সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা৩০°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৫৭%বাতাস ৮ কিমি/ঘ

চলনবিলের মাত্র ১ শতাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির সম্ভাবনা খুব বেশি, বলছে গবেষণা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চলনবিলের ৫ হাজার ৯৭ বর্গকিলোমিটারের মাত্র ১ শতাংশে ভূগর্ভস্থ পানির সম্ভাবনা খুব বেশি; বৃষ্টি কমা আর বোরো সেচে পানি তোলা এর বড় কারণ।

চলনবিলের মাত্র ১ শতাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির সম্ভাবনা খুব বেশি, বলছে গবেষণা
পরিবেশ

দেশের বড় জলাভূমি চলনবিলের মাত্র ১ শতাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির সম্ভাবনা "খুব বেশি"। ৭৭ শতাংশ এলাকায় সম্ভাবনা মাঝারি, ২২ শতাংশে কম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের গবেষকদের এই গবেষণা চলতি মাসে ডিসকভার জিওসায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রথম আলো।

গবেষণায় নাটোরের সিংড়া ও গুরুদাসপুর, পাবনার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়ার ৫ হাজার ৯৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা ধরা হয়। এর ৬৫ বর্গকিলোমিটার খুব বেশি, ৩ হাজার ৯৩৩ বর্গকিলোমিটার মাঝারি এবং ১ হাজার ৯৯ বর্গকিলোমিটার কম সম্ভাবনার শ্রেণিতে পড়েছে। স্যাটেলাইটের ছবি ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থায় (জিআইএস) বৃষ্টিপাত, মাটির ধরন, পানির স্তর, ভূমির ঢাল ও ব্যবহারসহ ১৭টি বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে; ১৯৯০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উদ্ভিদের পরিবর্তনও দেখা হয়েছে।

গবেষণা দলের সদস্য ওয়াহিদুল আলম জানান, ভালো সম্ভাবনার এলাকায় বর্ষায় সর্বনিম্ন ৮ মিটার এবং শুকনা মৌসুমে ২০ মিটার গভীরে পানি মেলে। মাঝারি ও কম সম্ভাবনার এলাকায় বর্ষায় তা ১০ ও ১৫ মিটার, শুকনা মৌসুমে ২৫ ও ৪০ মিটার নিচে। এলাকার ৪৪ শতাংশে কাদামাটি থাকায় পানি মাটির গভীরে যেতে বাধা পায় বলে জানান তিনি।

গবেষণার প্রধান অধ্যাপক চৌধুরী সারোয়ার জাহান বলেন, পদ্মার প্রবাহ অনেক কমে গেছে, যমুনার পানিও কমছে; পদ্মা চলনবিলের ভূগর্ভস্থ পানি টেনে নিচ্ছে, আর শুষ্ক মৌসুমে কৃষিতে ব্যাপক হারে পানি তোলা হচ্ছে। তাঁর মতে, জলাভূমিতে পানির স্তর নেমে যাওয়া পরিবেশগত বিপর্যয়ের লক্ষণ। বোরো সেচের জন্য ২০টি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ১৫টিতে বর্ষায় পানির স্তর বাড়ার প্রবণতা পরে অনেকটা কমে গেছে।

বিএডিসির নাটোর জেলার ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের হিসাবে, ২০১৯-২০ সালের বোরো মৌসুমে বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র ছিল ৩৬ হাজার ৫০৫টি, ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে ৪৪ হাজার ২২৯টি হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সেচ বাড়ায় এর প্রভাব চলনবিলের ভূগর্ভস্থ পানিতে পড়া অস্বাভাবিক নয়। তিন জেলায় বছরে গড় বৃষ্টি ১৯৯০-৯৪ সালে ছিল ১ হাজার ৫৯৫ মিলিমিটার, ২০২৪ সালে তা কমে ১ হাজার ৩৭০ মিলিমিটার হয়েছে।

পানির স্তর দীর্ঘ মেয়াদে নামতে থাকলে কৃষকদের আরও গভীর থেকে পানি তুলতে হতে পারে, তাতে পাম্প চালানোর খরচ বাড়ার ঝুঁকি আছে; শুকনা মৌসুমে মাছ ও জলজ প্রাণীর আবাসেও প্রভাব পড়তে পারে, যদিও গবেষণায় তা সরাসরি মাপা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ বলেন, চলনবিলের মতো জলাভূমিতেও ভূগর্ভস্থ পানি তোলার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে, সেচে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সিংড়ার বড়িয়া গ্রামের মোহাম্মদ লিটনের কথায়, ছোটবেলার চলনবিল ছিল সমুদ্রের মতো; এখন পানি কম, মাছও কমছে।

প্রতিবেদন: পার্থ শঙ্কর সাহা, প্রথম আলো

ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

সূত্র: প্রথম আলো

প্রথম আলোসূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

ব্রাজিলের আমাজনে বন উজাড় ১৯৮৮ সালের পর সর্বনিম্ন, এক বছরে কমেছে ৪২ শতাংশ

ব্রাজিলের সরকারি স্যাটেলাইট-ব্যবস্থা প্রোদেসের হিসাবে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আমাজনে ৩ হাজার ৩৩৫ বর্গকিলোমিটার বন উজাড় হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ কম এবং ১৯৮৮ সালে রেকর্ড শুরুর পর সর্বনিম্ন।

নয়া দিগন্ত১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সুন্দরবনের কাঁকড়ায় প্লাস্টিক কণা, পশুর নদের মাছে মাত্রাতিরিক্ত সিসা ও ক্যাডমিয়াম

দুটি গবেষণায় সুন্দরবনের নদীর পানি ও পলিতে মাত্রাতিরিক্ত প্লাস্টিক কণা, শিলা কাঁকড়ার ফুলকা ও অন্ত্রে প্লাস্টিক এবং পশুর নদের পারশে, দাঁতিনা ও বাটা মাছে সহনীয় মাত্রার কয়েক গুণ সিসা, নিকেল ও ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে।

সমকাল১৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সেন্টমার্টিনে ১১ মাসে ১৫০ টন বর্জ্য সংগ্রহ, পর্যটন মৌসুমের আগেই শেষ হচ্ছে প্রকল্প

জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ব্র্যাকের প্রকল্পে সেন্টমার্টিনে ১১ মাসে প্রায় ১৫০ টন বর্জ্য সংগ্রহ হয়েছে, পচনশীল বর্জ্যে কম্পোস্ট হচ্ছে; কিন্তু প্রথম পর্যায়ের মেয়াদ ৩০ নভেম্বর শেষ হওয়ায় কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তা।

সমকাল১৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)