জেল-জরিমানা সত্ত্বেও খাদ্যে ভেজাল থামছে না, আর এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশের চিকিৎসকেরা। সম্প্রতি গণমাধ্যমে বিরানিতে কেমিক্যাল, অপরিশোধিত লবণ, কাপড় তৈরির রং ও পোড়া তেল ব্যবহারের সচিত্র প্রতিবেদন আসার পর ইত্তেফাক বিশেষজ্ঞদের মত নিয়েছে।
বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, এমন ভেজাল খাবারে কিডনি ও লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও জন্মগত ত্রুটির মতো অসংক্রামক ব্যাধির আশঙ্কা থাকে; গর্ভবতী মা ও গর্ভের শিশুর জন্য ঝুঁকি আরও বেশি। তাঁর মতে, খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে এলে অসংক্রামক রোগ অনেক কমে যাবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ও গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি বলেন, বিরানি সব স্তরের মানুষের প্রিয় খাবার; কেমিক্যাল, ট্যানারির লবণ ও রং মেশানো খাবার গর্ভবতী মায়েরা খেলে শিশুর জন্মগত ত্রুটি এবং লিভার-কিডনির সমস্যার আশঙ্কা থাকে। ঢাকা শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শফি আহমেদ মোয়াজ বলেন, এসব খাবারে শিশুর পরিপাকতন্ত্র, লিভার ও কিডনির ক্ষতির আশঙ্কা বেশি, অনেক শিশুর স্মরণশক্তিরও ক্ষতি হয়।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে ভেজালবিরোধী অভিযান চলছে, তবে অসচেতনতা ও অতি মুনাফার লোভে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী বিষাক্ত উপাদান মেশাচ্ছেন; শুধু জেল-জরিমানায় এটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ সোয়েব জানান, ১০ লাখের বেশি খাদ্য উৎপাদক ও বাজারজাতকারীর তালিকা তাঁদের হাতে আছে, সে অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান চলছে; পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন দরকার।
ইত্তেফাক মনে করিয়ে দিয়েছে, ২০০৫ সাল থেকে টানা দুই বছর পত্রিকাটি ‘আমরা কী খাচ্ছি’ শিরোনামে ভেজাল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন ছেপেছিল, তখন নিয়মিত মোবাইল কোর্ট চলেছিল। সংশ্লিষ্টদের মত, এখনো এমন নিয়মিত অভিযান জরুরি।
প্রতিবেদনটি ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: ANKAN / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ইত্তেফাক




মন্তব্য
(০)