হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে একটি গোখরা ও একটি দাঁড়াশ সাপ অবমুক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই, সোমবার সকালে বন বিভাগের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের জেলা সদস্য রবি কস্তা উদ্ধার করা সাপ দুটি তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ছেড়ে দেন। জাগো নিউজ সেদিন এ খবর প্রকাশ করে।
চা বাগানের বাড়ি থেকে উদ্ধার
রবি কস্তা জানান, আগের দিন রোববার (১২ জুলাই) চুনারুঘাট উপজেলার আমতলী চা বাগানের এক বাসিন্দার বাড়িতে সাপ দুটি আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে গিয়ে সাপ দুটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরদিন বন বিভাগের সহযোগিতায় সেগুলো সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়।
অবমুক্তের সময় হবিগঞ্জ বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসান, সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হাসানসহ বন বিভাগের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গোখরা বিষধর, দাঁড়াশ নির্বিষ
অবমুক্ত করা দুটি সাপের মধ্যে কেবল গোখরা বিষধর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাপে কামড়ের চিকিৎসা নির্দেশিকার বরাত দিয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৩ সালের জুনে জানায়, দেশে প্রায় ১০০ প্রজাতির সাপের মধ্যে ৩৭টি বিষধর, যার মধ্যে তিন ধরনের গোখরা রয়েছে। গোখরার একটি প্রজাতি পদ্মগোখরা (Naja kaouthia) বন, কৃষিজমি ও লোকালয়ের আশপাশে থাকে এবং ধানক্ষেতের আইলে ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে থাকে। এর বিষ স্নায়ুর সংকেত চলাচল বন্ধ করে দেয়, যা শ্বাসযন্ত্র বিকল করে মৃত্যু ঘটাতে পারে।

অন্যদিকে দাঁড়াশ (Ptyas mucosa) একটি নির্বিষ সাপ। দিনে সক্রিয়, দ্রুতগামী এই সাপ সাধারণত দেড় থেকে প্রায় দুই মিটার লম্বা হয় এবং বনের মেঝে, জলাভূমি, ধানক্ষেত, কৃষিজমি ও লোকালয়ের আশপাশে থাকে। এটি ইঁদুরসহ ছোট প্রাণী খায়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এর দেখা মেলে।
রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসান বলেন, 'দাড়াশ সাপ কৃষকের বন্ধু। এটি প্রচুর ইঁদুর খেয়ে ফসল রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অকারণে কোনো সাপ হত্যা করা উচিত নয়।'

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায়, রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে। ২০০৫ সালে এটি জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। বনের ভেতর দিয়ে সাতটি ছড়া বয়ে যাওয়ায় এর নাম সাতছড়ি। উদ্যানের আশপাশে নয়টি চা বাগান রয়েছে। এই বনে মহাবিপন্ন উল্লুক (পশ্চিমা হুলক গিবন) ছাড়াও নানা প্রজাতির বানর, অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখি বাস করে।
বর্ষায় লোকালয়ে সাপ, বন বিভাগের আহ্বান
রবি কস্তা বলেন, 'বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে সাপের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা লোকালয়ে চলে আসছে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও সাপ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।'
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে এবং সাপ হত্যা না করে দ্রুত বন বিভাগ বা প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়। নিজে সাপ ধরার চেষ্টা বিপজ্জনক; এ কাজ প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীদের।
সাপের কামড় দেশে বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন এবং ৭ হাজার ৫১১ জন মারা যান। সমীক্ষা নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক রোগী দেরিতে চিকিৎসা নিতে যাওয়ায় জটিলতা দেখা দেয়। তাই সাপে কামড়ালে দেরি না করে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ছবি: Hasan Iqbal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: জাগো নিউজ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)