কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যাটবট দিয়ে মাটি পরীক্ষার মানচিত্র থেকে কয়েক মিনিটে জমির জায়গাভেদে ভিন্ন মাত্রায় চুন প্রয়োগের (ভেরিয়েবল রেট) পরিকল্পনা বানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের নরফোকের কৃষক রবার্ট স্কট। ফার্মার্স উইকলিতে নিজের ‘ফার্মার ফোকাস’ কলামে তিনি এ অভিজ্ঞতা লিখেছেন। স্কট মধ্য-পশ্চিম নরফোকে সাতজন জমির মালিকের হয়ে ১,৪৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ করেন।
সমস্যাটা পরিচিত: মাটির অম্লতা (পিএইচ) ঠিক করতে কোন জমিতে কতটা চুন লাগবে, তা হিসাব করতে সময় যায়। স্কট মাটির পিএইচ নমুনার মানচিত্র পিডিএফ আকারে হোয়াটসঅ্যাপে মেটা এআইকে পাঠান। নির্বাচিত জমির পিএইচ ঠিক করতে লাইমএক্স৭০ চুনের সুপারিশ, মোট কত অর্ডার দিতে হবে এবং চুন ছিটানোর ঠিকাদারের জন্য ভেরিয়েবল রেট প্রয়োগ পরিকল্পনা চান তিনি। এআই নিজেই সঠিক ফাইল আকারে পরিকল্পনাটি ঠিকাদারকে ইমেইলে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। পুরো কাজটি তিনি সেরেছেন ট্রাক্টরের কেবিনে বসে, মোবাইল নেটওয়ার্কের বিরল সুযোগে।
তাঁর উপলব্ধি, এ ধরনের প্রযুক্তি দাপ্তরিক কাজের সময় ও খরচ অনেক কমিয়ে বাস্তব দক্ষতা আনতে পারে। তবে তিনি যোগ করেন, বড় অর্থনৈতিক চাপের সামনে দক্ষতার জোর সীমিত: অ্যান্ডারসনস সেন্টারের হিসাবে কৃষির খরচের মূল্যস্ফীতি সাধারণ ভোক্তা মূল্যস্ফীতির দ্বিগুণ। ডিজেল, মজুরি ও সারের দাম বাড়ছে, আর এই শরতে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে যন্ত্রাংশের দাম।
স্কট লিখেছেন, মুনাফার ক্রমাগত ক্ষয় পূর্ব ইংল্যান্ডে আবাদি কৃষির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এনএফইউ সুগার ও ব্রিটিশ সুগারের ঘোষিত ২০২৭-২৮ মৌসুমের চিনিবিট চুক্তিমূল্যকেও তিনি হতাশাজনক বলেছেন; তাঁর যুক্তি, উপকরণের দাম ২০২২ সালের আগের স্তরে ফেরেনি, ঝুঁকিও বেড়েছে, তাই ফসলটির দাম অনেক বেশি হওয়া উচিত।
খামারে এখন শরতের দানাশস্য বপন পুরোদমে চলছে; অস্বাভাবিক শুষ্ক আবহাওয়ায় কাজ দ্রুত এগোচ্ছে, তৈরি হয়েছে সমতল, ঢেলামুক্ত বীজতলা, যা শরতের আগাছানাশককে ভালো কাজ করতে সাহায্য করবে। মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Richard Humphrey / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)