চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের পাওয়েল গ্রামে সাপের কামড়ে সাত বছরের এক কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ১৭ জুন, বুধবার বিকেলে। জাগো নিউজের ১৮ জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল কাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাসপাতালে আনার আগে কী ঘটেছিল
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাপে কাটার পর শিশুটিকে প্রথমে গ্রামের এক ওঝার কাছে নিয়ে ঝাড়ফুঁক করানো হয় এবং সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে তার মৃত্যু হয়। এ অভিযোগ নিয়ে ওঝা বা পরিবারের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে আসেনি।
পরিবারের বরাত দিয়ে চিকিৎসক আব্দুল কাদের জানান, সাপে কাটার কয়েক ঘণ্টা পর শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায়, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী বিভাগের একটি জেলা, বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তর-পশ্চিমের অংশ। জেলার উত্তর ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ, পূর্বে নওগাঁ এবং দক্ষিণ-পূর্বে রাজশাহী জেলা।

বাংলাদেশে সাপে কাটার ঝুঁকি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনসিডিসি) ২০২১-২২ সালের জাতীয় জরিপের ফল তুলে ধরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৩ সালের জুনে জানায়, দেশে বছরে প্রায় চার লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন এবং মারা যান ৭ হাজার ৫১১ জন। সাপে কাটার ৯৫ শতাংশ ঘটনা ঘটে গ্রামে, আর এক-চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে কামড় দেয় বিষধর সাপ। বাসসের ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ৯৪ প্রজাতির সাপের মধ্যে ২৬টি বিষধর।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, সাপে কাটায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষিশ্রমিক ও শিশুরা। শরীরের ওজন কম বলে শিশুদের ওপর বিষের প্রভাব বড়দের চেয়ে বেশি ও দ্রুত হতে পারে। সংস্থাটি আরও জানায়, অনেক আক্রান্ত মানুষ হাসপাতালের বদলে প্রথাগত চিকিৎসার আশ্রয় নেন, ফলে অনেক ঘটনা সরকারি হিসাবে আসে না।

সাপে কাটলে যা করবেন, যা করবেন না
ডব্লিউএইচওর মতে, সাপের বিষের প্রভাব ঠেকাতে বা কাটাতে সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা অ্যান্টিভেনম, যা হাসপাতালে দেওয়া হয়। বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সরকারি হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীকে বিনামূল্যে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়, এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় চিকিৎসা গ্রন্থাগারের মেডলাইনপ্লাস প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে যা বলে:
- আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রাখুন, নড়াচড়া কমান; দরকার হলে বহন করে নিয়ে যান।
- আংটি, চুড়ি বা আঁটসাঁট কিছু খুলে ফেলুন, কারণ জায়গাটি ফুলে যেতে পারে; আক্রান্ত অঙ্গ আলগা স্প্লিন্ট বা কাপড়ের ঝোলায় স্থির রাখুন।
- উপসর্গের অপেক্ষা না করে এখনই হাসপাতালে নিন।
- শক্ত বাঁধন (টুর্নিকেট) দেবেন না, ক্ষত কাটবেন না, মুখ দিয়ে বিষ টানবেন না, বরফ লাগাবেন না।
- মুখে কিছু খাওয়াবেন না, আর সাপ ধরতে বা তুলতে যাবেন না।

ছবি: Rafsanzane Pritom / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বাসস, মেডলাইনপ্লাস, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)