সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

বাজেটে কুলায়নি ইলিশ, বৈশাখের পান্তায় সরপুঁটি: রাবি অধ্যাপকের কলাম

২০২৬ সালের পহেলা বৈশাখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিভাগের আয়োজনে বাজেটের কারণে ইলিশের বদলে সরপুঁটি রাখা হয়। এ ঘটনা নিয়ে জাগো নিউজে লেখা কলামে বিভাগটির এক অধ্যাপক ইলিশের দাম, বৈষম্য ও খাদ্যসংস্কৃতির প্রশ্ন তোলেন; তখন ইলিশ উৎপাদন ছিল আট বছরে সর্বনিম্ন।

বাজেটে কুলায়নি ইলিশ, বৈশাখের পান্তায় সরপুঁটি: রাবি অধ্যাপকের কলাম
মৎস্য

২০২৬ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগ পহেলা বৈশাখের সকালের আয়োজনে ইলিশ ভাজার বদলে সরপুঁটি রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ ইলিশ আর বাজেটে কুলাচ্ছিল না। ঘটনাটি উঠে আসে "ইলিশ নেই, সরপুঁটি আছে স্যার" শিরোনামের একটি মতামত কলামে, যা জাগো নিউজ ২৪ প্রকাশ করে ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল, বাংলা ১৪৩৩ সনের নববর্ষের আগের দিন। লেখক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের একজন প্রফেসর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন। এই ঘটনাকে উপলক্ষ করে তিনি যুক্তি দেন, ইলিশের দাম সবার একটি উৎসবের খাবারকে শ্রেণির চিহ্নে পরিণত করেছে, আর ইলিশ সংরক্ষণ, নদীর স্বাস্থ্য ও বাজার ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

কলামটি এমন এক সপ্তাহে প্রকাশিত হয়, যখন ঢাকা, খুলনা ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে ইলিশের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বলে খবর আসছিল, সরকার বার্ষিক জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন করছিল, আর সরকারি হিসাবে ইলিশের উৎপাদন আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল।

আমন্ত্রণপত্র আর সরপুঁটির খবর


প্রফেসর লিখেছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও তাঁর বিভাগের বৈশাখী উদযাপন কমিটি পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র দিতে আসে। তিনি জানতে চান, এবার পান্তার সঙ্গে কত প্রকারের ভর্তা থাকবে। আয়োজকেরা জানান, কমপক্ষে ১০ প্রকারের। আর কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই তাঁদের একজন বলেন, এবার ইলিশ ভাজা থাকছে না; বাজেটে কুলাবে না বলে ইলিশের বদলে সরপুঁটি রাখা হয়েছে, প্রত্যেক অতিথি একটি করে আস্ত সরপুঁটি ভাজা পাবেন।

তিনি স্বীকার করেছেন, "ইলিশ নেই, সরপুঁটি আছে স্যার" কথাটি শুনে তাঁর মন অনেকটা বিষণ্ন হয়ে উঠেছিল, তবে তিনি তা তাঁদের সামনে প্রকাশ করেননি। তিনি সম্মতি দিয়ে বলেন, বৈশাখী অনুষ্ঠান তো আর ইলিশের জন্য বসে থাকবে না; সঙ্গে অনুরোধ করেন, পান্তার পর যেন ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি বাতাসা ও কদমা রাখা হয়। তাঁর ভাষায়, আয়োজকেরা খুশি হয়েই চলে যান।

প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন কষ্টটা কেবল তাঁর একার, কারণ বিভাগের সবাই জানেন তিনি, তাঁর নিজের ভাষায়, ইলিশপাগল মানুষ। তাই সহকর্মীরা হাসাহাসি করতে পারেন ভেবে তিনি চুপ ছিলেন। পরে সহকর্মীদের কথাবার্তা শুনে বুঝলেন, তাঁরাও একই রকম কষ্ট পাচ্ছেন। তাঁর মতে, একটি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের ইলিশবিহীন বৈশাখ দেশের অর্থনীতি, বাজারব্যবস্থা এবং তাঁর ভাষায় ভোগ সংস্কৃতির শূন্যতা সম্পর্কে একটি বড় বার্তা বহন করে।

২০২৬ সালের বৈশাখের আগে ইলিশের দাম


প্রফেসর কলামে নির্দিষ্ট কোনো দাম উল্লেখ করেননি; শুধু লিখেছেন, রাজধানীর সুপারমার্কেটে কয়েক হাজার টাকার নিচে ভালো মানের ইলিশ পাওয়া যেন অলীক কল্পনা। একই সময়ের সংবাদ প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, ক্রেতাদের কী অবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল।

২০২৬ সালের ৩ এপ্রিল সংবাদ সংস্থা ইউএনবি ঢাকার শান্তিনগর, মতিঝিল, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা ও কুড়িলের কাঁচাবাজার ঘুরে একটি প্রতিবেদন দেয়, যা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও দৈনিক ইত্তেফাক প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, ৫০০ গ্রামের কম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশের দাম ছিল ২,২০০ থেকে ২,৩০০ টাকা, আর এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ২,৬০০ থেকে ২,৮০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক দিন ধরে সরবরাহ কমেছে, এপ্রিলের শেষ দিকে তা বাড়তে পারে; নববর্ষ সামনে রেখে চাহিদাও দাম বাড়াচ্ছে।

খুলনায় ১৩ এপ্রিল দৈনিক অবজারভার জানায়, রূপসার পাইকারি বাজারে প্রায় এক কেজির ইলিশ কেজিপ্রতি ৪,০০০ টাকায় এবং খুচরা বাজারে ৪,২০০ থেকে ৪,৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। মাঝারি আকারের ইলিশের পাইকারি দাম ছিল কেজিপ্রতি ২,৫০০ থেকে ২,৭০০ টাকা, আর প্রায় ৫০০ গ্রামের ইলিশ প্রায় ১,৯০০ টাকা। মদিনা ফিশের ব্যবস্থাপক মঈনউদ্দিন পত্রিকাটিকে বলেন, সরবরাহ খুবই কম; সেই সোমবার তিনি মাত্র ৩০ কেজি বিক্রি করতে পেরেছেন। ব্যবসায়ীরা ঘাটতির জন্য ভোলা ও চাঁদপুরে মাছ ধরার বিধিনিষেধ এবং জাটকা ধরার ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেন, যার ফলে বরিশাল, চর দোহানী ও পাথরঘাটা থেকে সাধারণত যে ইলিশ আসে তা কমে গেছে। এ বেঙ্গল ফিশের রাজ জানান, জ্বালানি সংকটে অনেক নৌকা মাছ ধরতে যেতে পারেনি। কয়েকজন ক্রেতা পত্রিকাটিকে বলেন, বাজারের ইলিশ লালচে দেখাচ্ছে, যা তাঁদের ধারণায় আগের মৌসুমের মজুত মাছ। রূপসার এক ক্রেতা আবু নাসের অভিযোগ করেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা নববর্ষের সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন; প্রতিবেদনে এ অভিযোগের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কোনো বক্তব্য ছিল না।

উপকূলেও চিত্র ছিল একই। ১২ এপ্রিল বরগুনার আমতলী থেকে দৈনিক অবজারভার জানায়, জ্বালানি তেলের সংকটে বেশির ভাগ মাছ ধরার নৌকা গভীর সমুদ্রে যেতে পারছিল না, ফলে আমতলী ও তালতলীর বাজারে সাগরের ইলিশ প্রায় আসছিলই না। এক কেজি ওজনের নদীর ইলিশ মণপ্রতি (প্রায় ৪০ কেজি) ১,৩০,০০০ থেকে ১,৪০,০০০ টাকায়, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ১,১৫,০০০ থেকে ১,২০,০০০ টাকায় এবং ৬০০ গ্রামের ইলিশ ৭৫,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে পাইকারেরা অল্প যে মাছ আসছিল তা কিনেই ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন।

বৈশাখের আগে চড়া দাম নতুন কিছু নয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে দ্য ডেইলি স্টার কারওয়ান বাজারে দেখেছিল, ৪৫০ থেকে ৫০০ গ্রামের তাজা ইলিশ কেজিপ্রতি ১,৪০০ টাকা, ৫৫০ থেকে ৬৫০ গ্রামের ইলিশ ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ টাকা এবং হিমাগারে রাখা এক থেকে দেড় কেজির ইলিশ ১,৮০০ থেকে ২,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩০ বছর ধরে কারওয়ান বাজারে ইলিশ বিক্রি করা সুক্কুর আলী তখন পত্রিকাটিকে বলেছিলেন, প্রতিবছর পহেলা বৈশাখের আগে ইলিশের চাহিদা ও দাম দুটোই হু হু করে বাড়ে। পূর্ব রাজাবাজারের এক ক্রেতা বলেছিলেন, এই দামে ইলিশ কেনা একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য খুবই কঠিন।

চাঁদপুর মাছবাজারে বিক্রির জন্য রাখা ইলিশ। ছবি: Nahid Sultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চাঁদপুর মাছবাজারে বিক্রির জন্য রাখা ইলিশ। ছবি: Nahid Sultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ইলিশ কেন এত দামি হলো


কলাম লেখক এই পরিবর্তনের পেছনে তিনটি কারণ দেখিয়েছেন। প্রথমত, নদীর নাব্যতা হ্রাস, দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইলিশের প্রাকৃতিক উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করছে। দ্বিতীয়ত, অবৈধভাবে জাটকা, অর্থাৎ ছোট ইলিশ ধরা এবং অতিরিক্ত আহরণ ইলিশের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। তৃতীয়ত, তাঁর মতে, বাজারে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে তুলছে। উৎপাদন কম, চাহিদা বেশি; ফলে আকাশছোঁয়া দামই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি লিখেছেন।

সেই মাসে প্রকাশিত সরকারি হিসাব তাঁর যুক্তির প্রথম অংশকে সমর্থন করে। ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন নেমে এসেছে ৫ লাখ টনে, যা দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত আট বছরে সর্বনিম্ন। ওই প্রতিবেদনে মৎস্য অধিদপ্তরের যে হিসাব দেওয়া হয়, তাতে উৎপাদন ছিল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫ লাখ ১৭ হাজার টন, ২০১৮-১৯ সালে ৫ লাখ ৩২ হাজার, ২০১৯-২০ সালে ৫ লাখ ৫০ হাজার, ২০২০-২১ সালে ৫ লাখ ৬৫ হাজার, ২০২১-২২ সালে ৫ লাখ ৬৬ হাজার এবং ২০২২-২৩ সালে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন; এরপর ২০২৩-২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে। এর আগে উৎপাদন ৫ লাখ টনের নিচে ছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে, ৪ লাখ ৯৬ হাজার টন।

মন্ত্রী বলেন, নদী ভরাট, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীদূষণ এবং মৎস্যসম্পদের ওপর বাড়তি চাপের কারণে উৎপাদন ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীতে জমে ওঠা চর সরাতে নদী ও খাল খনন কর্মসূচির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বড় কোনো সমস্যা হয়নি এবং জরুরি খাতে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আমিরুল ইসলাম ৭ এপ্রিল জাগো নিউজকে বলেন, ২০০৩-০৪ সাল থেকে সরকার কার্যকর ব্যবস্থাপনা পদক্ষেপ নেওয়ার পর উৎপাদন বাড়তে শুরু করে; তার আগে নির্বিচারে মা ইলিশ ও জাটকা নিধনের ফলে উৎপাদন নেমে গিয়েছিল প্রায় ২ লাখ টনে। তিনি পলিকে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রতিবছর প্রায় ৬ বিলিয়ন টন পলি নদীতে জমা হয় এবং তা ইলিশের চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত করে। শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক নদী ও সাগরের পানির মান নষ্ট করছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তিনি জানান, পৃথিবীর কোথাও এখনো কৃত্রিমভাবে ইলিশের পোনা উৎপাদন সম্ভব হয়নি, তাই এই মাছ পুরোপুরি প্রাকৃতিক প্রজননের ওপর নির্ভরশীল। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় বড় ইলিশ কমে যাওয়া নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ইলিশ: বাংলাদেশের জাতীয় মাছ


এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ প্রকাশিত জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ইলিশ (Tenualosa ilisha) হেরিংজাতীয় ক্লুপিইডি পরিবারের মাছ এবং বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এর দৈর্ঘ্য ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে, তবে সাধারণত ধরা পড়া মাছ ৩৫ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়; বড় একটি ইলিশের ওজন প্রায় আড়াই কেজি। স্ত্রী ইলিশ দ্রুত বাড়ে এবং সাধারণত পুরুষের চেয়ে বড় হয়; এক থেকে দুই বছরে মাছটি প্রজননক্ষম হয়।

ইলিশ অ্যানাড্রোমাস বা সাগর থেকে নদীতে উজানে গিয়ে ডিম ছাড়া মাছ: এটি সাগর ও উপকূলীয় পানিতে বাস করে এবং প্রজননের জন্য নদীতে উঠে আসে। প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী ইলিশ পদ্মা, যমুনা ও মেঘনার উজানে ভাসমান ডিম ছাড়ে, আর একটি বড় স্ত্রী ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি-মার্চে একটি ছোট এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রধান প্রজনন মৌসুম। পোনা নদীর খাতে বড় হয়; ছয় থেকে দশ সপ্তাহে প্রায় ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার হলে এদের জাটকা বলা হয়, আর এই পর্যায়ে এরা সাগরের দিকে নামতে শুরু করে। ইলিশ মূলত প্ল্যাংকটনভোজী; নীলাভ-সবুজ শৈবাল, ডায়াটম, কোপিপোড ও রটিফার এর খাদ্য।

বাংলাপিডিয়া উজানের নদীগুলোতে ইলিশ কমে যাওয়ার যেসব কারণ উল্লেখ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ফারাক্কা বাঁধের পর গঙ্গার প্রবাহ কমে যাওয়া ও এর ফলে পলি জমা, ব্যাপক হারে জাটকা ধরা, চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া, ডিম ছাড়া ও বিচরণক্ষেত্র নষ্ট হওয়া, নদীদূষণ এবং উপকূলে যান্ত্রিক নৌকার ব্যবহার, যা মাছ উজানে ওঠার আগেই ধরে ফেলে।

উৎসবের টেবিলের বাইরেও ইলিশের গুরুত্ব অনেক। ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিলের দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ৯.৭৯ শতাংশ এবং জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ; বিশ্বের মোট ইলিশের ৮০ শতাংশের বেশি আহরিত হয় বাংলাদেশের নদী, মোহনা ও সাগর থেকে, যা ১১টি ইলিশ আহরণকারী দেশের মধ্যে শীর্ষে; প্রায় ৬ লাখ মানুষ সরাসরি ইলিশ আহরণে এবং ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে যুক্ত। ২০১৭ সালের আগস্টে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ইলিশকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়; জামদানি শাড়ির পর এটি ছিল দ্বিতীয় জিআই পণ্য, তখন দ্য ডেইলি স্টার এ খবর দেয়।

মেঘনা নদীতে মাছ ধরার একটি নৌকা। ছবি: Nurunnaby Chowdhury (Hasive) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মেঘনা নদীতে মাছ ধরার একটি নৌকা। ছবি: Nurunnaby Chowdhury (Hasive) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

২০২৬ সালের এপ্রিলে যেসব বিধিনিষেধ কার্যকর ছিল


কলাম লেখক জাটকা নিধন বন্ধের যে আহ্বান জানান, সেই মাসে সরকারের নিজস্ব প্রচারও ছিল একই লক্ষ্যে। ৬ এপ্রিল জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৎস্যমন্ত্রী জানান, ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’ পালিত হবে ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল দেশের ইলিশসমৃদ্ধ ২০টি জেলায়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে চাঁদপুর সদরে, আর এবারের প্রতিপাদ্য ‘জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী’। মন্ত্রী তখন কার্যকর থাকা পদক্ষেপগুলোর তালিকা দেন:

  • ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ।
  • প্রজনন মৌসুমে বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে নির্ধারিত সময়ে ২২ দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ।
  • ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ।
  • দেশে ৬টি ইলিশ অভয়াশ্রম স্থাপন এবং নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে মাছ ধরা বন্ধ।
  • জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থান, এবং ৩ হাজার ১৮৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা।

বিএফআরআইয়ের ড. আমিরুল ইসলাম ব্যাখ্যা করেন, ছয়টি অভয়াশ্রমের পাঁচটিতে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে, যাতে জাটকা নিরাপদে বড় হতে পারে। মন্ত্রী বলেন, কারেন্ট জাল, বেহুন্দি জালসহ অবৈধ জাল দিয়ে নির্বিচারে জাটকা নিধন ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান অন্তরায়। অবৈধ জাল ধ্বংসে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ১৮ জেলার ৯৬টি উপজেলায় ৩০ দিনব্যাপী এবং মার্চে ৭৯টি উপজেলায় ১৫ দিনব্যাপী বিশেষ কম্বিং অপারেশন চালানো হয়, আর জুন পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে তিনি জানান।

মন্ত্রণালয় খাদ্য সহায়তার হিসাবও দেয়। প্রতিবছর ৩ লাখ ৬৭ হাজার জেলে পরিবারকে চার মাস ধরে মাসে ৪০ কেজি করে মোট ৫৮ হাজার ৭২০ টন চাল দেওয়া হয়, আর প্রজনন মৌসুমে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৩১২টি পরিবারকে ২৫ কেজি করে মোট ১৫ হাজার ৪৮২ টন খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, এই প্রথম ৪০ হাজার জেলেকে দুই মাসের জন্য ৮০ কেজি চাল, ১২ কেজি আটা, ১০ কেজি তেল, ৮ কেজি ডাল, ৪ কেজি চিনি ও ১৬ কেজি আলুর একটি প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে, যার মূল্য প্রায় ৬ হাজার টাকা।

পান্তা-ইলিশ কি পুরোনো ঐতিহ্য


কলাম লেখকের যুক্তি, পান্তার সঙ্গে ইলিশের সম্পর্ক কখনোই আজকের মতো দৃঢ় ছিল না। তিনি লিখেছেন, গ্রামবাংলায় পান্তা খাওয়া হতো হাতের কাছে যা থাকত তা দিয়েই: কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ডাল বা আলু ভর্তা কিংবা ছোট মাছ। ইলিশ ছিল ঋতুভিত্তিক মাছ, প্রতিদিনের খাবার নয়। আধুনিক নগরজীবনে গণমাধ্যম ও করপোরেট সংস্কৃতির প্রভাবে পান্তা-ইলিশ একধরনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে; রেস্টুরেন্টে বৈশাখী প্যাকেজ আর অফিসে বিশেষ আয়োজনের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সাধারণ মানুষ আর্থিক চাপে পড়ছে।

তথ্যসূত্রগুলোও পুরোনো চিত্রের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়। বাংলাপিডিয়া পান্তাকে বর্ণনা করেছে রাতভর পানিতে ভিজিয়ে সামান্য গাঁজানো সাধারণ সেদ্ধ ভাত হিসেবে, যা দিয়ে একজন খেতমজুর বা জেলে দিন শুরু করেন; সেখানে ভাজা মাছ বা সবজির তরকারি, কিংবা চিড়া, গুড় ও দই দিয়ে পান্তার নাশতার কথাও আছে। পহেলা বৈশাখ নিয়ে বাংলাপিডিয়ার নিবন্ধ উৎসবটির উৎস খুঁজেছে মোগল সম্রাট আকবরের নির্দেশিত বর্ষপঞ্জি সংস্কারে, যাতে ফসল তোলার মৌসুমে খাজনা আদায় করা যায়: পণ্ডিত ফতেহউল্লাহ সিরাজি নতুন ফসলি সন প্রণয়ন করেন, যা চালু হয় ১৫৮৪ সালের ১০ বা ১১ মার্চ, তবে গণনা ধরা হয় ১৫৫৬ সালে আকবরের সিংহাসনে আরোহণ থেকে। দিনটির প্রধান রীতি ছিল হালখাতা, অর্থাৎ ব্যবসায়ীদের নতুন হিসাবের খাতা খোলা, যাতে ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করানো হতো। বাংলাপিডিয়ায় বিশেষ খাবার ও মিষ্টি, বৈশাখী মেলা এবং রমনার বটমূলে ছায়ানটের ভোরের গানের কথা আছে, কিন্তু ইলিশের উল্লেখ নেই।

একই কথা প্রকাশ্যে উঠেছিল এই কলামের দশ বছর আগেও। ২০১৬ সালের এপ্রিলে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাওয়ার চর্চা সাম্প্রতিক। তাঁর বক্তব্য ছিল, নববর্ষ উদযাপনে ইলিশ কেনার মতো বাড়তি টাকা সাধারণত কৃষকের থাকে না, আর প্রাচীন বাংলা নববর্ষের সঙ্গে এই রীতির কোনো সম্পর্ক নেই। সে বছর সরকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারে প্রথমবারের মতো মানুষকে বৈশাখের খাদ্যতালিকা থেকে ইলিশ বাদ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। উৎসবের দুই দিন পর দ্য ডেইলি স্টার জানায়, ইলিশের বিক্রি অনেক কমে গেছে: উৎসবের তিন দিন আগে কারওয়ান বাজারে যে এক কেজির ইলিশ ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, তা তখন ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকায় নেমে আসে, আর হিমাগারের মাছ মজুত করা খুচরা বিক্রেতারা লোকসানের কথা জানান। ঢাকার এক বাসিন্দা পত্রিকাটিকে বলেন, তাঁর পরিবার ইলিশের বদলে রুই মাছ আর ভর্তা দিয়ে পান্তা খেয়েছে।

সরপুঁটি (Puntius sarana), ভারতের কেরালায় তোলা ছবি। ছবি: Viswaprabha / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সরপুঁটি (Puntius sarana), ভারতের কেরালায় তোলা ছবি। ছবি: Viswaprabha / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সরপুঁটি: যে মাছ ইলিশের জায়গা নিল


সরপুঁটি (অনেকে সরপুটি লেখেন) কার্পজাতীয় সাইপ্রিনিডি পরিবারের পুঁটি মাছের একটি। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে বাংলাদেশে পুঁটির ১০টি প্রজাতি আছে, এর ৯টি Puntius গণের এবং ১টি Oreichthys গণের। বাংলাপিডিয়া সরপুঁটিকে (Puntius sarana, এখন প্রায়ই Systomus গণে রাখা হয়) বর্ণনা করেছে মাঝারি চাপা রুপালি দেহ, দুই জোড়া শুঁড়, সম্পূর্ণ পার্শ্বরেখা এবং সোনালি আভাযুক্ত কানকোর মাছ হিসেবে। প্রজাতিটি আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার নদী, খাল, হ্রদ ও জলাশয়ের স্থানীয় মাছ; বাংলাদেশে খাদ্য ও শৌখিন শিকারের মাছ হিসেবে এটি জনপ্রিয়। আইইউসিএন ২০২৩ সালের মূল্যায়নে একে ন্যূনতম উদ্বেগের তালিকায় রেখেছে।

এখনকার বাজারে যে সরপুঁটি বেশি দেখা যায়, তার বড় অংশ এর ঘনিষ্ঠ একটি চাষের মাছ। বাংলাপিডিয়ার বিদেশি মাছ বিষয়ক নিবন্ধ অনুযায়ী, রাজপুঁটি বা থাই সরপুঁটি (Puntius gonionotus, এখন Barbonymus gonionotus) ১৯৭৭ সালে থাইল্যান্ড থেকে আনা হয়। এটি দেশি সরপুঁটির মতো দেখতে, প্রায় ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বড় হয়, বাংলাদেশে এক বছরে প্রজননক্ষম হয় এবং ছোট ও অগভীর পুকুর-ডোবায় চাষের উপযোগী; বাংলাপিডিয়া জানায়, অন্যান্য মাছের সঙ্গে মিশ্রচাষের জন্যও এটি সুপারিশকৃত।

কলাম লেখক মেনে নিয়েছেন, সরপুঁটি হয়তো ইলিশের মতো স্বাদ বা মর্যাদা বহন করে না, তবে তাঁর ভাষায় এটি স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য, সস্তা ও পুষ্টিকর, তাই বিকল্প হিসেবে একে অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। তাঁর যুক্তি, পান্তার সঙ্গে সরপুঁটি পরিবেশন ঐতিহ্যের অবমাননা নয়, বরং ঐতিহ্যের সঙ্গে বাস্তবতার সমন্বয়; ঐতিহ্য মানে নির্দিষ্ট কোনো খাবার নয়, উৎসবের আনন্দ ও সবার অংশগ্রহণই আসল।

বৈষম্য এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে লেখকের প্রস্তাব


প্রফেসর এই ঘটনায় চরম আয়বৈষম্যের ছাপ দেখেছেন। তিনি লিখেছেন, একটি শ্রেণি হাজার হাজার টাকা খরচ করে ইলিশ কিনে বৈশাখ উদযাপন করছে, অথচ আরেকটি বড় অংশের মানুষের পক্ষে পান্তার সঙ্গে একটি সাধারণ মাছ জোটানোও কঠিন। এই বৈষম্য শুধু অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক বিভাজনও তৈরি করছে, আর সবার উৎসব বৈশাখ ধীরে ধীরে শ্রেণিভিত্তিক হয়ে পড়ছে। এই দৃষ্টিতে, তাঁর মতে, "ইলিশ নেই, সরপুঁটি আছে" কথাটিকে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবেও দেখা যায়: উৎসবের আনন্দ দামি খাবারের ওপর নয়, আন্তরিকতা, অংশগ্রহণ ও সাম্যের ওপর নির্ভর করে, আর সরপুঁটি দিয়েও যে আয়োজন সবাইকে এক করতে পারে, সেটিই বৈশাখী চেতনার প্রতিফলন।

কী করা দরকার, সে বিষয়েও তিনি নিজের মত তুলে ধরেছেন। ইলিশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ চাই: জাটকা নিধন বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ, নদীদূষণ রোধ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ। বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে হবে, যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো না যায়। তাঁর মতে, বিকল্প মাছের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে উৎসাহ দিলে সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা হবে। তিনি লিখেছেন, হয়তো আগামী দিনের বৈশাখে পান্তার সঙ্গে ইলিশের বদলে থাকবে নানা দেশীয় মাছ, ভর্তা আর গ্রামীণ খাবারের সমাহার, তাতে ফিরে আসবে "হারিয়ে যাওয়া শিকড়ের গন্ধ"; কারণ বৈশাখ মানে শুধু ইলিশ খাওয়া নয়, বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব।

ছবি: Moheen Reeyad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ইউএনবি (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও দৈনিক ইত্তেফাক), দ্য ডেইলি অবজারভার, দ্য ডেইলি স্টার, দেশ রূপান্তর, বাংলাপিডিয়া (এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)