জলবায়ু পরিবর্তন ও নির্মাণকাজের চাপে দুধগঙ্গা নদী দুর্বল হয়ে পড়ায় ভারতের কাশ্মীরের শ্রীনগরের উঁচু এলাকার বহু পরিবার দিনের পর দিন পাইপের পানি পাচ্ছে না। ডাউন টু আর্থে এ নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন ইনশা শিরাজি (Insha Shirazi)।
বাগ-ই-মেহতাব ও পীর বাগের বাসিন্দারা জানান, পানি সরবরাহের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই, গ্রীষ্মে অবস্থা আরও খারাপ হয়, কখনো টানা চার দিন কলে পানি আসে না। পরিবারগুলো ট্যাংক ও ভূগর্ভের পানি তোলার হ্যান্ড পাম্প বসাচ্ছে, তাতে খরচ বাড়ছে। এক বাসিন্দা বলেন, যে পানি আসে তাও সব সময় পরিষ্কার থাকে না।
দুধগঙ্গা, স্থানীয় নাম চাজ কুল, ঝিলাম নদীর একটি উপনদী। প্রায় সাড়ে চার হাজার মিটার উচ্চতায় পীর পাঞ্জাল পর্বতের হিমবাহ থেকে জন্ম নিয়ে বুদগাম ও পুলওয়ামা হয়ে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পেরিয়ে নদীটি শ্রীনগরে পৌঁছায়। ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পীর পাঞ্জালের ১২২টি হিমবাহের আয়তন ১৯৮০ সালের ২৫.৭ বর্গকিলোমিটার থেকে ২০২০ সালে ১৫.৯ বর্গকিলোমিটারে নেমেছে; দক্ষিণমুখী এবং ৩,৮০০ থেকে ৪,০০০ মিটার উচ্চতার হিমবাহ সবচেয়ে দ্রুত সরে যাচ্ছে।
ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য ও ভূবিজ্ঞানী শাকিল রমশু (Shakil Romshoo) বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের লক্ষণ এখানে খুবই স্পষ্ট। চার-পাঁচ দশকে নদীর উজানে তুষারপাত কমেছে, শীত উষ্ণ হয়েছে। আগে শীতের বরফ এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ধীরে গলে গ্রীষ্মে পানি দিত, এখন প্রায়ই ফেব্রুয়ারি-মার্চেই গলে যায়; সঙ্গে আছে তীব্র বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা।
নির্মাণকাজ চাপ আরও বাড়িয়েছে। শ্রীনগরে নদীটি দুটি শাখায় ভাগ হতো; তিন দশকে বাতামালু শাখা ভবন, পার্ক ও বাসস্ট্যান্ডের নিচে চাপা পড়েছে, আর ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের বন্যায় পানি সেই নিচু পথ ধরেই এলাকা ডুবিয়েছিল। জম্মু-কাশ্মীর ক্লাইমেট অ্যাকশন গ্রুপের রাজা মুজাফফর ভাট সতর্ক করেছেন, মেঘভাঙা বৃষ্টি বন্যা ও দূষণ বাড়াতে পারে। জলশক্তি বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনবরিনা আনজুম জানান, শুকনো সময়ে প্রবাহ কমে যাওয়ায় সরবরাহে ইতিমধ্যে প্রভাব পড়েছে।
ছবি: Dvellakat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ




মন্তব্য
(০)