সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

ঝালকাঠির নলছিটিতে ঢাকাগামী বাস থেকে ৪২ মণ জাটকা জব্দ করল কোস্টগার্ড

২০২৬ সালের ১ এপ্রিল ঝালকাঠির নলছিটির দপদপিয়ায় ঢাকাগামী একটি বাস থেকে ৪২ মণ জাটকা জব্দ করার কথা জানায় কোস্টগার্ড; ভ্রাম্যমাণ আদালত বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ঝালকাঠির নলছিটিতে ঢাকাগামী বাস থেকে ৪২ মণ জাটকা জব্দ করল কোস্টগার্ড
মৎস্য

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের দপদপিয়া জিরো পয়েন্টে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ৪২ মণ জাটকা, অর্থাৎ ইলিশের পোনা, জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদনে কোস্টগার্ড ও উপজেলা প্রশাসনের বরাতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল বুধবার সকালে এই অভিযান চালানো হয়। বাসটি পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে এসেছিল। ঘটনাস্থলে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন, আর জব্দ করা মাছ উপজেলার মাদরাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা, পরিবহন ও বিক্রির ওপর আট মাসের যে জাতীয় নিষেধাজ্ঞা চলছিল, তার মধ্যেই এই জব্দের ঘটনা ঘটে।

দপদপিয়ায় বাসে তল্লাশি


গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেদিন সকালে দপদপিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালায় কোস্টগার্ড। এ সময় পটুয়াখালী থেকে ঢাকাগামী ইসলাম পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাটকা পাওয়া যায়। কোস্টগার্ড জানায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী থেকে এসব জাটকা ধরা হয়েছিল এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল।

একই অভিযানের খবর ১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটে প্রকাশ করে দৈনিক যুগান্তর। পত্রিকাটি জব্দ জাটকার পরিমাণ এক হাজার সাতশ কেজি বলে উল্লেখ করে। যুগান্তরের বর্ণনায়, পটুয়াখালী থেকে ঢাকাগামী ইসলাম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে অবৈধভাবে জাটকা বহন করা হচ্ছিল; গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড ওই স্থানে গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে মাছগুলো উদ্ধার করে। দৈনিক গণকণ্ঠও সেদিন খবরটি প্রকাশ করে; তাদের শিরোনামে নলছিটিতে ৪২ মণ জাটকা ইলিশ জব্দ ও জরিমানা আদায়ের কথা বলা হয়।

মণ দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ওজনের একক। স্বাধীনতার পর ব্রিটিশ ভারতের পুরোনো মানকে মেট্রিক এককে রূপান্তর করা হলে এক মণ দাঁড়ায় ঠিক ৩৭.৩২৪২ কেজি, এবং বাংলাদেশেও একই ধরনের মেট্রিক সংজ্ঞা ব্যবহৃত হয়; তবে দৈনন্দিন ব্যবহারে সারা বাংলাদেশে এক মণকে ৪০ কেজি ধরা হয়।

কোস্টগার্ড জানায়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জাটকা আহরণ, পরিবহন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, আর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে পরিবহনের সময় এসব জাটকা জব্দ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা জানান, ইলিশ রক্ষায় চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।

ঝালকাঠি শহরের বাস টার্মিনাল, মার্চ ২০১৬; জেলার সড়ক পরিবহনের ছবি, ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তল্লাশি হওয়া বাসের নয়। ছবি: Lonely Explorer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঝালকাঠি শহরের বাস টার্মিনাল, মার্চ ২০১৬; জেলার সড়ক পরিবহনের ছবি, ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তল্লাশি হওয়া বাসের নয়। ছবি: Lonely Explorer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ভ্রাম্যমাণ আদালত ও জরিমানা


জব্দের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), যিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বও পালন করেন। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জাগো নিউজ বা যুগান্তর কেউই এই তিনজনের নাম প্রকাশ করেনি। উপজেলা প্রশাসন জানায়, পরে জব্দ করা ৪২ মণ জাটকা উপজেলার বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

এ ধরনের আদালত বসে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী। এই আইনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনার সময় আইনের তফসিলে বর্ণিত কোনো আইনের অধীন অপরাধ তাঁর সামনে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই আমলে নিতে পারেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড দিতে পারেন। এর আগে ম্যাজিস্ট্রেটকে সংক্ষিপ্ত অভিযোগ লিখিতভাবে গঠন করে অভিযুক্তকে পড়ে ও ব্যাখ্যা করে শোনাতে হয় এবং তিনি অভিযোগ স্বীকার করেন কি না, তা জানতে চাইতে হয়। স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করে তাতে অভিযুক্ত ও উপস্থিত দুজন সাক্ষীর স্বাক্ষর বা টিপসই নিতে হয়; তারপর ম্যাজিস্ট্রেট নিজের বিবেচনায় যথোপযুক্ত দণ্ড আরোপ করে স্বাক্ষরিত লিখিত আদেশ দেন।

অভিযুক্ত অভিযোগ অস্বীকার করলে এবং তাঁর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে অব্যাহতি দেবেন; ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে অভিযোগটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট আইনে যে দণ্ডই থাকুক, ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দিতে পারে না, তবে সেই আইনে নির্ধারিত সীমার মধ্যে যেকোনো পরিমাণ অর্থদণ্ড দিতে পারে। স্বীকার করা অপরাধ এত গুরুতর মনে হলে যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ড যথোপযুক্ত হবে না, সে ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ড না দিয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের ব্যবস্থা করবেন।

সে মৌসুমে বলবৎ জাটকা নিষেধাজ্ঞা


কোস্টগার্ড যে নিষেধাজ্ঞার কথা বলেছে, সেটি জাটকা রক্ষায় প্রতিবছরের আট মাসের নিষেধাজ্ঞা। সংবাদ সংস্থা ইউএনবির বরাতে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর জানায়, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো ও টেকসই সংরক্ষণের লক্ষ্যে সেদিন থেকে দেশজুড়ে জাটকা ধরার ওপর আট মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে, যা ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মৎস্য অধিদপ্তর এটি বাস্তবায়ন করে; এ সময় ২৫ সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট ইলিশ ধরা, পরিবহন, বাজারজাত, কেনা, বেচা ও মজুত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

পত্রিকাটি জানায়, এর আগে ২০২৫ সালের ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর প্রজনন মৌসুমের চূড়ান্ত সময়ে মা ইলিশ রক্ষায় 'ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫' চালানো হয়েছিল। কর্মকর্তারা বলেন, সে সময় মা ইলিশের ছাড়া ডিম থেকে পোনা ফুটে এখন উপকূলীয় নদী ও মোহনায় ঘুরে বেড়াচ্ছে; এগুলোকে নিরাপদে বড় হতে দিলে আগামী বছরগুলোতে দেশের ইলিশ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পত্রিকার ভাষ্যে, সংশোধিত মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৮৫ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীর সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে; মৎস্য অধিদপ্তর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে।

আট মাসের এই সময়সীমা নতুন নয়। ২০২১ সালের মার্চে বরিশালে জাটকা জব্দের খবরে প্রথম আলো লিখেছিল, প্রতিবছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকে, আর জাটকা বলতে ১০ ইঞ্চির চেয়ে ছোট ইলিশকে বোঝানো হয়েছিল। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে নিষেধাজ্ঞাটিকে মা ইলিশ সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে এপ্রিলে বাসে পরিবহন করা ছোট মাছের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল জাটকার এই নিষেধাজ্ঞা; মা ইলিশ রক্ষার জন্য প্রধান প্রজনন মৌসুমে আলাদা দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা থাকে, যাকে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৩ সালের অক্টোবরে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা হিসেবে বর্ণনা করে, যখন ইলিশ ধরা, পরিবহন, বাজারজাত, কেনাবেচা ও মজুত নিষিদ্ধ থাকে।

১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আইন যা বলত


এসব নিষেধাজ্ঞার আইনি ভিত্তি মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০। আইনের ৪ ধারায় সরকার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সারা বাংলাদেশে বা এর কোনো অংশে নির্ধারিত প্রজাতির নির্ধারিত আকারের চেয়ে ছোট মাছ ধরা, বহন, পরিবহন এবং বিক্রি বা বিনিময়ের উদ্দেশ্যে প্রদর্শন বা দখলে রাখা নিষিদ্ধ করতে পারে। ৩ ধারায় সরকার বিধি প্রণয়ন করে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি কোনো প্রজাতি ধরার নিষিদ্ধ মৌসুম নির্ধারণ, যে আকারের নিচে কোনো প্রজাতি মারা বা বিক্রি করা যাবে না সেই ন্যূনতম আকার নির্ধারণ, এবং নির্দিষ্ট জলাশয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করতে পারে।

২০২৫ সালে দণ্ড বাড়ানো হয়। ২০২৫ সালের ২৯ জুন জারি করা এবং অবিলম্বে কার্যকর মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ৩৪ নং অধ্যাদেশ) আইনের ৫(১) ধারার পুরোনো দণ্ড, অর্থাৎ ন্যূনতম এক বছর ও সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানার বদলে ৩ ধারার অধীন বিধি বা ৪ ধারার অধীন প্রজ্ঞাপিত নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান করে। কারেন্ট জালের দণ্ডও বদলানো হয়: কারেন্ট জাল তৈরি, আমদানি, বাজারজাত বা মজুতের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা, আর বহন, পরিবহন, মালিকানা, দখল বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। একই অধ্যাদেশে 'মৎস্য অভয়াশ্রম'-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়: সরকারি গেজেটে ঘোষিত কোনো এলাকা বা পুরো জলাশয়, যেখানে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী সুরক্ষিত থাকে, যাতে তারা নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশে প্রজনন, বৃদ্ধি ও অবাধে চলাচল করতে পারে। সরকারকে এমন অভয়াশ্রম ঘোষণার ক্ষমতাও দেওয়া হয়, যেখানে স্থায়ীভাবে বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা যাবে।

দ্বিতীয় অধ্যাদেশ, মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ (২০২৬ সনের ২১ নং অধ্যাদেশ), জারি হয় ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। এতে বিধির মাধ্যমে নিষিদ্ধযোগ্য ধ্বংসাত্মক পদ্ধতির তালিকায় ইলেকট্রোফিশিং যন্ত্র যোগ করা হয়; নদী, মোহনা, খাল, বিল, হাওর, বাঁওড়, পুকুর, প্লাবনভূমি ও জলাভূমিসহ 'জলাশয়'-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়; জলজ পরিবেশে 'অন্যান্য কার্যকর এলাকাভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা' (ওইসিএম) ঘোষণার ক্ষমতা দেওয়া হয়; এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন একটি ধারা যুক্ত হয়। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল এই দুটি অধ্যাদেশই বলবৎ ছিল।

আইনে প্রয়োগের যে ক্ষমতাগুলো আছে, সেগুলো অপরিবর্তিত ছিল। সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তারা তল্লাশি, জব্দ ও তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশের উপপরিদর্শকের সমান ক্ষমতা রাখেন। বিধি বা প্রজ্ঞাপিত নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারী কারও নাম-ঠিকানা অজানা বা সন্দেহজনক হলে তাঁকে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করা যায়। এ আইনের অপরাধ আমলযোগ্য, এবং দোষী সাব্যস্ত করার সময় আদালত অপরাধে ব্যবহৃত বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখা যেকোনো জিনিস বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেবেন। ২০০২ সাল থেকে বলবৎ ৪ক ধারায় কারেন্ট জাল তৈরি, আমদানি, বাজারজাত, মজুত, বহন, পরিবহন, মালিকানা, দখল ও ব্যবহার নিষিদ্ধ; বাংলাপিডিয়া জাটকা ধরার যেসব জালের কথা বলেছে, কারেন্ট জাল তার একটি।

চাঁদপুরে জব্দ করা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, পোড়ানোর আগে স্তূপ করে রাখা, জুন ২০১৯; প্রসঙ্গের ছবি, ১ এপ্রিল ২০২৬-এর অভিযানের নয়। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চাঁদপুরে জব্দ করা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, পোড়ানোর আগে স্তূপ করে রাখা, জুন ২০১৯; প্রসঙ্গের ছবি, ১ এপ্রিল ২০২৬-এর অভিযানের নয়। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

মার্চ-এপ্রিলে বন্ধ অভয়াশ্রম


এই জব্দের ঘটনা ঘটে এমন দুই মাসে, যখন দেশের বেশির ভাগ ইলিশ অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস ২০২৬ সালের ১ মার্চ জানায়, সেদিন থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা ও চাঁদপুরের ৫টি অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ, এবং বরিশালের ৮২ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে নৌবাহিনী, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তর অভিযান চালাবে। বাসস জানায়, জাটকাকে পূর্ণাঙ্গ ইলিশে পরিণত হতে দিতে প্রতিবছর এই দুই মাস নিষেধাজ্ঞা থাকে, আর তা অমান্য করে অভয়াশ্রমে মাছ ধরলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান আছে।

বাসসের প্রতিবেদনে মৎস্য অধিদপ্তরের বরাতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার সময় বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪২১টি জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে, যার মধ্যে বরিশাল জেলার ১০ উপজেলার ৪৪ হাজার ৭৩৬ জন নিবন্ধিত ইলিশ জেলে রয়েছেন। জেলেরা সংস্থাটিকে জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় তাঁরা কর্মহীন হয়ে পড়েন; সময়মতো চাল না পৌঁছালে অনেকে বাধ্য হয়ে নদীতে নামেন, আর অনেক প্রকৃত জেলে চাল ও জেলে কার্ড পাননি। বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, নিষেধাজ্ঞা জোরালোভাবে কার্যকর করা হবে, বিশেষ করে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় দিনরাত পাহারার জন্য স্পিডবোট ও লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই দিনে দৈনিক ইত্তেফাক ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেনের বরাতে জানায়, মেঘনা, তেঁতুলিয়াসহ ভোলার নদীগুলোর ১৯০ কিলোমিটার এলাকার দুটি অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।

অভয়াশ্রমের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। ঢাকা ট্রিবিউন ২০১৮ সালের জুনে জানায়, বরিশালের হিজলা থেকে মেহেন্দিগঞ্জ পর্যন্ত মেঘনার ৮৩ কিলোমিটার অংশকে দেশের ষষ্ঠ ইলিশ অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে, এবং পটুয়াখালীর আন্ধারমানিক নদীর অভয়াশ্রম ছাড়া সব অভয়াশ্রমে মার্চ-এপ্রিলে নিষেধাজ্ঞা থাকে; আন্ধারমানিকে নিষেধাজ্ঞা থাকে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জানায়, লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের মতলবের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকা ইলিশের প্রজননক্ষেত্র ঘোষিত, এবং মার্চ-এপ্রিলের নিষেধাজ্ঞার সময় ছোট ইলিশ অভয়াশ্রমে চলে আসে।

৭ এপ্রিল থেকে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের প্রস্তুতি


জব্দের দিনই সরকার বার্ষিক সচেতনতা সপ্তাহের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। প্রতিদিনের বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে জানায়, ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬ পালিত হবে, স্লোগান 'জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী'। ৮ মার্চ ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় এবং ১১ মার্চ সভার কার্যবিবরণী প্রকাশ করা হয়।

পত্রিকাটি জানায়, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, বাগেরহাট ও সিরাজগঞ্জসহ মোট ২০টি জেলায় সপ্তাহটি পালিত হবে। ৬ এপ্রিল মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন এবং ৭ এপ্রিল বেলা ১১টায় চাঁদপুর সদরের মোলহেডে কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও নৌ-র‍্যালি হওয়ার কথা ছিল। ২০২৫ সালে ৮ থেকে ১৪ এপ্রিল ২০টি জেলায় সপ্তাহটি পালিত হয়েছিল, কেন্দ্রীয় উদ্বোধন হয়েছিল বরিশাল সদর উপজেলায়।

সভায় আলোচনা হয়, জাটকা-সমৃদ্ধ নদ-নদীতে মার্চ ও এপ্রিলে জাটকার প্রাচুর্য দেখা যায়, আর জাটকার জন্য ৫টি অভয়াশ্রমে এই দুই মাস জাটকাসহ সব ধরনের মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। জেলেসহ সব মৎস্যজীবী ও জনসাধারণের কাছে অবৈধ জাল ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক এবং জাটকা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে ২০০৭ সাল থেকে প্রতিবছর এই সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে।

ছোট মাছ কেন গুরুত্বপূর্ণ


জাটকা হলো জাতীয় মাছ ইলিশের (Tenualosa ilisha) পোনার স্থানীয় নাম। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী ইলিশ হেরিং গোত্রের একটি অভিপ্রয়াণী (অ্যানাড্রোমাস) মাছ: প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী ইলিশ পদ্মা, যমুনা ও মেঘনাসহ বড় নদীর উজানে ডিম ছাড়ে, ভাসমান ডিম থেকে লার্ভা ফোটে এবং কিছুদিন নার্সারি এলাকায় খেয়ে বড় হয়। প্রায় ছয় থেকে দশ সপ্তাহে এরা ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটারের মতো হয় এবং জাটকা নামে পরিচিত হয়; এ পর্যায়ে এরা সাগরের দিকে নামতে শুরু করে, সেখানে খেয়ে পরিণত হয়ে প্রজননের জন্য আবার নদীতে ফেরে।

ইলিশ অত্যন্ত উর্বর মাছ। বাংলাপিডিয়া বলছে, একটি বড় স্ত্রী ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম দিতে পারে, এবং ইলিশ মোটামুটি সারা বছর ডিম ছাড়লেও ফেব্রুয়ারি-মার্চে একটি ছোট ও সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে একটি প্রধান প্রজনন মৌসুম আছে। ইলিশ মূলত প্ল্যাংকটনভোজী, এক থেকে দুই বছরে পরিণত হয়, দৈর্ঘ্যে ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে, তবে সাধারণত ধরা পড়া ইলিশ ৩৫ থেকে ৪০ সেন্টিমিটারের হয়।

পোনা ইলিশ দলে দলে ভাটির দিকে নামে বলে এদের ধরা সহজ। বাংলাপিডিয়ায় উদ্ধৃত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ১৯৯২-৯৪ সালের এক জরিপে দেখা যায়, প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মৌসুমে জগৎ বেড়জাল, কারেন্ট জাল ও বেহুন্দি জালের মতো জাল দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টন জাটকা ধরা হতো, যার অর্ধেকের বেশি মেঘনায়। বিশ্বকোষটি ইলিশ আহরণ কমে যাওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে নির্বিচারে জাটকা ধরাকে উল্লেখ করেছে; অন্য কারণগুলো হলো পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া ও ব্যাপক পলি জমা, অভিপ্রয়াণের পথে বাধা, প্রজনন, খাদ্য ও নার্সারি এলাকা হারানো, নদীদূষণ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প।

ঝালকাঠি জেলার অন্যতম প্রধান নদী বিষখালী, মার্চ ২০১৬। ছবি: Lonely Explorer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঝালকাঠি জেলার অন্যতম প্রধান নদী বিষখালী, মার্চ ২০১৬। ছবি: Lonely Explorer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

জাতীয় হিসাবে ইলিশ


সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরুর পর ইলিশ আহরণ অনেক বেড়েছিল, পরে কিছুটা কমে। ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন মৎস্যমন্ত্রী জানান, ২০০২-০৩ অর্থবছরে উদ্বেগজনকভাবে কমে যাওয়ার পর ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার টন, আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা দাঁড়ায় ৫ লাখ ৭১ হাজার টনে, অর্থাৎ ১৫ বছরে প্রায় ৯২ শতাংশ বৃদ্ধি। দ্য ডেইলি স্টার ২০২৫ সালের এপ্রিলে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অফিসের দেওয়া মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যের বরাতে জানায়, ২০২৩-২৪ সালে উৎপাদন নেমে আসে ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪২ হাজার টন কম এবং সাত বছরে সর্বনিম্ন; এর আগে ২০১৮-১৯ সালে ৫.৩২ লাখ টন, ২০১৯-২০ সালে ৫.৫০ লাখ, ২০২০-২১ সালে ৫.৬৫ লাখ এবং ২০২১-২২ সালে ৫.৬৬ লাখ টন ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল।

ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আবু কাওসার দিদার এর কারণ হিসেবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় জেলেদের নদী-সাগরে যেতে না পারা, মেঘনা-তেঁতুলিয়া ও পায়রা-বিষখালীর মতো প্রধান অভিপ্রয়াণপথে নাব্যতা সংকট, যেখানে ইলিশের পছন্দের পাঁচ মিটারের বেশি গভীরতার জায়গায় পানির গভীরতা দুই-তিন মিটারে নেমেছে, এবং অতিরিক্ত আহরণকে দায়ী করেন। বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অফিসের উপপরিচালক নরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, প্রধান পথগুলো দিয়ে কম ইলিশ আসছে, এবং তিনি স্বীকার করেন যে অনেক জেলে এখনো অবৈধভাবে জাটকা ধরছেন, যা সংরক্ষণ উদ্যোগকে দুর্বল করছে।

অর্থনীতিতে এই মাছের গুরুত্ব অনেক। ঢাকা ট্রিবিউন ২০১৬-১৭ সালের মৎস্য পরিসংখ্যান প্রতিবেদনের বরাতে জানিয়েছিল, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ এবং জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে; প্রায় ৫ লাখ জেলে সরাসরি এবং আরও ২০ লাখ মানুষ পরোক্ষভাবে এর ওপর নির্ভরশীল। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়ার্ল্ডফিশের তথ্যের বরাতে জানায়, বিশ্বের ৮৬ শতাংশ ইলিশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় এবং ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম; দেশে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ ইলিশ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, আর ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়।

দক্ষিণাঞ্চলের সড়কে আগের জব্দের ঘটনা


উপকূল থেকে সড়কপথে জাটকা পাঠানোর সময় এর আগেও এ অঞ্চলে জব্দের ঘটনা ঘটেছে। দেশ রূপান্তর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে জানায়, মৎস্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ঝালকাঠিতে বরিশাল-খুলনা মহাসড়কের কৃষ্ণকাঠি পেট্রল পাম্প মোড়ে রাতে কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোলগামী দুটি বাস থেকে ১৫ মণ জাটকা জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দুই বাসের ৬ জন স্টাফকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, আর জাটকা সেই রাতেই মাদ্রাসার লিল্লাহ বোর্ডিং, এতিমখানা ও সরকারি শিশু পরিবারে বিতরণ করা হয়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা তখন বলেছিলেন, জাটকাগুলো পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর বন্দরের মৎস্য আড়ত থেকে পিরোজপুর, খুলনা ও যশোরের বাজারে যাচ্ছিল, এবং নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত আট মাস জাটকা আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বেচাকেনা নিষিদ্ধ।

প্রথম আলো ২০২১ সালের ১৪ মার্চ জানায়, রাজধানীতে জাটকা পাচারের খবরে বরিশাল নগরের আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ অভিযান চালিয়ে কুয়াকাটা থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস ও ভোলার লাহারহাট থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান থেকে ৩০৪ মণ জাটকা জব্দ করে। পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের ১২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন, আর জাটকা বিভিন্ন মাদ্রাসা ও গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেছিলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে।

নলছিটি, ঝালকাঠি ও কোস্টগার্ড


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী ঝালকাঠি বরিশাল বিভাগের ৭০৬.৭৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি জেলা; এর উত্তর ও পূর্বে বরিশাল জেলা, পশ্চিমে পিরোজপুর, দক্ষিণে বরগুনা জেলা ও বিষখালী নদী। প্রধান নদী বিষখালী, গাজালিয়া, নলছিটি ও কালিজিরা। ১৯৭২ সালে ঝালকাঠি মহকুমা এবং ১৯৮৪ সালে জেলা হয়; ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৮২ হাজার ৬৬৯। জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে নলছিটি সবচেয়ে বড়।

বাংলাপিডিয়া অনুসারে নলছিটি উপজেলার আয়তন ২৩১.৪২ বর্গকিলোমিটার, এতে একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন, যার একটি দপদপিয়া; ২০১১ সালে জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৬। নলছিটি, বিষখালী, খয়রাবাদ, গাজালিয়া ও কালিজিরা এর নদী, আর নৌপথ প্রায় ২৭০ কিলোমিটার। নলছিটি থানা গঠিত হয় ১৯২৪ সালে, উপজেলা হয় ১৯৮৩ সালে। আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; প্রধান ফসল ধান, ডাল, গম, ভুট্টা, আলু ও শাকসবজি, আর প্রধান রপ্তানিপণ্য ধান, নারকেল ও সুপারি। উপজেলায় মৎস্য খামার, ডেইরি, পোলট্রি খামার ও হ্যাচারি রয়েছে, শিল্প-কারখানার মধ্যে আছে বরফকল।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দেশের সামুদ্রিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিচালনায় কাজ করে। ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদে কোস্টগার্ড আইন পাস হয় এবং ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নৌবাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া দুটি টহল জলযান নিয়ে বাহিনীটি বর্তমান রূপে যাত্রা শুরু করে। সদর দপ্তর ঢাকার আগারগাঁওয়ে, আর অঞ্চল চারটি: ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা ও ভোলা। বাহিনীর ঘোষিত লক্ষ্যের মধ্যে বাংলাদেশের জলসীমা ও উপকূলীয় এলাকার মৎস্য, তেল, গ্যাস ও বনসম্পদ রক্ষা রয়েছে, এবং মৎস্যসম্পদ সুরক্ষা এর প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি।

মজু চৌধুরীর হাটে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের একটি স্টেশন পোস্ট, ২০১০ সালের ছবি; বাহিনীর প্রসঙ্গের ছবি, নলছিটির অভিযানের নয়। ছবি: PrinceNijam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
মজু চৌধুরীর হাটে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের একটি স্টেশন পোস্ট, ২০১০ সালের ছবি; বাহিনীর প্রসঙ্গের ছবি, নলছিটির অভিযানের নয়। ছবি: PrinceNijam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ছবি: Rezowan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, যুগান্তর, দৈনিক গণকণ্ঠ, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (ইউএনবি), বাংলাদেশ আইন (মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০, সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ ও ২০২৬, মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯), বাসস, দৈনিক ইত্তেফাক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ, ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, দেশ রূপান্তর, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)