বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে রাজশাহীর পবা উপজেলার তালুকধর্মপুর এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে 'নিরাপদ খাদ্য ও এগ্রোইকোলজি মেলা' হয়েছে। 'দেশি বীজ, প্রকৃতিবান্ধব কৃষি, পুষ্টিসমৃদ্ধ আগামীর' প্রত্যয়ে তালুকধর্মপুর নারী উন্নয়ন সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশন এর আয়োজন করে।
মেলায় নিরাপদ খাদ্য, দেশি বীজ, কৃষিবৈচিত্র্য ও জৈব বালাই ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রদর্শনী ছিল। স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, কৃষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং কৃষক, তরুণ ও ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক শিল্পী খাতুন বলেন, তাঁরা দেশি বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষিবৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখছেন। তাঁর ভাষায়, "দেশি বীজ আমাদের সম্পদ ও অধিকার।" নারী কৃষকদের আইনগত স্বীকৃতি ও এগ্রোইকোলজিভিত্তিক কৃষিনীতিও জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
এগ্রোইকোলজি চর্চাকারী কৃষাণী রাকিবা খাতুন জানান, তাঁরা জৈব বালাই ব্যবস্থাপনায় নানা জাতের শাকসবজি চাষ করেন; এতে উৎপাদন খরচ কমে, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা পায় এবং পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত হয়। বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম বলেন, টেকসই খাদ্যব্যবস্থার জন্য কৃষকের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় সম্পদভিত্তিক কৃষির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রয়োজন।
বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান এগ্রোইকোলজির প্রসারে তরুণদের নেতৃত্বের কথা বলেন। অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় বীজ সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিতে রাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও তার কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানান।
এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য 'আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি' সামনে রেখে আয়োজকেরা নিরাপদ খাদ্য, কৃষিবৈচিত্র্য ও পরিবেশবান্ধব কৃষিকে ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদন: এগ্রিকেয়ার২৪ ডেস্ক
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)