সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে চার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা

২০২৬ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ঢাকা, গণ, জগন্নাথ ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যতের জন্য বৃক্ষরোপণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা জরুরি।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে চার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা
পরিবেশ

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের পরদিন, ২০২৬ সালের ৬ জুন জাগো নিউজ দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশ-ভাবনা প্রকাশ করে। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামিম রেজার সংগ্রহ করা এই মতামতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃক্ষরোপণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। লেখাটির মূল কথা ছিল, প্রকৃতি ও পরিবেশের সংকট কোনো একক গোষ্ঠী বা দেশের নয়, সমগ্র মানবজাতির; আর বসবাসযোগ্য পৃথিবীর জন্য দূষণমুক্ত পরিবেশ দরকার।

২০২৬ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবস


জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব পরিবেশ দিবস ১৯৭৩ সাল থেকে প্রতিবছর পালিত হয় এবং প্রতিবছর ১৫০টিরও বেশি দেশ এতে অংশ নেয়। ইউএনইপি ২০২৪ সালের জুনে জানায়, ২০২৬ সালের ৫ জুনের আয়োজনের আয়োজক দেশ আজারবাইজান এবং সে বছরের দিবসের মূল মনোযোগ জলবায়ু পরিবর্তন।

বাংলা ট্রিবিউন ৫ জুন জানায়, বাংলাদেশে দিবসটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয় এবং এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে পরিবেশবিদদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, বন্যা ও খরা দেশের পরিবেশ, কৃষি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন আলোচনা সভা, র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বনপথ। ছবি: Nasir Khan Saikat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বনপথ। ছবি: Nasir Khan Saikat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবী


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিসা জামান বনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের মনে রাখবে না আমরা কত দ্রুত উন্নয়ন করেছি বলে। তারা মনে রাখবে উন্নয়নের পথে আমরা তাদের জন্য কেমন পৃথিবী রেখে গেছি।’ তার মতে, পৃথিবী মানুষের কাছে নিখুঁত সমাধান চায় না; চায় মানুষ যেন মনে রাখে, প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রতিধ্বনি ভবিষ্যতের কোনো নদী, বন কিংবা শিশুর জীবনে গিয়ে পৌঁছায়।

বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য কেন জরুরি


গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদের শিক্ষার্থী জ্যোতির্ময় কুন্ডু বলেন, গাছ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে; এতে গ্রিনহাউস গ্যাস কমে ও বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হয়। তিনি বলেন, গাছ মাটির ক্ষয় রোধ করে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।

জীববৈচিত্র্য নিয়ে তার বক্তব্য, বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে, খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ায়। ‘তাই বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ একটি টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,’ বলেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের আরএএফ অ্যালকনবারিতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীরা চারা রোপণ করছে। ছবি: Jason Cochran, U.S. Air Force / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
যুক্তরাজ্যের আরএএফ অ্যালকনবারিতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীরা চারা রোপণ করছে। ছবি: Jason Cochran, U.S. Air Force / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
বাগেরহাটে সুন্দরবনের করমজল এলাকার ম্যানগ্রোভ বন। ছবি: Shahid BDWiki / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাগেরহাটে সুন্দরবনের করমজল এলাকার ম্যানগ্রোভ বন। ছবি: Shahid BDWiki / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির দায়িত্ব


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাজিয়াত আক্তার বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় ভূমিকা সচেতনতা তৈরি। তার মতে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও পরিবেশবিষয়ক সেমিনার শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা দেয়। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন বসানো ও বর্জ্য আলাদা করার ব্যবস্থা দূষণ কমাতে পারে; বিদ্যুৎ ও পানির অপচয় রোধ, সৌরশক্তির ব্যবহার এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার উদ্যোগও নেওয়া যায়। তিনি বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে কাজ করলে পরিবেশ সংরক্ষণে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থী মো. সিদরাতুল মুনতাহা বলেন, ‘পরিবেশ শুধু আমাদের চারপাশ না, এটি আমাদের ভবিষ্যতের নিঃশ্বাস।’ তার মতে, গাছ কাটা মানে এক টুকরো জীবন হারানো, আর নদী, মাটি ও বাতাস মানুষের অসচেতনতার ভারে ক্লান্ত। তবে ছোট ছোট সচেতনতাই বড় পরিবর্তনের শুরু হতে পারে: একটি গাছ লাগানো, প্লাস্টিক কম ব্যবহার করা কিংবা প্রকৃতিকে ভালোবাসা। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে তিনি সবুজ পৃথিবী গড়ার দায়িত্ব সবার বলে প্রতিজ্ঞা নেওয়ার আহ্বান জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সোনালু গাছ ও ঝরে পড়া ফুল। ছবি: Tooodle / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সোনালু গাছ ও ঝরে পড়া ফুল। ছবি: Tooodle / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Nasir Khan Saikat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি), বাংলা ট্রিবিউন

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)