সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

ল্যাবরেটরি করলে দেশেই অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করা সম্ভব

বিষধর সাপের দংশনে রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন দেশের কোনো ওষুধ কোম্পানিতে উৎপাদন হয় না। বছরের পর বছর ধরে প্রতিবেশী বেশ ভারত থেকে এ ইনজেকশন আমদানি করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিষধর সাপের দংশনে রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন দেশের কোনো ওষুধ কোম্পানিতে উৎপাদন হয় না। বছরের পর বছর ধরে প্রতিবেশী বেশ ভারত থেকে এ ইনজেকশন আমদানি করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০১৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সাপে কাটাকে অবহেলিত স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে ঘোষণা দেয়। ২০৩০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বের সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশকে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অধীনে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় ছয় বছর আগে ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে অ্যান্টিভেনম রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়।

দেশের প্রথম ভেনম রিসার্চ সেন্টারটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ছয় বছরে কতটুকু অগ্রগতি হলো, কী কী সীমাবদ্ধতা রয়েছে, ভবিষ্যতে কী করা দরকার- এসব বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন ভেনম রিসার্চ সেন্টার, বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও গবেষক এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জাগো নিজের প্ল্যানিং এডিটর মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল।

প্রশ্ন: অ্যান্টিভেনম রিসার্চ সেন্টার, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট জানতে চাই?

উত্তর: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাপে কাটা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিবছর বিশ্বে ৫৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হয় এবং ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যায়। দক্ষিণ এশিয়ায় মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনসিডিসি) অধীনে ২০২২ সালে পরিচালিত সবশেষ এক জরিপ অনুযায়ী, প্রতিবছর দেশে প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। এর মধ্যে দুর্ভাগ্যজনকভাবে মারা যান সাড়ে ৭ হাজার মানুষ। অনেকে বেঁচে গেলেও পঙ্গুত্ববরণসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভোগেন।

প্রতিবছর দেশে প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। এর মধ্যে দুর্ভাগ্যজনকভাবে মারা যান সাড়ে ৭ হাজার মানুষ। অনেকে বেঁচে গেলেও পঙ্গুত্ববরণসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভোগেন।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আর্থিক সহায়তায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ২০১৮ সালে দেশের প্রথম এবং একমাত্র সাপ ও সাপের বিষ নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভেনম রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রশ্ন: প্রধানত কী উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনে এ রিসার্চ সেন্টারটি প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: দেশের সব পরিবেশ ও জলবায়ুবেষ্টিত অঞ্চল থেকে সাপ সংগ্রহ, দীর্ঘস্থায়ী বিষধর সাপ লালন-পালন ও তাদের খাবার (ইঁদুর) উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি, আদর্শ বৈজ্ঞানিক ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃত পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রতিনিধিত্বকারী বিষ সংগ্রহ, আমদানি করা অ্যান্টিভেনমের এদেশীয় সাপের বিষের নিষ্ক্রিয়তার হার ও কার্যকারিতা যাচাই এবং সংগ্রহ করা বিষের বৈশিষ্ট্য নিরূপণ করে অধিকতর কার্যকর, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ অ্যান্টিভেনম তৈরির জন্য এ রিসার্চ সেন্টারটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে কত ধরনের বিষধর সাপ রয়েছে? সেসব সাপের সবগুলোর ভেনমই সংগ্রহ করা হয়েছে?

উত্তর: বাংলাদেশে মোট ১০ প্রজাতির বিষধর সাপ রয়েছে। তাদের মধ্যে দুই প্রজাতির কোবরা, দুই প্রজাতির গ্রিনপিট, পাঁচ প্রজাতির ক্রেইট এবং রাসেল ভাইপার। এসব বিষধর সাপের সবগুলোরই ভেনম সংগ্রহে রয়েছে এই সেন্টারের। এগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এছাড়া দেশের কোন এলাকায় কোন সাপ রয়েছে তা নির্ণয় করা হয়েছে ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে।

প্রশ্ন: রিসার্চ সেন্টারটির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অগ্রগতি কতটুকু?

উত্তর: ছয় বছর আগে যখন সেন্টারটি যাত্রা শুরু করে তখন সাপের সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি। বর্তমানে ভেনম রিসার্চ সেন্টারে সাড়ে তিন শতাধিক সাপ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেন্টারটিতে সবগুলোর মেডিকেল চেকআপ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যপরীক্ষা, স্টুল পরীক্ষা ও তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ ভেনম সংগ্রহ করা হয়েছে।

রাসেলস ভাইপারের ভেনম নিয়ে একটি গবেষণা চলমান। এ সাপের ভেনমের বিপরীতে এন্টিবডি তৈরি করে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। যে কোনো অ্যান্টিভেনম তৈরির আগে ধাপে ধাপে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন হয়।

ভেনম রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠার সময় থেকে বাংলাদেশ বন বিভাগের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও বৈজ্ঞানিক কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমা থেকে বিষধর সাপ সংগ্রহ, লালন-পালন, বিষ সংগ্রহ ও বিষ সম্পর্কিত নানাবিধ গবেষণা করে আসছে।

এছাড়া ভেনম রিসার্চ সেন্টারের গবেষকরা এরই মধ্যে কয়েকটি প্রজাতির বিষের বৈশিষ্ট্য নিরূপণ সম্পন্ন করেছেন। দেশীয় তালিকায় যুক্ত করেছেন নতুন তিনটি সাপের প্রজাতি। ভবিষ্যতে কোন কোন অঞ্চলে সাপ ও দংশনের হার বাড়তে পারে এবং ৫০ বছর পরে এশিয়ার দেশগুলোতে সাপের বিস্তৃতি কেমন হবে তা নিরূপণ করেছেন। উদ্ভাবন করেছেন স্বল্পমূল্যের ও দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাপের ডিম ফোটানোর পদ্ধতি। আর সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফোটানো হচ্ছে বাচ্চা এবং সেই বাচ্চাদের লালন-পালন করে বড় করা হচ্ছে। এই সাপগুলো থেকেও সংগ্রহ করা হচ্ছে বিষ। বর্তমানে এই সেন্টারে ১০ প্রজাতির ৩৫০টি সাপ রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি সেন্টারে ফোটানো বাচ্চা।

আদর্শ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ১০ প্রজাতির সাপ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে ৮৪৫ গ্রাম বিষ। এছাড়া ক্রমবর্ধমান সাপের চাহিদা মেটাতে ৪ হাজার ইঁদুর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলসহ ইঁদুর প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে।

মূলত অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের প্রক্রিয়াটা সহজ নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া। রিসার্চ সেন্টারের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক হলেও একটি আধুনিক ভেনম ল্যাবরেটরি স্থাপন এখন সময়ের দাবি।

সাপের বিষ নিয়ে গবেষণা করা বা অ্যান্টিভেনম তৈরি নিয়ে গবেষণা বেশ ব্যয়বহুল ও অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। আন্তর্জাতিক মানের সর্বাধুনিক গবেষণাগার স্থাপনের জন্য এরই মধ্যে ভেনম রিসার্চ সেন্টারের সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় অ্যান্টিভেনম তৈরির অংশ হিসেবে এরই মধ্যে রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপের বিষ থেকে এন্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে গড়ে তোলা হয়েছে অ্যানিমেল ইমুনাইজেশন ল্যাব নামে একটি অত্যাধুনিক গবেষণাগার।

প্রশ্ন: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সাপের কামড় বিশেষ করে রাসেলস ভাইপারের দংশনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবরে জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ সাপের ভেনম নিয়ে কি আপনাদের গবেষণা রয়েছে?

উত্তর: রাসেলস ভাইপারের ভেনম নিয়ে একটি গবেষণা চলমান। এ সাপের ভেনমের বিপরীতে অ্যান্টিবডি তৈরি করে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। যে কোনো অ্যান্টিভেনম তৈরির আগে ধাপে ধাপে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন হয়।

প্রশ্ন: দেশি অ্যান্টিভেনম উৎপাদন কবে নাগাদ হতে পারে?

উত্তর: মূলত অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের প্রক্রিয়াটা সহজ নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া। রিসার্চ সেন্টারের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক হলেও একটি আধুনিক ভেনম ল্যাবরেটরি স্থাপন এখন সময়ের দাবি। ল্যাবরেটরি স্থাপিত হলে স্থানীয়ভাবে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

এমইউ/এএসএ/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)