সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ঈদের পরদিনও উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনের পাশে পশুর বর্জ্য ও দুর্গন্ধ

ঈদুল আজহার পরদিন ২০২৬ সালের ২৯ মে উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনের পাশে উচ্ছেদ হওয়া পশুর হাটের বর্জ্য, গোবর ও কাদা পড়ে ছিল বলে জাগো নিউজ জানায়; স্থানীয়রা প্রভাবশালীদের যোগসাজশের অভিযোগ তুলে তদন্ত দাবি করেন, আর সিটি করপোরেশন আগেই জানিয়েছিল জায়গাটি ইজারা দেওয়া হয়নি।

ঈদের পরদিনও উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনের পাশে পশুর বর্জ্য ও দুর্গন্ধ
পরিবেশ

২০২৬ সালের ২৯ মে শুক্রবার, পবিত্র ঈদুল আজহার পরের দিনও রাজধানীর উত্তরায় উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনের পাশে পশুর বর্জ্য, গোবর ও কাদার স্তূপ পড়ে ছিল। ঈদ উপলক্ষে স্টেশনের পাশে যে পশুর হাট গড়ে উঠেছিল, জাগো নিউজ তাকে অবৈধ হাট বলে উল্লেখ করে। হাটটি উচ্ছেদ করা হলেও এলাকা তখনো পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। ওই দিন বিকেলে প্রকাশিত জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, হাট সরানোর একদিন পরও দুর্গন্ধ আর কাদার কারণে পথচারী ও মেট্রোরেলের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। এ বছর বাংলাদেশে ঈদুল আজহা পালিত হয় ২৮ মে বৃহস্পতিবার।

হাট সরানোর পরও বর্জ্য, গোবর ও কাদা


জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টরা আগে জানিয়েছিলেন, হাট সরানোর সঙ্গে সঙ্গেই এলাকা পরিষ্কার করা হবে। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দেরিতে পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন। কেউ পানি ছিটাচ্ছিলেন, আবার কোথাও হাঁটার পথের পাশে বর্জ্যের স্তূপ জমে ছিল।

প্রতিবেদনের ছবির ক্যাপশনে বলা হয়, ঈদের পরের দিন শুক্রবারও স্টেশনের পাশে পশুর বর্জ্য পড়ে ছিল এবং সেখানে অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। স্টেশনের নিচে গরুর গোবর পড়ে থাকার ছবিও প্রতিবেদনে ছাপা হয়। একই প্রতিবেদনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সরবরাহ করা একটি ছবিও ছিল, যার ক্যাপশনে বলা হয়, শুক্রবার উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনের পাশে ডিএনসিসি পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালায়।

দুর্গন্ধ আর কাদার কারণে চলাচল করতে গিয়ে অনেক পথচারী ও যাত্রী বিরক্তি প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করে পুরো এলাকা পরিষ্কার এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

পথচারী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ


জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলা স্থানীয়রা পরিস্থিতিকে "নৈরাজ্য" বলে আখ্যা দেন এবং অবৈধ পশুর হাট ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, জায়গাটি কোনোভাবেই পশুর হাটের নির্ধারিত স্থান ছিল না; বরং কিছু লোভী ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আর্থিক স্বার্থে সেখানে হাট বসিয়েছিলেন। এই অভিযোগ স্থানীয়দের; প্রতিবেদনে কারও নাম বলা হয়নি।

রুহুল আমিন নামের এক পথচারী জাগো নিউজকে বলেন, "রাস্তা দিয়ে হাঁটতেই নাক চেপে ধরতে হচ্ছে। চারদিকে তীব্র দুর্গন্ধ, তার ওপর কাদার কারণে চলাচলও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।"

হালিমুল নামের আরেক পথচারী বলেন, "এটি সম্পূর্ণ নৈরাজ্য। এখানে পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি ছিল না। কিছু লোভী মানুষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে টাকা কামানোর জন্য এটি করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত।" তিনি আরও বলেন, হাট বসানোর কারণে যেসব গাছপালা ও সবুজ এলাকা নষ্ট হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারের জন্য সেখানে অবিলম্বে গাছ লাগানো উচিত।

স্থানীয় বাসিন্দারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনের একটি অংশের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম সম্ভব নয়। চৌধুরী আলমাস নামের এক বাসিন্দা বলেন, "পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব ছিল না। তারা জড়িত ছিল, তাই তাদেরও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তির আওতায় আনা উচিত।"

স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধারের দাবি জানান। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে পুলিশের বা সিটি করপোরেশনের কোনো প্রতিক্রিয়া ছিল না। তবে ঈদের আগের কয়েক দিনে পুলিশ ও সিটি করপোরেশন এই জায়গা নিয়ে যা বলেছিল, তা নিচে তুলে ধরা হলো।

ঈদের আগে স্টেশনের নিচে পশু রাখা নিয়ে পুলিশের অভিযান


ঈদের দুই দিন আগে, ২৬ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠান। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বাংলা সংস্করণে সেদিন রাতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বছর রাজধানীর সবচেয়ে বড় কোরবানির পশুর হাট বসেছে উত্তরার দিয়াবাড়িতে। হাটে বিপুল পশুর সমাগম হওয়ায় বিক্রেতারা নির্ধারিত সীমানা ছাড়িয়ে প্রধান সড়ক ও মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশু বেঁধে রেখেছিলেন। এতে এলাকায় তীব্র যানজট হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সবচেয়ে বড় ও সর্বোচ্চ ইজারামূল্যের পশুর হাট হিসেবে দিয়াবাড়ি হাট এবার ব্যাপকভাবে জমে উঠেছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাক ও নৌপথে বিপুলসংখ্যক কোরবানির পশু আনা হয়েছিল, বিশেষ করে বড় আকৃতির গরু ক্রেতাদের আকর্ষণ করছিল।

ডিএমপির উত্তরা বিভাগ অভিযান চালিয়ে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে পশু সরিয়ে দেয় এবং বিকল্প পথে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। হাটের ইজারাদারকে ঘটনাস্থলে ডেকে সতর্ক করা হয়। উপ-পুলিশ কমিশনার নাসিরুদ্দিন জানান, সড়কে হাট বসানো বা পশু রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এবং নির্দেশ অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হবে।

দৈনিক দেশ রূপান্তর ২৭ মে রাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, স্টেশনের নিচে পশু বাঁধা, ট্রাক দাঁড় করানো এবং বাঁশের অস্থায়ী ঘের তৈরি করায় চলাচলে বিঘ্ন ও যানজট তৈরি হয়েছিল। অনেক জায়গায় ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়েছিল। ভোগান্তির শিকার এক যাত্রী পত্রিকাটিকে বলেন, নিয়মিত মেট্রো ব্যবহারকারীদের জন্য পরিস্থিতি খুব কষ্টকর হয়ে গেছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্য


২৭ মে বুধবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দিয়াবাড়ি পশুর হাট পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) খবর অনুযায়ী, তিনি বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বা আশপাশের কোনো জায়গা হাটের জন্য ইজারা দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য, দুই দিন আগে হঠাৎ ভারী বৃষ্টির সময় কিছু ব্যবসায়ী গরু নিয়ে স্টেশনের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন; পরে ডিএনসিসির প্রশাসক নিজে এসে রাস্তা থেকে পশু সরিয়ে হাটের নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বা সিটি করপোরেশন এ ধরনের অননুমোদিত কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, এমন ধারণা সঠিক নয়। তিনি জানান, হাটে ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। তার দাবি, তিন দিন আগের একটি ভিডিও ছড়িয়ে সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, অথচ পশু কেনাবেচা চলছে হাটের ভেতরেই। তিনি বলেন, মেট্রোর আশপাশে কোনো পশু কেনাবেচা চলবে না এবং ভবিষ্যতেও এমন কর্মকাণ্ড হতে দেওয়া হবে না।

বাসসের খবরে প্রতিমন্ত্রীর আরেকটি কথাও ছিল, যা ঈদের পরের বর্জ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিনি জানান, কিছু পশু সড়কে উঠে আসায় কয়েকটি জায়গা নোংরা হয়ে পড়েছিল; তবে সেদিন সকাল থেকেই পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান সেদিন বলেন, বৃষ্টির সময় কিছু ব্যবসায়ী তাদের গরু নিয়ে সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে আবার বসার খবর পেয়ে রাত দেড়টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, "এই জায়গা আমরা ইজারা দেইনি। যারা সেখানে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ইজারাদারদের সাথেও এ বিষয়ে কথা বলা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, সেদিন সকাল থেকেই পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছিল।

অর্থাৎ স্টেশনের পাশের জায়গাটি যে হাটের জন্য ইজারা দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও সিটি করপোরেশন একমত ছিল। কারা সেখানে পশু রেখেছিলেন এবং তাতে কারও প্রভাব ছিল কি না, সে প্রশ্নে স্থানীয়দের অভিযোগ আর কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা আলাদা ছিল; ২৯ মে পর্যন্ত প্রকাশিত খবরে এ নিয়ে কোনো তদন্তের ফল জানা যায়নি।

ঢাকার খিলগাঁওয়ে কোরবানির পশুর হাট, জুন ২০২৪। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার খিলগাঁওয়ে কোরবানির পশুর হাট, জুন ২০২৪। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসির ঘোষিত প্রস্তুতি


ঈদের আগে ২৬ মে দুপুরে গুলশানে ডিএনসিসির নগর ভবনে এক মতবিনিময় সভায় সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান ঘোষণা দেন, ঈদের দিনের কোরবানির বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হবে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের খবর অনুযায়ী, এই লক্ষ্য পূরণে ১৬ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৭৫০টি বর্জ্যবাহী ট্রাক নিয়ে মাঠে নামার কথা জানায় সংস্থাটি।

সভায় প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সারা দেশের কোরবানির পশুর হাট, চামড়া ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন ও বর্জ্য অপসারণ নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সেই নির্দেশনার আলোকে সিটি করপোরেশনগুলোকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স টিম ও ড্রেনেজ টিম প্রস্তুত রাখার কথাও তিনি জানান।

ডিএনসিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬ হাজার কর্মী মাঠপর্যায়ে বর্জ্য অপসারণের কাজ করবেন এবং ৭৫০টি ট্রাক বর্জ্য নিয়ে আমিন বাজার ল্যান্ডফিলে ফেলবে। ল্যান্ডফিলে দ্রুত বর্জ্য খালাসের জন্য নতুন সংযোগ সড়ক, প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেঞ্চ তৈরি করা হয় এবং ডিজিটাল ওয়েব্রিজের মাধ্যমে প্রতিটি ট্রিপ তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা চালু রাখা হয়।

নগরবাসীর মধ্যে আগেই ১৬ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ বিতরণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার, ১ হাজার ৩৪৮ ক্যান ফিনাইল ও ৩ হাজার ৯০০ ক্যান স্যাভলন বিতরণ করা হয়। সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং, ডিজিটাল বিলবোর্ডে প্রচার, ৫০ হাজার লিফলেট বিতরণ এবং মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো হচ্ছিল। মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে জুমার খুতবায় পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কথাও সভায় জানানো হয়।

ডিএনসিসির ঘোষিত এই পরিকল্পনা ছিল কোরবানির বর্জ্য নিয়ে। উত্তরা উত্তর স্টেশনের পাশে জমে থাকা গোবর আর কাদা ছিল সেখানে পশু রাখার ফল, যে জায়গা হাটের জন্য ইজারা দেওয়া হয়নি বলে সিটি করপোরেশন জানিয়েছিল। জাগো নিউজের ২৯ মে বিকেলের প্রতিবেদন পর্যন্ত সেই বর্জ্যের একটি অংশ পড়ে ছিল, আর ডিএনসিসির ছবিতে দেখা যায়, সেদিন সেখানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছিল।

ঢাকার পশুর হাট ও কোরবানির পশুর হিসাব


দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২১ মে জানায়, এবার রাজধানীতে ২৪টিসহ সারা দেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২টি অস্থায়ী হাটের প্রস্তুতি চলছিল; এর বাইরে ছিল গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাট। দুই সিটি করপোরেশন জানিয়েছিল, এসব হাটে পাঁচ দিন কেনাবেচা চলবে।

ডিএনসিসির ১২টি অস্থায়ী হাটের একটি ছিল উত্তরা দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন বউবাজার এলাকা। তালিকার অন্য হাটগুলোর মধ্যে ছিল খিলক্ষেত বাজারসংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন-৬-এর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা, মিরপুর কালশী বালুর মাঠ, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসংলগ্ন এলাকা, মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজারসংলগ্ন খালি জায়গা, পূর্ব হাজীপাড়া, মোহাম্মদপুর বছিলার ৪০ ফুট সড়কসংলগ্ন এলাকা, ভাটুলিয়া, কাঁচকুড়া, মস্তুল চেকপোস্টসংলগ্ন পশ্চিমপাড়া এবং ভাটারা সুতিভোলা খালসংলগ্ন এলাকা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম তখন বলেছিলেন, এবার যত্রতত্র বা সড়কের ওপর কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না এবং নিয়মের বাইরে কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। কোরবানির বর্জ্য যেন যত্রতত্র ফেলা না হয়, সেজন্য প্রতিটি হাটে বিশেষ ব্যবস্থা রাখার কথাও তিনি জানান। সীমান্ত এলাকায় পশুর হাট বসানোর ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞার কথাও একই খবরে উল্লেখ ছিল।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, ২০২৬ সালে দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি, আর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকার কথা বলা হয়। ২৫ মে প্রকাশিত আরেক খবরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একই হিসাব উল্লেখ করা হয়।

ঈদের তিন দিন আগে, ২৪ মে রাজধানীর তেজগাঁও, কমলাপুর, পোস্তগোলা ও ভাটারার হাট ঘুরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদক দেখেন, তীব্র গরমে ক্রেতা কম ছিল এবং খামারিরা পশুর গায়ে পাইপ দিয়ে পানি ঢেলে, তালপাখা ও চার্জার ফ্যান দিয়ে বাতাস করে গরম থেকে পশু রক্ষার চেষ্টা করছিলেন। বিক্রেতাদের হাঁকা দাম অনুযায়ী, দুই থেকে আড়াই মণ মাংস হবে এমন গরুর দাম চাওয়া হচ্ছিল ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, আর ছয় মণের বেশি ওজনের গরুর দাম তিন লাখ টাকার বেশি। খামারিরা ভুসি, খৈল ও খড়সহ গোখাদ্যের দাম বাড়াকে পশুর দাম বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। গরমের এই দিনগুলোর পর আবহাওয়াও বদলায়: প্রতিমন্ত্রী ২৭ মে জানান, তার দুই দিন আগে হঠাৎ ভারী বৃষ্টি হয়েছিল এবং সেই বৃষ্টির সময়েই কিছু ব্যবসায়ী পশু নিয়ে স্টেশনের নিচে গিয়েছিলেন।

দিয়াবাড়ি ও উত্তরা


দিয়াবাড়ি ঢাকার উত্তরার একটি এলাকা, যা উত্তরার ১৫ ও ১৬ নম্বর সেক্টরের সমতল ভূমি নিয়ে গঠিত। বাংলা উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, শহরের মধ্যে গ্রামীণ পরিবেশের কারণে জায়গাটি দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয়; কাশফুল দেখতে অনেকে সেখানে যান। এলাকায় নানা ধরনের পাখি দেখা গেলেও মানবসৃষ্ট কারণে পাখির সংখ্যা কমছে বলে উল্লেখ আছে। প্যাডেল বোট ও কায়াকিংয়ের জন্যও জায়গাটি পরিচিত।

উত্তরা নিজে ঢাকার উত্তরের একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা, যা গাজীপুরের পথে এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত। ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে ১৯৬৫ সালে ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (বর্তমান রাজউক) টঙ্গী ও তৎকালীন কুর্মিটোলা বিমানবন্দরের মাঝের এলাকায় একটি উপশহর গড়ার জন্য জরিপ চালায়। ১৯৬৭ সালের ২৫ জুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রকল্পটির নাম প্রথমে ছিল "নর্থ স্যাটেলাইট টাউন", ১৯৮০ সালে নাম বদলে রাখা হয় "উত্তরা আবাসিক মডেল টাউন"।

উত্তরার জমির বড় অংশ একসময় ছিল নিচু ও জলাভূমি। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর ঢাকা বাঁধ নির্মাণ করা হয় এবং উত্তরার জলাভূমি ভরাট শুরু হয়। ১৯৯২ সালে রাজউক উত্তরা পশ্চিম দিকে বাড়ানোর দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করে, যা ১৯৯৮ সালে শেষ হয়। ২০০৯ সালে চূড়ান্ত হওয়া তৃতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনায় দ্বিতীয় পর্যায়ের পশ্চিমে আরও ২ হাজার ৮ একর জমিতে চারটি নতুন সেক্টর গড়ার কথা বলা হয়। দিয়াবাড়ির খোলা মাঠ ও জলাশয় এই সম্প্রসারিত অংশেই।

উত্তরার দিয়াবাড়ির জলাশয় ও খোলা জায়গা, এপ্রিল ২০১৭। ছবি: G. Hameed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
উত্তরার দিয়াবাড়ির জলাশয় ও খোলা জায়গা, এপ্রিল ২০১৭। ছবি: G. Hameed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশন ও এমআরটি লাইন-৬


উত্তরা উত্তর ঢাকা মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৬-এর একটি উড়াল স্টেশন এবং লাইনের উত্তর প্রান্তের স্টেশন। স্টেশনটি "প্যাকেজ সিপি-০৩"-এর অধীনে নির্মিত হয়; এই প্যাকেজের কাজ পায় ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড। ২০১৭ সালের ৩ মে চুক্তি সই হয় এবং ২ আগস্ট নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশ উদ্বোধন করা হয় এবং পরের দিন যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

এমআরটি লাইন-৬ নামে ছয় নম্বর হলেও এটিই বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল লাইন। পুরো লাইন উড়াল পথে নির্মিত। ২০২৩ সালের নভেম্বরে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশ উদ্বোধনের পর ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৬টি স্টেশনই চালু হয়। লাইনটি পরিচালনা করে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল); প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।

লাইনের ডিপো দিয়াবাড়িতেই। ডিপোতে কর্মশালা, ধোয়ার শেড ও গুদামসহ ৫২টি স্থাপনা আছে এবং সেখানে ১৮টি ট্রেন রাখা যায়। উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে ট্রেন উত্তরে ৩০০ মিটার দীর্ঘ একটি কর্মশালা পেরিয়ে ডিপোতে পৌঁছায়, আর ডিপোর অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার থেকে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট দিয়াবাড়ি ডিপো থেকে মিরপুর-১১ পর্যন্ত প্রথম পরীক্ষামূলক ট্রেন চলেছিল।

স্টেশনগুলোর নিচতলা ছাড়াও আরও দুটি তলা আছে। প্রথম তলা বা কনকোর্সে টিকিট কাউন্টার, অপেক্ষাকক্ষ ও কর্মীদের কার্যালয়; নিচতলা থেকে সিঁড়ি বা লিফটে যাত্রীরা প্রথম তলায় ওঠেন, এরপর স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়ের অংশ পেরিয়ে চলন্ত সিঁড়ি বা লিফটে দ্বিতীয় তলার প্ল্যাটফর্মে যান। অর্থাৎ স্টেশনে ঢোকার পথ শুরু হয় নিচের সড়ক ও ফুটপাত থেকেই। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত শাটল বাস চালায়, আর ২০২৪ সালের ৯ মে থেকে টঙ্গী থেকে এই স্টেশন পর্যন্তও বাস সেবা চালু হয়। এ কারণেই স্টেশনের নিচের সড়কে পশু রাখা ও পরে জমে থাকা বর্জ্য যাত্রীদের চলাচলে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনের বাইরের দৃশ্য, মে ২০২৩। ছবি: Mehediabedin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনের বাইরের দৃশ্য, মে ২০২৩। ছবি: Mehediabedin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন রাজধানীর উত্তর অংশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর সংসদে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সংশোধন বিল পাসের মাধ্যমে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন বিলুপ্ত করে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ নামে দুটি করপোরেশন গঠন করা হয়। সংস্থাটির কাজ, ক্ষমতা ও দায়িত্ব স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পরিচালিত হয়; নগর পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও তার কাজের অংশ।

২০১৬ সালের ৯ মে সরকার বেরাইদ, বাড্ডা, ভাটারা, সাতারকুল, হরিরামপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও ডুমনি, এই আটটি ইউনিয়নকে ডিএনসিসির অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দেয়। এতে সংস্থাটির আয়তন দাঁড়ায় ১৯৭ বর্গকিলোমিটার। ডিএনসিসি ৫৪টি ওয়ার্ড ও ১০টি অঞ্চলে বিভক্ত; উত্তরা পূর্ব ও উত্তরা পশ্চিম থানাসহ তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, গুলশান, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের মতো এলাকা এর আওতায়।

২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, ডিএনসিসি এলাকায় ১৬ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৪টি খানায় ৫৯ লাখ ৯০ হাজার ৭২৩ জন মানুষ বাস করতেন, যাদের মধ্যে ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৩ জন মুসলিম। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর এলাকা থেকেই ঈদের পর ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য সরানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল সংস্থাটি। ২০২৬ সালের মে মাসে ডিএনসিসির নেতৃত্বে ছিলেন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

ঈদুল আজহা ও কোরবানি


ঈদুল আজহা ইসলামের দুটি প্রধান উৎসবের একটি, যা ইসলামি বর্ষপঞ্জির শেষ মাস জিলহজের ১০ তারিখে পালিত হয়। ঈদের নামাজের পর সামর্থ্যবান মুসলিমরা হালাল গবাদিপশু কোরবানি করেন, যা আল্লাহর আদেশে হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর প্রিয় সন্তানকে উৎসর্গ করার প্রস্তুতির স্মরণে। কোরবানির পশুকে বয়স ও মানের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রচলিত রীতিতে মাংস তিন ভাগ করা হয়: এক ভাগ পরিবারের, এক ভাগ আত্মীয় ও বন্ধুদের এবং এক ভাগ দরিদ্রদের জন্য।

বাংলাদেশে দিনটি কোরবানির ঈদ বা বকরি ঈদ নামেও পরিচিত। জিলহজ মাসের শুরু থেকেই সারা দেশে অস্থায়ী পশুর হাট বসতে শুরু করে। উইকিপিডিয়ায় উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর ঈদুল আজহায় প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ পশু কোরবানি হয়। ২০২৬ সালে রাজধানীতে ২৪টি হাটে কয়েক দিন ধরে বিপুলসংখ্যক পশু রাখা হয়েছিল। সে কারণেই হাটের সীমানা মেনে চলা এবং হাট ও কোরবানির পরের বর্জ্য সরানো নিয়ে সরকার, পুলিশ ও সিটি করপোরেশন ঈদের আগে আলাদা করে নির্দেশনা ও প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল।

ছবি: Mehediabedin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দৈনিক দেশ রূপান্তর, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)