সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

রাজদরবার থেকে আমজনতার পাতে: নান রুটির দীর্ঘ পথচলা

টেস্ট অ্যাটলাসের র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের সেরা রুটি হওয়া বাটার গার্লিক নানের পূর্বসূরি একসময় কেবল দিল্লি সুলতানি ও মুঘল দরবারে পরিবেশিত হতো; ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে ইতিহাসবিদ নেহা ভারমানি ও শেফ সুবীর সরণ সেই পথচলার কথা বলেন।

রাজদরবার থেকে আমজনতার পাতে: নান রুটির দীর্ঘ পথচলা
রান্নাবান্না

দক্ষিণ এশিয়ার মোটা খামিরের নরম, ফুলে ওঠা রুটি নান একসময় কেবল মুসলিম সম্রাটদের রাজদরবারে পরিবেশিত হতো। বিবিসি বাংলা ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি এক প্রতিবেদনে খাদ্য ইতিহাসবিদ নেহা ভারমানি ও শেফ সুবীর সরণের কথায় তুলে ধরে, এই রুটি কীভাবে দিল্লি সুলতানি ও মুঘল রান্নাঘর থেকে সাধারণ মানুষের থালায় এলো। দ্য ডেইলি স্টারের খবর অনুযায়ী, খাদ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট টেস্ট অ্যাটলাসের ২০২৫ সালের মার্চের র‍্যাঙ্কিংয়ে বাটার গার্লিক নান বিশ্বের সেরা রুটি হিসেবে প্রথম স্থান পায়। খুব গরম নানের ওপর মাখন ছড়িয়ে কুচি করা রসুন ছিটিয়ে এটি তৈরি হয়। বিবিসির বর্ণনায় সেরা রুটির তালিকায় মশলা ও ধনেপাতা মেশানো আলুর পুর দেওয়া আলু নানও ছিল।

পারস্য থেকে দিল্লি সুলতানির দরবারে


নানের উৎপত্তি পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। অনেক খাদ্য ইতিহাসবিদের মতে এটি প্রাচীন পারস্যের, কারণ ফারসিতে যেকোনো রুটিকেই 'নান' বলা হয়। পারসিকরা পানি ও ময়দা দিয়ে এই রুটি বানাত, সম্ভবত গরম পাথরে সেঁকে। ১৩শ থেকে ১৬শ শতকে উপমহাদেশের বড় অংশ শাসন করা সুলতানদের হাত ধরে নান এখানে আসে; সঙ্গে আসে পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার রন্ধন ঐতিহ্য, যার একটি তন্দুরে রান্নার প্রথা।

উপমহাদেশে নানের সবচেয়ে পুরোনো উল্লেখ পাওয়া যায় ভারতীয়-ফারসি কবি আমির খসরুর লেখায়, চতুর্দশ শতকে। আলাউদ্দিন খিলজি ও মুহাম্মদ বিন তুঘলকের দরবারের জীবন নিয়ে লেখা তার বইয়ে দুই ধরনের নানের কথা আছে: পাতলা ও নরম নান-এ-তানুক এবং তন্দুরে সেঁকা মোটা, ফোলা নান-এ-তানুরি। দিল্লি সুলতানি আমলে নান খাওয়া হতো কাবাব ও মাংসের কিমার মতো আমিষ পদের সঙ্গে।

আমির খসরু দেহলভির খামসা কাব্যের একটি সচিত্র পাণ্ডুলিপির পাতা, মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টের সংগ্রহ। ছবি: শিল্পী মিসকিনার আঁকা বলে ধরা হয় / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
আমির খসরু দেহলভির খামসা কাব্যের একটি সচিত্র পাণ্ডুলিপির পাতা, মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টের সংগ্রহ। ছবি: শিল্পী মিসকিনার আঁকা বলে ধরা হয় / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

শাহী রান্নাঘরের নান বাই


শাহী বাবুর্চিরা রুটিকে আরও নরম ও ফোলা করতে খামিরে ইস্ট যোগ করতেন, যা তখন ছিল বিরল উপাদান। এই জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়াই নানকে রাজপরিবার ও উচ্চবিত্তের বিলাসী খাবারে পরিণত করে, আর পরের তিনশ বছর মুঘল আমলেও সেই রেওয়াজ বজায় থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসবিদ নেহা ভারমানি বিবিসিকে বলেন, "নান তৈরির জন্য বিশেষ বাবুর্চি থাকতেন, যাদের বলা হতো 'নান বাই'।"

তারা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রুটির নামের সঙ্গে বিশেষণ জুড়তেন: পাতলা স্তরযুক্ত নান-এ-ওয়ারকি, গ্রেভি শুষে নেওয়ার মতো ছোট নান-এ-তাঙ্গি। কখনও নাম হতো রান্নাঘরের নামে। ভারমানির ব্যাখ্যায়, বিস্কুটের মতো গঠনের বাকরখানি তৈরি হতো জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের দরবারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বাকির নাজম সাইনির রান্নাঘরে, সেখান থেকেই এর নাম।

বাকরখানির নাম নিয়ে বাংলায় আরেকটি প্রচলিত কাহিনিও আছে: সিরাজউদ্দৌলার আমলের সেনানায়ক মির্জা আগা বাকের ও নর্তকী খানি বেগমের প্রেমকাহিনি থেকে রুটিটির নাম হয়েছে বলে লোকমুখে শোনা যায়। ময়দা, সুজি, চিনি, ঘি ও পোস্তদানা বা কালিজিরা দিয়ে তৈরি শক্ত খোসার এই রুটি পুরান ঢাকার খাদ্যসংস্কৃতির পরিচয় হয়ে আছে; সেখানকার প্রথম দোকানটি লালবাগ কেল্লার কাছে খোলা হয়েছিল বলে জানা যায়।

পুরান ঢাকায় বিক্রির জন্য রাখা বাকরখানি। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
পুরান ঢাকায় বিক্রির জন্য রাখা বাকরখানি। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

দরবারের বিলাস থেকে রেস্তোরাঁর থালায়


ব্রিটিশ শাসনামলেও নান মূলত ধনী শ্রেণির খাবার ছিল, তবে ব্রিটিশ পর্যটকদের হাত ধরে এটি পশ্চিমে পৌঁছায় এবং ভারতে মাংস ও স্থানীয় মশলার সসের সঙ্গে ঔপনিবেশিক খাদ্যসংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। ভারমানির ভাষায়, সময়ের সঙ্গে জটিল পদ্ধতির জায়গা নেয় সহজ কৌশল, আর নানের একটি সরল রূপ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

আজ ময়দা, দই ও ইস্ট মিশিয়ে ময়ান করা খামির কিছুক্ষণ রেখে ফুলতে দেওয়া হয়। তারপর গোল টুকরো হাতে চেপে রুটির আকার দিয়ে খুব গরম তন্দুরের ভেতরের দেয়ালে লাগিয়ে সেঁকা হয়; এই দেয়ালের তাপ ৪৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। রুটি ফুলে উঠে গায়ে বাদামি দাগ পড়লে নামিয়ে মাখন বা ঘি মাখিয়ে পরিবেশন করা হয়।

ভারতের লাদাখের একটি নান বেকারিতে চুলার ওপর বসে সরঞ্জাম দিয়ে রুটি সেঁকছেন একজন কারিগর। ছবি: SlartibErtfass der bertige / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ভারতের লাদাখের একটি নান বেকারিতে চুলার ওপর বসে সরঞ্জাম দিয়ে রুটি সেঁকছেন একজন কারিগর। ছবি: SlartibErtfass der bertige / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে ভারত ও বিদেশের ফাইন-ডাইনিং রেস্তোরাঁগুলো নান নিয়ে নতুন পরীক্ষা শুরু করে। শেফ সুবীর সরণ জানান, নিউইয়র্কে তার রেস্তোরাঁয় নানে পালং শাক, এক ধরনের পনির ও মাশরুম যোগ করা হতো, যাতে অ-ভারতীয়দের কাছে এটি আকর্ষণীয় হয়। তার কথায়, গোয়ায় পর্ক ভিন্দালু নান ও বাটার চিকেন নান মেলে, হংকংয়ে ট্রাফল চিজ নান। তিনি বলেন, "নান হলো ভারতের পক্ষ থেকে বিশ্বকে দেওয়া এক অসাধারণ উপহার।"

তবে খাদ্য ইতিহাসবিদরা মনে করিয়ে দেন, নান শুধু ভারতের নয়; দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রান্নারও অংশ। পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে মিয়ানমার, চীনের উইঘুর রান্না পর্যন্ত নানা অঞ্চলে নানের নানা রূপ খাওয়া হয়।

ছবি: Fatfoodie / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: বিবিসি বাংলা, দ্য ডেইলি স্টার, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

রান্নাবান্না

সম্পর্কিত খবর

রান্নাবান্না

ঘরেই ক্যাফে-স্টাইলের ক্রিমি প্রন পাস্তা: উপকরণ আর রান্নার ধাপ

২৫০ গ্রাম পাস্তা, এক কাপ চিংড়ি, ১০০ গ্রাম চিজ, মেয়োনিজ আর দুধে তৈরি ঘন ক্রিমি সসে প্রন পাস্তা; সেদ্ধ থেকে পরিবেশন পর্যন্ত সময় লাগে অল্পই।

সারাবাংলা১৪ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
স্বাস্থ্য

প্রোটিন শেক কি খাবারের বিকল্প? কার কতটা প্রোটিন লাগে

প্রাপ্তবয়স্কের দৈনিক প্রতি কেজি ওজনে ০.৮ গ্রাম প্রোটিন লাগে, ৭০ কেজির মানুষের ৫৬ গ্রাম, যা সুষম খাবার থেকেই মেলে; প্রোটিন শেক দরকার কেবল যাঁদের চাহিদা খাবারে পূরণ হয় না।

প্রথম আলো১৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
রান্নাবান্না

মৌসুমি তালের পিউরিতে নরম কেক, ঘরে বানানোর সহজ রেসিপি

আধা কাপ তালের পিউরি, এক কাপ ময়দা, দুটি ডিম আর এক-তৃতীয়াংশ কাপ গুঁড়া দুধ ও তেলে ওভেনে ১৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ৩৫-৪০ মিনিটে তৈরি হয় তুলতুলে তালের কেক।

এগ্রিকেয়ার২৪১৪ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)