নভেম্বর থেকে এপ্রিলের অভাবের মৌসুমে আফগানিস্তানের প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ, অর্থাৎ জনসংখ্যার ৩৮ শতাংশ, উচ্চমাত্রার তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সমন্বিত খাদ্য নিরাপত্তা পর্যায় শ্রেণীকরণের (আইপিসি) সর্বশেষ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ হিসাব; গত বছর একই সময়ের জন্য পূর্বাভাস ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ।
এদের মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ জরুরি পর্যায়ের ক্ষুধায় (আইপিসি চতুর্থ ধাপ) থাকবে, যা ২০২৬ সালের এপ্রিল-সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাসের দ্বিগুণ। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হবে বাদাখশান, বাদগিস, দাইকুন্দি, ঘোর, সামাঙ্গান, সার-ই-পুল ও গজনির গ্রামাঞ্চলে। ২০২৭ সালে তীব্র অপুষ্টির ঘটনা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৪০ লাখে দাঁড়াতে পারে, যার এক-চতুর্থাংশ মারাত্মক; অথচ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা পিছিয়ে আছে।
বৈপরীত্য হলো, ২০২৬ সাল কৃষির জন্য ভালো বছর ছিল। অনুকূল বৃষ্টিতে ফসল ও চারণভূমি ভালো হয়েছে, আসন্ন এল নিনো শীত ও বসন্তের ফসলে বাড়তি বৃষ্টি আনতে পারে। কিন্তু সার ও উপকরণের উচ্চমূল্য এবং ফসলের কম দামে দরিদ্র কৃষকেরা চাষ কমাতে বাধ্য হতে পারেন; বেশি বৃষ্টিতে বন্যা, মাটিক্ষয় এবং ফসল ও পশুর রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্বের কারণে যারা নিজেরা খাদ্য উৎপাদন করে না, বাজারে খাবার থাকলেও তারা পুষ্টিকর খাবার কিনতে পারে না; শীতে কৃষিকাজের সুযোগও কমে যায়।
চাপ বাড়াচ্ছে আরও কিছু বিষয়: এ বছর ইরান ও পাকিস্তান থেকে ১২ লাখের বেশি আফগান ফিরতে বাধ্য হয়েছেন, সীমান্ত বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নে দাম বাড়ছে, আর মানবিক সহায়তার অর্থ ব্যাপকভাবে কমেছে। আফগানিস্তানে এফএওর প্রতিনিধি রিচার্ড ট্রেনচার্ড (Richard Trenchard) বলেন, এ বছরের ভালো ফসল দেখায় আফগান কৃষকেরা কী পারেন, কিন্তু স্থির আয়হীন বাবা-মায়ের কাছে বাজারের পুষ্টিকর খাবার এখনো নাগালের বাইরে। ডব্লিউএফপির দেশীয় পরিচালক জন আইলিফ (John Aylieff) বলেন, পদক্ষেপ নেওয়ার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। শীতে দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো বন্ধ হওয়ার আগেই খাদ্য সহায়তা, জরুরি কৃষি সহায়তা ও অপুষ্টির চিকিৎসায় জরুরি অর্থ চেয়েছে দুই সংস্থা।
সূত্র: ডব্লিউএফপি




মন্তব্য
(০)