সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

পরিপক্ব হলেই পাড়া যাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম, এবারও নেই ম্যাংগো ক্যালেন্ডার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন ২০২৬ সালের ১১ মে সিদ্ধান্ত নেয়, এবারও আম পাড়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ থাকবে না; আম পরিপক্ব হলেই পাড়া যাবে, তবে অপরিপক্ব আম বাজারজাত করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিপক্ব হলেই পাড়া যাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম, এবারও নেই ম্যাংগো ক্যালেন্ডার
ফল

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম পাড়া ও বাজারজাতকরণে ২০২৬ সালেও কোনো সময় নির্ধারণ করেনি জেলা প্রশাসন। ১১ মে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের ‘আমের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এই জেলার চাষিরা আম পরিপক্ব হলেই গাছ থেকে পাড়তে পারবেন বলে সেদিন সন্ধ্যায় জাগো নিউজ ২৪ জানায়। তবে কেউ অপরিপক্ব আম বাজারজাত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।

সোমবার, ১১ মে বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ম্যাংগো ক্যালেন্ডার প্রণয়ন এবং নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদন, বিপণন, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় সংশ্লিষ্টদের সম্মতিতে এ সিদ্ধান্ত হয়। সভাটি ডাকা হয়েছিল আম পাড়ার সময়সূচি ঠিক করার বিষয়ে আলোচনার জন্য, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয় যে জেলায় এবারও কোনো ক্যালেন্ডার থাকবে না।

সভায় যে সিদ্ধান্ত হলো


সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাকিব হাসান তরফদার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজনসহ আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো জাতের আমের জন্যই পাড়া শুরুর নির্দিষ্ট দিন রইল না। গাছের আম পরিপক্ব হলেই বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীরা তা পেড়ে বিক্রি করতে পারবেন, অন্য জেলার তুলনায় সেটি আগে হোক বা পরে। প্রশাসনের একমাত্র শর্ত ছিল আম পরিপক্ব হতে হবে; অপরিপক্ব আম বাজারে তুললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মৌসুমের কৃষি পরিসংখ্যানেই বোঝা যায় সিদ্ধান্তটি কত বড় একটি ফসলের সঙ্গে জড়িত। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল, আর এসব বাগান থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন।

এই সিদ্ধান্তে চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেশী আম উৎপাদনকারী জেলাগুলো থেকে আলাদা পথে থাকল। রাজশাহী, নওগাঁ, চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসন ততদিনে জাতভিত্তিক ক্যালেন্ডার ঘোষণা করে ফেলেছিল, যেখানে প্রতিটি জাতের আম গাছ থেকে নামানোর প্রথম দিন বেঁধে দেওয়া হয়।

কয়েক মৌসুম ধরে চলা একটি রীতি


চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্যালেন্ডার ছাড়া আম পাড়ার রীতি নতুন নয়। ২০২৩ সালের ৩ মে ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, সে বছরও স্থানীয় প্রশাসন আম সংগ্রহের কোনো সময়সূচি ঠিক করেনি। নিজ কার্যালয়ে নিরাপদ ও রাসায়নিকমুক্ত আম উৎপাদন ও বিপণন বিষয়ক সভায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খাঁন বলেন, আম পাড়া ও বাজারজাতের নির্দিষ্ট সময় থাকবে না, তবে পরিপক্ব হলেই কেবল আম সংগ্রহ করা যাবে। ওই সভায় আমে রাসায়নিক ব্যবহার ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো এবং একটি তদারকি দল সক্রিয় রাখার সিদ্ধান্ত হয়, আর কম খরচে দ্রুত আম পরিবহনে বিশেষ ট্রেন চালানোর কথাও জানানো হয়। ডিএইর হিসাবে তখন জেলায় ৩৭ হাজার ৫৮৮ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৯৫৬ টন।

২০২৪ সালেও একই পথে হাঁটে জেলা প্রশাসন। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ মে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একেএম গালিভ খাঁনের সভাপতিত্বে সভায় ‘আগের বছরের মতো’ কোনো সময়সূচি না রাখার সিদ্ধান্ত হয়। আম পরিপক্ব হলেই কেবল পাড়া যাবে, নইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আম পাকাতে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা যাবে না, আমের বাজার তদারকিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলবে এবং ১ জুন থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে বিশেষ আমের ট্রেন চালু হবে। সে মৌসুমে জেলায় ৩৭ হাজার ৬০৪ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়, লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ৪ লাখ টন।

সেই মৌসুমে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জেলা প্রশাসক ব্যাখ্যা করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে গাছে আম পরিপক্ব হলেই তা পেড়ে বাজারজাত করে আসছেন, আর আম চাষি ও ব্যবসায়ী, কৃষি বিভাগ এবং ফল গবেষকদের মতামতের ভিত্তিতেই ক্যালেন্ডার না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবু পরিপক্ব ও নিরাপদ আম বাজারজাত নিশ্চিত করতে প্রশাসন বাজার তদারকি করবে বলে জানান তিনি।

জাতীয় পর্যায়ে ডিএইর রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প প্রতিবছর বিভিন্ন এলাকার জন্য আলাদা আম সংগ্রহের সূচি তৈরি করে। ২০২৪ সালের ২৮ মে ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, সে বছর ২০ মার্চের এক সভায় এই তারিখগুলো ঠিক করা হয়েছিল। ডিএইর উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের সূত্র পত্রিকাটিকে জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকার আম সংগ্রহের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে ২৯টি জাতের মধ্যে ১০টি রপ্তানি হয়, আর এলাকাভেদে আম পাকার সময়ের পার্থক্য হয় তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে। প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান তখন আম বাড়ন্ত অবস্থায় আগেভাগে না পাড়ার আহ্বান জানান; তাঁর মতে, এ সময় সঠিক পরিচর্যা ও সেচ দিলে আমের আকার ও ওজন বাড়ে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি আমগাছ। ছবি: Mahmudul Karim Farsad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি আমগাছ। ছবি: Mahmudul Karim Farsad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

আগের দিনই তারিখ বেঁধে দেয় প্রতিবেশী জেলাগুলো


চাঁপাইনবাবগঞ্জের সভার এক দিন আগে, ২০২৬ সালের ১০ মে রোববার, রাজশাহী, নওগাঁ ও চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসন আম চাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করে পৃথকভাবে ম্যাংগো ক্যালেন্ডার ঘোষণা করে বলে প্রথম আলো ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়। সাতক্ষীরা এর আগেই ক্যালেন্ডার ঘোষণা করেছিল, সেখানে আম পাড়া শুরু হয় ৫ মে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে যে ক্যালেন্ডার ঘোষণা করেন, তাতে আম পাড়া শুরুর তারিখগুলো ছিল এরকম:

  • ১৫ মে: সব ধরনের গুটি (বীজের চারা থেকে হওয়া দেশি) আম
  • ২২ মে: গোপালভোগ
  • ২৫ মে: রানিপসন্দ ও লক্ষ্মণভোগ
  • ৩০ মে: হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি
  • ১০ জুন: ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও ল্যাংড়া
  • ১৫ জুন: আম্রপালি ও ফজলি
  • ৫ জুলাই: বারি আম-৪; ১০ জুলাই: আশ্বিনা; ১৫ জুলাই: গৌড়মতি
  • কাটিমন ও বারি আম-১১ সারা বছরই সংগ্রহ করা যাবে

প্রথম আলো জানায়, কিছু গুটি আম বৈশাখ মাসেই পাকে; উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়ন সাপেক্ষে সেসব আম নামানো যাবে। জেলা প্রশাসক বলেন, কেউ যাতে অপরিপক্ব আম নামিয়ে বাজারজাত করতে না পারে, সে জন্য আমচাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি অফিসের সমন্বয়ে এই ক্যালেন্ডার তৈরি করা হয়েছে, আর নির্ধারিত সময়ের আগে কেউ আম নামালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে বছর রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন, আর কেজিপ্রতি ৩২ টাকা হিসাবে সম্ভাব্য বিক্রির পরিমাণ ধরা হয় ৭৮০ কোটি টাকা।

নওগাঁয় গুটি আমের জন্য ২২ মে, গোপালভোগ ৩০ মে, হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি ২ জুন, জিআই স্বীকৃত নাক ফজলি ৫ জুন, ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙা ১০ জুন, আম্রপালি ১৫ জুন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও ফজলি ২৫ জুন এবং আশ্বিনা, বারি আম-৪, গৌড়মতি ও কাটিমনের জন্য ৫ জুলাই নির্ধারণ করা হয়। জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়; হেক্টরপ্রতি ১২ দশমিক ৭৮ টন হিসাবে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৬১ টন, প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার আম-বাণিজ্যের আশা ছিল, আর রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০০ মেট্রিক টন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে আম পরিপক্ব হলে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ তারিখ পুনর্নির্ধারণ করবে, আর আম পাকানো, সংরক্ষণ বা বাজারজাতকরণে কোনো রাসায়নিক মেশানো যাবে না।

চুয়াডাঙ্গায় আঁটি বা গুটি, ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ ও বোম্বাই আম পাড়া শুরুর দিন ঠিক হয় ১৩ মে। এরপর হিমসাগর ২২ মে, ল্যাংড়া ২৮ মে, আম্রপালি ৫ জুন, ফজলি ১৫ জুন, হাঁড়িভাঙা ২০ জুন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ২২ জুন, আশ্বিনা (বারি-৪) ৩০ জুন, কাটিমন ৫ জুলাই এবং গৌড়মতি ৩১ জুলাই থেকে পাড়া যাবে। জেলায় আমবাগান ছিল ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে। সাতক্ষীরায় ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাসসহ বৈশাখী জাতের আম, ১৫ মে থেকে হিমসাগর, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি পাড়ার সময় ঠিক হয়। সেখানে ১০০ টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়, আর আগাম আম পাড়া ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত, চেকপোস্ট ও বিশেষ তদারকি দল কাজ করবে বলে জানানো হয়।

বড় ফলনের আশার একটি মৌসুম


সিদ্ধান্তটি আসে এমন এক মৌসুমে, যখন দেশজুড়ে আমের বড় ফলনের পূর্বাভাস ছিল। ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস জানায়, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে দেশে আমের উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে রেকর্ড হতে পারে, যা ডিএইর ২৬ দশমিক ৬৬ লাখ টনের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, সে মৌসুমে প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে; আম সংগ্রহ মে মাসে শুরু হয়ে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে, আর প্রধান উৎপাদনকারী জেলাগুলোর মধ্যে আছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, সাতক্ষীরা ও দিনাজপুর।

বাসসের উদ্ধৃত ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে আম উৎপাদন হয় ২৬ দশমিক ৭০ লাখ টন, আর আগের বছর রেকর্ড ২ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন আম ৩৮টি দেশে রপ্তানি হয়; সে বছরই প্রথমবারের মতো চীনে আম রপ্তানি হয়। মালয়েশিয়া ও জাপানের মতো নতুন বাজার খুলতে থাকায় ব্যবসায়ীরা ২০২৬ সালে ৩ হাজার টন পর্যন্ত রপ্তানির আশা করছিলেন। রপ্তানি হওয়া জাতের মধ্যে ছিল ক্ষীরশাপাত, গোপালভোগ, ফজলি, হিমসাগর ও আম্রপালি, মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার এক বাগানমালিক বাসসকে বলেন, উন্নত বাগান ব্যবস্থাপনা, মানসম্পন্ন চারা, সুষম সার প্রয়োগ এবং কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহায়তায় ফলনের সম্ভাবনা ভালো হয়েছে।

রাজশাহী অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি আমবাগান চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে দৈনিক যুগান্তর জানায়, রাজশাহী কৃষি অঞ্চলের তিন জেলা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় ৯৮ হাজার ২৫৭ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে, যার সবচেয়ে বেশি চাঁপাইনবাবগঞ্জে; এসব বাগান থেকে সাড়ে ১১ লাখ টন আম উৎপাদনের আশা করছিল কৃষি বিভাগ, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। পত্রিকাটি লেখে, আম মৌসুমে ঝুড়ি তৈরি, প্যাকিং, পরিবহন ও শ্রমিকের কাজে কয়েক লাখ মানুষের সাময়িক কর্মসংস্থান হয়।

২০২৫ সালের জুনে বাসস জানায়, সে বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ৩ দশমিক ৮৬ লাখ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করেছিল ডিএই, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। জেলার আম গবেষণা কেন্দ্রের একজন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সংস্থাটিকে বলেন, ২০২৪ সালে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে ১ হাজার ৩৩ টন আম রপ্তানি হয়েছে, আর ২০২৫ সালে চীনে রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানায়, ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সাফ বাংলাদেশ ও লাইটক্যাসল পার্টনার্সের প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশ তার উৎপাদিত আমের শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশেরও কম রপ্তানি করে; গ্লোবাল গ্যাপ সনদের অভাব এবং মান নিয়ন্ত্রণ, সংগ্রহোত্তর প্রক্রিয়াকরণ ও কোল্ড চেইন অবকাঠামোর দুর্বলতাকে বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর বাজারে একজন আম বিক্রেতা, ২০১৫ সালের জুনে তোলা। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর বাজারে একজন আম বিক্রেতা, ২০১৫ সালের জুনে তোলা। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সিদ্ধান্তের পেছনের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ


চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তর-পশ্চিমের জেলা। এর উত্তর ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলা, পূর্বে নওগাঁ এবং দক্ষিণ-পূর্বে রাজশাহী। জেলার আয়তন ১ হাজার ৭০২ দশমিক ৫৫ বর্গকিলোমিটার, আর ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৮। একসময় মালদহ জেলার একটি থানা এবং পরে রাজশাহী জেলার একটি মহকুমা হিসেবে থাকা এলাকাটি ১৯৮৪ সালে পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা পায়।

জেলাটি মহানন্দা ও পদ্মা নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত। মাটির গঠন অনুযায়ী এর দুটি বড় অংশ: মহানন্দার পূর্বপাড়ের বরেন্দ্র এলাকা, যার মধ্যে সদর, নাচোল ও গোমস্তাপুরের একাংশ পড়ে, আর নদীর ধারের দিয়াড় এলাকা। জেলার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর, আর গ্রীষ্মের ফল আমই এই অর্থনীতির মূল ভিত্তি; শিবগঞ্জ, ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে আন্তঃনগর ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেস।

জেলার পূর্বাংশ যে বরেন্দ্রভূমির অংশ, তা বঙ্গীয় অববাহিকার প্লাইস্টোসিন যুগের সবচেয়ে বড় ভূপ্রাকৃতিক একক; বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে পুরোনো পলিমাটির এই অঞ্চল। ২০২৫ সালের জুনে বাসসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক দশকে এর লাল ও উঁচুনিচু মাটিতে, শিবগঞ্জ, নাচোল ও গোমস্তাপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায়, আমবাগান ছড়িয়ে পড়েছে; ১৫ থেকে ২০ বছর আগে এসব জমিতে শুধু ধান চাষ করা যেত, আর এখন উঁচু বরেন্দ্রে সেচের পানির সংকটে ধানচাষ সমস্যায় পড়ছে।

জেলা থেকে আম বাইরে পাঠানোও প্রতি মৌসুমের পরিকল্পনার অংশ। ২০২৪ সালের মে মাসে বাসস জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল ২০২০ সাল থেকে চার বছরে বিশেষ আমের ট্রেনে ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯৮ কেজি আম পরিবহন করে প্রায় ৪৬ লাখ ২৯ হাজার ১৪০ টাকা আয় করেছে; ছয়টি লাগেজ ভ্যানের ট্রেনটি ১৭২ দশমিক ৯৮ টন আম বহন করতে পারে, আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় প্রতি কেজি আম পাঠাতে খরচ পড়ে ১ টাকা ৪৮ পয়সা।

জিআই স্বীকৃত জাত ও মৌসুমের ক্রম


বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশের আম মূলত দুই দলে পড়ে: কলম ও অন্যান্য অঙ্গজ পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করা উন্নত জাত, আর বীজ থেকে জন্মানো স্থানীয় জাত, যা দেশি বা গুটি আম নামে পরিচিত; এগুলোর স্বীকৃত কোনো নাম নেই, স্বাদও নিশ্চিত নয়। দেশে প্রায় ১০০টি জাতের আম আছে, আর ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, ক্ষীরশাপাত ও আশ্বিনাসহ উন্নত জাতগুলো বেশি জন্মায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও দিনাজপুরে। কলমের গাছে রোপণের চতুর্থ বছর থেকে ফল ধরে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি জাত ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানায়, ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি ক্ষীরশাপাত আম জিআই সনদ পায় এবং জামদানি ও ইলিশের পর দেশের তৃতীয় জিআই পণ্য হয়; জেলার চাষিদের পক্ষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এর আবেদন করেছিল। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, ২০২৩ সালের ২৫ জুন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া ও আশ্বিনাকে জিআই সনদ দেয়, আর রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম আগে থেকেই জিআই তালিকায় ছিল। ফজলি নাবি জাতের আম; একেকটির ওজন এক কেজি পর্যন্ত হতে পারে, আর জ্যাম ও আচারে এটি বেশি ব্যবহৃত হয়।

হিমসাগর, যা ক্ষীরশাপাতি নামেও পরিচিত, আঁশহীন আম; একেকটির ওজন ২৫০ থেকে ৩৫০ গ্রাম, যার প্রায় ৭৭ শতাংশই শাঁস। এটি মূলত চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পশ্চিমবঙ্গের পাশের জেলাগুলোতে জন্মায়। ২০২৪ সালের মৌসুমে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাধারণত মে মাসের শেষ দিকে গুটি ও গোপালভোগ দিয়ে পাকা আমের মৌসুম শুরু হয়; জুনের প্রথম সপ্তাহে আসে ক্ষীরশাপাত, আর এর দিন দশেক পর জুনের মাঝামাঝি বাজারে ওঠে ল্যাংড়া ও ফজলি।

বাংলাদেশের ফজলি আম। ছবি: Fozli.com / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের ফজলি আম। ছবি: Fozli.com / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সভায় থাকা গবেষণা কেন্দ্রটি


সভায় যে আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী উপস্থিত ছিলেন, সেটি ১৯৮৫ সালে বারির উদ্যোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং স্থানীয়ভাবে ‘আম গবেষণাকেন্দ্র’ নামে পরিচিত বলে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথম আলো জানায়। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এখানে আছে আধুনিক ল্যাবরেটরি, জেনেটিক ব্যাংক, নার্সারি, প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং প্রায় ৫০ একর গবেষণাক্ষেত্র। দেশের বিভিন্ন গবেষণাকেন্দ্র থেকে অবমুক্ত ১৮টি আমের জাতের মধ্যে ১৪টিই এই কেন্দ্রের গবেষকদের উদ্ভাবিত, যার মধ্যে সংকরায়ণের মাধ্যমে উদ্ভাবিত চারটি জাতের সবগুলোই আছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে বারি আম-৪ ও বারি আম-১৩ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে; রঙিন জাত বারি আম-১৩ মৌসুমের শেষ দিকে নাবি হিসেবে পাওয়া যায় এবং গবেষকেরা একে রপ্তানিযোগ্য মনে করেন। নির্বাচন পদ্ধতিতে অবমুক্ত জাতগুলোর মধ্যে বিশেষ করে আম্রপালি ও গৌড়মতি চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় জনপ্রিয় হয়েছে। কেন্দ্রটি চাষিদের গাছ ছাঁটাই, সার ব্যবস্থাপনা, রোগ দমন ও সংগ্রহোত্তর সংরক্ষণে প্রশিক্ষণ দেয়, উত্তম কৃষিচর্চা (জিএপি) মেনে চাষে সহায়তা করে, আর রপ্তানিযোগ্য আমের গ্রেডিং, প্যাকেজিং ও ঠান্ডা সংরক্ষণ নিয়ে গবেষণা চালায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রে পুরোনো একটি আমগাছ, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তোলা। ছবি: Shamim Ahammed sumon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রে পুরোনো একটি আমগাছ, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তোলা। ছবি: Shamim Ahammed sumon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ক্যালেন্ডার ছাড়া পরিপক্বতা যেভাবে বোঝা হয়


ক্যালেন্ডার না থাকায় আম পাড়ার সময় ঠিক করে দেয় ফল নিজেই। ২০২৪ সালের মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের তৎকালীন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, একই জাতের আম তাপমাত্রা ও ভৌগোলিক অবস্থানভেদে কয়েক দিন আগে-পরে পাকতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আম পরিপক্ব হলে আঁটির দুই পাশের ভেতরের অংশ কিছুটা হলদে হয়ে আসে, আর গাছে দু-একটি পাকা আম দেখা গেলে সেই গাছের আম পরিপক্ব হয়েছে বলে ধরা হয়। জেলার চাষিরা আঞ্চলিক ভাষায় পরিপক্ব আমকে বলেন ‘ডাক্কর’।

তিনি চাষিদের পরামর্শ দেন, কোনো অবস্থাতেই গাছ ঝাঁকিয়ে আম মাটিতে ফেলা ঠিক নয়; সকাল বা বিকেলে আম পাড়তে হবে, দুপুরের বেশি তাপমাত্রায় নয়; আর ১ থেকে ২ ইঞ্চি বোঁটা রেখে আম নামাতে হবে, যাতে বোঁটা দিয়ে কষ বেরিয়ে আমের গায়ে না লাগে, কারণ তাতে আম পচে যেতে পারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আম বিষয়ক সংগ্রহোত্তর সংকলনেও এমন মাঠপরীক্ষার কথা আছে: পূর্ণবয়স্ক ও পাড়ার উপযোগী আমের বোঁটা হালকা টানেই সহজে ছেড়ে আসে, আর জোরে টানতে হলে বুঝতে হবে আম এখনো অপরিপক্ব। সংকলনে আরও বলা হয়, কাটার সময় লম্বা বোঁটা রাখলে দুধের মতো কষ ছিটকে বের হওয়া ঠেকানো যায়, আর পরিপক্ব কাঁচা আম জাতভেদে ঘরের তাপমাত্রায় প্রায় ৪ থেকে ১০ দিন ভালো থাকে।

সভার শিরোনামে থাকা ‘নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম’ কথাটির পেছনে ছিল আম পাকানোর রাসায়নিক নিয়ে উদ্বেগ। ২০১৮ সালের মে মাসে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা বলেন, ক্যালসিয়াম কার্বাইড ক্ষতিকর এবং নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী নিষিদ্ধ; অন্যদিকে বহু দেশে ব্যবহৃত ইথোফেন সীমিত মাত্রায় ক্ষতিকর নয়, তবে সঠিক সময়ের আগে এটি দিয়ে পাকানো ফলের পুষ্টিমান কম হতে পারে। বক্তারা বদ্ধ কক্ষে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহারকে নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে তুলে ধরেন এবং অভিযান চালানোর সময় বিএফএসএ, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ের ওপর জোর দেন বলে দ্য ডেইলি স্টার জানায়। ২০১৩ সালের আইনের অধীনে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত বিএফএসএ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে এবং এর নিজস্ব ভ্রাম্যমাণ আদালত আছে।

ছবি: Mahinur11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ঢাকা ট্রিবিউন, দৈনিক যুগান্তর, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাপিডিয়া, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)