নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পদ্মা রেল সেতুর পিলারের নিচে মাটি কাটা বন্ধ করে সেখানে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ২০২৬ সালের ১৬ জুন, মঙ্গলবার, সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় রেল সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ছবি ও ভিডিও তার আগের কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমালোচনার জন্ম দেয়। সেতুটি পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের অংশ। ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথের ২২ কিলোমিটার উড়াল পথ বা ভায়াডাক্ট; পথটি ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ কয়েকটি জেলা হয়ে যশোরে গেছে।
মাটি কাটা নিয়ে যা জানা গিয়েছিল
আজকের পত্রিকা ১৪ জুন জানায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল পিলারের গোড়ার মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে এবং এতে সেতু ঝুঁকিতে পড়ছে। ভিডিও দেখে জেলা প্রশাসক বিষয়টি যাচাইয়ের নির্দেশ দেন, আর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন ফতুল্লার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ঘটনাস্থলে পাঠান। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামানের ভাষ্য, যাঁরা মাটি কাটছিলেন তাঁরা জানান, প্রকল্পের নির্মাণকারী চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তাঁরা মাটি কাটার ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছেন; বিতর্ক তৈরি হওয়ায় আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, "বাংলাদেশ রেলওয়ে কখনো এমন মাটি কাটার অনুমোদন দেয় না।" অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ পোস্টকে প্রকল্পের উপপরিচালক আমিনুল করিম জানান, ৭৬ থেকে ৯০ নম্বর পিলার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার জায়গাটি আগে জলাশয় ছিল। ঠিকাদার চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং মাটি বা বালু দিয়ে তা ভরাট করে ভায়াডাক্ট নির্মাণ শেষ করে, আর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সেখানে আগের মতো জলাশয় খনন করা হচ্ছিল। এটিএন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮৫ থেকে ৮৯ নম্বর পিলারের নিচ থেকে কোথাও প্রায় ৫ ফুট, কোথাও ৩ ফুট গভীর করে মাটি কাটা হয় এবং জেলা প্রশাসক মাটি কাটা বন্ধ করে দেন।

মন্ত্রীর ব্যাখ্যা ও গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত
সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শেখ রবিউল আলম বলেন, "আমি যতটা জেনেছি এই মাটি খুঁড়ে নেওয়া হয়েছে, বিষয়টা এ রকম নয়। ওখানে যখন আপনার ব্রিজটা হয়েছে কিছু অবস্ট্রাকল কিন্তু রাখা হয়। দেখবেন যে ছোট ছোট ব্যারিয়ার তৈরি করা হয়, সেখান থেকে মাটি সরানো হয়েছিল, ওটা প্রয়োজনেই সরানো হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা যাচ্ছে যে, এই সরানোটাকে অন্যভাবে দেখছে না, ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে না।"
মন্ত্রী জানান, নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে সেখানে অতিরিক্ত মাটি ছিল, যা দীর্ঘদিন সরানো হয়নি। জায়গাটি একটু উঁচু হওয়ায় সেখান থেকে মই দিয়ে কিছু জিনিস চুরি হয়েছে বা চুরির উপক্রম হয়েছিল। সার্বিক বিবেচনায় সেই অতিরিক্ত মাটি সরানো হচ্ছিল। তিনি বলেন, "আমরা বন্ধ করে ওখানে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছি, ওখানে গাছ লাগানো হবে।"

ভাঙ্গা-পায়রা রেলপথের নকশা বদলের পরিকল্পনা ছিল না
একই সংবাদ সম্মেলনে ভাঙ্গা-পায়রা রেলপথের রুট পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, "ফিজিবিলিটি টেস্ট হয়েছে। এই মুহূর্তে অ্যালাইনমেন্ট চেঞ্জ করার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমরা যে ফিজিবিলিটিটা করেছি, আগের যে অ্যালাইনমেন্ট আছে সেটা অনুসরণ করেই করেছি এবং এখন পর্যন্ত যে প্রকল্প নিতে চলেছে সেটা অনুসরণ করেই অগ্রসর হচ্ছি। অ্যালাইনমেন্টের চেঞ্জের কোনো প্রয়োজন দেখছি না, এরকম দাবিও দেখছি না।"

ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, আজকের পত্রিকা, নারায়ণগঞ্জ পোস্ট, এটিএন নিউজ, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)