সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

খাবারের সংকটে মিরসরাইয়ে পাহাড় ছেড়ে লোকালয়ে অজগর, আটকা পড়ছে ফসলের জালে

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এক বছরে ১৫টির বেশি অজগর লোকালয়ে ঢুকে আটকা পড়ে, বেশিরভাগই ফসল রক্ষার জালে। বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আবাস সংকোচন ও খাবারের সংকটই এর কারণ; উদ্ধার হওয়া সব অজগর বনে অবমুক্ত করা হয়।

খাবারের সংকটে মিরসরাইয়ে পাহাড় ছেড়ে লোকালয়ে অজগর, আটকা পড়ছে ফসলের জালে
পরিবেশ

আবাস সংকুচিত হওয়া এবং খাবারের সংকটের কারণে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় পাহাড় থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে লোকালয়ে নেমে আসছিল অজগরসহ নানা প্রজাতির সরীসৃপ, আর সেখানে এসে আটকা পড়ছিল অনেকে। ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর জাগো নিউজ ২৪ এই খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের এক বছরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৫টির বেশি অজগর লোকালয়ে ঢুকে আটকা পড়ে। এদের বেশিরভাগ আটকা পড়ে পাহাড়ের কাছের কৃষিজমিতে ফসল রক্ষার জন্য টানানো জালে। শুধু ২০২৪ সালেই করেরহাট ইউনিয়নে আটকা পড়ে তিনটি অজগর। বন বিভাগের স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি অজগরই পাহাড়ি বনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মিরসরাইয়ে ফসলের জালে আটকা অজগর


প্রতিবেদনের আগের সবশেষ ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর। সেদিন উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘী এলাকায় একটি বাড়ির আঙিনায় জালে জড়িয়ে থাকা ১২ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করেন ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিমের সদস্যরা। সাপটি অক্ষত ছিল। একই ইউনিয়নে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ মহামায়ার বনে সেটিকে অবমুক্ত করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর করেরহাট ইউনিয়নের ছত্তরুয়া এলাকা থেকে ১৩ ফুট লম্বা আরেকটি অজগর উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেন করেরহাট রেঞ্জের কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনে বর্ণিত ঘটনাগুলোর ধরন একই রকম। অজগরগুলো গভীর বনে নয়, পাওয়া গেছে পাহাড়ের কাছের কৃষিজমিতে আর মানুষের বসতবাড়ির আঙিনায়, আর বেশিরভাগই আটকা পড়েছে ফসল রক্ষার জন্য টানানো জালে। একবার আটকা পড়ার পর সাপগুলো আর ছুটতে পারেনি; মানুষ সেগুলো দেখতে পেয়ে উদ্ধারকারী দল বা বন বিভাগকে খবর না দেওয়া পর্যন্ত সেখানেই পড়ে ছিল।

জাগো নিউজের অনুসন্ধানে জানা যায়, আগের দেড় বছরে মিরসরাইয়ে পাঁচ শতাধিক সাপ লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এর মধ্যে ১৬৫টি সাপ লোকালয় থেকে উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেন বন বিভাগ ও রেসকিউ টিমের সদস্যরা। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত প্রাণীবিদদের ভাষ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সরীসৃপের বিচরণ এলাকায় দিন দিন খাদ্যের পাশাপাশি পানির সংকটও দেখা দিচ্ছিল। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ঝিরি ও ঝরনা বছরের বেশিরভাগ সময় শুকিয়ে থাকছিল। তাঁদের মতে, খাদ্যের খোঁজে লোকালয়ে ঢুকে অনেক প্রাণী প্রাণও হারাচ্ছিল।

এক বছরে দেড় শতাধিক সাপ উদ্ধার


সাপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশের (ডব্লিউএসআরটিবিডি) মিরসরাই শাখার তথ্যমতে, আগের এক বছরে মিরসরাইয়ে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সাপের সংখ্যা ছিল ১৫০টির বেশি, যার মধ্যে অজগর ১৫টি। বিষধর সাপের মধ্যে ছিল পদ্ম গোখরো, বড় কৃষ্ণ কালাচ, শঙ্খিনী ও সবুজ বোড়া। বিষহীন সাপের মধ্যে ছিল অজগর, দাঁড়াশ, দুধরাজ, ঘরগিন্নি, লাউডগা, হেলে ও বেত আঁচড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতি। সবচেয়ে বেশি সাপ উদ্ধার হয় তিনটি ইউনিয়নে: করেরহাট, জোরারগঞ্জ ও দুর্গাপুর।

বন বিভাগের মিরসরাই রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহানশাহ নওশাদ বলেন, খাবারের অভাবে অজগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ বিভিন্ন সময় পাহাড়ের কাছের কৃষিজমিতে এবং মানুষের বসতবাড়ির আঙিনায় এসে আটকা পড়ছে। তাঁর হিসাবে, আগের এক বছরে মিরসরাইয়ে ১৫টি অজগর লোকালয়ে ঢুকেছে, আর স্নেক রেসকিউ টিমের সহযোগিতায় সবগুলোকেই পাহাড়ি বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ উদ্ধারকারী ও চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি মো. নাইমুল ইসলাম নিলয় জানান, জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য তাঁরা সাপ উদ্ধারের কাজ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিজেদের খরচে করেন। এ কাজে বন বিভাগ বা সরকারের কাছ থেকে কোনো সাহায্য পান না; সহযোগিতা পেলে কাজ আরও দ্রুত হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাকিরুল ফরিদ জানান, উদ্ধার করা অজগর ও অন্যান্য সাপের দেহে কোনো ক্ষত বা বড় ধরনের আঘাত ছিল না। সাধারণত কোনো প্রাণী আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়; এগুলোর আঘাত না থাকায় চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি।

কেন পাহাড় থেকে নেমে আসছিল অজগর


প্রতিবেদনে কারণগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রাণীগুলো নিয়ে যাঁরা কাজ করেন সেই কর্মকর্তারাই। রেঞ্জ কর্মকর্তা এর কারণ হিসেবে খাবারের অভাবের কথা বলেছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ব্যাখ্যা, যেকোনো বন্যপ্রাণীর আবাস ঝুঁকির মুখে পড়লে এবং খাবারের সংকট দেখা দিলে তারা লোকালয়ে বেরিয়ে আসে। অজগরের ক্ষেত্রেও আবাস সংকোচনের ফলে খাবারের সংকট হচ্ছে; তাই তারা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে খাবারের খোঁজে জনবসতি এলাকায় আসছে, আর এই পথে অনেক সময় লোকালয়ে ঢুকে পড়ে আর বের হতে পারে না। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত প্রাণীবিদেরা এর সঙ্গে যোগ করেছেন পাহাড়ি ঝিরি শুকিয়ে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বৃহত্তর প্রভাবের কথা।

একই এলাকা থেকে আগের প্রতিবেদনও একই দিকে ইঙ্গিত করে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, চট্টগ্রাম বন বিভাগ মহামায়া হ্রদের পাড়ে ৬০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির দেড় লাখ গাছ লাগিয়েছে। দ্রুত নগরায়ণের ফলে আবাস হারিয়ে দেশে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ায় পাখির আবাস গড়ে তুলতে এই বনায়ন করা হয়। লাগানো গাছের মধ্যে ছিল ঢাকি জাম, ভাট, হরীতকী, বহেরা, আমলকী, ডুমুর ও কদম; প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৬০ লাখ টাকা। পরিবেশকর্মী জাহাঙ্গীর কবির টুটুল পত্রিকাটিকে বলেন, বন উজাড়ের কারণে পাখিসহ বন্যপ্রাণী আশপাশের এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। মহামায়া হ্রদের দায়িত্বেও থাকা মিরসরাই রেঞ্জ কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেন, পাঁচ বছরের মধ্যে এলাকাটি নানা প্রজাতির পাখিতে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম কায়সার জানান, গাছগুলো বড় হলে শিকারি প্রাণী ও শিকারিদের হাত থেকে পাখিদের রক্ষায় এলাকাটি বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হবে।

অজগরের খাদ্যতালিকাই বলে দেয় কৃষিজমি কেন তাকে টানে। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া জানায়, বাংলাদেশের অজগর স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি ও সরীসৃপ খায়; তবে তাদের পছন্দ ইঁদুর, খরগোশ, ছাগল, ভেড়া, শিয়াল ও হরিণের মতো স্তন্যপায়ী প্রাণী। শিকারকে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মারে তারা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের সাপের দংশন বিষয়ক নির্দেশিকাও ঘরের ভেতরে গবাদিপশু, বিশেষ করে মুরগি না রাখার পরামর্শ দেয়, কারণ এগুলো বড় সাপের সম্ভাব্য শিকার এবং এগুলো ইঁদুরও টানে, যে ইঁদুর অনেক সাপের খাবার।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মহামায়া হ্রদ, ২০১৪ সালের অক্টোবরে তোলা। ছবি: Hasib / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মহামায়া হ্রদ, ২০১৪ সালের অক্টোবরে তোলা। ছবি: Hasib / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

মিরসরাই: পাহাড়, হ্রদ আর কৃষিজমি


মিরসরাই চট্টগ্রাম জেলার একটি উপজেলা। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এর আয়তন প্রায় ৪৮২.৮৮ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর উপজেলা, দক্ষিণে সীতাকুণ্ড উপজেলা ও বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ফটিকছড়ি উপজেলা এবং পশ্চিমে সোনাগাজী ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন, যার মধ্যে আছে করেরহাট, জোরারগঞ্জ, দুর্গাপুর, খৈয়াছড়া, হিঙ্গুলী ও ওয়াহেদপুর। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে এখানকার জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭১৬।

জাগো নিউজের প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী, উপজেলার অনেক কৃষিজমি পাহাড়ের কাছাকাছি, ফলে ফসলের মাঠ আর বন সেখানে মিলেমিশে আছে। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে এখানে আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, যার অংশ ৩৮.৯৩ শতাংশ। প্রধান ফসল ধান, ডাল, আলু, বেগুন, অন্যান্য সবজি ও বাঁশ; প্রধান ফল আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, লিচু ও আনারস। প্রধান নদী ফেনী, আর উল্লেখযোগ্য খালের মধ্যে আছে মহামায়া, ইছাখালী, ডোমখালী, হিঙ্গুলী ও মায়ানী। বাংলাপিডিয়া উপজেলার উল্লেখযোগ্য স্থাপনার তালিকায় করেরহাট ফরেস্ট রেঞ্জের নাম রেখেছে; সেপ্টেম্বরের উদ্ধার অভিযানটি চালিয়েছিলেন এই রেঞ্জেরই কর্মকর্তারা।

অক্টোবরে উদ্ধার হওয়া অজগরটিকে যে মহামায়া হ্রদে অবমুক্ত করা হয়, সেটি দুর্গাপুর ইউনিয়নে। হ্রদটি মহামায়া সেচ প্রকল্পের জলাধার। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে, নির্মাণ শেষ হয় ২০০৯ সালে এবং ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর এর উদ্বোধন হয়; ব্যয় হয় প্রায় ২৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটি প্রায় ৩ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে সেচের পানি জোগায়, আর হ্রদটিকে কাপ্তাই হ্রদের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ বলা হয়। প্রতিবেদনে অবমুক্তির জায়গাটিকে মহামায়ার বন বলা হয়েছে; ওপরে বর্ণিত পাখিদের জন্য বনায়নও হয়েছে এই হ্রদের পাড়েই।

মিরসরাইয়ের দুর্গাপুর ইউনিয়নে মহামায়া সেচ বাঁধের রেগুলেটর, ২০১৮ সালের আগস্টে তোলা। ছবি: Moheen Reeyad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মিরসরাইয়ের দুর্গাপুর ইউনিয়নে মহামায়া সেচ বাঁধের রেগুলেটর, ২০১৮ সালের আগস্টে তোলা। ছবি: Moheen Reeyad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

অজগর: দেশের সবচেয়ে বড় সাপ


অজগর বড় আকারের বিষহীন সাপ। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশে দুই প্রজাতির অজগর আছে: রক পাইথন বা অজগর এবং রেটিকুলেটেড পাইথন। রক পাইথন দেশের সবচেয়ে বড় সাপ, লম্বায় প্রায় ৫.৭ মিটার পর্যন্ত হয়। দুই প্রজাতিই দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বের মিশ্র চিরসবুজ বনে বাস করে, আর রক পাইথন সুন্দরবনেও পাওয়া যায়। অজগর নদী, হাওর ও বিলেও থাকে; সেখানে সাঁতার কাটে এবং প্রায়ই পাড়ের কাছে অবস্থান করে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এদের প্রজননকাল, এর তিন থেকে চার মাস পর ডিম পাড়ে। স্ত্রী অজগর ডিমগুলো পেঁচিয়ে ধরে তা দেয়, তবে বাচ্চা ফোটার পর আর যত্ন নেয় না। বাংলাপিডিয়া জানায়, অজগরের চামড়ার বাণিজ্যিক মূল্য আছে এবং দুই প্রজাতিই এখন দুর্লভ: বাংলাদেশে রক পাইথন মহাবিপন্ন এবং রেটিকুলেটেড পাইথন বিপন্ন।

আন্তর্জাতিক তথ্যসূত্রে বার্মিজ পাইথন (Python bivittatus) প্রজাতিটিকে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের স্থানীয় প্রাণী হিসেবে দেখানো হয়; এর বিস্তার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে, পূর্ব ভারত, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডসহ। ২০০৯ সাল পর্যন্ত একে ভারতীয় অজগর Python molurus-এর উপপ্রজাতি ধরা হতো; বাংলাপিডিয়া ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী আইনের তফসিলে রক পাইথনের জন্য এই বৈজ্ঞানিক নামই ব্যবহার করা হয়েছে। বুনো বার্মিজ পাইথন সাধারণত প্রায় ৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়, গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ৩.৭ মিটার। এরা মূলত নিশাচর; বাচ্চারা গাছে ওঠে, আর বড়রা বেশিরভাগ সময় মাটিতে থাকে। এরা দক্ষ সাঁতারু, পানির নিচে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। স্ত্রী অজগর একবারে ১২ থেকে ৩৬টি ডিম পাড়ে এবং পেশি কাঁপিয়ে ডিমে উষ্ণতা দেয়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বৈশ্বিক লাল তালিকায় প্রজাতিটি সংকটাপন্ন (ভালনারেবল) হিসেবে চিহ্নিত; আবাস হারানো ও অতিরিক্ত আহরণকে এর হুমকি বলা হয়েছে। বন্যপ্রাণীর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী সনদ সাইটেসের পরিশিষ্ট-২-এও এটি তালিকাভুক্ত।

অজগর শিকারকে পেঁচিয়ে মারে এবং আস্ত গিলে খায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, খুব বড় অজগর, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার রেটিকুলেটেড পাইথন, কখনো কখনো মানুষকে আক্রমণ করেছে, এমনকি গিলেও ফেলেছে। এমন ঘটনা খুবই বিরল; আর মিরসরাইয়ের কর্মকর্তারা সমস্যাটি বর্ণনা করেছেন উল্টো দিক থেকে: আটকা পড়ছিল এবং ঝুঁকিতে ছিল অজগরগুলোই।

আইনে যা বলা ছিল


২০২৪ সালের অক্টোবরে কার্যকর আইন ছিল বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২। এ আইনের তফসিল-১, অর্থাৎ রক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকায় বোয়িডি গোত্রের অধীনে রক পাইথন (Python molurus) ও রেটিকুলেটেড পাইথন (Python reticulatus) দুটিই আছে। আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী, আইনের অধীনে লাইসেন্স বা পারমিট ছাড়া কোনো ব্যক্তি কোনো বন্যপ্রাণী শিকার করতে পারবেন না; আর আইনে শিকারের সংজ্ঞায় বন্যপ্রাণীকে হত্যা করা, ধরা বা বিষ প্রয়োগ করাও অন্তর্ভুক্ত। ৩৯ ধারা অনুযায়ী ৬ ধারা লঙ্ঘনের শাস্তি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড; একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।

মানুষের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো প্রাণীর ক্ষেত্রে কী করতে হবে, আইনে তারও বিধান আছে। ৮ ধারা অনুযায়ী কোনো বন্যপ্রাণী মানুষের জীবন বা গৃহপালিত পশু ও ফসলসহ সম্পদের জন্য হুমকি হলে প্রধান ওয়ার্ডেন, অতিরিক্ত প্রধান ওয়ার্ডেন বা ওয়ার্ডেন কারণ উল্লেখ করে প্রাণীটিকে অপসারণ, হত্যা বা ক্ষেত্রমতো পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেবেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে উপদেষ্টা বোর্ড ও বৈজ্ঞানিক কমিটিতে প্রতিবেদন দেবেন। ৯ ধারা বলছে, ধরা পড়া, উদ্ধার হওয়া বা জব্দ করা কোনো বন্যপ্রাণীকে খাঁচায় বা আবদ্ধ অবস্থায় রাখা তার জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলে তাকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। ৩০ ধারায় সরকার আহত, জব্দ করা, বাজেয়াপ্ত, পরিত্যক্ত বা দান করা বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা, খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তার জন্য উদ্ধার কেন্দ্র স্থাপন করতে পারে এবং সেখান থেকে প্রাণী প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার নির্দেশিকা তৈরি করতে পারে। মিরসরাইয়ের ঘটনাগুলো ছিল এই ধরনের: সাপগুলোকে জাল থেকে ছাড়িয়ে বনে অবমুক্ত করা হয়, বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মীরা ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারীরা একসঙ্গে সে কাজ করেন।

মিরসরাই ও সারা দেশে সাপের দংশন


অজগর বিষধর নয়, তবে একই প্রতিবেদনে উপজেলায় বিষধর সাপের ক্ষতির চিত্রও উঠে আসে। মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের প্রথম ১০ মাসে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় প্রায় চারশো মানুষ সাপের দংশনের শিকার হন। সবশেষ মারা যায় জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী।

জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) অধীন জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (এনসিডিসি) "ন্যাশনাল সার্ভে অন অ্যানুয়াল ইনসিডেন্স অ্যান্ড এপিডেমিওলজি অব স্নেকবাইট ইন বাংলাদেশ" শীর্ষক জরিপ ২০২৩ সালের ১৮ জুন প্রকাশিত হয়। জরিপে হিসাব করা হয়, ২০২১-২২ সালে দেশে বছরে প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার মানুষ সাপের দংশনের শিকার হন এবং তাঁদের মধ্যে ৭ হাজার ৫১১ জন মারা যান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. রোবেদ আমিন ২০২৩ সালের আগস্টে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, জরিপটি গ্রাম ও শহর দুই এলাকাকে নিয়ে ক্লাস্টারভিত্তিতে করা হয়েছে। এর আগে ২০২০ সালে স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে বছরে প্রায় ৬ লাখ দংশন ও ৬ হাজার মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল।

একই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সাপের দংশন ব্যবস্থাপনার জাতীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ১০০ প্রজাতির সাপ আছে, যার ৩৭টি বিষধর: ১৬টি সামুদ্রিক সাপ, ৩ ধরনের গোখরো, ৫ ধরনের কালাচ বা ক্রেইট, ২ ধরনের প্রবাল সাপ, ৬ ধরনের সবুজ বোড়া এবং একটি প্রকৃত ভাইপার, চন্দ্রবোড়া বা রাসেলস ভাইপার। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নেন ২০২০ সালে ৭৫৫ জন, ২০২১ সালে ৮৬৪ জন, ২০২২ সালে ১ হাজার ৪৫৭ জন এবং ২০২৩ সালের প্রথম ছয় মাসে ৬১২ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাপের দংশন বিষয়ক তথ্যপত্রে, ২০২৪ সালে যে রূপে ছিল, হিসাব করা হয়েছে যে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ সাপের দংশনের শিকার হন, যার মধ্যে ১৮ লাখ থেকে ২৭ লাখ ক্ষেত্রে শরীরে বিষ ছড়ায়। প্রতিবছর ৮১ হাজার ৪১০ থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮০ জন মানুষ সাপের দংশনে মারা যান, আর এর প্রায় তিন গুণ মানুষের অঙ্গহানি বা স্থায়ী প্রতিবন্ধিতা হয়। সংস্থাটি বলছে, কৃষিশ্রমিক ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। মানসম্মত অ্যান্টিভেনম সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা এবং এটি ডব্লিউএইচওর অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় আছে। ২০১৭ সালের জুনে ডব্লিউএইচও সাপের বিষক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের অবহেলিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগের তালিকায় তোলে, আর সংস্থার কৌশলের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সাপের দংশনে মৃত্যু ও প্রতিবন্ধিতা অর্ধেকে নামিয়ে আনা।

পদ্ম গোখরো (Naja kaouthia), মিরসরাইয়ে উদ্ধার হওয়া বিষধর প্রজাতিগুলোর একটি; প্রতীকী ছবি, মিরসরাইয়ে তোলা নয়। ছবি: Thomas Jaehnel / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
পদ্ম গোখরো (Naja kaouthia), মিরসরাইয়ে উদ্ধার হওয়া বিষধর প্রজাতিগুলোর একটি; প্রতীকী ছবি, মিরসরাইয়ে তোলা নয়। ছবি: Thomas Jaehnel / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

২০২৪ সালের আগের মাসগুলোতে: রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক ও অজগর


মিরসরাইয়ের প্রতিবেদনটি প্রকাশের কয়েক মাস আগে রাসেলস ভাইপার নিয়ে দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। ২০২৪ সালের জুনে প্রথম আলো জানায়, এই সাপের ভয়ে বিষহীন সাপসহ অনেক সাপ মেরে ফেলা হচ্ছে, আর চট্টগ্রামে একটি অজগরকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী পত্রিকাটিকে বলেন, যেকোনো সাপ দেখলেই মারা হচ্ছে এবং এভাবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে; সাপ ইঁদুর খায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহসান বলেন, যে সাপই কামড়াক, রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে; আর সাপ পেলেই মেরে ফেলাকে তিনি খুব ভয়ের খবর বলে মন্তব্য করেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সাপ মারাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ উল্লেখ করে তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।

২০২৪ সালের ৬ জুলাই ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন জানায়, ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন থেকে প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি অজগর নেমে আসে চট্টগ্রাম জেলারই হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া মুরাদপুরের ডাক্তারপাড়ায়। স্থানীয়রা সেটিকে রাসেলস ভাইপার ভেবে আতঙ্কিত হন, কেউ কেউ লাঠি দিয়ে মারার চেষ্টাও করেন। ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ দলের একটি টিম গাছের ডাল থেকে সাপটি উদ্ধার করে এবং স্থানীয় বন বিভাগের সহায়তায় স্থানীয় একটি বনে অবমুক্ত করে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাপ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক অনিরুদ্ধ ঘোষ চ্যানেলটিকে বলেন, রাসেলস ভাইপার বা যেকোনো সাপ দেখলে না মেরে উদ্ধারকারী দলকে খবর দিতে হবে, আর সাপে কাটা রোগীকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে হবে।

নিরাপদ থাকতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা


মিরসরাইয়ের অজগরের ঘটনাগুলোতে কাউকে দংশনের খবর ছিল না, তবে উপজেলার সাপে কাটার পরিসংখ্যান দেখায়, পাহাড়ঘেঁষা জমির কৃষকদের জন্য সরকারি ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শ কতটা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের "গাইডলাইনস ফর দ্য ম্যানেজমেন্ট অব স্নেকবাইটস" (দ্বিতীয় সংস্করণ, ২০১৬) বলছে, বেশিরভাগ দংশন হয় কৃষিশ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পায়ের নিচের অংশে, গোড়ালিতে ও পায়ের পাতায়। ঝুঁকি কমাতে নির্দেশিকার পরামর্শ:

  • এলাকার সাপ চিনে রাখুন; কোথায় থাকে, দিনের কোন সময়ে ও কোন মৌসুমে বেশি সক্রিয় হয়, তা জানুন। বৃষ্টির পরে, বন্যার সময়, ফসল কাটার মৌসুমে এবং রাতে বিশেষ সতর্ক থাকুন।
  • কখনো সাপ ধরবেন না, ভয় দেখাবেন না বা আক্রমণ করবেন না; সাপকে আটকে ফেলা বা কোণঠাসা করার চেষ্টা করবেন না, পালানোর সুযোগ দিন।
  • ঘরের ভেতরে গবাদিপশু, বিশেষ করে মুরগি রাখবেন না; খাবার ইঁদুরমুক্ত পাত্রে রাখুন, কারণ ইঁদুর ও হাঁস-মুরগি সাপকে টানে।
  • ভালোভাবে গুঁজে দেওয়া মশারির নিচে, সম্ভব হলে উঁচু খাটে ঘুমান।
  • বাড়ির আশপাশের আবর্জনা, উইয়ের ঢিবি ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখুন, ঘাস ছোট করে ছাঁটুন।
  • রাতে বাইরে হাঁটার সময় আলো ব্যবহার করুন এবং লাঠি দিয়ে সামনের মাটিতে খোঁচা দিয়ে এগোন; অন্ধকারে বা ঝোপঝাড়ে জুতা বা বুট ও লম্বা প্যান্ট পরুন।

প্রাথমিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে একই নির্দেশিকা বলছে, প্রচলিত বেশিরভাগ পদ্ধতি উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি করে: দংশনের জায়গা কাটা বা খোঁচানো, মুখ দিয়ে বিষ চুষে বের করা, সাপের পাথর, শক্ত করে বাঁধন বা টর্নিকেট, বৈদ্যুতিক শক এবং রাসায়নিক, ভেষজ বা বরফ লাগানো এড়িয়ে চলতে হবে, আর ভেষজ চিকিৎসার জন্য কখনোই চিকিৎসায় দেরি করা যাবে না। নির্দেশিকার সুপারিশ করা ধাপগুলো:

  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে আশ্বস্ত করুন; বিষধর সাপের প্রায় অর্ধেক দংশনে কোনো বিষ ঢোকে না, আর গুরুতর বিষক্রিয়া সাধারণত এত ধীরে বাড়ে যে চিকিৎসার সময় পাওয়া যায়।
  • রোগীকে আরামদায়ক ও নিরাপদ অবস্থায় শুইয়ে দিন, বমির আশঙ্কা থাকলে সম্ভব হলে বাঁ কাত করে; দংশিত হাত বা পা স্প্লিন্ট বা স্লিং দিয়ে স্থির রাখুন, কারণ যেকোনো নড়াচড়া বিষ ছড়িয়ে দেয়।
  • ক্ষতস্থানে কাটা, ঘষা, জোরে পরিষ্কার করা, মালিশ বা ভেষজ ও রাসায়নিক লাগানো থেকে বিরত থাকুন।
  • যত দ্রুত সম্ভব, নিরাপদে ও আরামে রোগীকে হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান।
  • সাপ মারার চেষ্টা করবেন না; সাপটি আগে থেকেই মারা পড়ে থাকলে খালি হাতে না ধরে শনাক্তের জন্য সঙ্গে নিন, অথবা কাছ থেকে ছবি তুলে রাখুন।

ছবি: TimVickers / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাপিডিয়া (বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি), বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ (বাংলাদেশ আইন, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, প্রথম আলো, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)