সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

প্রায় ৩০ বছর পর থাইল্যান্ডে আবার দেখা মিলল বিপন্ন চ্যাপ্টা-মাথা বিড়ালের

২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর থাইল্যান্ডের ডিএনপি ও প্যানথেরা থাইল্যান্ড জানায়, নারাথিওয়াতের প্রিন্সেস সিরিনধর্ন বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ক্যামেরা ফাঁদে বিপন্ন চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল ধরা পড়েছে, ১৯৯৫ সালের পর দেশটিতে যা প্রথম।

প্রায় ৩০ বছর পর থাইল্যান্ডে আবার দেখা মিলল বিপন্ন চ্যাপ্টা-মাথা বিড়ালের
পরিবেশ

২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর থাইল্যান্ডের জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনপি) এবং বিশ্বব্যাপী বন্য বিড়াল সংরক্ষণ সংস্থা প্যানথেরার থাই কার্যক্রম প্যানথেরা থাইল্যান্ড ঘোষণা দেয়, বিশ্বের অন্যতম বিরল বন্য বিড়াল বিপন্ন ফ্ল্যাট-হেডেড ক্যাট বা চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল (Prionailurus planiceps) দক্ষিণ থাইল্যান্ডে আবার খুঁজে পাওয়া গেছে। দেশটির সর্বদক্ষিণের নারাথিওয়াত প্রদেশের পিট জলাবন প্রিন্সেস সিরিনধর্ন বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে বসানো দূরনিয়ন্ত্রিত ক্যামেরা ফাঁদে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিড়ালটির ছবি ধরা পড়ে। ১৯৯৫ সালের পর থাইল্যান্ডে এই প্রজাতির এটিই প্রথম নিশ্চিত উপস্থিতি।

ঘোষণাটি দেওয়া হয় থাইল্যান্ডের বার্ষিক বন্যপ্রাণী সুরক্ষা দিবস উপলক্ষে, যা সেবার পড়েছিল শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর। থাইল্যান্ডে ২৯ বছর ধরে বিড়ালটির কোনো নথিভুক্ত উপস্থিতি ছিল না, আর আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়ন (আইইউসিএন) দেশটিতে একে "সম্ভবত বিলুপ্ত" হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। থাইল্যান্ডের বাইরে প্রজাতিটি ব্রুনেই, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় টিকে আছে। আইইউসিএন একে বিপন্ন শ্রেণিতে রেখেছে; সারা বিশ্বের বনে আনুমানিক ২,৫০০টি প্রাপ্তবয়স্ক বিড়াল বেঁচে আছে।

ক্যামেরা ফাঁদে যা ধরা পড়েছে


ক্যামেরা ফাঁদ হলো বনে গাছ বা খুঁটিতে বেঁধে রাখা স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা, যার সামনে দিয়ে কোনো প্রাণী গেলেই ছবি উঠে যায়। এতে লাজুক ও রাতে চলাফেরা করা প্রাণীকে বিরক্ত না করেই তাদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করা যায়। প্যানথেরার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রিন্সেস সিরিনধর্ন বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ক্যামেরায় ২০২৪ সালে ১৩ বার এবং ২০২৫ সালে ১৬ বার চ্যাপ্টা-মাথা বিড়ালের উপস্থিতি ধরা পড়ে। প্যানথেরা এই কাজকে প্রজাতিটি খুঁজতে এ পর্যন্ত চালানো সবচেয়ে বড় জরিপ বলে বর্ণনা করেছে। একই দিনে ঘোষণাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা বিজ্ঞান সাময়িকী লাইভ সায়েন্স লিখেছে, ক্যামেরাগুলোতে একাধিক চ্যাপ্টা-মাথা বিড়ালের ছবি উঠেছে।

বিজ্ঞানীরা সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত হয়েছেন বাচ্চাসহ একটি মাদি বিড়ালের ছবি পেয়ে। প্যানথেরা বলেছে, এতে নিশ্চিত হয়েছে যে অঞ্চলটিতে বিড়ালগুলো এখনো বংশবৃদ্ধি করছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই প্রজাতির মা সাধারণত একবারে মাত্র একটি বাচ্চা দেয়।

এমন ছবি কেন এত দুর্লভ, প্যানথেরা তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে। বিড়ালটি আকারে ছোট, সংখ্যায় কম এবং প্রধানত রাতে সক্রিয়, তাই একে দেখা খুবই কঠিন। এর পছন্দের আবাস ক্রান্তীয় বৃষ্টিবন, জলাবন ও পিট জলাবন, বাদাভূমি, হ্রদ, ছোট নদী ও নদীতীরের বন। এসব জায়গার ঘন গাছপালা আর পানিতে ডুবে থাকা দুর্গম মাটির কারণে মাঠপর্যায়ের গবেষণা ধীর ও কষ্টসাধ্য।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছবি ও তথ্যগুলো হালা-বালা বন্যপ্রাণী গবেষণা কেন্দ্র এবং প্যানথেরা থাইল্যান্ডের বেশ কিছুদিন ধরে চলা যৌথ পরিবেশ-গবেষণার ফল। প্যানথেরা জানায়, তাদের নেতৃত্বে প্রজাতিটির নতুন আইইউসিএন রেড লিস্ট ও গ্রিন লিস্ট মূল্যায়ন ২০২৬ সালের শুরুর দিকে প্রকাশের কথা ছিল, এবং থাইল্যান্ডের জরিপটি সেই কাজেরই অংশ।

কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীরা যা বলেছেন


ডিএনপির মহাপরিচালক এই পুনরাবিষ্কারকে বলেছেন "থাইল্যান্ডের জন্য এক যুগান্তকারী মুহূর্ত এবং সংরক্ষণে আমাদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের জোরালো প্রতিফলন।" বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, কয়েক দশক ধরে দেশটিতে চ্যাপ্টা-মাথা বিড়ালকে "সম্ভবত বিলুপ্ত" ধরা হচ্ছিল।

মহাপরিচালক আরও বলেন, "দক্ষিণ থাইল্যান্ডে চ্যাপ্টা-মাথা বিড়ালের পুনরাবিষ্কার থাইল্যান্ড এবং যেখানে প্রজাতিটি এখনো পাওয়া যায় সেই বৃহত্তর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সংরক্ষণের জন্য এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য।" তাঁর মতে, এলাকাটির কঠিন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কারণে সংরক্ষণের কাজ দুরূহ হলেও সীমান্তবর্তী বন ও বিরল বন্যপ্রাণী রক্ষায় ডিএনপির কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা এই আবিষ্কারে প্রকাশ পেয়েছে।

প্যানথেরা থাইল্যান্ডের কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, "প্রায় তিন দশক পর এই পুনরাবিষ্কার দেখিয়ে দিল, বিজ্ঞান ও কঠোর সুরক্ষা একসঙ্গে কাজ করলে কী সম্ভব।" তিনি দেশটির জলাভূমিকে সবচেয়ে জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অথচ সবচেয়ে হুমকির মুখে থাকা আবাসগুলোর অন্যতম বলে বর্ণনা করেন এবং জানান, সংস্থাটি সেখানে গবেষণা বাড়াতে ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করতে আগ্রহী।

প্যানথেরার ক্ষুদ্র বিড়াল সংরক্ষণ বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক বলেন, "যেসব প্রজাতিকে হারিয়ে গেছে বলে ভাবা হয়, সেগুলোও ফিরিয়ে আনা যায়, যদি আমরা তাদের নির্ভরতার আবাসস্থল রক্ষায় বিনিয়োগ করি।" তাঁর মতে, থাইল্যান্ডে বিড়ালটির টিকে থাকা প্রমাণ করে যে এসব বাস্তুতন্ত্রে এখনো অসাধারণ জীববৈচিত্র্য আছে, আবার এগুলো রক্ষা ও পুনরুদ্ধার কতটা জরুরি, সেটাও দেখায়।

ডিএনপি ও প্যানথেরা থাইল্যান্ড জানায়, এই পুনরাবিষ্কারই হবে প্রজাতিটির সংরক্ষণ পরিকল্পনার ভিত্তি। ঘোষিত গবেষণার বিষয়গুলো হলো:

  • পুরুষ ও মাদি বিড়ালের আলাদা আলাদা বিচরণ এলাকার আয়তন;
  • আবাসস্থলের ব্যবহার এবং শিকার বাছাই;
  • অন্য প্রজাতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং খাবার খোঁজার সময়;
  • সংখ্যার ঘনত্ব ও ভৌগোলিক বিস্তার;
  • আবাসস্থলের পরিবর্তনের সঙ্গে বিড়ালগুলো কীভাবে খাপ খায়।

সুরক্ষার জন্য প্যানথেরা থাইল্যান্ড ডিএনপির সঙ্গে মিলে অভয়ারণ্যের সক্ষমতা বাড়ানোর কথা জানায়: বনরক্ষীদের শিকারিদের আস্তানায় অভিযান, গ্রেপ্তার প্রতিবেদন লেখা ও স্মার্ট টহলের প্রশিক্ষণ, চোরাশিকারিদের ওপর নজর রাখতে মাঠের সরঞ্জাম ও ক্যামেরা ফাঁদ সরবরাহ, আর মানুষের দিক থেকে আসা হুমকির ধরন, প্রবণতা ও মৌসুমি পরিবর্তন বুঝতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভয়ারণ্যের আশপাশের মুসলিম জনগোষ্ঠী খাবার বা ব্যবসার জন্য বন্যপ্রাণী শিকার করে না; তারা মাছ ধরা ও বনজ সম্পদ সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয়দের দিক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি দেখা যায়নি; তবু জনসংযোগ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা স্থানীয় পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে বুঝে সম্ভাব্য বিরোধ আগেভাগেই ঠেকানোর উপায় খুঁজবেন।

চ্যাপ্টা মাথার ছোট্ট বিড়াল


চ্যাপ্টা কপাল আর লম্বাটে মাথার খুলির জন্যই বিড়ালটির এমন নাম। প্যানথেরার বর্ণনায় এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে ছোট বন্য বিড়াল, ওজনে সাধারণ পোষা বিড়ালের অর্ধেকেরও কম। শরীর খাটো ও নলাকার, পা সরু, লেজ ছোট ও মোটা। ধারণা করা হয়, চিতা বিড়াল ও মেছো বিড়ালের সঙ্গেই এর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা।

বন্য বিড়াল বিষয়ে সানকুইস্ট দম্পতির প্রামাণ্য গ্রন্থ 'ওয়াইল্ড ক্যাটস অব দ্য ওয়ার্ল্ড' (২০০২) অনুযায়ী, বিড়ালটির মাথাসহ দেহের দৈর্ঘ্য ৪১ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার, ছোট লেজটি ১৩ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার, আর ওজন দেড় থেকে আড়াই কেজি।

মাথার ওপরের লোম লালচে-বাদামি, শরীরের লোম গাঢ় ছাই-মেশানো বাদামি, পেটের দিক সাদা ছোপযুক্ত। মুখমণ্ডল শরীরের চেয়ে হালকা রঙের, নাকের ডগা ও থুতনি সাদা। দুই চোখের মাঝখান দিয়ে নাকের দুই পাশে দুটি হালকা হলদে-সাদা রেখা থাকে। কান ছোট ও গোলাকার। চোখ দুটি কাছাকাছি বসানো, ফলে দূরত্ব আন্দাজ করার ক্ষমতা ভালো।

পানিতে পিচ্ছিল শিকার ধরার উপযোগী কয়েকটি বৈশিষ্ট্য এর আছে। দাঁতগুলো অস্বাভাবিক লম্বা, সামনের দিকের ওপরের প্রিমোলার দাঁত অন্য বিড়ালের চেয়ে বড় ও ধারালো, আর চোয়ালের শক্ত পেশি শিকার আঁকড়ে রাখতে সাহায্য করে। নখের খাপ ছোট হওয়ায় প্রতিটি নখের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাইরে থাকে। আঙুলের মাঝে চামড়ার পর্দা থাকায় কাদা ও পানিতে পা ভালোভাবে আঁকড়ে ধরে। প্যানথেরাও জানিয়েছে, পর্দাযুক্ত আঙুল বিড়ালটিকে জলাভূমি ও পিট জলাবনে চলাফেরায় সাহায্য করে।

প্রাণিবিজ্ঞানী নিকোলাস এইলওয়ার্ড ভিগর্স ও টমাস হর্সফিল্ড ১৮২৭ সালে সুমাত্রায় সংগৃহীত একটি নমুনার চামড়া দেখে প্রথম প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা দেন এবং নাম রাখেন Felis planiceps। রুশ প্রকৃতিবিদ নিকোলাই সেভেরৎসভ ১৮৫৮ সালে এশিয়ার ছোপওয়ালা ছোট বিড়ালদের জন্য Prionailurus গণনাম প্রস্তাব করেন; চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল এখন সেই গণেরই সদস্য।

মালয়েশিয়ার বোর্নিওর সাবাহ রাজ্যের টাংকুলাপ বনাঞ্চলে ২০০৯ সালের মার্চে ক্যামেরা ফাঁদে ধরা পড়া একটি চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল। ছবি: উইল্টিং ও সহযোগীরা / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
মালয়েশিয়ার বোর্নিওর সাবাহ রাজ্যের টাংকুলাপ বনাঞ্চলে ২০০৯ সালের মার্চে ক্যামেরা ফাঁদে ধরা পড়া একটি চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল। ছবি: উইল্টিং ও সহযোগীরা / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)

নদী ও জলাবনের শিকারি


ঘন গাছপালায় ঢাকা ভেজা জায়গায় থাকে বলে চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল নিয়ে গবেষণা খুবই কঠিন, ক্যামেরা ফাঁদেও এর ছবি কদাচিৎ ওঠে। ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও অংশ কালিমান্তানে নথিভুক্ত বিড়ালগুলো প্রধানত রাতে সক্রিয় ছিল। ধারণা করা হয়, এরা একা থাকে এবং গন্ধ ছড়িয়ে নিজের এলাকা চিহ্নিত করে; বন্দি অবস্থায় পুরুষ ও মাদি দুটোই কুঁজো হয়ে সামনে হাঁটতে হাঁটতে প্রস্রাব ছিটিয়ে চিহ্ন রাখে। তবে বন্দি একটি প্রাপ্তবয়স্ক মাদি বিড়াল ভোর ও সন্ধ্যায়, সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল। প্যানথেরা জানায়, মালয়েশিয়ার বোর্নিওর জলাবনে প্রজাতিটি ভোরে ও গোধূলিতে সবচেয়ে সক্রিয় থাকে।

এর খাবারের বড় অংশই মাছ। মালয়েশিয়ার এক নদীতীরে গুলিতে মারা পড়া একটি প্রাপ্তবয়স্ক বিড়ালের পাকস্থলীতে মাছ ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি। বন্দি বিড়াল জ্যান্ত মাছ ধরতে পুরো মাথা পানিতে ডুবিয়ে দেয় এবং সাধারণত ধরা মাছ পানি থেকে অন্তত দুই মিটার দূরে নিয়ে যায়, সম্ভবত যাতে শিকার পিছলে আবার পানিতে না পড়ে। ডাঙার শিকারের চেয়ে পানির শিকারে এদের আগ্রহ অনেক বেশি। চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল ব্যাঙ শিকার করে বলেও জানা যায়, কাঁকড়া-চিংড়ির মতো খোলসি প্রাণীও ধরে বলে ধারণা করা হয়, আর ইঁদুর ও মুরগিও খায়। প্যানথেরা একে জলাভূমি ও পিট জলাবনের শীর্ষ শিকারি বলে বর্ণনা করেছে, যেখানে পানির খাবারের জন্য তাকে অন্য প্রাণীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়।

বনে এদের প্রজনন সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়। বন্দি অবস্থায় গর্ভকাল প্রায় ৫৬ দিন। বন্দি অবস্থায় নথিভুক্ত তিনটি প্রসবের একটিতে দুটি বাচ্চা হয়েছিল, বাকি দুটিতে একটি করে। বন্দি দুটি বিড়াল ১৪ বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিল। প্রাপ্তবয়স্ক বিড়াল ঘড়ঘড় শব্দ করে এবং কাছাকাছি দূরত্বে শোনা যায় এমন অন্য ডাকও দেয়; একটি বাচ্চার ডাক পোষা বিড়ালছানার ডাকের মতো শোনা গেছে।

চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল কোথায় থাকে


প্রজাতিটি পাওয়া যায় কেবল থাইল্যান্ডের সর্বদক্ষিণ, মালয় উপদ্বীপের মালয়েশীয় অংশ, সুমাত্রা এবং ব্রুনেই, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার ভাগে থাকা বোর্নিও দ্বীপের নিম্নভূমির ক্রান্তীয় বৃষ্টিবনে। এরা মূলত উপকূল ও নিম্নভূমির মিঠাপানির আবাসে থাকে, যেমন মিশ্র মিঠাপানির জলাবন এবং নদীর পাশের নিচু জলাভূমি।

প্রজাতিটির বিস্তার নিয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত গবেষণা ২০১০ সালের মার্চে পিয়ার-রিভিউড সাময়িকী প্লস ওয়ান-এ প্রকাশ করেন আন্দ্রেয়াস উইল্টিং ও তাঁর সহকর্মীরা। মাঠ জরিপ, প্রকাশিত গবেষণা ও জাদুঘরের সংগ্রহ থেকে তাঁরা প্রজাতিটির যত রেকর্ড পাওয়া যায় সব জড়ো করেন। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আইইউসিএনের বিড়াল বিশেষজ্ঞ দলের ক্লাউডেড লেপার্ড ও ক্ষুদ্র বিড়াল সম্মেলনে প্রজাতিটির মাত্র ১৪টি রেকর্ড সংকলিত হয়েছিল। গবেষক দলটি মোট ১০৭টি রেকর্ড জোগাড় করে, যার ৪৭টি পুরোনো ও ৬০টি সাম্প্রতিক; এর মধ্যে স্বতন্ত্র স্থান ছিল ৮৮টি। সবচেয়ে পুরোনো রেকর্ডটি বার্লিনের জাদুঘরে রাখা ১৮৬৪ সালের একটি নমুনা।

গবেষণায় দেখা যায়, বিড়ালটি কোথায় থাকবে তা সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে পানির দূরত্বের ওপর; এর বিস্তারের অর্ধেকেরও বেশি এই একটি বিষয় দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। ৭০ শতাংশের বেশি রেকর্ড বড় নদী বা হ্রদ থেকে তিন কিলোমিটারের কম দূরত্বে পাওয়া গেছে, আর মাত্র চারটি রেকর্ড ছিল আট কিলোমিটারের বেশি দূরে। সাম্প্রতিক রেকর্ডের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং পুরোনো রেকর্ডের ৯০ শতাংশের বেশি এসেছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০ মিটারের কম উচ্চতা থেকে।

দক্ষিণ থাইল্যান্ড ও মালয় উপদ্বীপের জন্য গবেষণাপত্রটি চারটি বনাঞ্চল থেকে সাম্প্রতিক রেকর্ডের কথা জানায়, যার একটি থাইল্যান্ডের তো দায়েং পিট জলাবন, অর্থাৎ বর্তমান প্রিন্সেস সিরিনধর্ন বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। লেখকেরা প্রজাতিটির সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর তালিকায় এই বনকে রাখেন। দক্ষিণ মিয়ানমারে কাজ করা কোনো বিজ্ঞানী সেখানে বিড়ালটির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেননি।

পরের জরিপগুলোতে নতুন এলাকাও যোগ হয়। মালয় উপদ্বীপের পাসোহ বনাঞ্চলে ২০১৩ সালে তেলপামবাগান থেকে দেড় কিলোমিটারেরও কম দূরে চ্যাপ্টা-মাথা বিড়ালের ছবি ওঠে। একই বছর মালয়েশিয়ার সারাওয়াকের মালুদাম জাতীয় উদ্যানে মালুদাম নদীর তীরে একটি বিড়াল দেখা যায় ও তার ছবি তোলা হয়। সুমাত্রার কাম্পার উপদ্বীপে ২০১৫ সালে প্রথমবার ক্যামেরা ফাঁদে প্রজাতিটি ধরা পড়ে, আর ২০১৯ সাল পর্যন্ত সেখানকার পিট জলাবনে ১১টি রেকর্ড পাওয়া যায়।

দক্ষিণ থাইল্যান্ড, মালয় উপদ্বীপ, সুমাত্রা ও বোর্নিওতে চ্যাপ্টা-মাথা বিড়ালের রেকর্ডের ২০১০ সালের মানচিত্র; বৃত্ত পুরোনো এবং ত্রিভুজ সাম্প্রতিক রেকর্ড নির্দেশ করে। ছবি: উইল্টিং ও সহযোগীরা / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
দক্ষিণ থাইল্যান্ড, মালয় উপদ্বীপ, সুমাত্রা ও বোর্নিওতে চ্যাপ্টা-মাথা বিড়ালের রেকর্ডের ২০১০ সালের মানচিত্র; বৃত্ত পুরোনো এবং ত্রিভুজ সাম্প্রতিক রেকর্ড নির্দেশ করে। ছবি: উইল্টিং ও সহযোগীরা / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)

প্রিন্সেস সিরিনধর্ন অভয়ারণ্য, থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বড় পিট জলাবন


প্রিন্সেস সিরিনধর্ন বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য স্থানীয়ভাবে বেশি পরিচিত পা প্রু তো দায়েং বা তো দায়েং পিট জলাবন নামে; বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিনটি প্রধান জলধারার একটি খ্লং তো দায়েংয়ের নাম থেকে এই নাম। এর আনুষ্ঠানিক নামটি রাজকুমারী মহা চক্রী সিরিনধর্নের সম্মানে রাখা। বনটি নারাথিওয়াত প্রদেশের মুয়াং নারাথিওয়াত, তাক বাই, সুঙ্গাই কোলোক ও সুঙ্গাই পাদি জেলাজুড়ে বিস্তৃত।

রামসার সাইটস ইনফরমেশন সার্ভিসের তথ্যমতে, অভয়ারণ্যটির আয়তন ২০,১০০ হেক্টর এবং এটি থাইল্যান্ডে টিকে থাকা সবচেয়ে বড় পিট জলাবন। ২০০১ সালের ৫ জুলাই রামসার কনভেনশনের অধীনে একে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি ঘোষণা করা হয়, এর সাইট নম্বর ১১০২। রামসারের নথিতে এখানে ২১৭ প্রজাতির পাখি, ৫২ প্রজাতির সরীসৃপ, ৬২ প্রজাতির মাছ, ১০৬ প্রজাতির প্রজাপতি এবং ১৩ প্রজাতির বাদুড়সহ ৬০ প্রজাতির স্তন্যপায়ীর কথা বলা হয়েছে, যাদের কিছু দেশটিতে ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপন্ন। আশপাশের জনগোষ্ঠী বনটি থেকে অল্প মাত্রায় মাছ ধরে এবং কয়লা তৈরির জন্য মেলালিউকা গাছ সংগ্রহ করে।

বনটি এর আগেই বড় ক্ষতির শিকার হয়েছে। রামসারের নথি অনুযায়ী, ১৯৮০-র দশকে মূলত ধানচাষের জন্য বন কাটা হয়, কিন্তু মাটি অম্লীয় হয়ে যাওয়ায় প্রতিবারই দুই বছরের মধ্যে সেই চাষ ব্যর্থ হয়; এতে বনের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা হারিয়ে যায়। ১৯৯১ সালে এলাকাটিকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মর্যাদা দেওয়ার পর বন কাটা বন্ধ হয়।

পিট জলাবন হলো সারা বছর পানিতে ডুবে থাকা মাটির ওপর গড়ে ওঠা ক্রান্তীয় বন, যেখানে ঝরা পাতা ও কাঠ পুরোপুরি পচতে পারে না। বছরের পর বছর জমে জমে সেখানে অম্লীয় পিটের পুরু স্তর তৈরি হয়। তো দায়েংয়ে গাঢ় বাদামি পানির নিচে পিটের স্তর আধা মিটার থেকে পাঁচ মিটার পর্যন্ত পুরু; নরম, স্পঞ্জের মতো মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকতে গাছগুলোর আছে ঠেসমূল ও ঠেকনা শিকড়। চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল ছাড়াও এই বনে থাকে লোমশ-নাক ভোঁদড় এবং কালো ধনেশ, যা থাইল্যান্ডের ১৩ প্রজাতির ধনেশ পাখির একটি।

পিট জলাবনের মাটিতে বিপুল পরিমাণ কার্বন জমা থাকে, আর ক্রান্তীয় বনের মধ্যে এগুলো সবচেয়ে হুমকির মুখে থাকা অথচ সবচেয়ে কম গবেষিত বনগুলোর একটি। ১৯৭০-এর দশক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ ধরনের বন কাটা ও পানি নিষ্কাশন অনেক বেড়েছে। পৃথিবীর ক্রান্তীয় পিটভূমির প্রায় ৬২ শতাংশ ইন্দো-মালয় অঞ্চলে, যার বেশির ভাগ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায়; ব্রুনেই, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডে আছে ছোট ছোট অংশ। প্যানথেরার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চ্যাপ্টা-মাথা বিড়ালের জন্য এসব আবাস রক্ষা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে পানির স্তরের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আগুন প্রতিরোধের মাধ্যমে।

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের রাজা মুসা বনাঞ্চলের পিট জলাবন, চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল যে ধরনের আবাসে থাকে; ছবিটি ২০১৩ সালের জুনে তোলা। ছবি: Tan Yi Han / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের রাজা মুসা বনাঞ্চলের পিট জলাবন, চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল যে ধরনের আবাসে থাকে; ছবিটি ২০১৩ সালের জুনে তোলা। ছবি: Tan Yi Han / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

প্রজাতিটি কেন বিপন্ন


২০০৮ সাল থেকে চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল আইইউসিএনের লাল তালিকায় বিপন্ন হিসেবে আছে; সে বছর এর অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ থেকে বিপন্নে নামানো হয়। উইল্টিং ও সহকর্মীদের করা সর্বশেষ প্রকাশিত মূল্যায়নটি বের হয় ২০১৫ সালে। প্যানথেরার হিসাবে বিশ্বে আনুমানিক ২,৫০০টি প্রাপ্তবয়স্ক বিড়াল আছে। বন্যপ্রাণীর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী সনদ সাইটেসের পরিশিষ্ট-১-এ প্রজাতিটি তালিকাভুক্ত, আর যেসব দেশে এটি থাকে সেসব দেশের জাতীয় আইনে এটি পূর্ণ সুরক্ষিত; থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় এটি শিকার ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ।

প্যানথেরা প্রধান হুমকি হিসেবে মানুষের কারণে আবাসস্থল হারানোর কথা বলেছে: জমির ব্যবহার বদল, মাছ ধরা, কৃষিজমির সম্প্রসারণ, শিকার, জলধারার দূষণ এবং পোষা প্রাণী থেকে রোগ ছড়ানো। জমি নিয়ে প্রতিযোগিতায় বিড়ালটির বিচরণ এলাকা ছোট হয়ে আসে, বাস ও লুকানোর মতো জায়গা কমে যায়; ফলে এটি এখন মূলত দুর্গম, অক্ষত এলাকায় টিকে আছে। প্রামাণ্য সূত্রগুলো এর সঙ্গে যোগ করে বসতি, বাগান, কৃষি ও মাছ চাষের জন্য জলাভূমি ও নিম্নভূমির বন উজাড়, ম্যানগ্রোভ কাটা, অতিরিক্ত মাছ ধরা এবং তেলপামবাগানের বিস্তার। হাঁস-মুরগি রক্ষায় পাতা ফাঁদে কিছু বিড়াল দুর্ঘটনাবশত আটকা পড়ে; সড়ক দুর্ঘটনা আর পোষা বিড়ালের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও বড় হুমকি হতে পারে।

২০১০ সালের প্লস ওয়ান গবেষণার হিসাবে, বিড়ালটির উপযোগী আবাসের ৫৪ থেকে ৬৮ শতাংশ ইতিমধ্যে ফসলি জমি ও বাগানের মতো অনুপযোগী ভূমিতে পরিণত হয়েছিল, আর উপযোগী ভূমির মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ আইইউসিএনের মানদণ্ডে পূর্ণ সুরক্ষিত ছিল। বাকি আবাস ছিল খণ্ড খণ্ড, বড় বনাঞ্চল টিকে ছিল হাতে গোনা কয়েকটি। লেখকেরা প্রস্তাব করেন, অঞ্চলটির নিম্নভূমির বন ও মিঠাপানির আবাসে থাকা অন্যান্য বিপন্ন প্রাণী রক্ষায় বিড়ালটি প্রতীকী প্রজাতি হতে পারে।

খুঁজে পাওয়া কঠিন, গবেষণা আরও কঠিন


২০২৪ সালের মে মাসে পরিবেশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মোংগাবে প্রজাতিটি নিয়ে গবেষণার কঠিনতা তুলে ধরে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালেও প্রজাতিটির ক্যামেরা ফাঁদের রেকর্ড ছিল মোটে ৪০টির মতো, আর এর বিস্তারের সবচেয়ে উত্তরের প্রান্ত দক্ষিণ থাইল্যান্ডে এটি আদৌ টিকে আছে কি না, তা-ও স্পষ্ট ছিল না। মোংগাবে জানায়, ২০১৭ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বোর্নিও, সুমাত্রা ও মালয় উপদ্বীপে এক লাখের বেশি রাত ধরে চালু থাকা ক্যামেরা ফাঁদে চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল ধরা পড়েছে মাত্র ৪৬ বার।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে মালয়েশিয়ার গবেষকেরা একটি মাদি চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল ধরে তার গলায় রেডিও কলার পরান, যা প্রায় দুই মাস তথ্য পাঠায়। সেই তথ্যে দেখা যায়, বিড়ালটি প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে চলাফেরা করে, যেখানে চিতা বিড়াল ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত ঘোরে; আর এর মূল বিচরণ এলাকা ছিল মাত্র প্রায় ৫০০ বর্গমিটার। প্রতিবেদনে প্যানথেরা জানায়, তারা পুরো বিস্তার এলাকাজুড়ে প্রজাতিটির জরিপের পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে দক্ষিণ থাইল্যান্ডে প্রজাতিটি এখনো আছে কি না তা জানতে একটি প্রাথমিক জরিপও রয়েছে। মোংগাবে আরও জানায়, থাইল্যান্ডের সংখলা চিড়িয়াখানায় চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল রাখা আছে এবং বন্দি প্রজননের লক্ষ্যে সেগুলো নিয়ে গবেষণা চলছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে প্যানথেরা জানায়, মালয়েশিয়ার বোর্নিওর সাবাহ রাজ্যেও তারা স্যাটেলাইট রেডিও কলার ও ক্যামেরা ফাঁদ দিয়ে চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল নিয়ে গবেষণায় সহায়তা করছে। সেখানকার শিকারসমৃদ্ধ জলাবনে প্রজাতিটি ৪২ বার ধরা পড়েছে। স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চারটি এলাকায় ২০০টির বেশি ক্যামেরা বসিয়ে প্যানথেরা প্রজাতিটির বিস্তারের মানচিত্র তৈরি এবং এর হুমকি, বিশেষ করে মাছ ধরা ও কৃষিজমি সম্প্রসারণের কারণে সৃষ্ট বিঘ্ন বোঝার কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে জানায়।

বাংলাদেশে এর আত্মীয়রা


চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল এশিয়ার ছোপওয়ালা ছোট বন্য বিড়ালদের গণ Prionailurus-এর সদস্য। এই গণে আরও আছে চিতা বিড়াল, সুন্দা চিতা বিড়াল, মেছো বিড়াল ও মরচে-ছোপ বিড়াল। জিনগত গবেষণা বলছে, দলটি থেকে প্রথম আলাদা হয়েছিল মরচে-ছোপ বিড়াল, তারপর চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল, এরপর মেছো বিড়াল।

চ্যাপ্টা-মাথা বিড়াল বাংলাদেশে থাকে না, তবে এর দুই ঘনিষ্ঠ আত্মীয় থাকে। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া দেশে আট প্রজাতির বন্য বিড়ালের তালিকা দিয়েছে; এর মধ্যে চিতা বিড়াল এবং মেছো বিড়াল বা মেছো বাঘ, দুটোই দেশজুড়ে বিস্তৃত বলে উল্লেখ আছে। আট প্রজাতির ছয়টিই নানা ধরনের হুমকির মুখে, আর মেছো বিড়াল বাংলাদেশে বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় রয়েছে। চ্যাপ্টা-মাথা বিড়ালের মতো মেছো বিড়ালও মাছনির্ভর জলাভূমির শিকারি, তাই জলাবন ও জলধারা হারিয়ে গেলে দুই প্রজাতিই বিপদে পড়ে।

ছবি: জিম স্যান্ডারসন / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্যানথেরা, লাইভ সায়েন্স, রামসার সাইটস ইনফরমেশন সার্ভিস, প্লস ওয়ান (উইল্টিং ও সহকর্মী, ২০১০), মোংগাবে, আইইউসিএন লাল তালিকা, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)