বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় থেকে ২০২৬ সালের ৮ জুন, সোমবার আরও এক জোড়া কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সদস্যরা। আগের দিন একই কার্যালয় থেকে আরেক জোড়া কালনাগিনী উদ্ধার হয়েছিল। ফলে দুই দিনে সেখানে মোট চারটি সাপ পাওয়া যায়। জাগো নিউজ ২৪ ৯ জুন এ খবর প্রকাশ করে।
দুই দিনে চারটি সাপ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ জুন বিকেলে ডিআইজি কার্যালয়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা সাপগুলো দেখতে পেয়ে অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীকে খবর দেন। টানা পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় সাপ দুটি উদ্ধার করা হয়। সংগঠনটির পরিচালক আসাদুল্লাহ্ হাসান মুসা বলেন, 'একই স্থানে আবারও সাপ দেখতে পান ডিআইজি কার্যালয়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা। পরে বিকেল থেকে পুনরায় সাপ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করি। সেসময় আরও এক জোড়া কালনাগিনী সাপ পাওয়া যায়।'
এর আগে ৭ জুন, রোববার বিকেলে কার্যালয়ে তিনটি সাপ দেখা গিয়েছিল। সাপ খুঁজতে প্রথমে কার্যালয়ের একপাশের সাজসজ্জা ভাঙতে হয়। সেখানে না পেয়ে পরে দেয়াল ভাঙা হয় এবং দেয়ালের ফাঁকা জায়গা থেকে এক জোড়া কালনাগিনী সাপ পাওয়া যায়।
মুসা আরও বলেন, 'ডিআইজি কার্যালয় পুরোপুরি সাপমুক্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। সেখানে কর্মরত অনেকেই এখনো নাকি এদিক-ওদিক অনেক সাপ দেখেছেন। সেগুলো উদ্ধারে আমাদের কার্যক্রম চলমান।'

সাপগুলো বন বিভাগের কাছে
সামাজিক বন বিভাগের বরিশাল সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফ রহমান বলেন, 'অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সদস্যরা দুদিনে চারটি কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে প্রথম দিন উদ্ধার হওয়া দুটি সাপ বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিন উদ্ধার হওয়া সাপ দুটি বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে।'
বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'কার্যালয়ের চারপাশে ঝোপঝাড়ে ভরা। হতে পারে সেখান থেকেই সাপগুলো কার্যালয়ে প্রবেশ করেছিল। আরও সাপ আছে কি-না তা তল্লাশি করে দেখা হচ্ছে।'

কালনাগিনী কেমন সাপ
কালনাগিনীর বৈজ্ঞানিক নাম Chrysopelea ornata। ইংরেজিতে একে গোল্ডেন ট্রি স্নেক বা অর্নেট ফ্লায়িং স্নেক বলা হয়। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী বাংলায় এর আরও কিছু নাম আছে, যেমন উড়ন্ত সাপ, সুন্দরী সাপ ও কালনাগ। রেপটাইল ডেটাবেজের তথ্যে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, চীনসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু দেশে এই সাপের বিস্তার।
এটি মূলত গাছে থাকা ও দিনে সক্রিয় সাপ। লম্বায় ১১.৫ থেকে ১৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। ছোট টিকটিকি, গিরগিটি, বাদুড়, ইঁদুর, পাখির ডিম ও পোকামাকড় খায়। উঁচু ডাল থেকে লাফ দিয়ে শরীর চ্যাপ্টা করে এটি বাতাসে ভেসে এক গাছ থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারে, তাই একে উড়ন্ত সাপও বলা হয়। মানুষের বসতির আশপাশেও এরা সহজে মানিয়ে নেয় এবং ঘরের চালে বা নারকেল গাছে শিকার খোঁজে।
কালনাগিনী মৃদু বিষধর; এর বিষদাঁত মুখের পেছনের দিকে থাকে। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী এর বিষ মানুষের জন্য বিপজ্জনক বলে ধরা হয় না। তবে রেপটাইল ডেটাবেজে বলা হয়েছে, সাপটি লাজুক হলেও কাছে গেলে কামড়াতে পারে। তাই এমন সাপ দেখলে নিজে ধরার চেষ্টা না করে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী বা বন বিভাগকে খবর দেওয়াই নিরাপদ, যেমনটি বরিশালে পুলিশ সদস্যরা করেছিলেন। আইইউসিএন তালিকায় প্রজাতিটি ন্যূনতম উদ্বেগের (Least Concern) শ্রেণিতে আছে।

ছবি: Bernard DUPONT / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, উইকিপিডিয়া, দ্য রেপটাইল ডেটাবেজ





মন্তব্য
(০)