২০২৫ সালের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে শর্তসাপেক্ষে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয়; প্রতি কেজি ইলিশের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ধরা হয় ১২ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার, টাকায় ১ হাজার ৫২৫ টাকা। দেশের বাজারে ইলিশ যখন অনেকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে, তখন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর জাগো নিউজ ২৪ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে যা ছিল
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখার উপসচিব এস এইচ এম মাগফুরুল হাসান আব্বাসীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইলিশ শর্তসাপেক্ষে রপ্তানির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগ্রহী রপ্তানিকারকদের ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়।
আবেদনের সঙ্গে যেসব কাগজ জমা দিতে বলা হয়:
- হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স
- রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (ইআরসি)
- আয়কর ও ভ্যাট সনদ
- বিক্রয় চুক্তি
- মৎস্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আমন্ত্রণ ছাড়া যাঁরা আগে আবেদন করেছিলেন, তাঁদেরও নতুন করে আবেদন করতে হবে।

দামের তুলনা নিয়ে সমালোচনা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে লেখেন, দেশের বাজারে ইলিশের যে দাম, তার চেয়ে কম দামে ভারতে ইলিশ পাঠানো হচ্ছে, যা তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ কেউ ইলিশের বাজারের ভিডিও দিয়ে লেখেন, দেশে চড়া দামে মানুষ কিনতে না পারলেও ভারতে ইলিশ যাচ্ছে তুলনামূলক কম দামে। আবার অনেকের মন্তব্য ছিল, কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকার মতো দামে দেশের বাজারে ইলিশ পাওয়া গেলে তাঁরা একসঙ্গে বেশি করে কিনতেন।
মৎস্য উপদেষ্টার ব্যাখ্যা
১৩ সেপ্টেম্বর, শনিবার, বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদরে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে মতবিনিময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে এবং ভারতের বারবার অনুরোধে দুর্গাপূজায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলার পর এই সিদ্ধান্ত হয় বলেও জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা বারবারই বলেছি, দেশের চাহিদাকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের অনুরোধে কিছু ইলিশ পাঠাতে হচ্ছে। তবে এবারে চাহিদার তুলনায় অনেক কম এবং তুলনামূলক বেশি মূল্যে দেওয়া হচ্ছে।’ তাঁর ভাষ্য, এবার আগের তুলনায় কম পরিমাণে এবং বাড়ানো দামে রপ্তানি হবে।

পূজায় ইলিশ রপ্তানির প্রেক্ষাপট
ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ, ২০১৭ সালে এটি দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়। ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ ছিল। এরপর দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর বিশেষ অনুমতিতে সীমিত পরিমাণে ইলিশ রপ্তানি হয়ে আসছে। পূজার সময় বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের তথ্যে, উৎসবের সময় ভারতের চাহিদা সাধারণত প্রায় ৫ হাজার টনে পৌঁছায়।
২০২৪ সালের দুর্গাপূজায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রথমে ৩ হাজার টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে শেষ পর্যন্ত ২ হাজার ৪২০ টন রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। সে তুলনায় ২০২৫ সালের অনুমোদিত পরিমাণ ছিল অনেক কম।

ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ইউএনবি, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ডেইলি স্টার, উইকিপিডিয়া (ইলিশ)





মন্তব্য
(০)