সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

জীববৈচিত্র্য দিবসে ঢাকায় পদযাত্রা ও 'বাংলাদেশের অদেখা জীববৈচিত্র্য' আলোকচিত্র প্রদর্শনী

আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে ২০২৬ সালের ২২ মে নতুন সংগঠন বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন রমনা পার্ক থেকে মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেন পর্যন্ত পদযাত্রা করে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে চার বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রীর ১০০টি ছবি নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

জীববৈচিত্র্য দিবসে ঢাকায় পদযাত্রা ও 'বাংলাদেশের অদেখা জীববৈচিত্র্য' আলোকচিত্র প্রদর্শনী
পরিবেশ

আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে ২০২৬ সালের ২২ মে, শুক্রবার, ঢাকায় 'ওয়াক ফর বায়োডাইভার্সিটি' নামে একটি পদযাত্রা এবং 'বাংলাদেশের অদেখা জীববৈচিত্র্য' শিরোনামে একটি উন্মুক্ত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে পরিবেশবিষয়ক নতুন সংগঠন বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন। এই দুই কর্মসূচির মধ্য দিয়েই সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। সহ-আয়োজক ছিল পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)। জাগো নিউজ ২৩ মে এ খবর প্রকাশ করে; প্রথম আলো ও ঢাকা মেইলও আগের দিন একই আয়োজনের খবর দেয়।

সকালে পদযাত্রা, বিকেলে প্রদর্শনী


প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, সংগঠনের সদস্যরা সেদিন সকাল সাড়ে ৭টায় রমনা পার্ক থেকে পদযাত্রা শুরু করেন। শহরের ভেতর দিয়ে হেঁটে তাঁরা মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে, যা সাধারণভাবে বোটানিক্যাল গার্ডেন নামে পরিচিত, গিয়ে পদযাত্রা শেষ করেন। পদযাত্রার নাম ছিল 'ওয়াক ফর বায়োডাইভার্সিটি', অর্থাৎ জীববৈচিত্র্যের জন্য হাঁটা।

বিকেল ৪টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সঞ্জীব চৌধুরী চত্বরে শুরু হয় 'বাংলাদেশের অদেখা জীববৈচিত্র্য' প্রদর্শনী। এতে চারজন বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রীর তোলা ১০০টি ছবি রাখা হয়। ঢাকা মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিগুলো ছিল বাংলাদেশের নানা প্রান্তের বিরল জীববৈচিত্র্যের। প্রদর্শনীটি ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। আয়োজকেরা জানান, পরদিন শনিবারও প্রদর্শনীটি টিএসসিতে সবার জন্য খোলা থাকবে।

প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, আলোকচিত্রী, পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে চার আলোকচিত্রীর নাম কিংবা আলাদা আলাদা ছবির বিষয় ও স্থানের বিবরণ দেওয়া হয়নি, তাই এখানেও তা উল্লেখ করা হলো না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), ২০১৪ সালে তোলা। ছবি: Aashaa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), ২০১৪ সালে তোলা। ছবি: Aashaa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

বক্তারা যা বলেন


প্রদর্শনীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেন, 'এই যে বৈশ্বিক উষ্ণতা, এর মূলে রয়েছে পৃথিবীজুড়ে জীববৈচিত্র্যের ভয়াবহ সংকট। যত্রতত্র গাছ নিধন, পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ পশুপ্রাণী শিকার আমাদের ভয়ানক এক পৃথিবীর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।'

প্রথম আলো ও ঢাকা মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং বলেন, এমন আয়োজন জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মানুষকে দারুণভাবে উৎসাহিত করবে।

বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, 'আমরা চেয়েছি পৃথিবীর মানুষকে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে। কিছু অসহিষ্ণু মানুষের কারণে গোটা দেশের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে এ পদযাত্রার আয়োজন করেছি।' জীববৈচিত্র্যের ওপর হুমকির জন্য তিনি কোন ঘটনা বা কাদের কথা বোঝাচ্ছেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

আয়োজক দুই সংগঠন


প্রথম আলো বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনকে 'পরিবেশবাদী নতুন সংগঠন' হিসেবে উল্লেখ করে। ২২ মের পদযাত্রা ও প্রদর্শনী দিয়েই সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়, ফলে এর আগের কোনো কার্যক্রমের তথ্য সেদিনের প্রতিবেদনগুলোতে নেই। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক মাসফিকুল হাসান টনি।

সহ-আয়োজক ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) আত্মপ্রকাশ করে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি, ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে। প্রথম আলোর সেদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুরুতে সুলতানা কামালকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীকে আহ্বায়ক ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিলকে সদস্যসচিব করে ১৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

আত্মপ্রকাশের দিন সংগঠনটির আহ্বায়ক জানিয়েছিলেন, কয়েক দশক ধরে পরিবেশ বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুতান্ত্রিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে, আর এই সংকট মোকাবিলায় সবাইকে নিয়ে একটি বড় সামাজিক শক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজন থেকেই ধরার যাত্রা। সংগঠনটি রাজধানীসহ সারা দেশের স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের নিয়ে নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করবে বলে জানানো হয়।

ধরা তখন ১১ দফা কর্মপরিকল্পনা নেয়। এর মধ্যে ছিল পরিবেশ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও সংগঠনকে সংগঠিত করা, দূষণমুক্ত ধরিত্রীর জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া, উপযুক্ত নীতি ও আইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ করা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও সম্প্রদায়কে সংগঠিত করা, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করা, এবং নদী, জলাশয়, বন ও বাতাস দখল-দূষণমুক্ত রাখতে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া ও এ বিষয়ে গবেষণায় সহায়তা করা।

দিবসটি কেন ২২ মে, ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য কী


জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সনদ বা কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির (সিবিডি) মূল পাঠ ১৯৯২ সালের ২২ মে কেনিয়ার নাইরোবিতে এক সম্মেলনে গৃহীত হয়। সেই দিনটি স্মরণ করেই প্রতিবছর ২২ মে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৫৫/২০১ নম্বর প্রস্তাবে দিবসটি ঘোষণা করে।

সিবিডি সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সনদটি ১৯৯২ সালের ৫ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর ধরিত্রী সম্মেলনে স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত হয় এবং ১৯৯৩ সালের ৪ জুনের মধ্যে ১৬৮টি স্বাক্ষর পায়। ৩০তম অনুসমর্থনের ৯০ দিন পর, ১৯৯৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর, এটি কার্যকর হয়। সনদের তিনটি লক্ষ্য হলো জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, এর উপাদানগুলোর টেকসই ব্যবহার এবং জিনসম্পদ ব্যবহারের সুফলের ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক বণ্টন।

২০২৬ সালের দিবসের প্রতিপাদ্য সিবিডি সচিবালয় মার্চে ঘোষণা করে: 'অ্যাক্টিং লোকালি ফর গ্লোবাল ইমপ্যাক্ট', অর্থাৎ স্থানীয় উদ্যোগে বৈশ্বিক প্রভাব। সচিবালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি থামানো ও তা উল্টে দেওয়ার সাফল্য নির্ভর করে সরকারের নেতৃত্বাধীন কাজের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোগের বিস্তৃত বুননকে কতটা কাজে লাগানো যায় তার ওপর। এ জন্য 'সমগ্র সমাজ' পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে, যেখানে আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় সম্প্রদায়, স্থানীয় সরকার, শহর, নারী ও তরুণদের দল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের সংগঠন সরকারের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত হবে।

প্রতিপাদ্যে দুই দিকের দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। সরকারগুলো সব পক্ষের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ অংশগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করবে এবং জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনায় (এনবিএসএপি) তাদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে সরকারের বাইরের পক্ষগুলো সরকারের নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে এবং বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য কাঠামোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ উদ্যোগ নেবে। সিবিডি জানায়, এ বছরের দিবসটি আর্মেনিয়ায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ সালের জাতিসংঘ জীববৈচিত্র্য সম্মেলনের পাঁচ মাস আগে পালিত হচ্ছে।

কুনমিং-মন্ট্রিয়ল কাঠামো ও বাংলাদেশের অঙ্গীকার


২০২২ সালের ডিসেম্বরে সিবিডির পক্ষগুলোর ১৫তম সম্মেলনে (কপ১৫) কুনমিং-মন্ট্রিয়ল বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য কাঠামো গৃহীত হয়। এতে ২০৫০ সালের জন্য চারটি লক্ষ্য এবং ২০৩০ সালের জন্য ২৩টি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন হলো ২০৫০ সালের মধ্যে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস করা এক পৃথিবী। ২০২৬ সালের দিবসের প্রচারণাও স্থানীয় উদ্যোগকে এই ২৩টি লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলে।

কাঠামোর লক্ষ্যমাত্রা ৩-এ বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে স্থলভাগ, অভ্যন্তরীণ জলাভূমি এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক এলাকার অন্তত ৩০ শতাংশ, বিশেষ করে জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রের কার্যক্রম ও সেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো, সংরক্ষিত এলাকা ও অন্যান্য কার্যকর এলাকাভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যকরভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করতে হবে, এবং তা করতে হবে আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকারকে স্বীকৃতি ও সম্মান দিয়ে। লক্ষ্যমাত্রা ২ ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুতন্ত্রের ৩০ শতাংশ পুনরুদ্ধারের কথা বলে। লক্ষ্যমাত্রা ৪ মানুষের কারণে পরিচিত হুমকিগ্রস্ত প্রজাতির বিলুপ্তি থামাতে জরুরি ব্যবস্থাপনার আহ্বান জানায় এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত মোকাবিলার কথা বলে।

প্রদর্শনী ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির সঙ্গে সবচেয়ে সরাসরি সম্পর্কিত লক্ষ্যমাত্রা ২১। এতে বলা হয়েছে, সবচেয়ে ভালো তথ্য, উপাত্ত ও জ্ঞান নীতিনির্ধারক, মাঠপর্যায়ের কর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে হবে, যাতে যোগাযোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা, পর্যবেক্ষণ, গবেষণা ও জ্ঞান ব্যবস্থাপনা জোরদার হয়। একই লক্ষ্যমাত্রায় বলা হয়েছে, আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রথাগত জ্ঞান কেবল তাদের স্বাধীন ও পূর্বাবহিত সম্মতি নিয়েই ব্যবহার করা যাবে।

সিবিডির দেশভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ অনুসমর্থনের মাধ্যমে ১৯৯৪ সালের ১ আগস্ট থেকে সনদের পক্ষ। জীবনিরাপত্তা বিষয়ক কার্টাহেনা প্রটোকলে বাংলাদেশ পক্ষ হয় ২০০৪ সালের ৫ মে, আর জিনসম্পদে প্রবেশাধিকার ও সুফল বণ্টন বিষয়ক নাগোয়া প্রটোকলে ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল।

দেশের প্রথম জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি হয় ২০০৪ সালে। এতে ১৬টি কৌশল এবং সেগুলো বাস্তবায়নে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ১২৮টি কর্মসূচি চিহ্নিত করা হয়। কৌশলগুলোর মধ্যে ছিল বাস্তুতন্ত্র, প্রজাতি ও জিনসম্পদ সংরক্ষণ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনরুদ্ধার, আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতি, সুফল বণ্টন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও সক্ষমতা উন্নয়ন, প্রথাগত জ্ঞান, সংরক্ষিত এলাকা ব্যবস্থাপনা, জলাভূমি এবং বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ।

বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্যের সংকট


জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র সেবা বিষয়ক আন্তঃসরকারি বিজ্ঞান-নীতি প্ল্যাটফর্ম (আইপিবিইএস) ২০১৯ সালের ৬ মে তাদের বৈশ্বিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনের মূল ফলাফল প্রকাশ করে। ৫০টি দেশের ১৪৫ জন বিশেষজ্ঞ লেখক প্রায় ১৫ হাজার বৈজ্ঞানিক ও সরকারি উৎস পর্যালোচনা করে এটি তৈরি করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১০ লাখ প্রজাতি বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে। মানুষের কর্মকাণ্ডে স্থলভাগের পরিবেশের ৭৫ শতাংশ এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ৬৬ শতাংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে।

আইপিবিইএস প্রকৃতি ক্ষয়ের পাঁচটি প্রত্যক্ষ কারণকে প্রভাবের ক্রমানুসারে সাজিয়েছে: ভূমি ও সমুদ্র ব্যবহারের পরিবর্তন, জীবের সরাসরি আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতি। টিএসসির অনুষ্ঠানে যে গাছ নিধন ও বন্যপ্রাণী শিকারের কথা বলা হয়, তা এই তালিকার প্রথম দুটি কারণের আওতায় পড়ে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় আইপিবিইএসের চেয়ার স্যার রবার্ট ওয়াটসন বলেছিলেন, আমরা ও অন্য সব প্রজাতি যে বাস্তুতন্ত্রের ওপর নির্ভর করি, তার স্বাস্থ্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত খারাপ হচ্ছে, এবং এর মোকাবিলায় 'রূপান্তরমূলক পরিবর্তন' দরকার।

জাতিসংঘের দিবসভিত্তিক পাতায় একই মূল্যায়নের সূত্র ধরে বলা হয়, পৃথিবীর আনুমানিক ৮০ লাখ প্রজাতির মধ্যে ১০ লাখ বিলুপ্তির হুমকিতে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, মানুষের খাদ্যের ৮০ শতাংশের বেশি আসে উদ্ভিদ থেকে, প্রায় ৩০০ কোটি মানুষের প্রাণিজ আমিষের প্রায় ২০ শতাংশ জোগায় মাছ, এবং উন্নয়নশীল দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮০ শতাংশ প্রথাগত উদ্ভিদভিত্তিক ওষুধের ওপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য ও লাল তালিকা


সিবিডিতে বাংলাদেশের দেশ-পরিচিতিতে দেশটিকে জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ দেশ বলা হয়েছে এবং পাঁচ ধরনের বাস্তুতন্ত্রের কথা উল্লেখ আছে: উপকূলীয় ও সামুদ্রিক, অভ্যন্তরীণ মিঠাপানির, স্থলজ বন, পাহাড়ি এবং মানুষের তৈরি বসতবাড়ির বাস্তুতন্ত্র। পাহাড়ি বাস্তুতন্ত্র দেশের ভূমির প্রায় ১২ শতাংশ। হাওর জলাভূমিকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র বলা হয়েছে, আর হাকালুকি হাওরকে দেশের বৃহত্তম হাওর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেশের অন্যতম বড় অভ্যন্তরীণ মৎস্যক্ষেত্র। একই পরিচিতিতে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ৬ হাজার জাতের ধান ছিল বলে জানা যায়।

সেখানে প্রত্যক্ষ হুমকি হিসেবে ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন, আবাসস্থল ধ্বংস ও আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতির প্রবেশের কথা বলা হয়েছে, আর পরোক্ষ হুমকির মধ্যে আছে সম্পদের অটেকসই আহরণ, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতার ঘাটতি। আবাসস্থল হারানোকে জীববৈচিত্র্যের একক বৃহত্তম হুমকি বলা হয়েছে।

বন অধিদপ্তর ও আইইউসিএন বাংলাদেশ যৌথভাবে দেশের প্রাণীদের লাল তালিকা হালনাগাদ করে; ২০১৫ সালের এই তালিকা ২০১৬ সালের ২২ জুন ঢাকায় প্রকাশ করা হয়। এতে সাতটি প্রাণিগোষ্ঠীর মোট ১ হাজার ৬১৯টি প্রজাতি মূল্যায়ন করা হয়: স্তন্যপায়ী ১৩৮টি, পাখি ৫৬৬টি, সরীসৃপ ১৬৭টি, উভচর ৪৯টি, মিঠাপানির মাছ ২৫৩টি, কবচী বা ক্রাস্টেশিয়ান ১৪১টি এবং প্রজাপতি ৩০৫টি। মূল্যায়নের জন্য ১৬০ জন জীববিজ্ঞানীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।

মূল্যায়ন অনুযায়ী ৩৯০টি প্রজাতি হুমকিগ্রস্ত: ৫৬টি মহাবিপন্ন, ১৮১টি বিপন্ন এবং ১৫৩টি সংকটাপন্ন। ৩১টি প্রজাতিকে বাংলাদেশ থেকে আঞ্চলিকভাবে বিলুপ্ত ধরা হয়, যেখানে ২০০০ সালের তালিকায় এই সংখ্যা ছিল ১৩। প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণের ২০১৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিলুপ্তদের মধ্যে ১৯টি পাখি, ১১টি স্তন্যপায়ী ও একটি সরীসৃপ। পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে ২৭৮টি প্রজাতির ঝুঁকি নির্ণয় করা যায়নি। আবার এই কাজের সময় ১৪টি প্রাণী প্রজাতি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নথিভুক্ত হয়, যার ছয়টি স্তন্যপায়ী।

দেশের জীববৈচিত্র্যের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীক সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার। মোঙ্গাবের ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালের জরিপে বাংলাদেশের সুন্দরবনে ১২৫টি প্রাপ্তবয়স্ক বাঘ গণনা করা হয়, যা ২০১৮ সালে ছিল ১১৪টি এবং ২০১৫ সালে ১০৬টি। জরিপে ৬০৫টি স্থানে ১ হাজার ২১০টি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। সুন্দরবনের মোট ১০ হাজার ২৭৭ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে। জরিপ প্রতিবেদনে সাতক্ষীরা অঞ্চলে বাঘ ও তার প্রধান শিকার চিত্রা হরিণ শিকার এবং কিছু স্থানীয় মানুষের অননুমোদিত সম্পদ আহরণকে প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

সুন্দরবন পূর্ব বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে একটি বেগুনি মৌটুসি (Cinnyris asiaticus)। ছবি: Touhid biplob / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সুন্দরবন পূর্ব বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে একটি বেগুনি মৌটুসি (Cinnyris asiaticus)। ছবি: Touhid biplob / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

আইন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা


জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, এর সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং ব্যবহারের সুফলের ন্যায্য বণ্টনের জন্য দেশে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন, ২০১৭ রয়েছে। এফএও, আইইউসিএন ও জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) যৌথ পরিবেশ-আইন তথ্যভান্ডার ইকোলেক্সের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, এ আইনে একটি জাতীয় জীববৈচিত্র্য কমিটি, জীববৈচিত্র্য বিষয়ক কারিগরি কমিটি এবং জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের বিধান আছে। বন্য প্রজাতি ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা, প্রথাগত জ্ঞান ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং সুফল বণ্টন ব্যবস্থাও আইনের উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে।

বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ জারি করে। বিডিনিউজ২৪ ডটকমের ৯ জানুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে বাঘ বা হাতি শিকারে সর্বনিম্ন ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, আর একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ড ও ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়। রক্ষিত এলাকার ২ কিলোমিটারের মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ করা হয়, অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানের সীমানা নির্ধারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যপ্রাণী কেনাবেচার বিজ্ঞাপন দেওয়া বা বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের ভিডিও প্রকাশকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করা হয়।

উপদেষ্টা পরিষদে খসড়াটি অনুমোদনের পর প্রথম আলো ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর জানায়, এতে উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী মিলিয়ে ১ হাজার ৫৯৯টি প্রজাতিকে সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে, যার মধ্যে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১০০ প্রজাতির গাছ রয়েছে। আগের আইনে শুধু বাঘ ও হাতি হত্যা জামিন অযোগ্য অপরাধ ছিল; নতুন বিধানে আরও ২৫০টি প্রজাতির বন্যপ্রাণী হত্যাও জামিন অযোগ্য করা হয়। বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০ জন বিশেষজ্ঞ এ অধ্যাদেশ প্রণয়নে কাজ করেন।

সিবিডির বাংলাদেশ পরিচিতিতে কয়েকটি সুরক্ষা ব্যবস্থার কথাও আছে। টাঙ্গুয়ার হাওরকে রামসার এলাকা ও মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে; হাকালুকি ও হাইল হাওর পরিযায়ী পাখির জন্য সুরক্ষিত; দেশের একমাত্র প্রবালবাহী দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে সামুদ্রিক পার্ক করা হয়েছে; নিঝুম দ্বীপ ও সোনাদিয়া দ্বীপ সৈকত-পাখির এলাকা হিসেবে সুরক্ষিত; আর পরিবেশ অধিদপ্তর জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকাকে প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করেছে।

পদযাত্রার পথ: রমনা থেকে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান


পদযাত্রা শুরু হয় ঢাকার কেন্দ্রস্থলের রমনা পার্ক থেকে। পার্কটির আয়তন ৬৮ দশমিক ৫০ একর, এর ভেতরের লেক প্রায় ৮ দশমিক ৭৬ একর। ১৯০৮ সালে লন্ডনের কিউ বোটানিক্যাল গার্ডেনের আর এল প্রাউডলক এলাকাটির উদ্যান নকশা করেন, আর ১৯৪৯ সালে পার্কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। ১৯৫২ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তর এর নকশা নতুন করে সাজায়। পার্কে ৭১ প্রজাতির ফুলের গাছ, ৩৬ প্রজাতির ফলের গাছ, ৩৩ প্রজাতির ঔষধি গাছ এবং ৪১ প্রজাতির বনজ গাছ রয়েছে।

পদযাত্রা শেষ হয় মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত উদ্যানটির আয়তন ৮৪ হেক্টর, প্রায় ২১০ একর। এটি ৫৭টি অংশে বিভক্ত এবং এতে প্রায় ৫৬ হাজার গাছ, বীরুৎ ও গুল্ম রয়েছে। বন অধিদপ্তর উদ্যানটি পরিচালনা করে। বাংলাদেশ জাতীয় হার্বেরিয়ামের সঙ্গে মিলে এটি দেশের সবচেয়ে বড় উদ্ভিদ সংরক্ষণ কেন্দ্র; হার্বেরিয়ামে প্রায় ১ লাখ সংরক্ষিত উদ্ভিদ নমুনা রয়েছে। উদ্যানটি জাতীয় চিড়িয়াখানার পাশে, আর পুরান ঢাকার ওয়ারীর বলধা গার্ডেন প্রশাসনিকভাবে এর অংশ।

মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের একটি দৃশ্য। ছবি: Mmh Jihadi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের একটি দৃশ্য। ছবি: Mmh Jihadi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

প্রদর্শনীর স্থান টিএসসি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র। গ্রিক স্থপতি কনস্টান্টিনোস দক্সিয়াদিসের নকশায় ১৯৬১ সালে এর নির্মাণ শেষ হয়। প্রজাপতির ডানার মতো ছাউনির জন্য ভবনটি পরিচিত। এখানে মিলনায়তন, সভাকক্ষ, পাঠাগার, শিল্প ও সংগীতের কক্ষ, খেলার কক্ষ এবং স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধন, বিতর্ক সংগঠন ও চলচ্চিত্র সংসদসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কার্যালয় রয়েছে। এর আঙিনার একটি চত্বরে, সঞ্জীব চৌধুরী চত্বরে, ২২ মে বিকেলে ছবিগুলো সাজানো হয়েছিল।

ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, ঢাকা মেইল, জীববৈচিত্র্য সনদ (সিবিডি) সচিবালয়, জাতিসংঘ, আইপিবিইএস, আইইউসিএন বাংলাদেশ, প্রথম আলো ইংলিশ, মোঙ্গাবে, বিডিনিউজ২৪ ডটকম, ইকোলেক্স (এফএও), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)