সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক দূষণ রোধ ও সুন্দরবন রক্ষায় অগ্রাধিকার: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জাগো নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের দূষণ রোধ এবং দস্যুতা দমন ও বিষ প্রয়োগ বন্ধ করে সুন্দরবন সুরক্ষা হবে তাঁর মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার।

বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক দূষণ রোধ ও সুন্দরবন রক্ষায় অগ্রাধিকার: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
পরিবেশ

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বলেছিলেন, তাঁর মন্ত্রণালয় কোন কোন কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত হাতে নেবে ও বাস্তবায়ন করবে, তা এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং দস্যুতা দমন ও বিষ প্রয়োগ বন্ধের মধ্য দিয়ে সুন্দরবন সুরক্ষা। জাগো নিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই তিনটি কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পাঁচ দিন পর, ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পত্রিকাটির বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা প্রতিনিধি সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন।

তিনি যে পরিকল্পনাগুলোর কথা বলেছিলেন, সেগুলো ছিল দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে ঘোষিত লক্ষ্য। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃক্ষরোপণের কর্মপরিকল্পনা ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। সুন্দরবনের দস্যুতা নিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে বনের চারপাশের তিন জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার সব বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বসবেন বলে জানান।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষায় তিন অগ্রাধিকার


বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাকে শেখ ফরিদুল ইসলাম তাঁর দলের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আমরা দেশবাসীর কাছে কমিটমেন্ট করেছিলাম, বিএনপি যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তাহলে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবো। এতে প্রতি বছর আমাদের পাঁচ কোটি করে গাছ লাগাতে হবে। এ কাজটি আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করবো। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বৃক্ষরোপণের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করবো। তারপর কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেবো। সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে।’

প্লাস্টিক প্রসঙ্গে তিনি শহরের জলাবদ্ধতার জন্য একবার ব্যবহারযোগ্য বা ওয়ানটাইম প্লাস্টিককে দায়ী করেন। তাঁর কথায়, ‘দ্বিতীয়ত, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে দেশে বর্তমানে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। ঢাকাসহ বড় বড় শহরে যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, তার কারণ ওয়ানটাইম প্লাস্টিক। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে এটি নির্মূল করা হয়েছিল। আবার ধীরে ধীরে এটি ছত্রাকের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এটা আমাদের পরিবেশের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। এটি নিয়েও আমরা পরিকল্পনা করছি এবং দ্রুত কাজ শুরু করবো।’

সুন্দরবন সুরক্ষায় পিছিয়ে পড়া এবং দস্যুতা বেড়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি: ‘তৃতীয়ত, সুন্দরবন সুরক্ষার ক্ষেত্রে আমরা অনেক পেছনে পড়ে আছি। দস্যুবৃত্তি প্রচণ্ড পরিমাণে বেড়েছে। সম্প্রতি পাঁচটি বাহিনী প্রতিনিয়ত জেলেদের অপহরণ করছে, মুক্তিপণ নিয়ে ছাড়ছে। এক্ষেত্রে জেলেরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। জেলেরা ভয়ে সাগরে যেতে চাচ্ছেন না। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করবো।’

‘বিষ দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে, যেটা ভয়ানক ক্ষতিকর’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার সব বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বসবো। চেষ্টা করবো যাতে আমরা বিষ প্রয়োগটা বন্ধ করতে পারি। বিষে টোটাল মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমাদের আমিষের চাহিদার ঘাটতি হবে বিষের কারণে।’

সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি বলেন, ‘আমাকে যে যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আমি যথাযথভাবে পালন করবো। আশা করি আমার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দেশ ও মানুষ উপকৃত হবে।’

প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর এলাকা


শেখ ফরিদুল ইসলাম বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য; ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভা শপথ নিলে তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন। জাগো নিউজ জানায়, তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে ছিলেন। সর্বশেষ বাঘ জরিপে বন বিভাগ বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনকে যে তিন জেলায় ভাগ করে অঞ্চলভিত্তিক জরিপ চালিয়েছিল, বাগেরহাট তার একটি; অপর দুটি খুলনা ও সাতক্ষীরা। অর্থাৎ যে বন নিয়ে তিনি কথা বলেছেন, তা তাঁর নিজের এলাকারই অংশ।

বনায়নে দেশীয় প্রজাতি


কোন গাছ লাগানো হবে, সে বিষয়ে আগের বছরই সরকারের একটি সিদ্ধান্ত ছিল। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানায়, ২০২৫ সালের ১৫ মে, বৃহস্পতিবার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন-১ অধিশাখা প্রজ্ঞাপন জারি করে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা রোপণ, সংগ্রহ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে। নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিপর্যায়ে বনায়ন কর্মসূচিতে এই দুই প্রজাতির বদলে দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগাতে বলা হয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য ছিল, এই দুই প্রজাতি মাটি থেকে অতিরিক্ত পানি শোষণ করে মাটির আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়, এদের পাতা মাটিকে অন্য গাছের জন্য অনুপযোগী করে তোলে এবং দেশীয় পোকামাকড় ও পাখি এসব গাছে খাবার বা আশ্রয় পায় না।

বরিশালের একটি নার্সারিতে গাছের চারা। ছবি: Nazmulhuqrussell / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বরিশালের একটি নার্সারিতে গাছের চারা। ছবি: Nazmulhuqrussell / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

২০০২ সালের পলিথিন নিষেধাজ্ঞা ও তার পরের অধ্যায়


একসময় ওয়ানটাইম প্লাস্টিক নির্মূল হয়েছিল বলে প্রতিমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, তা পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে নির্দেশ করে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে প্লাস্টিকের শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করে, তবে কিছুকাল পর প্লাস্টিকের ব্যবহার ও অব্যবস্থাপনা আবার বেড়ে যায়। ডায়ালগ আর্থের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির এক বিশ্লেষণে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞাটি দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে; এর আওতায় ২০ মাইক্রনের চেয়ে পাতলা পলিথিন ব্যাগ প্রথমে ঢাকায়, পরে সারা দেশে নিষিদ্ধ হয় এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় ২০০২ সালের জানুয়ারিতে।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ডায়ালগ আর্থ জানায়, ২০০৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কর্মকর্তারা ৮০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং ১ হাজার ৩৬৯টি মামলা করেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সহসভাপতি ইকবাল হাবিব প্রকাশনাটিকে বলেন, ২০০২ ও ২০০৩ সালে পলিথিন ব্যাগ কোথাও খুঁজে পাওয়া যেত না, কিন্তু পরে তা কার্যকর রাখা যায়নি। একই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০৮ সালের জুলাইয়ে সরকার কিছু কাজে মোটা পলিথিনের অনুমতি দেয়, যেমন চিনি প্যাকেজিংয়ে ৫০ মাইক্রন এবং মৎস্য খাতে ৩৫ ও ৫৫ মাইক্রনের ব্যাগ; ২০০৯ সালের আগস্টে চা-নার্সারির জন্য ৪০ মাইক্রনের ব্যাগ অনুমোদন পায়।

এরপর আরও কিছু পদক্ষেপ আসে। বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে, পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০-এর মাধ্যমে ছয়টি অত্যাবশ্যক পণ্য (ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি) পাটের মোড়কে বাজারজাত বাধ্যতামূলক করা হয়। ২০২০ সালে হাইকোর্ট উপকূলীয় এলাকা এবং দেশের সব হোটেল-মোটেলে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

২০২৪ সালে পরিবেশ মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞাটি নতুন করে কার্যকরের উদ্যোগ নেয়। ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বলেন, পলিথিন ও পলিপ্রোপিলিন ব্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা সুপারশপে ১ অক্টোবর এবং সব বাজারে ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে, আর উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে ১ নভেম্বর থেকে। বাস্তবায়ন সহজ হয়নি: ডায়ালগ আর্থের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির বিশ্লেষণে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক পরিচালক বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে মাত্র সাতটি পলিথিন কারখানা বন্ধ করা গেছে এবং পুরান ঢাকার সরু গলিতে অভিযানের সময় অনেক ক্ষেত্রে লোকজন জড়ো হয়ে বাধা দেয়।

প্লাস্টিকের পরিসংখ্যান যা বলে


বাংলাদেশে প্লাস্টিক ব্যবহারের সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত পরিসংখ্যান এসেছে বিশ্বব্যাংকের ‘টুওয়ার্ডস আ মাল্টিসেক্টরাল অ্যাকশন প্ল্যান ফর সাসটেইনেবল প্লাস্টিক ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ প্রতিবেদন থেকে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে মিলে তৈরি প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী:

  • শহরাঞ্চলে মাথাপিছু বার্ষিক প্লাস্টিক ব্যবহার ২০০৫ সালের ৩ কেজি থেকে তিন গুণ বেড়ে ২০২০ সালে ৯ কেজিতে দাঁড়ায়;
  • ঢাকায় মাথাপিছু বার্ষিক প্লাস্টিক ব্যবহার ২২.২৫ কেজি, যা শহরাঞ্চলের জাতীয় গড়ের তিন গুণের বেশি (সংস্থাটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংখ্যাটি ২২.৫ কেজি লেখা হয়েছে);
  • প্লাস্টিক ব্যাগের মতো এলডিপিই মোড়কের ব্যবহার ২০০৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে পাঁচ গুণ বেড়েছে;
  • ২০২০ সালে ব্যবহৃত ৯ লাখ ৭৭ হাজার টন প্লাস্টিকের মাত্র ৩১ শতাংশ পুনর্ব্যবহার হয়েছে;
  • ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ৬৪৬ টন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়, যার মাত্র ৩৭.২ শতাংশ পুনর্ব্যবহার হয়।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, অব্যবস্থাপিত প্লাস্টিক বর্জ্যের বেশির ভাগই শপিং ব্যাগ, প্যাকেট ও মোড়কের মতো একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, আর এ ধরনের বর্জ্য নালা আটকে দিয়ে শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি করে। প্রতিমন্ত্রী প্লাস্টিক ও শহরের জলাবদ্ধতার যে যোগসূত্রের কথা বলেছেন, এটি সেই সম্পর্ক। একই প্রতিবেদনে বর্ণিত টেকসই প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনার জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার, ২০২৬ সালের মধ্যে লক্ষ্যভুক্ত একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ২০২০-২১ সালের তুলনায় প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদন ৩০ শতাংশ কমানো।

সুন্দরবন: বন, অভয়ারণ্য ও মানুষ


সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অবিচ্ছিন্ন ম্যানগ্রোভ বন। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ অংশকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা ইউনেসকোর বর্ণনা অনুযায়ী, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার ব-দ্বীপে প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটারের এই বনের ৬০ শতাংশ বাংলাদেশে, বাকিটা ভারতে। সুন্দরবন সংরক্ষিত বন পূর্বে বলেশ্বর নদ ও পশ্চিমে হরিণভাঙ্গা নদীর মাঝখানে অবস্থিত। ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ হেক্টরের বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকাটি তিনটি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য নিয়ে গঠিত, যাকে ইউনেসকো রয়েল বেঙ্গল টাইগার, গাঙ্গেয় ও ইরাবতী ডলফিন এবং লোনা পানির কুমিরসহ বেশ কয়েকটি বিপন্ন প্রজাতির মূল প্রজননক্ষেত্র বলেছে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার, যার ৪ হাজার ৮৩২ বর্গকিলোমিটার বনভূমি এবং ১ হাজার ১৮৫ বর্গকিলোমিটার জলাভূমি। সেই মাসে প্রকাশিত বাঘ জরিপ চলেছিল ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত; ১ হাজার ২০০টির বেশি ক্যামেরার ছবি বিশ্লেষণ করে ১২৫টি বাঘ পাওয়া যায়, প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে ঘনত্ব ২.৬৪। এর আগের জরিপে ২০১৫ সালে ১০৬টি এবং ২০১৮ সালে ১১৪টি বাঘ গণনা করা হয়েছিল।

ইউনেসকো উল্লেখ করেছে, বনের আশপাশের গ্রামের বহু মানুষ মৌসুমভিত্তিকভাবে বাওয়ালি বা কাঠুরে, জেলে, মৌয়াল এবং পাতা ও ঘাস সংগ্রহকারী হিসেবে এই বনের ওপর জীবিকা নির্বাহ করেন, আর সুন্দরবন ঝড়, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে মানুষকে রক্ষা করে। সংস্থাটি অবৈধ শিকার, কাঠ আহরণ এবং কৃষিজমির দখলকে বনের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

প্রজনন রক্ষায় বন বিভাগ প্রতিবছর বন বন্ধ রাখে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৫ সালের ১ জুন জানায়, ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ ও পর্যটন বন্ধ থাকবে। সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার (আইআরএমপি) সুপারিশে আগে এই নিষেধাজ্ঞা ছিল ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট; ২০২২ সাল থেকে মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে তা ১ জুন থেকে শুরু হয়। একই প্রতিবেদনে শ্যামনগর উপজেলা মৎস্য দপ্তরের বরাতে বলা হয়, সাতক্ষীরার ওই উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে ২৩ হাজার ৯২৮ জন, যাঁদের মধ্যে নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহায়তা পান ৮ হাজার ৩২৪ জন।

বাংলাদেশের সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করছেন মৌয়ালরা, ২০২৪ সালের জুন। ছবি: MohammadRakibulHasan1977 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
বাংলাদেশের সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করছেন মৌয়ালরা, ২০২৪ সালের জুন। ছবি: MohammadRakibulHasan1977 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

দস্যুতা: ২০১৮ সালের ঘোষণা থেকে নতুন অপহরণ


বনজীবী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র দস্যু বাহিনীর শিকার। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জানায়, ২০১৬ সালের মে থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক মোহসীন-উল হাকিমের মধ্যস্থতায় ৩২টি জলদস্যু ও বনদস্যু দলের ৩২৮ জন অস্ত্র সমর্পণ করেন। প্রথম আলোর তৎকালীন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর বাগেরহাটের শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়ামে ছয়টি বাহিনীর ৫৮ জন সদস্য ৫৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩ হাজার ৩৫১ রাউন্ড গুলিসহ আত্মসমর্পণ করেন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন।

২০২৫ সালের প্রতিবেদনগুলোতে দস্যুদের ফিরে আসার চিত্র উঠে আসে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর অনুসন্ধানে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টের পর ১০ থেকে ১৫টি দস্যু বাহিনী আবার সক্রিয় হয়ে জেলে, মৌয়াল ও বাওয়ালিদের অপহরণ করছে; তবে আত্মসমর্পণকারী ৩২৮ জনের বেশির ভাগই আর অপরাধে ফেরেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন পত্রিকাটিকে জানায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে তারা ২৬টি অভিযান চালিয়ে ৩৭টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৩টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে, ৪৪ জন দস্যু ও তাদের সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ৪৪ জন জেলেকে উদ্ধার করেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রথম আলোর এক অনুসন্ধানে বলা হয়, ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করা দস্যুদের কেউ কেউ কিছু মাছ ব্যবসায়ীর সহায়তায় আবার বনে ফিরেছে।

সাক্ষাৎকারের আগের মাসেই বড় একটি ঘটনা ঘটে। ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি জানায়, আগের বৃহস্পতিবার মামুদো ও মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন খাল থেকে প্রতিটি নৌকা থেকে একজন করে অন্তত ১৮ জন জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে। অপহৃতদের বেশির ভাগের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে; ঘটনার পর অনেক জেলে মাছ ধরা বন্ধ করে গ্রামে ফিরে যান। জেলেরা কয়েকজন অপহরণকারীকে নিজেদের ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দেওয়া একটি দলের প্রধানের সহযোগী হিসেবে শনাক্ত করেন। পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জার জানান, বন বিভাগ খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য বাহিনীকে জানিয়েছে। পত্রিকাটি আগের কয়েকটি ঘটনাও উল্লেখ করে: ২ জানুয়ারি সাতজন পর্যটককে মুক্তিপণের জন্য জিম্মি করা হয়, পরে দলের প্রধান ও তাঁর আট সহযোগী গ্রেপ্তার হন; নভেম্বরে একজন জেলে অপহৃত হন; আর ডিসেম্বরে বেড়াতে আসা এক নারীকে অপহরণের পর উদ্ধার করা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে পাঁচটি বাহিনী মুক্তিপণের জন্য জেলে অপহরণ করছে বলে প্রতিমন্ত্রী যে সংখ্যা দিয়েছেন, তা ছিল ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর নিজের বিবরণ; আগের মাসগুলোর অন্যান্য প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা এসেছে।

সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরার নৌকা; ছবিটি ২০২১ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অংশে তোলা। ছবি: Pinakpani / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরার নৌকা; ছবিটি ২০২১ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অংশে তোলা। ছবি: Pinakpani / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বনের খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার


সুন্দরবনে কীটনাশক দিয়ে মাছ ও চিংড়ি ধরার খবর বহু বছর ধরেই আসছে। দ্য ডেইলি স্টার ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে লেখে, শিকারিরা জানিয়েছেন যেকোনো কীটনাশকের দোকানেই এসব রাসায়নিক কেনা যায়; সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বলেন, বিষ দেওয়া খালের বিষাক্ত পানি বড় নদীতে গিয়ে বৃহত্তর জলজ পরিবেশের ক্ষতি করে। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে জানান, বনের ১৮টি খালে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ, কারণ এগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রজননক্ষেত্র। পত্রিকাটির হিসাবে সুন্দরবনে প্রায় ৩০০ প্রজাতির মাছ রয়েছে।

২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ইংরেজিতে প্রকাশিত প্রথম আলোর অনুসন্ধানে বলা হয়, জোয়ারের সময় জেলেরা খালের দুই মাথায় ছোট জাল পেতে রাখেন, ভাটায় পানি নামতে থাকলে তাতে কীটনাশক ঢেলে দেন, আর কয়েক মিনিটের মধ্যে মাছ ভেসে ওঠে। পত্রিকাটি জানায়, তাদের অনুসন্ধানে ‘কোম্পানি মহাজন’ নামে পরিচিত মাছ ব্যবসায়ীদের জেলেদের বিষ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার তথ্য মিলেছে; কিছু বনরক্ষী ঘুষ নিয়ে অভয়ারণ্যের পানিতে তাঁদের কাজ করতে দেন বলেও অভিযোগ এসেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন বিভাগের এক কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, বিভাগ এসব ব্যবসায়ীকে চেনে, তবে বনের ভেতরে হাতেনাতে ধরা কঠিন এবং জনবলেরও ঘাটতি আছে।

খুলনা অঞ্চলের তৎকালীন বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো প্রথম আলোকে বলেন, জব্দ করা বিষের বেশির ভাগই সবজি ও গাছের পোকা মারার কীটনাশক; জেলেরা সাদা মাছের জন্য এক ধরনের এবং চিংড়ির জন্য আরেক ধরনের বিষ ব্যবহার করেন, আর কিছু বিষ পানিতে মিশে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি করে, ফলে মাছ দুর্বল হয়ে মারা যায়। তাঁর ভাষায়, মরা মাছ বা কাঁকড়া খেলে পাখিও মারা যেতে পারে এবং এমন মাছ খেলে মানুষের শরীরের ক্ষতি হবে। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অংশের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার সুন্দরবনের প্রায় ৩ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার অভয়ারণ্য ঘোষিত, এবং বন সংরক্ষক জানান অভয়ারণ্যের অর্ধেকের বেশি এলাকায় জেলেদের প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

আইনেও এই কাজ নিষিদ্ধ। মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০-এর অধীনে প্রণীত মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৮৫-এর ৬ নম্বর বিধি অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে পানিতে বিষ প্রয়োগ করে কোনো মাছ ধ্বংস করা বা ধ্বংসের চেষ্টা করা, কিংবা দূষণ, শিল্পবর্জ্য বা অন্য কোনোভাবে মৎস্যসম্পদ নিঃশেষ করা যাবে না। প্রতিমন্ত্রীর পরিকল্পনা ছিল এটি বন্ধে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার সব বিভাগের কর্মকর্তাদের এক জায়গায় আনা।

ছবি: MAhmadS17 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, বিশ্বব্যাংক, ডায়ালগ আর্থ, ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র, দ্য ডেইলি স্টার, মৎস্য অধিদপ্তর (মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৮৫)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)