সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে পাহাড়ি ঝিরিতে বন্যহাতির শাবকের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদে ২০২১ সালের ২১ নভেম্বর পাহাড়ি ঝিরি থেকে দেড়-দুই বছরের একটি পুরুষ বন্যহাতির মরদেহ উদ্ধার করে বন বিভাগ। পা পিছলে পড়ে মৃত্যুর প্রাথমিক ধারণা দিলেও কর্মকর্তারা বলেন, গায়ে ক্ষতচিহ্ন আছে এবং ময়নাতদন্তে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে পাহাড়ি ঝিরিতে বন্যহাতির শাবকের মরদেহ উদ্ধার
পরিবেশ

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় পাহাড়ি ছড়া থেকে একটি বন্যহাতির শাবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। ২০২১ সালের ২১ নভেম্বর রোববার দুপুরে উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গজালিয়া সংলগ্ন সাতঘরিয়া পাড়ার একটি ঝিরি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এলাকাটি কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের অধীন। পুরুষ হাতিটির বয়স আনুমানিক দেড় থেকে দুই বছর। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আনোয়ার হোসেন সরকার। মূল প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগে এটি তৃতীয় হাতির মৃত্যু। একই মাসে দ্য ডেইলি স্টার হিসাব দেয়, ১১ দিনে শেরপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সাতটি হাতি মারা গেছে।

যেভাবে মিলল শাবকটির মরদেহ


স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ডিএফও জানান, সকাল ৭টার দিকে একদল কাঠুরিয়া লাকড়ি সংগ্রহ করতে যাওয়ার পথে পাহাড়ের পাদদেশে আড়াই ফুট গভীর একটি ঝিরিতে হাতিটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দুপুরের দিকে বন বিভাগ মরদেহটি উদ্ধার করে। জাতীয় সংবাদ সংস্থা ইউএনবিও একই বিবরণ দেয়: কাঠুরিয়াসহ স্থানীয় লোকজন সকালে শাবকটিকে দেখে বন বিভাগকে খবর দেন।

ফুলছড়ি রেঞ্জের অধীন রাজঘাট বিট কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, মৃত হাতিটি পুরুষ এবং এর বয়স আনুমানিক দেড় থেকে দুই বছর। এটি দৈর্ঘ্যে ৭ ফুট, প্রস্থে ৫ ফুট এবং এর শুঁড় আড়াই ফুট লম্বা। ইউএনবিকে তিনি বলেন, শাবকটি সম্ভবত আগের দিন শনিবার রাতে মারা গেছে, অর্থাৎ পাওয়া যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে।

ফুলছড়ির রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক আহমদ বাবুল জাগো নিউজকে বলেন, ঢাল বেয়ে নিচে নামার সময় পা পিছলে পড়ে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ইউএনবিও রেঞ্জ কর্মকর্তার একই ধারণা তুলে ধরে: নামার সময় শাবকটি পিছলে ঝিরির গর্তে পড়ে থাকতে পারে।

ফুলছড়ির সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) ড. প্রান্তোষ চন্দ্র রায় জাগো নিউজকে বলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলা থেকে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা এসেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, হাতিটির গায়ে ক্ষতচিহ্ন আছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান। দ্য ডেইলি স্টার জানায়, প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি দল ময়নাতদন্ত করে এবং পরে মরদেহটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। সেদিন প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদনেই মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ জানানো হয়নি।

এক পরিবেশকর্মীর শঙ্কা


দুর্ঘটনার ধারণা সবাই প্রশ্ন ছাড়া মেনে নেননি। কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু ইউএনবিকে বলেন, গত এক বছরে জেলায় অন্তত ১০টি হাতি মারা গেছে। শাবকটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে মেরে ফেলা হয়ে থাকতে পারে, এমন সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দেননি। দেশে হাতির মৃত্যুর পেছনে তিনি বনভূমি দখল, বনের জমিতে চাষাবাদ এবং হাতির দাঁতের ব্যবসাকে দায়ী করেন। এগুলো তাঁর মত। বন কর্মকর্তারা তখন পর্যন্ত কেবল বলেছিলেন, শাবকটি পিছলে পড়ে থাকতে পারে এবং ময়নাতদন্তেই কারণ নির্ধারিত হবে।

কক্সবাজার জেলার হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানের চূড়া থেকে দেখা বনঘেরা পাহাড়। ছবি: Shahriar987 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কক্সবাজার জেলার হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানের চূড়া থেকে দেখা বনঘেরা পাহাড়। ছবি: Shahriar987 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কক্সবাজারের উত্তরের বনে এর আগের মৃত্যু


জাগো নিউজ জানায়, ঈদগাঁওয়ের শাবকটির মৃত্যু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। নয় দিন আগে, ২০২১ সালের ১২ নভেম্বর, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের চকরিয়ায় একটি হাতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাস তিনেক আগে, শাবকটি যেখানে পাওয়া যায় তার কাছেই, ফুলছড়ির গজালিয়া এলাকায় পাহাড় থেকে ঝিরিতে পড়ে আরও একটি হাতি মারা যায়।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চকরিয়ার হাতিটি ছিল পুরুষ, কাদামাটির নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায় এবং বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। চট্টগ্রামের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী পত্রিকাটিকে বলেন, দুই দিন আগে চকরিয়া উপজেলার টৈটং-এর গভীর বনে হাতিটি বিদ্যুতায়িত হয়। তিনি জানান, দায়ীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে বন বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস) ঘটনাস্থল হিসেবে চকরিয়ার হারবাং পাহাড়ি উপত্যকার কথা বলে এবং জানায়, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পাওয়া যাওয়ার দুই দিন আগে হাতিটি বিদ্যুতায়িত হয়েছিল।

২০২১ সালের শুরুর দিকে ঈদগাঁও রেঞ্জেও একটি হাতি মারা যায়। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসে প্রকাশিত ইউএনবির প্রতিবেদনে বন বিভাগের সূত্রের বরাতে বলা হয়, ২০২১ সালের ২০ এপ্রিল রাত ১টার দিকে ঈদগাঁও রেঞ্জের পানেরছড়া এলাকায় একদল হাতি পার হওয়ার সময় একটি বয়স্ক মাদি হাতি পাহাড়ের ঢাল থেকে নিচের সড়কে পড়ে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যায়। উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হবে।

এর এক বছর আগে, ২০২০ সালের নভেম্বরে, টিবিএস জানায় প্রায় ১০ দিনের মধ্যে কক্সবাজারে তিনটি হাতিকে গুলি করে মারা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর চকরিয়ার খুটাখালীর কালাপাড়া বনে তিন বছর বয়সী একটি হাতিকে গুলি করে মাটিচাপা দেওয়া হয়; ময়নাতদন্তে কপালে গুলির ক্ষত ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ পাওয়া যায়। ১৪ নভেম্বর রামুর জুমছড়ি বনে ৩০ বছর বয়সী একটি মাদি হাতি গুলিতে আহত হয়ে ১৬ নভেম্বর মারা যায়। একই ১৬ নভেম্বর দক্ষিণ রামুর খরলিয়াছড়ি বনে আরেকটি হাতি গুলির ক্ষত ও ইচ্ছাকৃত বিদ্যুতায়নে মারা যায়।

১১ দিনে সাত হাতির মৃত্যু


দেশে হাতির মৃত্যুর সবচেয়ে খারাপ ধারাগুলোর একটির মধ্যেই ঈদগাঁওয়ের শাবকটি মারা যায়। ২০২১ সালের ১২ নভেম্বর দ্য ডেইলি স্টার জানায়, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব চাম্বল এলাকায় একটি ফসলের মাঠের কাছে আরেকটি হাতি মৃত পাওয়া গেছে; এ নিয়ে পাঁচ দিনে চারটি হাতি মারা গেল, তিনটি চট্টগ্রাম অঞ্চলে ও একটি শেরপুরে। ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, বাঁশখালীর হাতিটি ছিল আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী পুরুষ, পাওয়া যায় ধানখেতে। জলদী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জের কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, দেহে বাইরের কোনো আঘাত পাওয়া যায়নি। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সমরঞ্জন বড়ুয়া জানান, হাতিটি আগের রাতে মারা গেছে, এর ফুসফুস নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং পূর্ণ ময়নাতদন্তে কারণ জানা যাবে। ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে ৬ নভেম্বর তোলা আরেকটি ছবিও ছিল, যাতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের মইত্তালী বিলের ধানখেতে একটি মৃত হাতি দেখা যায়।

১৩ নভেম্বর দ্য ডেইলি স্টার জানায়, আট দিনে দেশে গুলি বা বিদ্যুতায়নে ছয়টি হাতি মারা গেছে। টিবিএসের হিসাবে আগের এক সপ্তাহে অন্তত পাঁচটি হাতি মারা যায়: তিনটি চট্টগ্রামে, একটি কক্সবাজারে ও একটি শেরপুরে। বন অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে টিবিএস জানায়, ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশে ৬৯টি হাতি মারা গেছে, এবং এগুলোর বেশির ভাগকে খাবারের খোঁজে পাহাড় থেকে নেমে আসার পর মানুষ মেরে ফেলেছে। যেদিন ঈদগাঁওয়ের শাবকটি পাওয়া যায়, সেই ২১ নভেম্বর দ্য ডেইলি স্টার হিসাব বাড়িয়ে জানায়, ১১ দিনে শেরপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সাতটি হাতি মারা গেছে।

পত্রিকাগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়সীমা ধরে ও ভিন্ন দিনে গুনেছে, তাই তাদের মোট সংখ্যা হুবহু মেলে না। নভেম্বরের এই হিসাবগুলোর কোনোটিই মাসটির জন্য বন অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক হিসাব নয়।

ঈদগাঁও: বনের কিনারে নতুন উপজেলা


এর মাত্র চার মাস আগে ঈদগাঁও উপজেলা হয়। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংস্কার সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওসহ মাদারীপুরের ডাসার ও সুনামগঞ্জের মধ্যনগরকে উপজেলার মর্যাদা দেওয়া হয়। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানায়, এই তিনটি আগে থানা ছিল এবং উপজেলার সব মানদণ্ড পূরণ করেনি, তবে এলাকাগুলো দুর্গম এবং বাসিন্দারা উপজেলা সদর থেকে অনেক দূরে থাকায় সেগুলো অনুমোদন পায়।

কক্সবাজার সদর উপজেলার উত্তরের পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলাটি গঠিত: ইসলামপুর, পোকখালী, ইসলামাবাদ, ঈদগাঁও ও জালালাবাদ। যে ইউনিয়নে শাবকটি পাওয়া যায়, সেই ইসলামাবাদ এলাকার পাহাড়ি অংশে পড়ে। ঈদগাঁওয়ের পূর্বে রামু, উত্তরে চকরিয়া, পশ্চিমে মহেশখালী এবং দক্ষিণে কক্সবাজার সদর উপজেলা। এখানকার পাহাড়ি বন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ দেখাশোনা করে ফুলছড়ি ও ঈদগাঁওয়ের মতো রেঞ্জ এবং রাজঘাটের মতো বিটের মাধ্যমে; রাজঘাট বিটের কর্মকর্তাই শাবকটির বিবরণ দেন।

বাংলাদেশে হাতি কতটি


২০২১ সালের নভেম্বরে দেশের হাতির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হিসাব ছিল বন অধিদপ্তরের জীববিজ্ঞানীদের একটি জরিপ, যা বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০১৩ সালের আগস্ট থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চালানো হয় এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। ২০১৭ সালের ২১ মার্চ সরকার ফলাফল প্রকাশের সময় আইইউসিএন জানায়, দেশে ২৬৮টি আবাসিক বন্যহাতি আছে, সবই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বনে; আর চারটি বন বিভাগে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আসা-যাওয়া করে ৭৯ থেকে ১০৭টি পরিযায়ী হাতি, গড়ে ৯৩টি। একই গবেষণা নিয়ে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, আবদ্ধ অবস্থায় আছে ৯৬টি হাতি।

  • আবাসিক বন্যহাতি: ২৬৮টি, সবই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বনে (আইইউসিএন, ২০১৭)।
  • পরিযায়ী হাতি: ৭৯ থেকে ১০৭টি, গড়ে ৯৩টি; এর ৫৫ শতাংশ ময়মনসিংহ বন বিভাগে।
  • শাবক: মোট আনুমানিক সংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ।
  • আগের হিসাব: ২০০১-২০০৩ সালের জরিপে আবাসিক হাতি ছিল ১৭৮টি; আইইউসিএন সতর্ক করে যে দুই জরিপের পদ্ধতি আলাদা, তাই সংখ্যা অনেক বেড়েছে বলা যায় না।
  • বিচরণ এলাকা: প্রায় ১ হাজার ৫১৮ বর্গকিলোমিটার, দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১ শতাংশ; গড় ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ০.২৪টি হাতি।
  • চলাচল: বনের মধ্যে ১২টি ছোট করিডর এবং ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে ৫৭টি পারাপারের স্থান।

আইইউসিএনের তালিকায় এশীয় হাতি বাংলাদেশে মহাবিপন্ন এবং বিশ্বে বিপন্ন। সংস্থাটি সরকারকে বাংলাদেশ হাতি সংরক্ষণ কর্মপরিকল্পনা ২০১৬-২০২৫ বাস্তবায়ন, পাহাড়ে নতুন করে বনায়ন ও বনখণ্ডগুলো জুড়ে দিয়ে ক্ষয়িষ্ণু বন পুনরুদ্ধার এবং পরিযায়ী হাতির জন্য সীমান্তের দুই পারের সহযোগিতার আহ্বান জানায়। টিবিএস ২০২০ সালের নভেম্বরে জানায়, আবাসিক হাতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বাস কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে; এ কারণেই হাতির মৃত্যুর এত খবর এসব বন থেকে আসে।

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্তবর্তী বনে বন্য এশীয় হাতি; দেশের পরিযায়ী হাতির বেশির ভাগ এ অঞ্চলে। ছবি: Ayman Nakib Badhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্তবর্তী বনে বন্য এশীয় হাতি; দেশের পরিযায়ী হাতির বেশির ভাগ এ অঞ্চলে। ছবি: Ayman Nakib Badhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

করিডর, ফসল ও সংঘাত


একই জরিপে হাতির চলাচলের পথগুলোর দুরবস্থাও উঠে আসে। দ্য ডেইলি স্টার ২০১৭ সালের আগস্টে জানায়, ১২টি করিডরের পাঁচটি মানুষের কর্মকাণ্ডে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং বাকিগুলোও মারাত্মক হুমকিতে। গবেষণায় সংঘাতের কারণ হিসেবে চলাচলে বাধা, খাদ্যসংকট, আবাসস্থলের ভেতরে উন্নয়নকাজ এবং চলাচলের পথে বা পাশে বসতি, কৃষিজমি, সড়ক, ইটভাটা ও গ্রামীণ হাটবাজার গড়ে ওঠার কথা বলা হয়; সঙ্গে আছে সরাসরি হাতি হত্যা। একই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সাল থেকে ১৩ বছরে মানুষ-হাতি সংঘাতে ২২৭ জন মানুষ ও ৬৩টি হাতি মারা যায়; সর্বশেষ এক বছরেই মারা যায় ১৬ জন মানুষ ও চারটি হাতি।

বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বরাতে টিবিএস ২০২০ সালের নভেম্বরে জানায়, ওই বছরের জানুয়ারি থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি অঞ্চলে ১৬টি বন্যহাতি মারা হয়েছে, আর ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ৬০টি; এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৩৯টি। বেশির ভাগ হাতি মারা গেছে গুলিতে বা ইচ্ছাকৃত বিদ্যুতায়নে। পত্রিকাটি জানায়, বনের ভেতরে অবৈধভাবে চাষ করা ধানখেতে হাতি ঢোকে এবং ফসল বাঁচাতে স্থানীয়রা সেগুলোকে মেরে ফেলে। ততদিনে তিনটি করিডর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল: একটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের কারণে এবং দুটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে।

শরণার্থী শিবিরটি একই জেলার উখিয়ায়, ঈদগাঁওয়ের দক্ষিণে। ২০১৮ সালের মার্চে আইইউসিএন ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের কুতুপালং-বালুখালী বসতি গড়ে উঠেছে আগের বনভূমিতে, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে হাতির প্রধান চলাচলপথগুলোর একটির ওপর। ২০১৭ সালের আগস্টে শরণার্থীর ঢল শুরুর পর থেকে হাতির সঙ্গে সংঘাতের ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ১০ জন মারা যান। শিবিরের চারপাশের ৭০ বর্গকিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় আইইউসিএনের জরিপে দেখা যায়, আশপাশে ৪৫টি পর্যন্ত হাতি সক্রিয় থাকতে পারে, যাদের চলাচল সবচেয়ে বেশি শিবিরের পশ্চিম সীমানায়। দুই সংস্থা ১০ জন করে শরণার্থী স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন করে, গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বসায় এবং মানুষের মুখোমুখি না হয়ে হাতি যাতে চলাচল করতে পারে সে জন্য একটি করিডর নিয়ে কাজ শুরু করে।

কক্সবাজার জেলার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের ঘরবাড়ি, যা গড়ে উঠেছে একসময়ের বনঘেরা পাহাড়ে। ছবি: John Owens (VOA) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
কক্সবাজার জেলার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের ঘরবাড়ি, যা গড়ে উঠেছে একসময়ের বনঘেরা পাহাড়ে। ছবি: John Owens (VOA) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

এশীয় হাতি ও তার শাবক


এসব প্রতিবেদনের কেন্দ্রে যে প্রাণী, তার নাম এশীয় হাতি (Elephas maximus)। যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল চিড়িয়াখানার তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক এশীয় হাতির ওজন ২ হাজার ৭৫০ থেকে ৫ হাজার ৪২০ কেজি, কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা ১.৮ থেকে ৩.৮ মিটার; পুরুষ সাধারণত মাদির চেয়ে বড় হয়। এরা মূলত ঘাস খায়, সঙ্গে গাছের পাতা-ডাল, ফল ও ফসল। বনে একটি হাতি দিনে ৭৪ থেকে ১৫০ কেজি খাবার খায় এবং প্রায় ১৮৯ লিটার পানি পান করে। বনে খাবার কমে গেলে হাতির দল কেন পাহাড় থেকে ধানখেতে নেমে আসে, এই খাদ্যচাহিদা তার একটি ব্যাখ্যা।

এশীয় হাতি ছোট ছোট দলে থাকে, যেখানে থাকে পরস্পরের আত্মীয় মাদি হাতি, তাদের বাচ্চা ও অপ্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। গর্ভকাল সাড়ে ২১ থেকে ২২ মাস, আর জন্মের সময় শাবকের ওজন ৬৮ থেকে ১৫৮ কেজি। প্রায় ছয় মাস বয়সে শাবক গাছপালা খেতে শুরু করে, তবে মায়ের দুধ খাওয়াও চলতে থাকে; দুধ ছাড়ানো হয় ধীরে ধীরে, যা মায়ের পরের সন্তান জন্মানো পর্যন্ত চলতে পারে। পুরুষ হাতি বয়ঃসন্ধিতে, ৮ থেকে ১৩ বছর বয়সে, দল ছেড়ে যায়। ঈদগাঁওয়ে পাওয়া শাবকটির মতো দেড় থেকে দুই বছরের একটি পুরুষ শাবকের তখনও মায়ের দলের সঙ্গেই থাকার কথা।

থাইল্যান্ডের লাম্পাংয়ের একটি হাতি সংরক্ষণ কেন্দ্রে এশীয় হাতি মা ও শাবক। ছবি: Dpservis / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
থাইল্যান্ডের লাম্পাংয়ের একটি হাতি সংরক্ষণ কেন্দ্রে এশীয় হাতি মা ও শাবক। ছবি: Dpservis / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

আইন কী বলে


২০২১ সালের নভেম্বরে বন্যহাতি সুরক্ষিত ছিল বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ দ্বারা (২০১২ সালের ৩০ নম্বর আইন, ১০ জুলাই ২০১২)। এই আইন বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ (প্রিজারভেশন) অর্ডার, ১৯৭৩ রহিত করে প্রণীত হয়। আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী, এই আইনের অধীন লাইসেন্স বা পারমিট ছাড়া কেউ কোনো বন্যপ্রাণী শিকার করতে পারেন না।

আইনের ৩৬ ধারা বিশেষভাবে তফসিল ১-এ উল্লিখিত বাঘ ও হাতি নিয়ে। ধারা ২৪-এর অধীন লাইসেন্স ছাড়া বাঘ বা হাতি হত্যা জামিন অযোগ্য অপরাধ; এর শাস্তি সর্বনিম্ন দুই বছর ও সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ১ লাখ ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড। তবে বাঘ বা হাতির আক্রমণে কারও জীবনাশঙ্কা দেখা দিলে জীবন রক্ষার্থে আক্রমণকারী প্রাণীটিকে হত্যার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য নয়; এমন ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তা ওয়ার্ডেনের সঙ্গে পরামর্শ করে মামলা করতে পারবেন।

একই ধারায় ধারা ১০-এর অধীন পারমিট ছাড়া তফসিলভুক্ত বাঘ বা হাতির ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি, মাংস বা দেহের অংশ সংগ্রহ, দখলে রাখা, কেনাবেচা বা পরিবহনকেও অপরাধ ধরা হয়েছে। এর শাস্তি সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড; পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড। ধারা ৪৫ অনুযায়ী, এই আইনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ না হলে আইনের অধীন অপরাধের তদন্ত ও বিচারে ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য। ঈদগাঁওয়ের শাবকটির ক্ষেত্রে এসব বিধানের কোনোটি প্রযোজ্য কি না, তা নির্ভর করছিল ময়নাতদন্তের ওপর, যার প্রতিবেদন ২০২১ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত আসেনি।

ছবি: AKM Emdadul Islam Bitu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ইউএনবি, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, আইইউসিএন, ইউএনএইচসিআর, বন অধিদপ্তর, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ (লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ), স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল চিড়িয়াখানা, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)