্রাকনাশক প্রোভেক্স-২০০ ডব্লিউপি প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে। বারি জানায়, এতে শুরুতে গোড়া পচা রোগের প্রকোপ কমে যায়।
  • যে জমিতে আগে কখনো মসুর চাষ হয়নি, সেখানে প্রতি কেজি বীজের জন্য ৫০ গ্রাম হারে অনুমোদিত অণুজীব (জীবাণু) সার বীজের সঙ্গে মিশিয়ে বুনতে হবে।
  • ছিটিয়ে বা সারিতে বীজ বোনা যায়। সারিতে বুনলে গাছ সমানভাবে বাড়ে এবং আগাছা দমন, রোগ ও পোকা দমন, সেচ ও নিষ্কাশন এবং ফসল সংগ্রহ সহজ হয়। বারির পরামর্শ, সারি থেকে সারির দূরত্ব ২৫ সেন্টিমিটার।
  • বীজের হার হেক্টরপ্রতি ৩০-৩৫ কেজি; ছিটিয়ে বুনলে সামান্য বেশি দিতে হয়। বারি মসুর-৩-এর জন্য হেক্টরে ৩৫-৪০ কেজি, আমন ধানের সঙ্গে রিলে ফসল হিসেবে ৫০-৬০ কেজি এবং বারি মসুর-৯-এর জন্য ৭০-৭৫ কেজি বীজ লাগে।

সার, আগাছা দমন ও পানি ব্যবস্থাপনা


হাতবই অনুযায়ী বীজে ইনোকুলাম বা জীবাণু সার ব্যবহার করলে সাধারণত ইউরিয়া সার দিতে হয় না। একক ফসল হিসেবে অনুর্বর জমিতে জমি শেষ চাষের সময় নিচের সারগুলো দিতে হবে। হেক্টরপ্রতি পরিমাণ দেওয়া হলো, বন্ধনীতে বিঘাপ্রতি, যেভাবে বারি দিয়েছে:

  • ইউরিয়া: ৪০-৪৫ কেজি (৫-৬ কেজি)
  • টিএসপি: ৮০-৯০ কেজি (১১-১৩ কেজি)
  • এমওপি: ৪০-৪৫ কেজি (৫-৬ কেজি)
  • জিপসাম: ৫০-৫৫ কেজি (৭-৮ কেজি)
  • বোরন (প্রয়োজনবোধে): ৭-১০ কেজি (১-১.৫ কেজি)
  • অণুজীব সার (প্রয়োজনবোধে): সুপারিশমতো

মরিচা রোগ প্রসঙ্গে বারি সতর্ক করেছে, স্বাভাবিক উর্বর জমিতে জৈব সার বা নাইট্রোজেন সার দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ গাছের ঘন ঝোপ এই রোগের আক্রমণের জন্য অনুকূল।

মসুর গাছের শিকড়ে নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী গুটি, যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় তোলা। ছবি: ইউএসডিএ এনআরসিএস মন্টানা / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
মসুর গাছের শিকড়ে নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী গুটি, যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় তোলা। ছবি: ইউএসডিএ এনআরসিএস মন্টানা / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

মসুর সাধারণত বৃষ্টিনির্ভর ফসল হিসেবে চাষ হয়। জমিতে আগাছা থাকলে বপনের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে নিড়ানি দিয়ে একবার আগাছা দমন করা প্রয়োজন। মসুর জলাবদ্ধতা সইতে পারে না, তাই অতিবৃষ্টি হলে জমিতে যাতে পানি না জমে সেজন্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। মাটিতে রসের অভাবে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হলে চারা গজানোর ৩০-৪০ দিনের মধ্যে একবার হালকা সেচ দিতে হবে এবং সেচের পর নিড়ানি দিয়ে মাটি আলগা করে দিতে হবে।

রোগ ও পোকা: বারির দমন পরামর্শ


নিচের মাত্রাগুলো বারির হাতবইয়ের; স্প্রে করার আগে বোতলের নির্দেশনা পড়ুন এবং উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিন।

স্টেমফাইলিয়াম ব্লাইট (পাতা ঝলসানো রোগ)


বারির মতে, স্টেমফাইলিয়াম ব্লাইট বর্তমানে বাংলাদেশে মসুরের সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগ। ১৯৮৬ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর ঢাকা জেলাসহ দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে এর প্রকোপ ব্যাপক হারে বেড়েছে, এখন সারা দেশেই দেখা যায়। স্টেমফাইলিয়াম বোট্রায়োসাম (Stemphylium botryosum) নামের ছত্রাক এ রোগের কারণ; জীবাণু বাতাসে ছড়ায় এবং আক্রান্ত ফসলের অবশিষ্টাংশ থেকেও রোগ ছড়ায়। গবেষণার ফলাফল উদ্ধৃত করে বারি জানায়, এ রোগে ফলন ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

প্রথমে পাতায় হালকা বাদামি বা খড়ের রঙের পিনের মাথার মতো ছোট দাগ পড়ে। দাগগুলো দ্রুত বাড়ে এবং ৩-৪ দিনের মধ্যেই পুরো পাতা আক্রান্ত হয়ে ঝরে পড়ে। আক্রমণ বেশি হলে পুরো মাঠ ঝলসানো রং ধারণ করে।

বারির ডাল গবেষণা কেন্দ্রের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ববিদদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, রোভরাল-৫০ ডব্লিউপি অথবা ফলিকুর ২৫০ ইসি অথবা দুটি ওষুধের মিশ্রণ ০.২ শতাংশ হারে পানিতে মিশিয়ে ৭ দিন অন্তর তিন থেকে চারবার হালকা রোদেলা সকালে (৯-১০টা) স্প্রে করলে ফসল রক্ষা পায়। বারি মসুর-৮ জাতের এ রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে।

গোড়া পচা রোগ


স্ক্লেরোশিয়াম রলফসি (Sclerotium rolfsii) নামের মাটিবাহিত ছত্রাক থেকে গোড়া পচা রোগ হয়। এটি মূলত এক মাস বা তার কম বয়সী চারা আক্রমণ করে। খুব কচি চারা হঠাৎ নেতিয়ে পড়ে, শুকিয়ে খড়ের রং ধারণ করে এবং শেষে অদৃশ্য হয়ে যায়; বয়স্ক চারার গোড়ায় সুতার মতো ছত্রাকের মাইসেলিয়াম এবং সরিষার দানার মতো স্ক্লেরোশিয়াম দেখা যায়।

বপনের সময় মাটিতে 'জো' অবস্থার চেয়ে বেশি রস থাকলে এ রোগ বেশি হয়, তাই অতিরিক্ত রসে বীজ বোনা যাবে না। প্রোভেক্স-২০০ ডব্লিউপি প্রতি কেজি বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে। বারির সমন্বিত বালাই দমন অংশে আরও বলা হয়েছে, ফসলের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে, জমি চাষ দিয়ে ৫ দিন প্রখর রোদে ফেলে রাখতে হবে এবং বপনের অন্তত ২১ দিন আগে হেক্টরপ্রতি ৫ টন আংশিক পচা মুরগির বিষ্ঠা দিতে হবে; তা না পেলে শেষ চাষের সময় হেক্টরপ্রতি ৩ টন ট্রাইকোডার্মাভিত্তিক ট্রাইকো-কম্পোস্ট মেশাতে হবে। চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর একবার এবং ৩৫-৪০ দিন পর আরেকবার প্রোভেক্স ০.২৫ শতাংশ হারে পানিতে মিশিয়ে গাছের গোড়ার মাটি ভিজিয়ে দিলে রোগ দমনের পাশাপাশি ফলন ২৮-৪৩ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব বলে বারি জানিয়েছে। এরপরও দমন না হলে পরের বছর শস্য পর্যায় বদলাতে হবে।

মরিচা রোগ


ইউরোমাইসিস ফেবি (Uromyces fabae) নামের ছত্রাক মরিচা রোগের কারণ। ঘন ঝোপের জমিতে, যেখানে ঝোপের ভেতরে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮৫-৯০ শতাংশ এবং তাপমাত্রা ২০-২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে এ রোগ বেশি হয়। পাতা, কাণ্ড, শাখা ও ফলের ওপর হলুদ বা মরিচা রঙের ফোসকার মতো দাগ পড়ে, পরে তা গাঢ় বাদামি বা কালো হয়। আক্রমণ বেশি হলে পাতা ঝরে যায় এবং পাকার আগেই গাছ শুকিয়ে যায়; দূর থেকে মাঠ ধূসর দেখায়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সাধারণত জানুয়ারির শেষের আগে এবং উত্তরাঞ্চলে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে এ রোগ শুরু হয়।

বারি মসুর-৬, বারি মসুর-৭ ও বারি মসুর-৮ মরিচা রোগ প্রতিরোধী। দক্ষিণাঞ্চলে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এবং উত্তরাঞ্চলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বপন করলে ফসল এ রোগ থেকে বাঁচানো যায়। রোগ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিল্ট-২৫০ ইসি প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৫ মিলি হারে মিশিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করলে রোগ দমন করা যায়।

ঢলে পড়া রোগ


ফিউসারিয়াম অক্সিস্পোরাম এফ. এসপি. লেন্টিস (Fusarium oxysporum f. sp. lentis) নামের ছত্রাক ঢলে পড়া রোগের কারণ। বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের খামারে এ রোগ প্রথম শনাক্ত হয়। চারার বৃদ্ধি থেমে যায়, নিচ থেকে ওপরের দিকে পাতা হলুদ হয়; শিকড় লম্বালম্বি চিরলে গাঢ় বাদামি রঙের ডোরা দাগ দেখা যায়।

বারির পরামর্শ, অটোস্টিন ও থিরাম ১:১ অনুপাতে মিশিয়ে শুকনো বীজে ০.২৫ শতাংশ হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে, সময়মতো বুনতে হবে এবং বপনের সময় মাটিতে অতিরিক্ত রস যেন না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রোগ দেখা দিলে অটোস্টিন প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। এরপরও রোগ থাকলে পরের বছর শস্য পর্যায় বদলাতে হবে।

জাবপোকা


জাবপোকা মসুরের পাতা, কাণ্ড, পুষ্পমঞ্জরি ও ফল থেকে রস চুষে খায়। মারাত্মক আক্রমণে গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং ফলন ব্যাহত হয়। এমন আক্রমণে হাতবই ডাইমেথয়েট জাতীয় কীটনাশক (যেমন টাফগর ৪০ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করার পরামর্শ দেয়।

শুঁটিসহ মসুর গাছের কাছ থেকে তোলা ছবি। ছবি: ইউএসডিএ এনআরসিএস / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
শুঁটিসহ মসুর গাছের কাছ থেকে তোলা ছবি। ছবি: ইউএসডিএ এনআরসিএস / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

ধানের জমিতে মসুর চাষের তিন পদ্ধতি


দেশের বেশির ভাগ মসুর আমন ধানের পরে চাষ হয় বলে সময়মতো বপনের জন্য বারি তিনটি পদ্ধতির কথা বলেছে।

দাঁড়ানো আমন ধানে সাথী ফসল (রিলে) হিসেবে


আমন ধানে ফুল আসার পর কিন্তু ধান কাটার আগে অন্য যে ফসল বোনা হয়, তাকে সাথী বা রিলে ফসল বলে। এ পদ্ধতিতে ধান কাটার ১০-১৫ দিন আগে জমি থেকে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাদার মধ্যে মসুরের বীজ ছিটিয়ে দিতে হয়। বারির হিসাবে এতে চাষ করে আবাদের চেয়ে ৪৫ শতাংশ খরচ কম হয়। যে দোআঁশ বা এঁটেল দোআঁশ জমিতে বপনের সময়ে 'জো' আসে না বা সময়মতো ধান কাটা যায় না, সেখানে এ পদ্ধতি উপযোগী।

  • বপনের আগে বীজ ৮-১০ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে; হেক্টরপ্রতি বীজ লাগবে ৫০-৬০ কেজি।
  • বপনের ১-২ দিন আগে হেক্টরপ্রতি ৯০ কেজি টিএসপি ও ৪৫ কেজি এমওপি একসঙ্গে ছিটাতে হবে; বোরনের অভাব থাকলে হেক্টরপ্রতি ৭-১০ কেজি বরিক এসিড বা বোরাক্স দিতে হবে।
  • জমিতে প্রথমবার মসুর চাষ হলে প্রতি কেজি বীজের সঙ্গে ৫০ গ্রাম জীবাণু সার ভাতের মাড় বা চিটাগুড় দিয়ে মিশিয়ে বুনতে হবে।
  • ধান কাটার ৪-৫ দিন পর হেক্টরপ্রতি ৪০ কেজি ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করতে হবে; মাটিতে রস কম থাকলে বিকেলে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
  • মসুরের বীজ গজানোর ৫-৭ দিন পর ২৫ সেন্টিমিটার উঁচু নাড়া রেখে ধান কাটতে হবে। সামান্য আগাছা থাকলে বপনের ৩০-৩৫ দিন পর হাত দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

বারির হিসাবে এ পদ্ধতিতে হেক্টরপ্রতি ফলন হয় ১৫০০-১৬০০ কেজি।

শুষ্ক এলাকায় প্রাইমিং করা বীজে


যেসব জমিতে ধান কাটার পর রস দ্রুত শুকিয়ে যায়, সেখানে রাতে বালতি বা গামলায় বীজ ৮-১০ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরদিন সকালে বীজ তুলে ছায়ায় রেখে শুধু গায়ের পানি শুকিয়ে সেদিনই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বুনতে হবে। বারি জানায়, এতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ দিন আগে বীজ গজায় এবং গাছের বৃদ্ধিও ভালো হয়। হেক্টরপ্রতি বীজ ৩০-৩৫ কেজি; শেষ চাষের সময় হেক্টরপ্রতি ৪০ কেজি ইউরিয়া, ৯০ কেজি টিএসপি ও ৪৫ কেজি এমওপি, আর বোরনের অভাব থাকলে ৭-১০ কেজি বরিক এসিড বা বোরাক্স দিতে হবে। ৩-৪টি চাষ দিয়ে বীজ ছিটিয়ে বোনা যায়, অথবা ২৫ সেন্টিমিটার দূরে দূরে সারিতে।

ধানের নাড়ায় স্ট্রিপ টিলেজ


দেশের উত্তরাঞ্চলের যেসব ধানী জমির মাটির পিএইচ ৭ থেকে ৮, সেখানে বারি সংরক্ষণ কৃষির একটি পদ্ধতির কথা বলেছে। আমন ধান কাটার সময় ৫০ শতাংশ খড় জমিতে রেখে টু-হুইল ট্রাক্টর দিয়ে স্ট্রিপ টিলেজে একসঙ্গে জমি চাষ, বীজ বপন ও সার প্রয়োগ করা হয়; এর উপযুক্ত সময় নভেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহ। প্রতিটি স্ট্রিপ ৪-৫ সেন্টিমিটার চওড়া ও ৫-৭ সেন্টিমিটার গভীর, সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-৩০ সেন্টিমিটার; ফলে পুরো জমির মাত্র ২০ শতাংশ জায়গা চাষ হয়। হাতবইয়ের তথ্য অনুযায়ী এতে প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে ১৬-১৮ শতাংশ বেশি ফলন পাওয়া যায় এবং আগাছা, জাবপোকা ও পাতা ঝলসানো রোগ কম হয়।

ফসল সংগ্রহ, মাড়াই ও বীজ সংরক্ষণ


বীজ বপনের ১১০-১১৫ দিন পর মসুর সংগ্রহ করা যায়; বারি মসুর-৯ স্বল্প জীবনকালের বলে ৮৫-৯০ দিনেই তোলা যায়। গাছসহ ফল পেকে বাদামি রং ধারণ করলে ফসল কাটতে হয়। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী এ সময়টি সাধারণত মধ্য ফাল্গুন থেকে মধ্য চৈত্র, অর্থাৎ মার্চ মাস।

গাছের গোড়াসহ কেটে এনে পরিষ্কার খোলায় রোদে শুকিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে, গরু ঘুরিয়ে বা মেশিনে মাড়াই করে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। এরপর বীজ পরিষ্কার করে আরও ২-৩ দিন ভালোভাবে রোদে শুকাতে হবে।

বীজ রাখার জন্য মূল প্রতিবেদনে পরামর্শ ছিল, রোদে শুকিয়ে আর্দ্রতা আনুমানিক ১০ শতাংশের নিচে আনতে হবে এবং টিনের পাত্র, পলিথিন বা চটের ব্যাগ, অথবা আলকাতরার প্রলেপ দেওয়া মাটির পাত্রে রাখতে হবে। বারির হাতবইয়ে বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

ভাঙা লাল মসুর ও গোটা বাদামি মসুর পাশাপাশি। ছবি: Benjamint444 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ভাঙা লাল মসুর ও গোটা বাদামি মসুর পাশাপাশি। ছবি: Benjamint444 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

বারির মসুরের জাতগুলো এসেছে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত ডাল গবেষণা কেন্দ্র থেকে। অবমুক্ত জাতের বীজ, সঠিক ছত্রাকনাশক এবং স্থানীয় মাটির উপযোগী মাত্রা জানতে কৃষকেরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।

ছবি: Miwok / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

সূত্র: দ্য এগ্রো নিউজ (নিজস্ব প্রতিবেদক), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (কৃষি প্রযুক্তি হাতবই, নবম সংস্করণ), আন্তর্জাতিক শুষ্ক অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (ইকার্ডা), বাংলাপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
বিশ্ব

ভালো ফসলের বছরেও আফগানিস্তানে শীতে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ

অনুকূল বৃষ্টি ও ভালো ফসলের পরও নভেম্বর-এপ্রিলে আফগানিস্তানের ৩৮ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও ও ডব্লিউএফপি; গত বছর একই সময়ের পূর্বাভাস ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ।

ডব্লিউএফপি১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

জমির সিদ্ধান্তের ভার পেয়ে তুলার ফলন সাত গুণ করলেন মহারাষ্ট্রের সুনীতা

একসময় দিনমজুরি করা, পরিবারের ১২ একর জমি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার না থাকা মহারাষ্ট্রের পাচোদ গ্রামের সুনীতা নেহারে এখন খামার চালান; মাটি ও পানি সংরক্ষণে একরপ্রতি তুলার ফলন প্রায় ১ থেকে বাড়িয়েছেন ৭ দশমিক ১৪ কুইন্টালে।

ডাউন টু আর্থ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)